বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

করুনার করোনা জয়

"সত্য ঘটনা" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান মোহাম্মদ শাহজামান শুভ (০ পয়েন্ট)

X করুনার স্বামী ঢাকা একটি ফেক্টরীতে দারোয়ানের চাকুরী করে। মাসে যে বেতন পায় তা দিয়ে চলে না সংসার। পৈত্রিক কিছু জমি আছে যা ফেক্টরির বন্ধের দিন স্বামী অথবা করুনা নিজেই চাষাবাদ করে। পনেরশতক জায়গায় ধান এবং মৌসুমি শাকসবজি চাষ করে। স্বামীর আয় এবং একটু জমির ফসলাদিতে চলে সংসার। তিনটি ছেলেমেয়ে স্কুলে পাঠায়। বড় সন্তান ক্লাশ সেভেনে পড়ে , মেজ সন্তান ক্লাশ ফোরে এবং ছোটটা স্কুলে যাওয়া শুরু করেছে। স্বামী স্ত্রীরির উভয়ের প্রচেষ্টায় চলে পাঁচজনের সংসার। মার্চ মাসের করোনা ভাইরাসে আক্রমণে বাংলাদেশ জল্পনা কল্পনা শুরু হতে লাগলো। মার্চ মাসের শেষের দিকে ফেক্টরীর মালিক বলল, করোনা ভাইরাসে আক্রমণ ব্যাপক শুরু করেছে, তাই তুমি বাড়ি চলে যাও; অবস্থা ভাল হলে আবার চলে এসো। মালিক এক মাসের আগাম বেতন দিয়ে বাড়িতে পাঠিয়ে দিল করুনার স্বামীকে। করুনার স্বামী গ্রামে এসেছে; তাই করুনা ও তার ছেলে মেয়ে খুবই খুশী। এই খুশীর বাঁধ ভেঙ্গেছে পরের সকালেই। সকালে গ্রামের একদল তরুন এসে করুনার ঘরবাড়ি ভাংচুর শুরু করল আর বলল, ‘’তোমরা গ্রাম ছেড়ে চলে যাও”। তাদের অপরাধ করুনার স্বামী ঢাকা থেকে করোনা ভাইরাস নিয়ে এসেছে। করুনার স্বামী গ্রামের ছেলের হাতে পায়ে ধরে বলল, “আমি কোন রোগি না, আমার কোন অসুখ হয়নি; মালিক আমাকে ছুটি দিয়েছে তাই গেরামে আইছি”। কান্না কাটি আর ভাংচুরের অবস্থা দেখে গ্রামের এক মুরুব্বী এসে গ্রামের ছেলেদেরকে বলল, তোমরা এই অসহায় লোকদের মারবে না;আমি আমার ছেলেকে বলে পুলিশ আনতেছি। পুলিশ দেখবে কি হয়?” মুরুব্বীর কথায় অশান্ত ছেলেরা শান্ত হলো। এই মুরুব্বী ছেলে গ্রামের মেম্বার। তাই মেম্বার পুলিশকে ফোন করলেন এবং পুলিশ এসে অশান্ত ছেলেদের একটু গালা গালি করলো। কিছু লাঠিপেটা ও গেরেফতার করতে চাইছিল কিন্তু জনগণ অনেক বেশি তাই পুলিশ শান্ত হয়ে পরিবেশ নিয়ন্ত্রণ করল। এই পরিবেশে গ্রামের কিছু জ্ঞানী গুনিও করুনার বাড়িতে আসল। গ্রামের মুরুব্বীরা অশান্ত ছেলেদের বকা ঝকা দিয়েছে আর সিদ্ধান্ত হলো স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের লোকের সাহায্যে করুনার পরিবারের করোনা ভাইরাস টেস্ট করানো। পরে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের টীম এবং এক দল পুলিশ করুনা বাড়ি এসে করোনা টেস্টের জন্য পাঁচজনের (করুনা, করুনার স্বামী এবং তিন সন্তান) নমুনা সংগ্রহ করে নিলেন। গ্রামের গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সহায়তায় করুনার বাড়ি লক ডাউন করে। শুরু হয়ে গেল করুনার নতুন একঘরে জীবন। গ্রামের কেউ এখানে আসেও না আবার এখান থেকে কেউ যায়ও না। গ্রামে চলছে নানান গুঞ্জন। কিছু ভাল, কিছু মিথ্যা। ভাল মন্ধ মিশিয়ে গ্রামে চলছে হা হা হাকার। এরিই মাঝে মসজিদ অনেক লোকের জামাত, চায়ের দোকান, বাজারের আড্ডা ইত্যাদি সব বন্ধ ঘোষণা হলো। গ্রামের মসজিদের মাইকে ঘোষনা দিয়ে দিলো, “ঘন ঘন সাবান দিয়ে ২০সেকেন্ড ধরে হাত ধৌত করেবন, গ্রামে কোন মেহমান আসতে নিষেধ করেবন, আপনারা নিজেও কোথাও বেড়াতে যাবেন না, বাজারে যাবেন না”। এবার গ্রাম স্তব্ধ হয়ে গেল। গ্রামের লোকজন একে অপরের সাথে দেখা হলে করোনার আপডেট জিজ্ঞাসা করে। তিনদিন পর করুনার করোনা ভাইরাস পজিটিভ এবং বাকীদের করোনা নেগেটিভ। উপজেলা থেকে ডাক্তার এসে করুনাকে একটি আলাদা ঘরে থাকার ব্যবস্থা এবং করুনার স্বামী সন্তানের আলাদা ঘরে থাকার ব্যবস্থা করে দিলেন। করুনার নতুন থাকার ঘর হলো করুনার রান্নাঘর। করুনার সংসারের কান্নার নতুন মাত্রা যোগ হলো। সেই সাথে অজানা আতংকের সূচনা কারণ করুনার স্বামী ঢাকা থেকে এসেছে কিন্তু করুনা কোথাও যায়নি। তাহলে করুনার করোনা পজিটিভ হলো কেন? ডাকার বলেছে ভয়ের কিছু নাই। কিছু ঔষুধ দিলেন আর সবাইকে পরিস্কার পরিচ্ছন্নাভাবে চলতে বললেন। করুনার কাছে কেউ না যায় সেজন্য শতর্ক দিলেন এবং করুনাকে বললেন যেন অন্য কারো কাছে না যেতে। নাক পরিষ্কার করা, হাঁচি বা কাশি দেয়ার পরে, খাবার তৈরির আগে ও পরে, খাবার খাওয়ার পূর্বে, প্রতিবার টয়লেট ব্যবহার করার পরে, ময়লা-আবর্জনা ধরার পরে, কোন প্রাণী হাত দিয়ে ধরলে বা প্রাণীর ময়লা পরিষ্কার করার পরে ঠিকমত সাবান দিয়ে ২০সেকেন্ড ধরে হাত ধুতে বলেন। অপরিস্কার হাতে চোখ, নাক ও মুখ ধরবেন না। করুনার ডাক্তারের কথামত চলতে শুরু করলেন এবং আল্লাহ কাছে কান্নাকাটি করেন। করুনার স্বামী সন্তান শুধু আল্লাহ কছে দোয়া প্রার্থণা করতে লাগলেন। একসপ্তাহ পর আবার ডাক্তার আসলেন এবং বাড়ির সবার খোজ খবর নিলেন। ডাক্তার বুঝতে পারলেন যে এই বাড়ির কেউ রোগি নয় তবুও অবরোদ্ধ রাখলেন করুনার পরিবারকে এবং করুনার আবার করোনা টেস্টের জন্য নমুনা পাঠালেন পরীক্ষাগার কেন্দ্রে। দুদিনপরেই রিপোর্ট আসল করুনার করোনার নেগেটিভ। এবার গ্রামের অতি উৎসাহী লোকদের মনে ভালবাসার উদয় হলো। অশান্ত ছেলেগুলো বুঝতে পারলো যে তারা অতিরঞ্জিত কাজ করেছে। গ্রামের কিছু লোক তাদের খাবারের দায়িত্ব নিলেন। করুনার পরিবারেও আনন্দের বার্তা বয়ে এল। এবার তারা আল্লাহ কাছে শোকরিয়া জ্ঞাপন করল। কিন্তু অবরোধ তাদের পিছু ছাড়ছে না। করুনার স্বামী একটি জায়গায় দারোয়ানের কাজ করে তাই ছোট গন্ডির ভিতরে তার কাজ কিন্তু এগোয়েমী লাগে না। এই লক ডাউনে তাদের খুব একগোয়েমী লাগে। নিজেদেরকে পাপী মনে হয়। তারা মনে করে তারা জেলখানায় আছে। আরেক সপ্তাহ পর আবার ডাক্তার এসে সবার খোজ খরর নিলেন এবং করুনার নমুনা নিয়ে পরীক্ষাগার কেন্দ্রে পাঠালেন। যথারীতি করুনার করোনা ন্যাগেটিভ রিপোর্ট আসল। এবার করুনা হয়ে গেল করোনা ভাইরাসের হিরো বা হিরোইন। সবার মুখে মুখে করুনার কথা। করুনার করোনা ভাইরাস ন্যাগেটিভের খবর সোশাল মিডিয়াতে ভাইরাল। এই কাহিনী এখন গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে। ইউনিয়ন চেয়ারম্যান নিজে করুনাকে ফোন করে অভিনন্দন জানিয়েছে। যারা করুনাকে অত্যাচার করেছে তারা এখন অনুতপ্ত। এবার তৃতীয় করোনা ভাইরাস টেস্টের প্রতীক্ষার পালা। গ্রামের মসজিদের ইমাম সাহেব থেকে শুরু করে সবাই করুনার জন্য নামাজ পড়ে দোয়া করলেন। করুনার স্বামীর মালিক করুনাদের লক ডাউনের খবর শুনে টাকা পাঠিয়েছে যাতে কোন অসুবিধা না হয়। গ্রামের যুবকগন এখন করুনার বাজার করে দেয়। ছোট খাট কোন কাজ দরকার হলে কাজ করে দেয়। মোট কথায় করোনা ভাইরাসে খবরে যে আতংক আর ভয় পেয়েছে তা এখন কেটে গেছে। লক ডাউনে থাকলেও এখন করুনার সংসারের শান্তি সুখের আবাস পেলেন। তৃতীয় রিপোর্টের নমুনার জন্য যখন ডাক্তার আসলেন তখন ডাক্তাদের বড় সাহেবও এসেছেন। সাথে মৌসুমি ফল ফলাদি নিয়ে এসেছেন। জীবনের সেরা কাহিনী হলো ডাক্তার রোগির জন্য ফল ফলাদি নিয়ে আসা। করুনাকে আর একটু ধর্য ধরার কথা বললেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাও করুনার পরিবারের খোজ খবর নিতে আসলেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা করুনার স্বামীকে বললেন, “আপনারা আরেকটু ধর্য ধরুন। আপনাদের লক ডাউন খুলে দেব। আপনাদের কোন অসুবিধা হলে সরাসরি আমাকে ফোন করবেন। আমি আপনাদের সেবায় নিয়োজিত আছি। সরকার আপনাদের পাশে আছে। ধর্যহারা হবেন না। এখন থেকে শুধু নিয়ম কানুন মেনে চলুন”। এবার বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে করুনার সুস্থ্য হবার কথা। একেকজনে একেকভাবে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিচ্ছে, করুনা তুমি ভয় পেয়ো না, হে আল্লাহ করুনার জন্য করুনা কর, আমাদের উপজেলার করুনা করোনা মুক্ত হবার পথে,যে যুবক করুনাকে অত্যাচার করছে সে যুবক করুনা সেবক হয়েছেন, এটা করলে করোনা হয়, ওটা করলে করোনা হয় না, করোনা এই ঔষুধ ইত্যাদি। সোশাল মিডিয়ায় করোনা ভাইরাসের আক্রান্তের সংখ্যা বড় বড় করে আপডেট দিচ্ছি আবার ভুল তথ্যও দিচ্ছে। কিছু আজগুবি কাহিনীও করোনা ভাইরাসের সচেনতার সাথে মিলিয়ে দিচ্ছে। যখন করুনার তৃতীয় রিপোর্টের করোনা ভাইরাস নেগেটিভ আসলেন তখন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা সাংবাদিক সম্মেলন করে জানালেন, যে করুনার করোনা ভাইরাস নেগেটিভ এসেছে। এবার সাংবাদিকগণ নানানভাবে নিউজ করলেন, করুনার করোনা জয়। মোহাম্মদ শাহজামান সহকারি শিক্ষক বাতাকান্দি সরকার সাহেব আলি আবুল হোসেন মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয় তিতাস, কুমিল্লা www.shuvoh.com


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১০১ জন


এ জাতীয় গল্প

→ করুনার করোনা জয়

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now