বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
কুমড়ার বিজ
"মজার গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান mim (০ পয়েন্ট)
X
লেখকঃ মিম
বহু আগে এক রাজ্যে বাস করতো এক লোক।সেছিলো সাধারণ একজন ব্রাহ্মণ। একদিন সে তার বাড়ির আঙিনায় বসে কাজ করছিলো তখন তার বউ রান্নাঘরে বসে পিঠা বানাচ্ছিলো। ভাজা পিঠা তেলে যখন দেওয়া হয় তখনতো এমনিতেই শব্দ হয়। তো ব্রাহ্মণ বসে বসে সেই শব্দ গুনছিলো আর কাজ করছিলো। মোট ৫৭ টা পিঠা হয়েছে।
পরে কাজ শেষ হয়ে গেলে হাত মুখ ধুয়ে লোকটা যখন পিঠা খেতে বসল তখন বউ তাকে মাত্র ৭ টা পিঠা দিল আর বলল : মাত্র দশটা পিঠা বানিয়েছিলাম। ৭ টা তোমাকে দিলাম আর ৩ টা আমি খেয়েছি। তখন ব্রাহ্মণ বলল : সেকি আমার গননায় তো মোট ৫৭ টা পিঠা হয়েছে। আর তুমি বলছ ১০ টা। মিথ্যা কথা বলছো কেনো?একথা শুনে বউ তো মহা খুশি। সে ভাবল তার স্বামি গননা করে অজানা জানিস জানতে পারে। নিশ্চয় সে বড় ধরনের কোনো গনক হয়ে গেছে।
বউ এবার সারা রাজ্য খুশিতে মাত করতে লাগল আর বলে বেড়াতে লাগল : আমার স্বামি বড় গনক হয়ে গেছে। একথা শুনে রাজ্যের যত সমস্যা জর্জরিত লোক সব এসে ভিড় করল লোকটার বাড়িতে। ব্রাহ্মণ তার বউকে কোনো মতেই বোঝাতে পারল না যে সে গনক নয়। ব্রাহ্মণতো অতিষ্ঠ হয়ে উঠল।
এরমধ্যেই আবার রাজার গরু গেলো হারিয়ে। রাজা তখন তাকেই তলফ করল। ব্রাহ্মণ তখন পড়ল ভারি বিপদে। রাজা ডেকে পাঠালে সে গেল রাজসভায়। সভায় একজন রাজার গরুর বিস্তারিত বর্ণনা দিল। ব্রাহ্মণ তখন চুপকরে রাজসভা থেকে বেরিয়ে গেল। আসলে সে পালাবার জন্যই বেরিয়েছিল। কিন্তু সবাই ভেবেছে সে হয়ত কিছু গণনা করছে। রাজপ্রাসাদ থেকে বের হয়ে সে চারিদিক ভালো করে দেখল কেউ আছে কি না। কেউ নেই দেখে সে প্রান বাচাতে দিল ভো দৌড়।দৌড়ে সে একটা বনের মধ্যে এল।
বনের ভেতর কিছুখন চলার পর সে দেখল এক গাছের নিচে একটা গরু শুয়ে আছে।ব্রাহ্মণ গরুটার বর্ণনা মিলিয়ে দেখল একদম রাজর গরুর মত।সে গরুটাকে গাছের সাথে বাধল। তারপর সে দৌড়ে রাজপ্রাসাদে এল।
সবাই যখন জিজ্ঞাসা করল সে কোথায় ছিল?ব্রাহ্মণ বলল গণনা করছিলাম। রাজার গরু পাওয়া গেছে। উত্তর দিকে যে বন আছে সোজা সেদিকে ১২১ পা হাটলে একটা বড় আম গাছ পড়বে। সেই গাঝেই বাধা আছে রাজার গরু। সাথে সাথে রাজার লোকেরা ছুটল গরুর সন্ধানে এবং পেয়েও গেল। তখন তো ব্রাহ্মণের সুনাম চারিদিকে মানুষের মুখে মুখে।
বেশ কিছুদিন চলল এভাবে। একদিন রাজ্যের বন্দরে এল অন্য সম্রাজ্যের এক বিরাট বাহিনী। তারা অনেক রাজ্য জয় করে এসেছে। সেই সম্্রাজ্যের রাজা এই রাজ্যের রাজাকে তিনটি কুমড়া দেখিয়ে বলল : আপনার রাজ্যের কোনো লোক যদি বলতে পারে এই কুমড়া তিনটিতে কতটা বীজ আ্ছে তাহলে আমরা এতদিন যাবৎ যত রাজ্য জয় করেছি সব আপনাদের দেওয়া হবে আর যদি সঠিক ভাবে বলতে না পারে তাহলে রাজ্য তো পাবেনই না বরং আপনাদের রাজ্যই হারাতে হবে। একথা শুনে রাজা সাথে সাথে ব্রাহ্মণকে ডেকে পাঠালেন। একথা শুনে ব্রাহ্মণ তো ভয়ে অস্হির।কুমড়োতে কয়টা বীজ থাকে তাও আবার গণনা করে বের করা সম্ভব!!!
সে ভাবল এবার আর রক্ষে নেই। মরা ছাড়া আর কোনো উপায়ও নেই। সে মনের দ্ঃখে নদীতে ডুবে মরতে চাইল। সে একসময় চুপি চুপি নদীর ঘাটে এল ডুবে মরার জন্য। সেই ঘাটেই ছিল বিদেশি সেই সম্রাজ্যের নৌবহর। সেখানে একটা নৌকায় তিনজন লোক কথা বলছিল। লোকটা পানিতে নামছিল এমন সময় ঐ লোকগুলোর কথা তার কানে গেলো। তারা কুমড়ার বীজ নিয়েই কথা বলছিলো। লোকটা এবার তাদের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনলো।
একজন লোক বলছে : রাজার প্রথম কুমড়াতে ৩টা বীজ, দ্বিতীয় কুমড়াতে ৫টা বীজ আর তৃতীয় কুমড়াতে ৭টা বীজ আছে আমরাতো সবাই জানাই। আর এক লোক বলল হ্যা আমরা তো জানি কিন্তু এই রাজ্যের কেউ যদি সঠিক ভাবে বলে দিতে পারে তাহলে তো আমাদের কষ্ট করে জয় করা সব রাজ্য এদের দিয়ে দিতে হবে। আর এক লোক বলল : আমরাই শুধু জানবো আর কেউ কিভাবে জানবে? এত বড় গণক এই রাজ্যে এখনো জন্মায় নি।
এসব কথা শুনে ব্রাহ্মণ ভাবল তারা যা বলছে তা কি সঠিক। হয় বা না হয় শুনেছি যখন শেষ চেষ্টা একবার করেই দেখি। তখন সে দ্রুত রাজসভায় গেল এবং বলল: আমি বলতে পারব তিনটি কুমড়াতে কতটা বীজ আছে।আমাকে কিছু খাতা কলম দিলেই হবে। এবার তাকে খাতা কলম দিলে সে খাতায় শুধু শুধু কিছু আকিবুকি করে বলল:রাজার প্রথম কুমড়াতে ৩টা, দ্বিতীয়টাতে ৫টা আর তৃতীয়টাতে ৭টা বিজ আছে।
সঠিক কথা শুনে বিদেশি রাজা তো অবাক। তখন তার জয় করা সকল রাজ্য ব্রাহ্মণের রাজ্যের রাজাকে দিয়ে দিল। রাজা খুশি হয়ে ব্রাহ্মণকেও তার রাজ্যের কিছু অংশ দিয়ে দিল। এভাবে ব্রাহ্মণও খুশিতে বসবাস করতে লাগল।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now