বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

ক্রাশ অতঃপর বাশ

"মজার গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Merina Afrin Mou (০ পয়েন্ট)

X বাসার কাজে ঢাকা থেকে নীলফামারী যেতে হবে।ইচ্ছে না থাকা শর্তেও যেতে হল। ব্যাগ গুছিয়ে বেরিয়ে পড়লাম। আব্দুল্লাপুর বাস স্ট্যান্ড থেকে বাসে উঠব। বিকালেই টিকিট কেটে রেখেছি। ৮ টায় বাস ছাড়বে তাই কিছু সময় আগেই পৌঁছে গেলাম। . ব্যাগ রাখার যায়গায় ব্যাগ রেখে পানি আনার জন্যে দোকানে গেলাম। ফিরে এসে দেখি আমার সিটে একটা মেয়ে বসে আছে। যেভাবে পায়ের উপরে পা তুলে বসে আছে মনে হয় এটা ওনার বেড রুম। . -এই যে , ম্যাডাম সিট'টা আমার। (আমি) -আপনার নাম টা কি? (মেয়ে) -কেনো বলুন তো ? -না মানে দেখবো সিটে আপনার নাম লেখা আছে নাকি ? -মজা করছেন ? -বিয়াই হন নাকি ? -তা হতে যাব কেনো ? -তাহলে , মজা করব কেনো ? - বেশি কথা না বলে , আমার সিট টা ছাড়ুন । -আপনার নাম লেখা থাকলে দেখান সিট ছেড়ে দিব। - নাম লেখা নাই তবে টিকিট আছে। সেখানে সুন্দর করে সিট নাম্বার টাইপ করে লেখা আছে । -কই দেখান তো ? -এই নেন। . টিকিট দেখার পর , মেয়েটি আমার সিট আমাকে দিয়ে দেয়। কি সাংঘাতীক মেয়ে রে বাবা ! ঝগড়াই শুরু করে দিয়েছিল। . বাস ছেড়ে দিয়েছে। বাস চলছে তার আপন গতিতে আমিও চুপচাপ বসে আছি। বাস জার্নিতে আন কমফরটেবল ফিল করলেও ভাল লাগে। পকেট থেকে ইয়ার ফোনন টা বের করে মিনারের জুম গানটা প্লে করলাম। জানালার পাশে সীট থাকায়, জানালার কাচ সরিয়ে দিয়ে বাহিরে তাকিয়ে আছি। গাড়ি যেমন চলছে তার নিজস্ব গতিতে তেমনি গানও তার নিজস্ব গতিতে বাঝছে। . হঠাৎ কাধে কোন কিছুর স্পর্শ পেলাম । প্রথম বার ভুল মনে করে লক্ষ করলাম না। ২য় বার স্পর্শ পেয়ে। গান বন্ধ করে কান থেকে ইয়ার ফোন খুলে দেখি পাসের মেয়েটি ডাকছে। . -সেই কখন থেকে আপনাকে ডাকছি ? (মেয়ে) -স্যরি । লক্ষ করি নি। আসলে গান শুনতেছি তো তাই। -হুম বুঝছি। নাম কি আপনার ? -শিহাব। আপনার ? -তিথি। মামা বাসা থেকে নিজের বাসায় যাচ্ছি। আপনি কোথায় যাচ্ছেন ? -গ্রামে যাচ্ছি একটা কাজে। -ও আচ্ছা . কানে ইয়ার ফোন লাগিয়ে গান প্লে করে দিলাম। বেশ কিছুক্ষণ পর লক্ষ্য করে দেখি মেয়েটি ঘুমিয়ে পড়েছে। ঘুমন্ত চেহারায় তিথিকে বেশ দারুন লাগছে। মনে হচ্ছে , একটা কিউট পরী ঘুমিয়ে আছে। ঘুমন্ত চেহারায় বার বার মাথার চুল গুলা মুখের উপর পরে তার সুন্দর্যকে আরো বৃদ্ধি করছে। . বেশ কিছুক্ষণ পর । মেয়েটি তার মাথা আমার কাঁধে রাখল। প্রথম বার সরিয়ে দিলাম । কিন্তু একটু পর আবার সেই কাজ। ভালই লাগছিল। আমি আমার গানে মনযোগ দিলাম।রাত অনেক হয়েছে তাই গান প্লে করা অবস্থায় ঘুমানোর চেষ্টা করলাম। তিথির মাথা এখনো আমার কাঁধে'ই রয়েছে। আমিও এক সময় ঘুমিয়ে পরি। . -এই একটু শুনেন। ( তিথি) -হুম বলেন। (আমি) -ভালবাসি। -জানি তো। -কি জানেন ? -আপনি আমাকে ভালবাসেন। -আর , আপনি ? -আমিও ভালবাসি। -তাহলে বল্লেন , না কেনো ? - এই তো বললাম। -কচু বলছেন । -বুঝেছি, কচু আপনার খুব পছন্দের খাবার। -জ্বীনা , এটা আপনার খুব পছন্দের খাবার। -ভুলেও না । আর কচু কচু আমি করি না। -আপনি না করেন তাতে কি ? আপনার বউ তো করে হু। -এই জন্যে তো বউয়ের পছন্দ। -এই ,একটা কথা রাখবেন? -কি আজকে বাইরে নিয়া যাবেন ? -নিবো কিন্তু একটা শর্ত আছে ? -বলেন , কি শর্ত ? -তোমার ওই তিল টার উপরে একটু আদর করতে দিবা। -যা দুষ্টু। -দুষ্টুর দুষ্টুমি দেখবা নাকি? -না আমার এত সময় নাই। -আচ্ছা যাও তাহলে রেডি হয়ে আসো। -আচ্ছা। . তিথি ঠোঠের উপরে একটা তিল রয়েছে। তিলটার জন্যে তাকে দেখতে দারুন লাগে। -এই চলো আমি রেডি। (তিথি) -কি হল চল। (তিথি) -আজব তো কি দেখছো (তিথি) -এই শিহাব (ধাক্কা দিয়ে) -হ্যা । এইটা কি আমার বউ নাকি নীল অপ্সরী ! (আমি) -ঢং করো না তো? (একটু শরম পেয়েছে) -সত্যি তোমাকে অসম্ভব সুন্দর লাগছে? -হইছে আর পাম দিতে হবে না, এবার চল। -যাব তবে আমার শর্তের কথা মনে আছে তো ? -হ্যা , মশাই আছে । আগে চলেন পরে ভেবে দেখব। -আচ্ছা মহারাণী চলেন। ( আমাদের মাঝেমধ্যে কথার মধ্যে আপনি তুমি চলে আসে ... ) . সারা বিকাল পার্কে ঘুরাঘুরি করলাম। আইস্ক্রিম আর ফুচকা তিথির খুব পছন্দ । বাইরে গেলেই এই দুইটা না খেয়ে আসবে না। খাওয়া দাও শেষ করে বাসায় ফিরব। সন্ধা হয়ে গেছে। রিক্সা করে বাসায় ফিরছি। . -এই আমার শর্তের কথা মনে আছে তো ? (আমি) -কিসের শর্ত ? (তিথি) -মনে নাই ? - না তো। -বাসায় চল মনে করিয়ে দিচ্ছি। -বাসায় গিয়া কোন প্রকার দুষ্টুমি চলবে না। -সেটা দেখা যাবে। -এই কি করছো ? -আমার শর্ত পুরন করছি। - ইস আসছে আমার শর্ত পুরন করতে -তা তো করবই। -না শিহাব না ... ... -এই যে ভাই আপনার বাস স্ট্যান্ড এসে গেছে। (গাড়ির হেল্পার) -হ্যা ,এসে গেছে। (আমি) -পাসের মেয়েটা কই। -উনি তো বগুড়ায় নেমে গেছে। (বাসের হেল্পার) -ওহ নো ..এতক্ষণ তাহলে কি আমি স্বপ্নে দেখছিলাম। আর আমার ব্যাগ কোথায়। পাচ্ছি না তো। নাকি মেয়েটা। ওহ নো। আমি শেষ। আমার পিসি আর ট্যাব দুইটাই গেলো সাথে কাপড় গুলাও।শুধু মোবাইল টা রাখছিস কেনো এটাই নিয়ে নীতি। . বাস থেকে নেমে পরলাম । রাগে শরীর জ্বলে যাচ্ছে আর কস্ট বুক ফেটে যাচ্ছে। এত সুন্দর মেয়ে এই কাজ কেমনে করল। আমার লেপটপ আর ট্যাব। মোবাইল থেকে ইয়ার ফোন খোলার সাথে সাথে বেজে উঠল, "তু লারকি বিউটি ফুল কারগায়ি চুল"


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১০৪ জন


এ জাতীয় গল্প

→ ক্রাশ অতঃপর বাশ

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now