বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
কষ্টের গলি
২য় পর্ব
পচদিন পর রুমান একটা ডায়রি নিয়ে তুহিনের বাসায় যায়।অবশ্য এ সময় তুহিন অফিসেই থাকে,তাই নির্ভয়ে ডাইরিটা মায়াকে দিতে পারে রুমান।তুহিন থাকলে কখোনো ডায়রিটা দিতে দিতনা রুমানকে,তুহিন চাইতোনা যে তার সম্পর্কে কেউ জানুক।তার অতিত সম্পর্কে কেউ ভাবুক।
সেদিনের মতো রুমান ডায়রিটা মায়ার হাতে দিয়ে চলে যায়,,,,,,,,,,,,
মায়া ডায়রিটা খুলে পড়তে থাকে,,,,,,,
আমার আর তুহিনের সম্পর্কটা বন্ধুত্বের।আমার দেখা পৃথিবির সবচাইতে ভাল মানুষের মাঝে একটা মানুষ তুহিন।
আমরা সবাই তখন কলেজে নতুন,ইন্টার ফাস্ট ইয়ারের স্টুডেন্ট।কেউ কাউকে চিনিনা শহরের নামকরা কলেজ এটা,শহরের বিভিন্ন জায়গা থেকে স্টুডেন্টরা মেধাতালিকায় জায়গা করে নিয়ে কলেজে ভর্তি হতে হয়।আমরা ছিলাম সাইন্সের স্টুডেন্ট।সেবার মেধা তালিকায় যে ছেলেটি ফার্ষ্ট হয়ে ছিল তার নাম তুহিন।আর আমি হয়েছিলাম থার্ড।আর দ্বিতীয় হয়েছিল একটা মেয়ে নাম ইশরাত জাহান।
অরিয়েন্টেশন ক্লাসে খুব উৎসুক দৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিলাম তুহিন কে দেখবো বলে।
কিন্তু সেদিন তুহিন আসেনি।
পরের দিন প্রথম ক্লাস
চলার বিশ মিনিট পর একটা ছেলের আগমন।
---আসতে পারি স্যার।
---না,ওখানেই দাড়িয়ে থাকো।অরিয়েন্টেশন ক্লাসেই বলে দেয়া হয়েছে ক্লাসে একমিনিট দেরি করলে কঠিন শ্বাস্তির ব্যবস্হা করা হবে।
---সরি স্যার হবেনা।
---এখন সরি বলে কোন লাভ নেই,যা বলার প্রিন্সিপ্যাল স্যারকে বলবে।এই বলে স্যার যখন ফোন বের করে প্রিন্সিপ্যাল স্যারকে ফোন দিতে যাবেন,
তখনেই দাড়িয়ে বললাম স্যার এ তো অরিয়েন্টেশন ক্লাসে ছিলইনা,এবারের মতো মাফ করে দিন না স্যার।
আমার কথায় ক্লাসের সবাই সায় দিলেও একটা মেয়ে একাই দাড়িয়ে আমার বিরুদ্ধে বলতে লাগল,,,,,,,,
না স্যার মাফ করবেননা,যে ছেলে কলেজের অরিয়েন্টেশন ক্লাসে উপস্হিত থাকতে পারেনা আবার প্রথম ক্লাসেও আধা ঘন্টা দেড়ি করে আসে,,,,,সে কি করে এমন একটা কলেজে চান্স পায় আমার মাথায় আসেনা স্যার।
মেয়েটির কথায় স্যার বেস সুর মিলিয়ে বললেন,তাতো ঠিক বলেছো মামনি,স্যার এবার তিনগুন রেগে গিয়ে বলতে লাগলেন----
বল তোর এই কলেজে কে আছে মামা না কাক্কু,যার জোড়ে চান্স পেয়েছিস।
এবার দেখলাম ক্লাসের সবাই অট্ট হাসিতে ভেংগে পড়ছে।
দড়জার সামনে দাড়িয়ে থাকা ছেলেটি আর কোন কথা না বাড়িয়েই, হুম হুম করে চলে যায়।
তার এমন আচরনে স্যার আবার ক্ষুব্দ হোন,---দেখলে দেখলে কেমন অভদ্র ছেলে,কথা নেই বার্তা নেই হুম হুম করে চলে গেল।কোথা থেকে যে আসে এরা কে জানে।
২য় ক্লাসে স্যার আসার আগেই দড়জায় দাড়িয়ে থাকা ছেলেটি ক্লাসে প্রবেশ করলে সবাই বলতে থাকে দেখো সেই মদনটা এতো অপমান সহ্য করার পর ও ক্লাস করতে আসছে,লজ্জা সরম বলতে কিছু নেই।
ক্লাসে ঢুকেই শেষ চেয়াটাতে গিয়ে বসে ছেলেটি।আমি আর দেরি না করেই পরিচিত হওয়ার জন্য ওর কাছে যাই।
----হাই আমি রুমান(হাত বাড়িয়ে)।
---হ্যালো আমি তুহিন(হাতে হাত রেখে)।
-ও মাই গড,তুমিই তুহিন।আরে সেই প্রথম দিন থেকেই তো তোমাকেই খুজছি।
----কেন?
----কনগ্রাচুলেশন জানানোর জন্য,যে কিনা এতো বড় নামকরা একটা কলেজে প্রথম হয়েছে।
----ধন্যবাদ।
----একটা প্রশ্ন করতে পারি?
--হুম অবশ্যই।
---অরিয়েন্টেশন ক্লাসে আসলেনা কেন?
--একটু কাজ ছিল তো তাই আসতে পারিনি।
---ও আচ্ছা।
তবে আমার সন্দেহ হলো ও যখন বলল একটু কাজ ছিল তখন দেখলাম এর মনটা খারাপ হয়ে গেল।
সেদিনের মতো কলেজ থেকে বাসায় ফিরলাম।
পরেরদিন ক্লাসে ঠিক সময় মতো তুহিন ক্লাসে উপস্হিত হয়।
স্যার ক্লাসে প্রবেশ করেই রোল কল করা শুরু করলেন,,,,,,,,
প্রথম রোল কল করতেই যখন তুহিন উঠে দাড়ালো,ক্লাসের সবারেই নজর তখন তুহিনের দিকে।সবাই নিজেদের মধ্যে বলাবলি করতে লাগল এই ছেলেটা কিভাবে ফার্ষ্ট হয়।
স্যার ও কিছুক্ষন নিস্তব্ধ রইলেন।আরে কালকেই যে ছেলেকে যা নয় তাই বলে অপমান করলেন আর সেই ছেলেটাই নাকি ক্লাসের প্রথম,স্যার ক্লাস থেকে বের হয়ে যাওয়ার পর ক্লাসের সবাই তুহিনের সাথে হায় হ্যালো করলেও একজন করেনা,এটা সেই মেয়েটাই যে তুহিনকে সেদিন স্যারের সম্মুখে অপমান করেছিল।
মেয়েটির নামেই ইশরাত,ক্লাসের ২য়।সেদিনের মতো কলেজ থেকে বাসায় ফিরলাম,সন্ধ্যার দিকে একটা কাজে যখন বাজার যাচ্ছিলাম রাস্তার পাশেই তখন তুহিনকে দেখে অবাক হয়েছিলাম।আসলে তুহিনকে দেখে অবাক হইনি অবাক হয়েছি ওর সাথে থাকা পিচ্চি গুলোকে দেখে।
নিজ হাতে তুহিন বস্তির ছোট ছোট পিচ্চি (আমরা যাদের টোকাই বলি)গুলোকে শীতের কাপড় দিচ্ছে।
সেদিন তাড়া থাকায় তুহিনের সাথে আর দেখা করিনি---
পরের দিন কলেজ গিয়েই আমি অবাক হয়ে যাই,তুহিন এক হাত------------
চলবে.....
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now