বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
কটা আচারের বয়াম, ছেঁড়া ঘুড়ি আর ফুলহাতা শার্ট
ইমাম মুত্তাকীন
১.
পাবনা, পৈলানপুরের ওয়াপদা! পাবনা শহর হিসেবে
এমনিতেই পুরোনো, পৈলানপুর আরো
পুরোনো। এদিকের দালানকোঠা তে বয়েসি
বয়েসি ছাপ। ওয়াপদা কোয়ার্টার এর দালান গুলো
আলাদা নয়। দেওয়ালে দেওয়ালে শেওলা তে
ছেয়ে গেছে। বিশাল কোয়ার্টার এর কিছু কিছু
বাসা ছাড়া সবকটাতেই মানুষের বসবাস।প্রচুর গাছ,
অনেক ছায়া কোয়ার্টার কে এনে দিয়েছে
প্রাগৈতিহাসিক রূপ। সন্ধা হলেই ঝুপ করে আধার
নেমে পড়ে। দুপুরে ঘুঘু ডেকে ডেকে
আপনার চোখের পাতা নামিয়ে আনবে। তাই বলে
ভেবে বসেন না আসলেই মধ্যযুগে পৌছে
গেছেন।
বিকেলে উঠতি ক্রিকেটার আর ফুটবলারদের
যেমন প্রতাপ, সাইকেল চালিয়ে নিজেদের
যুবাত্বের প্রদর্শন করে যায় ছেলেরা, আছে
কিছু মেয়েরাও। নাঈমের আজ কাল ঘুড়ি ওড়ানোর
নেশায় পেয়ে বসেছে। বয়োসন্ধি কাল, কখন
কি মাথায় আসে কে জানে। দেশি উপসর্গ মুখস্থ
করার মত করে ঘুড়ির নাম মুখস্ত করেছে সে।
খোপা, পান, রকেট, ভাইজে, ডাব্বা আরো কত
কি! কাঁচের গুড়ো, সাগু আর কি কি সব মিশিয়ে
মাঞ্জা দিয়ে ধারালো সুতো বানিয়েছে। হাতের
তালু আর তালু নেই। ঐ সুতোর ধারেই কেটে
কুটে অস্থির।
আজকের ঘুড়িটার নাম পান। আজ শনিবার। সে আজ
স্কুল যায়নি। আমজাদ সাহেব, নাঈমের বাবা। বেশ
কড়া ধাচের মানুষ। সে অফিস চলে যাবার পরপরই
খাটের তলা, আলনার ফাঁকে, আলমারির ভেতর
থেকে বেরিয়ে আসে ঘুড়ি বানানোর উপকরণ।
বিলকিস বানু, সকাল থেকে ছেলেকে বিভিন্ন
ভাবে শাষিয়েও থামাতে পারল না। একমনে সে ঘুড়ি
বানিয়ে যাচ্ছে। বিলকিস বানুর ভাষায় আজ তার "বিগাড়"
উঠে গেছে, ছ'টা ঘুড়ি বানিয়ে ছিঁড়ে সেরে
একটা লাল পান ঘুড়ি বানালো। বিকালে সেটা নিয়েই
মেতেছে সে।
তার ঘুড়ি ওড়ানোর সঙ্গী-সাথীরা বেশ প্রশংসা
করল। এমন ঘুড়ি নিয়ে কাটা-কাটি খেলার ইচ্ছে তার
ছিল না। কোত্থেকে আরেকটা ঘুড়ি লাগতে এল
তার সাথে। ভালই চলছিল লড়াই। নাঈমের কঠিন মাঞ্জা
দেওয়া সুতোকে হার মানিয়ে কেটে গেল
ঘুড়িটা।
হাওয়ায় ভেসে ভেসে কেটে যাওয়া ঘুড়িটা
লক্ষহীনভাবে উড়ছিল। লাল রং এর হৃদয় আকৃতির
ঘুড়িটার হৃদয়ঙ্গমতা টেনে নিয়ে গেল নাঈমকে।
ঘুড়ির দিকে চোখ রেখে এগোতে থাকে
সে। ঘুড়িটা তার ফেরত চাই-ই চাই। ঘুড়িটা এসে পড়ল
কোয়ার্টারের শেষ প্রান্তের এক বাড়ির চিলে
কোঠায়। এদিকটা বেশ ঘন, গাছপালার জন্য। খুব
একটা আসা হয় না ওর এদিকে। আজ ঘুড়ি তাড়া করতে
করতে আসল ও!
২.
নাজমা বেগম ঘুমোচ্ছিলেন। সারাদিন সংসারের কাজ
কর্ম করতে করতে তিনি একরকম ক্লান্ত হয়ে
যান। ছ'টা রুম। বাড়ির আশে পাশের বাগান সামলানো,
উঠোন ঝাড়ু দেওয়া, রান্না আরো কত কি। দুপুরে
মেয়ে কে খাইয়ে, বরকে খাইয়ে ফের অফিস
পাঠিয়ে, মেয়েকে নিয়ে ঘুমিয়েছিলেন। ঘুম
থেকে জেগে দেখলেন মেয়েটা পাশে
নেই।
পৃথা। নাজমা বেগম আর রশিদ সাহেবের একমাত্র
কন্যা। একমাত্র মেয়ে দেখে, তার অঘোষিত
অনুপস্থিতি মায়ের মনে অস্বস্তির সৃষ্টি করছিল।
মায়ের মনে অস্বস্তি থাকলেও, পৃথার কিন্তু এই
পড়ন্ত বিকেল টা বেশ লাগছে। বিশাল ছাদ। বিভিন্ন
রকমের গাছ। রশিদ সাহেবের গাছের শখ। এই
ধরুন ফল, ফুল কিংবা রঙিন পাতা। পৃথা, এই গাছ গুলো
দেখতেই উপরে আসে। ছাদের উপরের এই
গাছ গুলো দামি। বিদেশী গাছ কি না! গোটা
দুয়েক কাশ্মীরি কমলা, আর কোথা থেকে আনা
আপেল গাছ ও আছে। ও, জানত শীত কালে
কমলা হয়! অথচ এই বিদেশি গাছ এখনই গোটা
পাচেক কমলা লাগিয়েছে, একেবারে নাক ফুলের
মত। এগুলাই দেখতে আসে সে। ছাদে নাজমা
বেগম এর এক্সপেরিমেন্টাল বিভিন্ন রকমের
আচার রোদে দেওয়া থাকে। আচার এর বয়াম
খুলে কিছুটা করে আচার নিয়ে সে খায় আর ছাদময়
পায়চারি করে। এ সময়টা তার খুব পছন্দের, প্রকৃতি
ঘুমোবে বলে হঠাৎ করে চুপ করে যেতে
থাকে। পৃথার পায়ের ভারি পায়েলটার, আওয়াজ থাকে
খালি ছাদে।
আকাশে আজ কটা ঘুড়ি দেখা যাচ্ছিল। ছাদে পৃথা ঘুড়ি
দেখে আর ভাবে, কে উড়াচ্ছে! কখন
নামাবে? একরকম ঠান্ডা আলাপ নিজের সাথে। পৃথা
ঘুড়ি উড়তে থাকা দেখলেও, সেটার কেটে যাওয়া
দেখেনি। ভাসতে ভাসতে ঘুড়ি পৃথার ঠিক পিছনেই
পড়ল। একটা চাপা আনন্দের বেলুন সশব্দে
ফেটে গেল ওর বুকটায়। পায়েল, বাজিয়ে
বাজিয়ে দ্রুত পৌছে যায় ঘুড়ির কাছে। অনেকখানি
সুতোসহ ঘুড়ি এসে পড়েছে। ঘুড়িটা নিয়ে যাবে
সে, সুতো থেকে ছিড়ে।
এই সময় ছাদের কার্ণিশ ভেঙে উপরে উঠে
আসল নাঈম। শব্দ পেয়ে চমকে যায় পৃথা । পৃথার
কাছে, সে আগন্তুক। নাঈমও ভাবে নি ছাদে
কেউ থাকবে, নাহলে সে উঠতোই না। নাঈম তার
ঘুড়ি নিয়ে যাবে বলে, এগুতে থাকে। পৃথা,
একরকম ভয়ই পেয়ে যায়, অসাবধানে পৃথার নরম
আঙুল কেটে যায়, কঠিন মাঞ্জা দেওয়া
সুতোতে। পৃথা, পেছনে না দেখেই
পিছোতে থাকে। গোড়ালিতে লেগে কটা
আচারের বয়াম গেল উল্টে।
-পৃথা, এই পৃথা। উদ্বেগ আর কর্কশতা মিশ্র নাজমা
বেগমের কন্ঠ।
আবার কেউ আসছে ভেবে, নাঈম কোন এক
গাছের নিচে লুকিয়ে যায়।
-কিরে ছাদে এসেছিস কেন? সন্ধা হয়ে
গেছে নিচে যাওয়ার নাম নেই? আচারের বয়াম
ভাঙল কিভাবে? কি হয়েছে? হাতে ঘুড়ি কিসের!
একটানা অনর্গল কথা বলে যায়, নাজমা বেগম। পৃথা
সব শুনে চুপ করে থাকে।
আড়াল থেকে নাঈম শুনতে পায়। একপাক্ষিক
আলাপন।
একরকম দৌড়ে, মেয়েকে নিয়ে নেমে
গেলেন নাজমা বেগম। কিন্তু বকা থামল না।
-তুই কি আমাকে শান্তি তে থাকতে দিবি না? কি
হয়েছে? আঙুল কাটল কি ভাবে? এই ঘুড়ি কার!
নাঈম শুনতে পায়। ছাদে পৃথার আঙুল চুইয়ে পড়া ক'
ফোটা রক্ত পড়ে আছে। আলতো, করে
আঙুল ছোয়ায় রক্তের উপর। কাজল দেয়া, মায়া
মায়া চোখের শ্যামলা মেয়েটা অনেক বকা
শুনল!! নাঈম তাই ভাবে। ঘুড়ি না পাওয়ার মন খারাপের
অভিব্যাক্তি তার চোখে মুখে ছিল না।মায়া
চোখের শ্যামলা মেয়েটার বকা শোনা আর
চুইয়ে পড়া রক্তের বিপরীতে নিজেকে
অপরাধী সাব্যস্ত করে নাঈম । অদ্ভুত এক ঘোর
নিয়ে সে বাড়ি ফিরছে সে।
৩.
বিমল কুমার, পৈলানপুর ওয়াপদা স্কুলের ক্লাস
টেনের ক্লাস টিচার। রোল কল করে
চলেছেন। ইয়েস স্যার শুনলে টিক চিহ্ন দিচ্ছেন,
না শুনতে পেলে খালি রাখছেন। খালি রাখার আগে
দুবার করে রোল ডাকছেন। নির্বিঘ্নে ২৬ পর্যন্ত
ডেকে গেলেন তিনি। ২৭ রোল কে দু'বার ডাকা
হল। যেই তিনি ২৮কে ডাকবেন, ২৭ উঠে দাড়াল।
ইয়েস স্যার!
বিমল বাবু ভারি ফ্রেমের চশমার ফাক দিয়ে
দেখলেন। নাঈম এর রোল ২৭।
-কিরে মন কই থাকে?
-জ্বি, স্যার খেয়াল করি নি-
খেয়াল আর কবে করবি?
-ভুল হয়ে গেছে স্যার
-গতকালও স্কুল আসিস নাই! ক্যান?
-স্যার কাজ ছিল
-কাজ!! কি কাজ?
-স্যার, ঘুড়ি বানাচ্ছিলাম স্যার
-কিইহ?
-মানে, স্যার প্যাট খারাপ ছিল!
-এই না বললি ঘুড়ি বানাচ্ছিলি!
ক্লাসের সবাই একযোগে হেসে ফেলে।
অপ্রস্তুত হয়ে যায় নাঈম। চার পাশে তাকায় সে।
স্যার কে, তার কাছে সিনেমার উকিলদের মত
লাগছে। তীক্ষ্ণ দৃষ্টি পাত করে স্যার এর দিকে।
এখন যেকোন পরিস্থিতি সামলিয়ে নিতে হবে।
স্যার নাঈম এর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি খেয়াল করলেন কি
না, বোঝা গেল না। তবে সে আর তাকে
ঘাটালেন না। অন্য টিচারদের আড়ালে বিমল বাবু
একরকম ভয়ই পান ক্লাস টেন এর ছেলেদের।
শক্তি,বুদ্ধি আর উদ্দমে তারা ক্লাস টেনেই পড়ে।
নাঈমের খেয়াল গতকালের ছাদেই আটকে ছিল।
প্রতিটি সেকেন্ড আর তার সমান্তরালে ঘটে যাওয়া
দৃশ্য গুলা তার চোখে গাথা। স্লো মোশনে
সেসব প্লে হয়ে চলেছে মনের পর্দায়।
সেসব চলতে থাকলে কি, আদৌ রোল কল করার
সময় খেয়াল রাখা সম্ভব।
৪.
বিকেল বেলা। নাঈম বাইরে বের হচ্ছে। বিলকিস
বানু দেখলেন নাঈম আজ কলার উচু করা টিশার্ট
পরেনি। হাতা গুটিয়ে একটা ফুলহাতা শার্ট পরেছে।
ফুলহাতা শার্ট।
আজ নাঈমের হাতে না আছে টেপ মোড়া টেনিস
বল, না আছে রং ওঠা ফুটবল কিংবা লাটাই ও নাই।
-কিরে ফুল বাবু সাইজা কই চললি? বন্ধুমহলের টিটকারি
ছুটে আসে নাঈমের গায়ে।
-ফুল বাবু? ফুল বাবু কে সাজল?
-তুই! এইযে ফুল হাতা জামা!! গায়ে আবার সেন্ট
ও মেরেছিস মনে হয়।রাজু, নাঈমের কলারের
বোতাম টা লাগিয়ে দিতে হাত বাড়ায়। ছ্যাঁত করে হাত
ছাড়িয়ে নেয় সে।
-দেখ ফাজলামি করিস না।
-নে নে, করলাম না ফাজলামি। ঘুড্ডিটা উড়ায় দে
দেখি।
-তোর ঘুড্ডি তুই উড়ায় নে গা…আমি পারব না। এই
বলে নাঈম এগিয়ে যায় রাস্তা ধরে। বন্ধুরা আরো
কিছুক্ষণ লেগপুলিং করল নাঈমের। দূর থেকে
নাঈম যতটুক শুনল, তার বদৌলতে অগ্নি দৃষ্টি বর্ষণ
করল। ওরা এরকমই, নাঈম ও।
নাঈম, পৃথা দের বাসার ছাদে এসেছে। ঘুড়িটা নিতে
এসেছে, নাকি মেয়েটাকে দেখতে এসেছে
এই দ্বন্ধ কাজ করছে তার মনে। 'মেয়েটা' নয়।
ওর নাম, পৃথা। পৃ থা!! সরু গোফের নিচে,
নাঈমের ঠোট কিছুটা হাসে।
ছাদে থাকাটা তার কাছে নিরাপদ মনে হল না, সে
কার্নিশে নেমে পড়ে। এই এত শত গাছের
মাঝে কোন একটা পেয়ারা গাছ থেকে কিছু
পেয়ারা পেড়ে নিয়ে, পা ঝুলিয়ে আরামসে বসে
আছে সে। কান সতর্ক, ছাদে যদি সে আসে।
ঘুড়িটা চেয়ে নেবে সে! লাল রং এর হৃদয়
আকৃতির ঘুড়িটা!!
আজ একেবারেই ঘুম আসেনি পৃথার। বিছানায় ছটফট
করছিল, মা কনুই দিয়ে দিলেন গুতো! সেই
থেকে এলজেব্রা নিয়ে বসেছে সে।
কতক্ষণ অংক করছিল সে, জানে না। আর ভাল
লাগছে না, তার। পর্দা সরিয়ে দেখে নেই
আকাশে রোদ আছে কি না। কলমটা, খাতা বইয়ের
মাঝে ঢুকিয়ে দিয়ে ছাদে যায় সে।ভারি পায়েলের
শব্দ শুনতে পাইনি বললে ভুল হবে, আসলে নাঈম
পেয়ারা খেতে গিয়ে মিস করে ফেলেছে।
পৃথা ছাদময় পায়চারি করছে।আজ সে আচার খেতে
পারছে না। গত দিন যে ঘুড়িটার জন্য হাত কেটে
গেছে, তাতে ব্যান্ডেড লাগাতে হয়েছে
আঙুলে। এদিক সেদিক করতে গিয়ে, ঐ কার্ণিশটার
কাছে এসে পৌছায় সে।
আতকে ওঠে সে। কালকের সেই ছেলেটা।
এখানে কি করছে? পেয়ারা পেড়ে! পা ঝুলিয়ে
খাওয়া হচ্ছে। মামদোবাজি করার জায়গা পাই না নাকি?
এখানে কি?
পৃথা চুপ করে থাকে। হালকা হাওয়া বইছে। শুনশান
শান্ত পরিবেশ।একটা ছেলে তাদের বাড়ির
কার্নিশে বসে পেয়ারা খাচ্ছে, পৃথা তাই দেখছে।
ছেলেটা নীল চেকের একটা শার্ট পরে
আছে। মাঝখানে সিথী করা চুল, বাতাসে নড়ে
নড়ে উঠছে। মজাই লাগছে পৃথার।আচ্ছা, আমি যদি
এখানে আছি ছেলেটা যদি বুঝতে পারে সে কি
ভয় পাবে? অবাক হবে হয়ত! যদি পড়ে যায়? থাক
থাক শব্দ করব না, দেখিই না ও কি করে?
কিশোরী মনে এসবই ক্রিয়া বিক্রিয়া করে চলে।
অনেক্ষন ধরে বসে আছে নাঈম, চারটে ডাসা
ডাসা পেয়ারা এনেছিল তার তিনটে সাবাড় করা হয়ে
গেল, মেয়ে টা আসবে না? সে কি চলে
যাবে? এই ভাবতে ভাবতেই পেছনে তাকাই সে।
চোখাচোখি হয়ে যায় পৃথার সাথে।
দুজনেই চমকে যায়, ঘটনা আকস্মিকতায়।
- আ-আমাকে চিনেছেন? আ-আমার ঘুড়িটা গতকাল
আপনাদের ছাদে এসেছিলতোতলাতে
তোতলাতে বলে নাঈম।
পৃথা মাথা নাড়ে! একটু ধাতস্থ হয়!
আমি নাঈমকাল আমার ঘুড়িটা আপনি নিয়ে গেলেন
যে। আসলে অনেক প্রিয় ঘুড়িটা। দিন না, প্লিজ!!
নাঈমের কথা নির্বাক শ্রোতায় হয়ে কেবল
শোনেই পৃথা। কিছু বলে না! ওর কাছে সব কিছু
স্তব্ধ হয়ে গেছে। সামনে শুধু বছর সতেরর
একটা ছেলে গালে গোটা দুয়েক টোল
ফেলে কথা বলে চলেছে।
নাঈম, পৃথার জবাবের অপেক্ষা করে। কিন্তু পায় না।
সে আবারো বলে, আসলে, আমি সরি আপনার
হাতটা কেটে গেল সুতোয়! আচারের বয়াম
ভেঙে গেল, আপনার মা আপনাকে এক গাদা
বকলো। আমি, এমনটা চাইনি। প্রিয় ঘুড়ি না হলে
আসতামই না, দিন না প্লিজ!!
পৃথারা কাটে না। নাঈম, তার হাতে থাকা পেয়ারাটা
পৃথাকে এগিয়ে দেয়! আপনাদের গাছের
পেয়ারা, খাবেন? খুব টেস্ট পৃথা পেয়ারা নেয়।
ওদিকে, পৃথার মা ছাদে আসে, পৃথু, মা....মা রেপৃথা
উদ্বিগ্ন হয়ে যায়। এই ছেলেটার এখন কি হবে।
পৃথা ছাদে রেলিং থেকে চলে আসে। মায়ের
কাছে। নাঈম মাথা নামিয়ে আড়াল করে নিজেকে।
কিরে মা, কখন আসলি ছাদে? ঘুমাস নি? শরীর
খারাপ? ঘামছিস যে বড়! যা গরম পড়েছে। পেয়ারা
পেলি কোথায়?
নাঈম শোনে, বরফ হয়ে থাকে সে, একদম
নড়ে না। কোন রকমে চোখ বের করে সে
দেখে, একজন মা, তার মেয়েকে নিয়ে ছাদময়
ঘুরছে! একাই কথা বলে চলেছে মা!
সন্ধ্যা হয়ে আসছে। নাজমা বেগম মেয়েকে
নিয়ে ভেতরে চলে যান।নাঈম গমন পথের দিকে
তাকিয়ে থাকে, কিছুক্ষন। নেমে আসে ছাদ
থেকে। আজ বাড়ি ফিরতে দেরি হয়ে গেলে
তার আব্বা পেটাবে তাকে।
৫.
-কিরে, তোর মা তাইলে ঠিকই কইছে!!
-জ্বী, আব্বা!! কি হয়ছে?
-কি, হয়ছে মানে, তোর মা বলল, পোলার পাঙখা
গজায়ে গেছে, ঘটনা দেখি সত্য।
-জ্বী?
-তুই বলে ইশকুলে যাস না, খালি ঘুড্ডি উড়ায়া
বেড়াস? এরে, তুই খাবি কি কইরা?
-আব্বা, স্কুল যাই তো!
-হ, জানিতো। খাতা কেনার টাকা দিয়া কি ঘুড্ডির কাগজ
কেনস?
-না, আব্বা!
-শুন, ছেলে কেমিস্ট্রিত পাশ কইরবের না পার,
ঐসব ঘুড্ডির লাটাই সব পিঠে ভাঙব।
-জ্বি, আব্বা পাশ হবে।
-হ, যাও মাঝরাতে বাড়ি ফিরছ, গিয়া পইড়বের বস।
-আসলে আব্বা সাইকেল নিয়া যায়নি তো, তাই দেরি
হয়ে গেল।
-যাও এবার, পইড়তে বস। উদ্ধার কর আমারে।
আমজাদ সাহেবের এই রুদ্রমূর্তি খালি প্রত্যেক
সন্ধ্যার। সে সন্ধ্যায় ছেলে শাসন করে।তাও
উপরে উপরে। নাঈম আমজাদ সাহেবের একমাত্র
ছেলে। আদরের প্রগাঢ়তার কাছে শাসন ফিকে
হয়ে যায়। তাই বলে ছেলে গোল্লার যাত্রী
নয়। রোল সাতাশ হলেও হায়ার ম্যাথ আর ফিজিক্সে
লেটার নাম্বার মিস হয় না। গন্ডগোল খালি কেমিস্ট্রি
তে বাধে। বাপের আদরের আসক্তি যেমন
আছে, নাঈমের বাপের আদেশের প্রতিও ভক্তি
আছে। এসেই বই খুলে বসেছে। কেমিস্ট্রিই
পড়ছে সে।
বিলকিস বানু গ্লাস ভরে দুধ এনেছেন। নাঈমের
ঘরে।
-নে খায়া নে! নাঈম গ্লাসে চুমুক দেয়।
-আইজ এত সাইজা গুইজা গেছিলি কই!
-কই আর যামু? দুধের সাদা মোচ হাতের উল্টা
পিঠে মুছতে মুছতে বলে নাঈম।
-না এরাম ফিটফাট হয়ে বেরোস না তো।
-ফিটফাট হওয়া কি খারাপ?
-না, যেরম তুই চলস ইদানীংকাল। ফিটফাট হয়ে চললি
পারে ভালই দ্যাখা যায়।
-হ, যাও যাও। ফিটফাট হয়াই চলব।
বিলকিস বানু ছেলের মাথায় হাত বুলিয়ে চলে যায়। মা
চলে যাবার পর, পড়ায় ঢিলে দেয় নাঈম। তার ঘোর
কাটে না। মেয়েটা, কেমন জানি! একটা কথাও বলল
না! ভাবে নাঈম। পৃথার বাক্যহীন মুখের
অভিব্যাক্তিগুলা জ্বল-জ্বল করছে তার মনের
মাঝে। মনের গহিনে সেদিনের স্থির জলে আজ
রীতিমতো উত্তালতা।
৬.
শেষ যেদিন নাঈম পৃথাদের বাসার ছাদে গেছিল
তারপর আজ চৌদ্দ দিন কেটে গেছে। এর মাঝে
দু বার সে তাদের ছাদে গিয়ে বসেছে, কিন্তু
পৃথা আসেনি। উলটে তার মায়ের কাছে শেষবার
প্রায় ধরাই পড়তে গেছিল। নাঈম যেই ছাদে
উঠবে, সেই ওর মায়ের হাক। কোনপ্রকারে
সেদিন চলে এসেছে।আর ওমুখো হয়নি।নাঈম
কেমন জিজ্ঞাসা করলে প্রকৃত যে উত্তর পাওয়া
যাবে তা হল অঞ্জন দত্তের গানের সেই
ছেলেটার মত। ঠ্যাঙ ভাঙার ভয় যার! বাংলায় যে
সত্তুর পাই, এত সবের পরেও সে ভাল থাকেনা,
ভাল লাগেনা কোন চ্যানেল, কান্না পায় সারারাত!
রিডাকশন-অক্সিডেশন রিএকশনের অর্ধেক হিসেব
মিলিয়ে, পৃথার নাম লেখা! আবার অযত্নে
কেটেও দেয়া! নিজের ওপর কেমন জানি
নিয়ন্ত্রণ ছাড়া হয়ে যাচ্ছে নাঈম। ক্লাস করা, কোচিং
যাওয়া বন্ধ নাই, হয়ত বন্ধ হয়ে গেছে স্বস্তিতে
শ্বাস নেওয়া! গলার কাছে দলা পাকিয়ে কি যেন
একটা আটকে আছে। ভালবাসা নাকি?
ধুউউউর...পাশের বাড়ির কুটনি আন্টি যদি টের পায়,
আব্বাকে বলবেই। আব্বা ছাল ছাড়িয়ে নেবে
নির্ঘাত। এসব ভাবনার ঝড়ে লণ্ডভণ্ড নাঈমের
মনের উঠোন।
গল্পের খাতিরে হোক আর প্রকৃত ঘটনায় হোক
গত চৌদ্দ দিনে পৃথাও ছাদে গেছে। বরাবর সে
পূর্বদিকের কার্নিশ চেক করতে ভোলেনি।
কাশ্মীরী কমলা গাছের অসময়ের কমলাগুলো
পেকে গেছে। সেগুলো আজ চৌদ্দ দিন ধরে
অক্ষত ঝুলছেই। নাঈম নামের ছেলেটা কি কমলা
খায় না? এইদিন ছেলেটা আসলে দুটো কমলা
দেবে সে, ভেবেই রেখেছে। কিন্তু,
আসে না কেন। একবার এসেছিল মনে হয়, সে
টের পেয়েছে। তার মা ছাদ থেকে কাকে
যেন চেঁচিয়ে চেঁচিয়ে তাড়া দিচ্ছিল। এই জন্যেই
তার মা তাকে ছাদে আসতে দিতে চায় না। ছাদে না
আসলেও পৃথার নৈশব্দের উঠোনে ছেলেটার
ধীর পায়ের পদচারণা। আনমনা হয়ে থাকার ১২আনা
চিন্তায় ছেলেটার জন্য।
৭.
তালডুবি চৌরাস্তা। আয়েশা মনোয়ারা বালিকা বিদ্যালয়।
বান্ধবীদের হাত নেড়ে বিদায় দিয়ে নিজের রাস্তা
ধরল পৃথা। আজ তার ফিক্সড রিকশাওয়ালা আসেনি।
অন্য রিকশাওয়ালা কে বোঝানো মুশকিল, তাই আর
পৃথা রিকশা নিল না। নীল সাদা অধ্যুষিত স্কুল ড্রেস
পরা পৃথা এগিয়ে যাচ্ছে। আজ আবার তার
পুরোনো ভয়টা লাগছে। চৌরাস্তার সেই টি
স্টলের সাক্ষর তার দলবল নিয়ে বসে থাকে, কি
নোংরা নোংরা কথা বলে ওরা, পৃথা কে নিয়ে।
বাস্তবে ঘটলও তাই। পৃথা রাগে, রাস্তার পাশে
দাঁড়িয়ে অঝোরে কেদে ফেলল।
অসভ্যগুলো মজা নিয়ে চলল।
চৌরাস্তার এই পথ দিয়েই স্কুল থেকে ফিরছিল নাঈম।
মোটা টায়ারের সাইকেলটা হাটিয়ে হাটিয়ে সে বাড়ির
পথ ধরেছে। তার মন খারাপ। টুকরো টুকরো
অদ্ভুত অনুভুতি এক গাদা গল্প জমিয়ে তুলেছে।
কাউকে বলতে পারছে না। যার জন্য জমিয়েছে
সেও লাপাত্তা। এই ভাবতে ভাবতে এগুচ্ছে সে।
সাক্ষরদের এই কুখ্যাত গ্যাং এর কথা অজানা নয়
নাঈমের। দূর থেকে বুঝল যে ওরা একটা
মেয়ের সাথে ঝামেলা করছে। মেয়েটা যে
পৃথা সে কাছে গিয়ে বুঝল। কোমর পর্যন্ত
বেনি ঝুলিয়ে মেয়েটা ফুপিয়ে ফুপিয়ে কাদছে।
কোন প্রতিবাদ ছাড়াই অসহায়ত্বের অশ্রুবর্ষণ।
-কি করছ এইখানে? কাঁদছ কেন? দাঁড়ায় আছ কেন?
নাঈম উত্তর পায় না। সে পৃথার হাত টেনে ধরে
তার সাইকেলের কাছে নিয়ে আসে। ক্যারিয়ারে
পৃথাকে উঠিয়ে সাইকেল টান দেয় নাঈম। পৃথা শক্ত
মুঠ করে নাঈমের সাদা শার্ট ধরে আছে, মনে
হয় তখনো কাঁদছে।
-এখনও কাদছ কেন? আর তো ভয় নাই! আর
কেদো না। নাঈম বলে যায়, বরাবরের মত উত্তর
পায় না সে!
-কিছু না বলে শুধু শুধু কেন কাঁদছিলে বলত, জান না
ওরা কি রকম। আর এই রোদে হেটে হেটে
আসারই কি দরকার!! অভিভাবক সুলভ অনেক কথা
একাই বলে যায় নাঈম। উত্তর না দিয়ে পৃথা শক্ত
করে ধরে রাখে নাঈমের শার্ট। নাঈম কোন
দিকে না তাকিয়ে সাইকেল চালায়, সাবধানে।
পেছনে সেই মেয়েটা, যার কাছে হৃদয় আকৃতির
লাল ঘুড়িটা খুইয়ে এসেছে।
৮.
নাজমা বেগম মনে হয়, পৃথার এই অপ্রচলিত দেরি
হওয়া ভাল ভাবে নেননি। নাঈম দেখল যে পৃথার মা
তাদের বাসার সামনেই দাঁড়িয়ে আছেন। চোখে
মুখে স্পষ্ট উতকণ্ঠা। সাইকেল থামতেই পৃথার
কান্নার বাধ আবার ভেঙে গেল।
-কিরে মা! কি হয়ছে? নাজমা বেগম ব্যাকুল।
এবারে নাঈমের দিকে তাকায় নাজমা বেগম।
ভদ্রোচিত হাসির সাথে সালাম দেয় নাঈম। সালামের
উত্তর না দিয়েই নাজমা বেগম মেয়েকে নিয়ে
ভেতরে চলে গেলেন। নাঈমা কি করবে
ভেবে না পেয়ে সাইকেল ঘুরায়।
-কই চললে বাবা! পেছন থেকে নাজমা বেগম
ডাকে।
-স্লামালিকুম আন্টি।
-ওয়ালাইকুম সালাম, ওলাইকুম সালাম, ভেতরে এস বাবা।
-না মানে আন্টি দেরি হয়ে যাবে যে।
-আরে এসই না, এক গ্লাস শরবত তো খেয়ে
যাও!
-জ্বী, আন্টি।
নাঈম, নাজমা বেগম কে অনুসরণ করে, তাদের
বসার ঘরে এসে বসল। একপলক চোখা বুলিয়ে
নেয় ঘরটাতে। মধ্যাবিত্ত ছাপ। ঘরে ছোট খাট
পুতুলে ভরা। একটা ছবিও আছে। ফ্যামিলি ফটো
বোধহয়। নাজমা বেগমের কোলে বসা হাত
মুখে দেওয়া মেয়েটা বোধ হয় পৃথা-ই হবে।
ঘরের এক কোনে সে তার ঘুড়িটাও দেখতে
পায়।
-বাবা তোমার নাম কি? পুনঃআগমনের পর নাজমা
বেগমের প্রশ্ন
-নাঈম, দাঁড়িয়ে জবাব দেয় সে।
-বসো বসো…তুমি না থাকলে মেয়েটার যে
আজ কি হত। তোমাকে অনেক ধন্যবাদ।
- না, আন্টি, এ আর এমন কি?
-আমার মেয়েটা কথা বলতে পারে না। কেউ কিছু
বললে এভাবেই কাদে।
-জ্বী, আন্টি?
-হ্যাঁ, বাবা!! আমার একটাই মেয়ে। সব শুনতে পায়।
কথা বলতে পারে না। খালি ইচ্ছা শক্তির জোরে
ওর আব্বা আর ও মিলে এতদুর এসেছে।
-কিসে পড়ে ও আন্টি?
-এইবার নাইনে। এইটে বৃত্তিও পেয়েছে!
-ও!
-কি আর বলি, আজ ওর রিকশাওয়ালা যায় নি। তাই এই
অবস্থা। এই মুহূর্তে অপ্রশস্ত টি টেবিলে শরবৎ
নিয়ে আসে পৃথা। একটু চোখাচোখি হয় ওদের।
-খাও বাবা। পৃথা মায়ের পাশে বসে। একটু আলাদা
প্রশান্তিতে শরবৎ শেষ করে নাঈম। পৃথা মায়ের
পাশে বসে। মাত্র কান্নাকাটির আভাটা এখন আছে।
চোখ লাল। এলোমেলো চুল।
-তা তোমার বাসা কোথায় বাবা?
-আমাদের বাসা কোয়াটারেই।
-কোয়াটারে?
-জ্বি! আমার বাবা ডিজি স্টোর।
-আমজাদ সাহেবের ছেলে তুমি?
-জ্বী! জ্বী! আপনি চেনেন?
-হ্যা, তা তুমি কিসে পড়।
-এইত্ত আন্টি, ক্লাস টেনে।
অল্প সল্প গল্প চলার পরে উঠে যায় নাঈম। গলার
কাছে যেটা দলা পাকিয়ে ছিল সেটাকে আর ভারি
মনে হচ্ছে না, নাঈমের। স্কুল ড্রেসের টাইটা
ঢিলা করে দেয় ও। জোরে জোরে সাইকেল
চালানোর জন্য টাইটা উড়তে থাকে। আজ অন্যরকম
স্বাধীনতা।
৯.
সন্ধ্যে হবে হবে, নাঈম পৃথাদের ছাদে। পৃথার
চুড়িদার পাজামা গলিয়ে পায়েল বেরিয়ে এসেছে
পায়ের পাতায়। রেলিং এ ঠেস দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে
পৃথা। নিয়ত তালে পা নাচিয়ে পায়েলের মৃদু শব্দ
তুলছে ও। নাঈম অনেক কথা বলছে। যেটার
উত্তর না পেলেই নয়, নাঈম পৃথার মুখের দিকে
তাকাচ্ছে। আজব কথা হলো, পৃথা যেরকমটা উত্তর
দিতে চায় নাঈম তেমনটাই উত্তর ভেবে নেয়।
সেরকমভাবে কথায় বলে।
-আচ্ছ রাগ লাগলে কি করো? কাঁদো? কাঁদলে
তোমাকে অনেক ভাল লাগে…নাঈম পৃথার মুখের
দিকে তাকায়। পৃথার মুখে অমূল্য অভিব্যাক্তি।
-না, তাই বলে কাঁদতে হবে না। আবার কথা শুরু।
নাঈম একাই বলে। মাঝে মাঝে পৃথার দিকে তাকায়।
চোখের দিকেই তাকায়। আর ভ্রু ও। পৃথার কথা বলা
লাগে না। ওর চোখে, ওর ভ্রুতেই উত্তর লেখা
থাকে।
-আচ্ছা, সেদিনের পেয়ারা খেয়েছিলে? মজাই
বুঝলা, তোমাদের গাছের পেয়ারা।
-আমি তো সেদিন ভয়ই পেয়েছিলাম, চেচিয়ে
উঠো কিনা?
-আচ্ছা, আঙুলে ব্যথা হয়েছিল? ঐ যে সুতোয়
কেটে গেল যে। হাত বাড়িয়ে পৃথার তর্জনী
দেখে সে, পৃথা হয়ত একটু লজ্জায় পায়! আলাপ
চলতে থাকে। কথায় কথায় সম্পর্ক তৈরী হয়।
কথাতেই টিকে থাকে। সে কথা ঠোটেই
বলেন কিংবা চোখে। কথাটি ফুরোলে নটে গাছটি
মুড়ে যায়! আচ্ছা, চোখ দিয়ে উত্তর দিলে কি
নটে গাছটি মুড়ে যাবে নাকি বেঁচে যাবে?
*সমাপ্ত*
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now