বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

করুণা নয় সত্যিকারের প্রেম

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রায়হান আহমেদ (০ পয়েন্ট)

X . আজ মীমের বিয়ে । শহরের নামকরা একজন ডাক্তারের সাথে । মীম দেখতে তেমন আহমরি সুন্দরী নয় আবার তেমন ধনী পরিবারের মেয়েও নয় । তাই মীম কিছুতেই বুঝতে পারছে না যে , এতো বড় ডাক্তার কেন মীমকে বিয়ে করছে ? . মীমের আজ যার সাথে বিয়ে হচ্ছে তার নাম হাবিব আদনান । শহরের সবাই এক নামে চেনে বা জানে । কারণ ডাক্তারি হিসাবে হাবিব যে সব বিষয়ে স্পেশালিস্ট । মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালযে পড়ার সময় কত মেয়ে যে হাবিবকে প্রেমের প্রস্তাব দিযেছে তার হিসাব নাই । কিন্তু হাবিব কারো ভালোবাসাই গ্রহন করে নি । সেই হাবিব কিনা আজ মীমের মত এক সাধারণ মেয়েকে বিয়ে করছে । সত্যিই এক বড় রহস্য ! . দরজা লাগানোর শব্দে মীম দরজার দিকে তাকায় । দেখে , হাবিব দরজা দিযে মীমের দিকে আসতেছে । খাটের কাছে আসতেই মীম খাট হতে নেমে সালাম করতে যাবে এমন সময় হাবিব মীমের পা ধরে বলে উঠলো মীম আমাকে ক্ষমা করে দাও । মীম অবাক হযে দুইপা পিছনে গিযে বললো , কি করতেছেন ? আপনি আমার স্বামী । আর আপনি আমার কি ক্ষতি করছেন , যে ক্ষমা চাইতে হবে? . হাবিব মীমকে নিয়ে বারান্দায় গিযে বসে । তারপর মীমকে জিজ্ঞেস করে । -মীম , তোমার কি ১২ ই ফেব্রুয়ারি কথা মনে আছে । -হ্যা । থাকবে না কেন ? ওই দিন আমার এক বেয়াকুবের সাথে ধাক্কা লেগে ফলে ফ্লাই-ওভার হতে নিচে পড়ে যাই । কিন্তু এটা জিজ্ঞেস করার কারণ কি ? -ওই দিন তোমার অপারেশন কে করছিল মনে আছে ? -থাকবে না কেন ? আপনে করছিলেন । -হুম । তুমি কি জানো ? তুমি আর কখনই মা হতে পারবে না । -মানে কি ? কেন ? কি বলছেন এ সব ? -যা বলছি । সত্য বলছি , মীম । তুমি আর মা হতে পারবে না । - কিন্তু কেন ? -কারণ আমি । আমি সেদিন তোমার অপারেশন করছিলাম । ঝড়বৃষ্টির হচ্ছিল তাই হাসপাতালে তেমন কোনো নার্স ছিল না । তাই বাধ্য হয়ে আমি একাই আপনার অপারেশন করছিলাম । কিন্তু তখন ১২.০০ টা বেজে গিয়েছিল । তাই নিত্য দিনের অভ্যাস মত আমি আমার গার্ল ফ্রেন্ডকে মেসেজ করতে গিয়ে মোবাইল হাত থেকে পড়ে যায় এবং সরাসরি আপনার ফলিপিয়ান টিউবের উপর পড়ে । ফলে আপনার ফলিপিয়ান টিউব ছিঁড়ে যায় । তাই আপনি আর মা হতে পারবেন না (....বলতে বলতে হাবিবের চোখ থেকে দুই তিন ফোটা জ্বল গড়িযে পড়ে....) । -তা আপনি সেদিন বলেন নি কেন ? -আমি সেদিন বলতে পারি নাই । -ওহ । সেই জন্য বুঝি করুণা করে আমায় বিয়ে করলেন এতো বড় ডাক্তার হয়েও , তাই না ? -না । করুণা হবে কেন ? আমার দোষে ঘটেছে । তাই আপনাকে আমিই বিয়ে করলাম । তাছাড়া অন্যের বাবা হওয়ার স্বপ্ন কি ভাবে ভেঙ্গে দেই ? -তা না হয় ঠিক আছে । কিন্তু আমি মা হবো কি ভাবে ? আমার মা হবার স্বপ্ন , আপনি ভাঙ্গেন নি ? -সরি............. -শুনেন । সরি বললেই সব হয় না । আর করুণা করতে হবে না । কাল আমাকে ডিভোর্স দিয়ে দিবেন । আমি অন্যের করুণাতে বেঁচে থাকতে চাই না । -করুণা হবে কেন ? মনে করেন এটা আমি ভালোবেসে করেছি । -হা হা হা............... -হাসার কি হল ? আমি হাসার কিছু বলেছি ? -দাঁড়ান হেসে নেই । আপনি প্রেমিকার সাথে মেসেজ করতেন আর আমাকে বলতেছেন আমায় ভালোবেসে বিয়ে করছেন । এর চেয়ে মজার কোনো কথা হতে পারে মি. ডাঃ হাবিব ? জানেন,“ আমি সারাজীবন প্রেম করি নি কারণ স্বামীর বিশুদ্ধ ভালোবাসা পেতে চাইছিলাম কিন্তু ভাগ্য খারাপ বলেই হয়ত ভালোবাসার বদলে করুণা পেলাম ”(..........বলেই মীম কান্না করতে লাগল...........) -মীম , আমায় বলতে দিন । আর এই ভাবে কান্না করবেন না । বাবা-মা শুনলে খারাপ ভাববে । -আর কি বলবেন ? বলেন । . . -“ মীম আমি যাকে মেসেজ করছিলাম সে আমায় ভালোবাসে না । শুধু আমি তাকে ভালোবাসতাম । আর সে কোনো দিন আমায় মেসেজ করে নি । আর আমার কোনো খবর নেয় নি কোনো দিন ” -তাহলে তাকে ভালোবাসতেন কেন ? -কারণ অনেক ছোট । তবে এটাকে অনুশোচনা বলা যেতে পারে । -অনুশোচনা কেন ? আপনি কি ভুলের অস্তাদ । -না । শুনেন আগে । পরে বলেন যা বলার । “আমি তখন মেডিকেল প্রথম বর্ষে পড়ি । পড়াশোনার চাপ একটু কম ছিল । তাই অনেক দিনের স্বপ্ন পূরণ করার জন্য ফেসবুকে গল্প লিখতে লাগলাম । অল্প দিনে জনপ্রিয় হয়ে যাই । তারপর একদিন একটা আইডি থেকে মেসেজ আসে “ আমি যেন তার ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট অ্যাকসেপট করি ” । আমার আইডি টা ভালো লাগে তাই অ্যাকসেপট করে নেই । কিন্তু মেয়ের আইডিটাতে উল্টাপাল্টা ইংলিশ লেখা স্টাটাস দেখি কিছুদিন পর । তাই রাগে অনেক বোকা দেই । তারপর মেয়েটাকে বিদ্রুপ করে গল্পি লিখে ফেসবুকে পোস্ট করি । মেযেটা আমার গল্প পড়ে অনেক বড় একটা মেসেজ করে যাতে ইমোশন ছিল সেই সাথে ছিল সরি লেখা । ফলে আমি আমি আমার ভুল বুঝতে পারি যে , একটু বেশি বাড়াবাড়ি করে ফেলেছি । তাই আমি আমার পারছোনাল আইডিটা বাদ দিতে অনন্ত নামে ফেসবুক আইডি খুলে মেয়েটাকে ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট পাঠাই কিন্তু অ্যাকসেপট করে না । তাই আমি প্রত্যেকদিন একটা করে লাভ মেসেজ দেই । তোমার অপারেশনের দিন পর্যন্ত মোট ২২৩০ টি । কিন্তু সে আমাকে একটি মেসেজও দেয় নি তবে দুইটা মেসেজে দিযেছিল । বলেছিল এইসব ফালতু প্রেমে সে বিশ্বাস করে না । আর যদি আমার প্রেম খাঁটি হয় তাহলে আমি তাকে পাব । কিন্তু হয়ত আমর প্রেম খাঁটি ছিল না তাই আমি তাকে পাই নি । কিন্তু তোমাকে আমি কোনো করুণা করছি না । বিশ্বাস রাখতে পারো । এখন থেকে আমি তোমাকে সত্যি ভালোবাসব ” . . “মীম অবাক চোখে তাকায় হাবিবের দিকে তারপরে বলে -মেয়েটির নাম কি লামিয়া ছিল ? -....(হাবিবও অবাক চোখে মীমের দিকে তাকায়)....আপনি কি তাকে চিনেন ? চিনলে বলে দিবেন যে , আমার প্রেম সত্যিকারের ছিল না । -না । আপনার প্রেম সত্যিকারের ছিল । আর মেযেটিকে আপনি পেয়েছেন । -মানে তুমিই সেই লামিয়া ? -হুম । “বলেই মীম দৌড়ে এসে হাবিবকে জড়িযে ধরে কান্না করতে থাকে । হাবিবও কান্না করে দেয় ” -তাইলে আমি কি এখন করুণা করছি না ? -না , আমার বুদ্ধ প্রেমিক । তোমার প্রেম কি করুণা হতে পারে ? -তাহলে আমার প্রেম কি ? . “সত্যিকারের প্রেম বুদ্ধ , বলেই মীম হাবিবকে আর শক্ত করে বাহু বন্ধনে আবদ্ধ করে নেয় যা কখনই ছিন্ন হওয়ার নয় ।”


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১২৮ জন


এ জাতীয় গল্প

→ করুণা নয় সত্যিকারের প্রেম
→ করুণা নয় সত্যিকারের প্রেম

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now