বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

কঠিন প্র্যাংক

"ছোট গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান অন্তরা (০ পয়েন্ট)

X "ছরা-আ-আত" করে নাকটা মুছে জানালা দিয়ে কল্লা ঝুলিয়ে হাঁ করে মোবাইল উল্টেপাল্টে,ঘুরিয়ে-ঝাঁকিয়ে নেটওয়ার্ক খোঁজার চেষ্টা করতে লাগলাম। একি! হঠাৎ মেজাজটাকে ১৮০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় গরম করে দিয়ে ঝুপ ঝুপ করে বৃষ্টির ছিটে এসে আমাকে ভিজিয়ে নিমিষেই কাউয়া বানিয়ে দিলো। মোরগের মতো মাথা ঝাড়া দিয়ে নিজেকে আরও একবার পৃথিবীর সবচেয়ে বড় "বান্টু" তথা গাধা মনে হলো আমার। সব আহাম্মকি ঘটনাগুলো আমার সাথেই কেন ঘটে এটা আমার জীবনের প্রথম বিস্ময়! লোকমুখে শোনা যায় বিধাতা যখন সবার মধ্যে "আক্কেল" বণ্টন করছিলেন,আমি তখন নির্ঘাত ঘুমিয়ে ছিলাম।অচিরেই আমার ভাগের "আক্কেল" টুকু অন্য কেউ ঝেড়ে নিয়েছে। দুঃখে মনটা মোচড় দিয়ে উঠে গলা দিয়ে বেরিয়ে আসতে চাইছে। পরক্ষণেই মনে হলো এটা এসিডিটি তথা গ্যাস্ট্রিকের প্রভাবও হতে পারে। বৃষ্টি থেমে গেছে।এবার পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া গেলো বৃষ্টিটা আসার অন্যতম লক্ষ্য ছিলো আমাকে উপহাস করা। ইচিং বিচিং করে লম্ফ ঝম্ফ করতে করতে রান্নাঘরের দিকে এগিয়ে গেলাম। মনে বেশি কষ্ট লাগলে আমি মুড়ি খাই।হ্যাঁ মুড়ি খাই। কি সুন্দর মুচুড়-মুচুড়,কুড়মুড় বা বুড়বুড় শব্দ হয়! মুড়ির বয়াম থেকে শার্টের বুক পকেট,প্যান্টের সামনের দুই পকেট আর ডান হাতের মুঠো ভর্তি করে মুড়ি নিয়ে ইচিং বিচিং…না না এবার আর ইচিং বিচিং নয়,এবার আস্তে আস্তে তিড়িং বিড়িং করে লাফাতে লাফাতে বাইরে বেরিয়ে গেলাম যাতে পকেট থেকে মুড়ি উপচে পড়ে না যায়। হাঁটছি আর মুখ ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে মুড়ি চিবুচ্ছি। নেচে-কুঁদে,হেসে হেসে,দুলে দুলে মুড়ি চিবুচ্ছি। হঠাৎ কোত্থেকে একটা লোক এসে হুমড়ি খেয়ে আমার উপর পড়লো। এতে আমার সংরক্ষিত মুড়ির কিছু কিছু ছড়িয়ে ছিটিয়ে নিচে পড়লো। মেজাজটা টনটন বা ঠনঠন অথবা ঘনঘন করে গরম হয়ে উঠলো। নিজেকে সামলে ছোট্ট করে বললাম, -চোখে দেখতে পান না? লোকটা আমাকে ধরে নোকিয়া ১১০০ মডেল ফোনের ফুল ভাইব্রেশন মোডের মতো ধরে ঝাঁকিয়ে বলল, -আরে আবুল ভাই না?? মানুষের মানুষ চিনতে ভুল হতেই পারে তাই মাথা ঠান্ডা রেখেই বললাম-জ্বী না ভাই আমি আবুল নই রুবেল। লোকটা আবার বললো, -আরে না আপনিই আবুল ভাই। আপনাকে চিনতে আমার ভুল হতেই পারেনা। একটু চটানো গলায় বললাম, -তাহলে আপনি কি বলতে চাচ্ছেন? আমার নিজেকে নিজের চিনতে ভুল হতে পারে? -আরে রাগ করেন কেন আবুল ভাই? কতদিন পর দেখা। -শোনেন আবারও বলতেছি আমি আবুল নই রুবেল। র উ কার রু,ব এ কার বে এবং ল "রুবেল"। কি বলেন তো? রুবেল। এবার লোকটা বলল - আ,ব উ কার বু এবং ল। আবুল।আপনিই আবুল ভাই। তারপর লোকটা আঙুল নাচিয়ে নাচিয়ে বললো মনে নাই ঐ যে ইসলামিয়া চক্ষু হাসপাতালে কত কথা হলো? ইভেন আপনি এবং আপনার বন্ধুর তো কথা ছিলো আমাকে কিছু টাকা দেওয়ার। আপনার সেই অন্ধ বন্ধুকে নিয়েই তো হাসপাতালে গেছিলেন? মনে পড়লো? আমার স্মৃতিপট কিছুক্ষণের জন্য ফুল ব্ল্যাঙ্ক হয়ে গেলো। লোকটা আবার বলল- মানুষ আসলে এমনই তো হয়। টাকা দেওয়ার কথাটা বললাম এখন তো আরও চিনবেন না তাইনা? লোকটার মুখের কথা ভুল প্রমাণ করে দিয়ে আমি বলে উঠলাম- ও হ্যাঁ, মনে পড়েছে,এইবার মনে পড়েছে। মুহূর্তেই লোকটার মুখ ভূত দেখে ভয় পাওয়ার মতো ফ্যাকাশে বর্ণ ধারণ করল। লোকটি তোতলাতে তোতলাতে জিজ্ঞেস করলেন -স..সত্যিই মনে পড়েছে? -হ্যাঁ মনে পড়েছে তো।আপনি ছাবুল ভাই না?? এবার লোকটি বলতে শুরু করলো, - না আপনে মনে হয় আবুল ভাই না,রুবেল ভাই। -আরে না ঠিক আছে।স্যরি চিনতে পারিনাই কিছু মনে করিয়েন না ছাবুল ভাই।কেমন আছেন বলেন? লোকটা বললো, না ভাই আপনি আবুল ভাই না আর আমিও ছাবুল না। আমার নাম তো জাভিদ। -বললেই হলো? আপনিই ছাবুল ভাই,বললাম আমি। লোকটা বেশ হাইপার হয়ে বললো-আরে ভাই বললাম তো ছাবুল টাবুল না আমার নাম জাভিদ। জ আকার জা,ভ ই কার ভি এবং দ "জাভিদ"। আমি বললাম- ছ আকার ছা,ব উ কারে বু এবং ল "ছাবুল"। নো ডাউট আপনিই ছাবুল। আমারতো চোখ বন্ধ করলেই চোখের সামনে ভাসছে ইসলামিয়া চক্ষু হাসপাতালে আমার এক অন্ধ বন্ধু আর আমার সাথে কত কথা হলো আপনার??? হ্যাঁ আপনাকে তো টাকা দেওয়ার কথা ছিলো কারণ আপনি তো আমার সেই অন্ধ বন্ধুকে আপনার একটা চোখ ডোনেট করতে চেয়েছিলেন। কি বড় মন আপনার ভাবাই যায়না।পরিষ্কার সব মনে করতে পারছি। আমার চোখ এড়ালোনা লোকটা কুলকুল করে ঘামছে। লোকটা আমার হাত ধরে বলতে লাগলো- ভাই দেখেন আমার ভুল হয়ে গেছে প্লিজ বোঝার চেষ্টা করেন ভাই আমি ছাবুল ভাই নই। মাফ করে দেন ভাই আমি চ্যানেলের হয়ে কাজ করতে আসছি ঐ যে দেখেন ক্যামেরা ভাই। প্লিজ ভাই চাকরিটা থাকবেনা আমি ছাবুল নই ভাই আমি জাভিদ। এবার আমার কাছে সবকিছু দিনের আলোর মত পরিষ্কার হলো।কিন্তু তবুও টপিক থেকে নড়লাম না। বললাম- হুম মানুষ তো আসলে এমনই! একজন অন্ধ মানুষকে আশার আলো দেখিয়ে এখন অস্বীকার করতেছেন। লোকটার হাত ধরে মৃদু টানাটানি করতে করতে বললাম- চলেন না ভাই প্লিজ না হয় টাকা একটু বেশিই দিবো। এবার লোকটা প্যাঁ প্যাঁ করে কান্না শুরু করে দিলো। লোকটার আর আমার চেঁচামেচিতে লোক জড়ো হয়েছে অনেক আগেই। লোকটা চোখ-নাক ডলতে ডলতে বলল- মাফ চাই ভাই আমার চাকরি লাগতো না আমারে সুস্থ শরীরটা নিয়া বাড়ী যাইতে দেন আপনি আমার ধর্মের ভাই লাগেন। আর জীবনেও কারও সাথে প্র্যাংক করব না ভাই প্লিজ। আহারে,বেচারার জন্য মায়া হলো। "হাসিও পায়,দুঃখও লাগে"- একটা কথা আছেনা? লোকটার দুঃখের মাঝের আমি ফিক করে হেসে ফেললাম। লোকটাকে মাত্রাতিরিক্ত লেভেলের নাস্তানাবুদ করেছি পাবলিক প্লেসে বললে কিল একটাও মাটিতে পড়বেনা। দীর্ঘ একটা শ্বাস নিয়ে বললাম - থাক ভাই আর কাঁইদেন না। এটা জাস্ট একটা প্র্যাংক ছিলো ঐ দেখেন ক্যামেরা। সবাই যখন আমার আঙুলের ইশারায় অন্যদিকে তাকালো অমনি সামনের পকেট দুটো চেপে ধরে উল্টো ঘুরে খিঁচিয়ে দিলাম এক দৌড়। কিছুদুর যাওয়ার পর থেমে একটু জিরিয়ে নিলাম। সবশেষে সামনের পকেট থেকে মুঠো ভরে মুড়ি বের করে মুচুড় মুচুড়, কুড়মুড় বা বুড়বুড় শব্দ করে চিবোচ্ছি আর মনে মনে ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক হিসেবে- " পাপি পাপি,পাপি চুলো পাপি পাপি পাপি চেঙ্গানি" গানে নৃত্য করতে করতে হাঁটছি। #কঠিন প্র্যাংক লেখাঃ আফসানা আহমেদ মীম


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১২৮ জন


এ জাতীয় গল্প

→ কঠিন প্র্যাংক

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now