বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
জামাল সাহেব,ব্যাক্তিটা খুব বেশি জেদি মানুষ। যখন যা বলবে তার কথার একটুও নড়চড় হবার নয়।
পরিবারের সবাই জানে তার কথা,মানুষ হিসাবে খুব অহংকারী। আসলে টাকা,পয়সা,বাড়ি,গাড়ির কোন কিছুর অভাব নাই।
এক কথায় বলতে গেলে ঢাকার শহরে হাতে গোনা কয়জন ধনী মানুষের মাঝে সে একজন।
যার ঢাকার বুকে ৫টা বাড়ি,৩টা গার্মেন্টস আরও অনেক ব্যাবসা আছে তাকেতো ধনী বললে ভুল হবে না।
"
"
জামাল সাহেবের ৩ছেলে ১মেয়ে। সবাই খুব বেশি আলাদা না বাবার স্বভাব থেকে। আসলে সবাই টাকার জন্য একটু বেশি দামি মানুষ। আসলে এই পৃথিবীতে টাকাই সব কিছু মানুষের জীবনে এমন একটা যুগ চলে আসছে।
২০১৪ সালের পরিবারের সবাই মিলে ঠিক করল তারা জামাল সাহেবের গ্রামের বাড়ি যাবে। বেশি জেদ ধরল তার মেয়েটা।
সবশেষে তারা গ্রামের বাড়ির উদ্দ্যেশে রওয়ানা দিবে......
কিন্তু এবার তারা যাবে ট্রেনে......যেই ভাবা সেই কাজ।
ঠিক হল ২দিন পর তারা যাবে............
২দিন পর..............................
"
"
খুব সকালে তারা ঘুম থেকে উঠল মায়ের ডাকে। তার মা আবার একটু অন্য রকম মানুষ সবার থেকে আলাদা।
মেয়ে,বাবা,ভাই সবাই রেডি হয়ে গেল রেলস্টেশনে। রেলস্টেশনে যেই পরিমান যাত্রী তার থেকে বেশি কুলী।
একজন ভাল পোশাকের মানুষ দেখলেই জাপটে ধরে তার ব্যাগটা পোঁছে দিয়ে যদি কয়টা পয়সা ইনকাম হয়,এই আশাতে।তেমনি একটা ১০/১১ বছরের ছেলে দৌড়ে এসে জামাল সাহেবের হাত ধরে ব্যাগ টা চাইল। জামাল সাহেব দেখল ছেলেটার পোষক অনেক নোংরা । সে দেখা মাত্রই কষে মারল এক চড়। চড়ের শব্দে মনে হয় পুরা রেল ষ্টেশন চুপ হয়ে গেল।
"
"
ছেলে টা কিছু না বলে কাঁদতে কাঁদতে চলে গেল,আর বলতে লাগল আমরাও তো মানুষ স্যার।
জামাল সাহেব এক কুলিরে ডেকে মালামাল নিজেদের কামড়ার দিকে নিয়ে গেল.........
তারা চলতে লাগল তাদের বাড়ির উদ্যেশে......বিকালে তারা তাদের গ্রামের বাড়িতে গেল।
৭দিন থাকার পর তারা আবার ঢাকার উদ্দ্যেশে ফিরতে লাগল।
"
"
৩ঘণ্টা চলার পর হঠাত ট্রেন চালক দেখল রেল লাইনের মাঝে একটা ১০/১১ বছরের ছেলে লাল একটা কিছু নাড়িয়ে গাড়ি থামনোর ট্রাই করছে। চালক বুজতে পেরে গাড়ি থামাল।
কিন্তু চালক লেট করে ফেলে অনেক তাই ট্রেন বাচ্চা ছেলেটার উপর দিয়ে চলে যায়। ও বুঝে ওঠার আগেই না ফেরের দেশে চলে যায়।
হাঠাত গাড়ি থেমে গেল দেখে সবাই জানতে চাইল কি হইছে মানুষে বলাবলি করছে যে কারা যেন রেল এর পাত খুলে নিছে একটা বাচ্চা ছেলে তাই দেখে গাড়ি থামানোর চেষ্টা করে। কিন্তু লোকের জীবন বাচাতে গিয়ে নিজের জীবনই শেষ।
জামাল সাহেব শুনে নিজে দেখতে গেল বাচ্চাটাকে।
"
"
গিয়ে দেখল এ আর কেউ নয় সেই কুলী ছেলেটা,যাকে সে আসার দিন চড় মেরেছিল। জামাল সাহেব বাচ্চাটার নিথর দেহ দেখে আর কান্না থামাতে পারল না। কেঁদে ফেলল। নিজের ভুল বুজতে পারল।শুধু টাকা পয়সা হলেই মানুষ হওয়া যায়না।
সেই থেকে জামাল সাহেবের পরিবারের সবাই ভাল হয়ে গেল।
সবাইকে মানুষ বলে মনে করতে লাগল।
আমরা ও কি সবাই পারি না আজকে থেকে ভাল হয়ে যেতে। আশা করি আমরা সবাই মানুষ কে মানুষ বলে মনে করব।
হয় সে টোকাই,কিংবা কুলী............... তাতে কি আসে যায়।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now