বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

কৃষ্ণচূড়ার দিন

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X কৃষ্ণচূড়ার দিন --------------------------- *** বিকেল চড়ুই *** আমিতো জানি যখন শেভিং ক্রিমটা খুঁজে পাচ্ছোনা,রেজরটা হাতে নিয়ে ইতস্তত ভাব সমেত উঁকি মারছো ড্রেসিং টেবিলে, ভাবখানা পাজী মেয়েটা শেভিং ক্রিমের টিউব লুকিয়ে রেখে জ্বালাচ্ছেনাতো! আমার চোখের সামনে ভাসছে অথচ তুমি কফি কাালার শার্টখানা খুঁজতে খুঁজতে হাতড়ে মরছো আলমিরার দেরাজ, আমাকে ডাকতে গিয়েও ক্ষণে ক্ষণে মুখ ফেরাচ্ছো। চায়ের কাপটা যখন ধোঁয়া মিলিয়ে ঠান্ডা চা সমেত মুচকি হাসছে তুমি ঠোঁটে ঠোঁট চেপে বার কয়েক মনের ভুলে হাত বাড়াতে গিয়েও থেমে গেলে। আমাকে ছাড়া তোমার নাকি খুব চলবে? এইত দুদিন আগেও ব্ল্যাক শার্টটা খুঁজতে খুজতে কয়েক হাজারবার ফোন দিয়েছিলে। আমি তখন অপারেশন থিয়েটারে এসিস্ট করছি। আর আজ সকালে টাইয়ের নট বাঁধতে গিয়ে কবার হাত ফসকালে,ওটা কি অনভ্যস্ততা নাকি ঔদাসীন্য বুঝতেই দিলেনা। তারপর ভীষণ কেউকেটা ভাব নিয়ে বেরিয়ে গেলে। হাহা।" সাহেব,আপনার মোজা দুটোর একটা কালো একটা নীল।" বলতে গিয়েও হাসি চেপে রাখলাম। আমাকে ছাড়া তোমার খুব চলবে,সে আমি জানি! আমার তোমাকে ছাড়া চলবে কিনা জানতে চেয়েছিলে। যখন সহজ সরল মুখ করে বললাম, তেইশ বৎসর তুমি ছাড়া কী করে ছিলাম? তুমি বাচ্চা ছেলের মত মুখ কালো করে ফেললে। তারপর বললে, আমি এসে খুব ঝামেলা করে ফেলেছি? আমি প্রাণপনে হাসি চেপে বললাম,অফকোর্স! তুমি আমার কাছ থেকে দু হাত পিছনে সরে বসলে। তুমি রাগলে তোমার শ্যামলা মুখটা বড্ডো ছেলেমানুষ দেখায়। কী এক প্রতিজ্ঞা করে বসলে,"ঠিক আছে, এখন থেকে তোমাকে আর জ্বালাবনা! বাই দ্য ওয়ে তুমি আসার আগে আমিও খুব ভাল ছিলাম। ইনফ্যাক্ট তোমাকে ছাড়াও আমার চলে যাবে!" তারপর থেকে কথা বলা বন্ধ করে দিয়ে প্রমাণ দিয়েই চললে আমাকে ছাড়া তোমার কতখানি চলে যায়! আমি ভাবলাম রাগ ভাঙাব। একটা মেসেজ কিংবা পিছন হতে যখন জড়িয়ে ধরে বলব, "এইযে পাগল, আমাকে ছাড়া তোমার খুব চলে বুঝলাম কিন্তু তোমাকে ছাড়া আমার একটাদিনও চলেনা।" পরে ভাবলাম তুমিও বুঝেনাও আমি তোমার ভিতর কতটুকু জুড়ে আছি। মাত্র ছ মাসে তোমার প্রিয় বদঅভ্যাসগুলো বদলে দিয়েছি,বদলে দিচ্ছি একটু একটু করে। এখন তুমি চুল আঁচড়ে অফিসে যাও,শার্টের উপরের বোতামখানা লাগাতে ভুল হয়না। মাঝে মাঝে যখন রান্নাঘরে অনভ্যস্ত হাতে রাঁধতে গিয়ে হাত পোঁড়াও পেঁয়াজ কাটতে গিয়ে চোখে পানি এসেছে বলে সরে আসি। কতবার বললাম তোমার মত মাস্টারপিস মাস্টারশেফ আমাকে সাহায্য করতে না এলেই সেটা আমার জন্য সবচে বড় সাহায্য হয়! কে শোনে কার কথা! যেদিন নাইট ডিউটি থাকে অফিস সামলে হাসপাতালের করিডরে তুমি বসে বসে সারারাত মশার কামড় খাও। আমার এত বারন কে শোনে! সাত সকালে আমাকে নিয়ে ব্রেকফাস্ট সেরে তুমি বাসায় চলে যাবে। ফ্রেশ হয়ে হন্তদন্ত হয়ে ফের অফিসে। জরুরী এক মিটিংয়ে সেদিন নাকি মুখ হা করে ঘুমিয়ে পড়েছিলে। সেটার ছবি তুলে তোমার কলিগরা নেটে ছেড়ে দিল। সবার সে কী হাসাহাসি। তুমি ছবিটা আমাকে দেখিয়ে বোকা বোকা মুখ করে হাসলে। আমার এত রাগ হলো। প্রচন্ড রাগ এবং কষ্ট। বাথরুমে শাওয়ার ছেড়ে দিয়ে হাউমাউ করে কেঁদেছিলাম। তুমি টের পেয়ে পরের দিন কাচুমাচু মুখ করে বলেছিলে, রিশু আমি আর কখনো কোন মিটিংয়ে ঘুমাবনা। আই প্রমিজ! হাদারাম সাহেব! আমি বুঝি এজন্য কেঁদেছি! আজকেও আমার নাইট ছিল। ছুটি নিয়ে এ মুহূর্তে আমি ইন্টার্ন হোস্টেলের ছাদে বসে আছি। খেপাটে বাতাস এড়িয়ে দূরের রাস্তাটায় তাকিয়ে আছি যদি তোমাকে দেখা যায়! জানি অভিমান করে থাকলেও আজ রাতেও অফিস থেকে ছুটে আসবে হাসপাতালের করিডরের এককোনে মশার কামড় খেতে। কিন্তু তোমার তো জানা নেই আমি আজ ছুটি নিয়েছি। বাইরে এখন সাত নং সিগন্যাল। ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানবে যে কোন সময়। ছুটি নিয়েছি মজা দেখার জন্য। আমি ছুটি নিয়ে বের হয়ে গেছি শুনলে তুমি কী করো তা দেখার লোভ সামলাতে পারিনি। বাসায় ফিরে যখন আমাকে খুঁজে পাবেনা, মায়ের কাছে ফোন দিয়ে শুনবে আমি সেখানেও নেই,পাগলের মত ফোন দিতে গিয়ে বারবার শুনবে আমার ফোন সুইচড অফ কী করো তখন ভীষণ জানতে ইচ্ছে করছিল। আমি হোস্টেলে থাকতে পারি সেটা তোমার মাথায় ঘুণাক্ষরেও আসার কথা নয়। যদিও ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের সবাইকে বলে দিয়েছি তুমি ছুটে এলে যেন বলে দেয় আমি এখানে নেই। কিন্তু জানো মন খুব অস্থির হয়ে আছে। রুমে ফিরে একবার ভাবলাম ফোন অন করি পরক্ষনেই সামলে নিলাম। বারবার মনে হলো তুমি এই দূর্যোগের রাতে পাগলের মত ছোটাছুটি করছো। একসময় থাকতে না পেরে তোমাকে বার দুয়েক ফোন দিয়ে ফেললাম। জানতে পেলাম তোমার ফোনও বন্ধ। ওহ! বুঝেছি! ফোন বন্ধ করে নাক ডেকে ঘুমাচ্ছ! বেশ! আমিও তাই করব! কিন্তু ছাই! একফোঁটা ঘুম এলোনা সারা রাত। খুনে বাতাসে যখন চারপাশ লুটপাট হচ্ছিল আমি তখন ভেতরে ভেতরে ফুঁপিয়ে কাঁদছি তুমি কোথায় আছো,কী করছো ভেবে। ঝড় হলো। প্রচন্ড বৃষ্টি। উপকূলের পাশ ঘেষে ঘূর্ণিঝড় বয়ে গেল। আমি সকালের অপেক্ষায় প্রহর গুনছিলাম। সকাল ছ টা বাজতে না বাজতেই লন্ডভন্ড আমি এক ছুটে বেরিয়ে গেলাম। একটা রিক্সা নেই। আধ ঘন্টা হেঁটে নজরুল স্কোয়ার পৌঁছুতেই ঝুম বৃষ্টি নামল। ভুলে ছাতাটা ফেলে এসেছি। ভিজতে ভিজতে খানিক হেঁটে সিএনজি খালি পেয়ে উঠে গেলাম। দশ মিনিট পর বাসায় পৌঁছে দেখি ফ্ল্যাটের দরজা হাট করে খোলা। আমার মুখ শুকিয়ে গেল। দৌঁড়ে ভেতরে ঢুকতে গিয়ে টাইলসে স্লিপ কেটে পড়ে গেলাম। পায়ের বুড়ো আঙুলের নখ উল্টে গলগল করে রক্ত গড়াল। আমার সেদিকে ভ্রুক্ষেপ নেই। হাঁচড়ে পাঁচড়ে উঠে সোজা বেডরুমে ঢুকলাম। ঢুকে দেখি জানালার পর্দা সরে আছে। আলো এসে পড়ছে তেরছাভাবে। ড্রসিং টেবিলের উপর আধ খাওয়া সিগারেট,বাসি ভাতের প্লেট ভর্তি থই থই ডাল। বিছানার চাদর মেঝেতে গড়াগড়ি। তুমি বিছানায় গুটিশুটি মেরে শুয়ে আছো। একগাদা ওষুধের খোসা তোমার আশেপাশে ছড়ানোছিটানো। গাল বেয়ে লালা গড়িয়ে আছে। আমার হৃদকম্প থেমে গেল। চারপাশটা কেমন অন্ধকার হয়ে গেল। । স্লো মোশন ছবির মত একটু একটু করে ধীর পায়ে তোমার কাছে এগিয়ে গেলাম। কাঁপা কাঁপা হাতে মাথায় হাত রাখতেই চমকে উঠলাম। মনে হলো হাত পুড়ে গেছে। তোমার মাথাটা কোলে নিয়ে হু হু করে কেঁদে ফেললাম। গালের সাথে গাল লাগিয়ে কিছু উষ্ণতা গালে মেখে নিয়ে ফিসফিস করে বললাম, জাহেদ,আমি ভেবেছি তুমি মরে গেছ! কী ভীতুর ডিম আমি! আরেকটু হলে..... কথা শেষ করতে পারলামনা। বোধহয় আমার চোখের জল গালে পড়তেই তোমার ঘুম ভাঙল। তুমি হাসার চেষ্টা করে বললে,ডাক্তার, এসেছ? আমি কান্না সামলে মাথা নাড়লাম। তুমি বাম হাতটা টেনে তোমার বুকের উপর রাখলে।" আমার অনেক জ্বর এসেছে। সারারাত একটা নিষ্ঠুর মেয়েকে খুঁজে বেরিয়েছি। ভোর চারটায় বাসায় এসেছি। ভাত খেয়েছি, গ্যাস্ট্রিকের ব্যথা উঠেছিল । ওষুধের বাক্স আতিপাতি করে খুঁজেও একটা ওষুধ খুঁজে পেলামনা! কে বিশ্বাস করবে আমার বউ ডাক্তার? ঘরে একটা গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ ও নেই!" আমি থমথমে মুখ করে বললাম,"ভেজা শার্ট না পাল্টেই ঘুমিয়ে পড়েছিলে? " তোমার ঠোঁটে অপরাধীর হাসি। আমার চোখো পানি আসি আসি করছিল। -যাকে ছাড়া তোমার খুব চলে তাকে এভাবে খুঁজতে গেলে কেন? -জানিনা। শুধু জানি পাগল হয়ে যেতাম তুমি না ফিরলে। শীত করছে। আমি ভেবেছি তুমি আর কখনো ফিরে আসবেনা। তা সারা রাত কোথায় নাইট ডিউটি করলে?" শেষ প্রশ্নটা সরলভাবেই করেছিলে কিন্তু আমার রাগ হয়ে গেল। মাথায় রক্ত উঠে গেল। আমি ঝট করে কোল থেকে তোমার মাথাসরিয়ে উঠে দাঁড়িয়ে বললাম,"জাহান্নামে!" ছ মাসে ক বার এভাবে রাগতে দেখেছ? একবারও নয়। তাই অবাক হয়ে আমার দিকে তাকিয়ে রইলে। আমার চোখ ছাপিয়ে বড় বড় ফোঁটায় জল গড়াল। চলে যাব। অনেক দূরে। এবার আর কখনো ফিরে আসবনা। এত বড় কথা কী করে বললে! -" হাসপাতালে বুঝি এজন্যই যাও! আমাকে পাহারা দিতে?!" তুমি বহু কষ্টে মাথা তুলে আমার হাত ধরে ফেললে। তারপরে সজোরে তোমার দিকে এক টান দিতেই নিজেকে তোমার বুকে আবিষ্কারর করলাম। - জাহান্নাম কী কোন এম্বুলেন্স সার্ভিসের নাম,বউ? নাকী নতুন কোন ক্লিনিক? ঠিকানা দিও। ওখানকার মশাগুলো কেমন? তোমাদের হাসপাতালের মশাগুলোতো খুব ভাল ব্লাড টেস্ট করতে পারে। রোগীদেরকে কেন যে খামাখা ল্যাবে পাঠাও। সব তোমাদের কমিশন খাওয়ার ধান্ধা! এত গম্ভীর কন্ঠে কথাগুলো বললে আমি প্রথমটায় ধরতেই পারিনি। পরে ধরতে পেরে অবাক হয়ে আকাশ পাতাল রাগ করেছি সেটাও ভুলে গেলাম। আমার হাঁদারাম সাহেব,ভুল করে দু পায়ে দু রঙের মোজা পরে অফিসে যাওয়া যার স্বভাব সে রসিকতা করতে শিখল কখন?


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮০ জন


এ জাতীয় গল্প

→ কৃষ্ণচূড়ার দিন
→ কৃষ্ণচূড়ার দিন

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now