বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
কোকোস দ্বীপ।
"রহস্য" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Siam 2.0 (০ পয়েন্ট)
X
ছোটবেলায় গল্প উপন্যাসে বা চলচ্চিত্রে গুপ্তধন খোজার ব্যাপারটা আমরা সবাই পড়েছি। জলদস্যুদের সাথে সমুদ্রের নাবিকদের যুদ্ধ কিংবা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন কোন এক জন মানবহীন দ্বীপে কোন অসীম সাহসী নাবিকের অভিযানের কাহিনী পড়ে রোমাঞ্চিত হয়নি এমন মানুষ খুজে পাওয়া ভার।হয়তো দীর্ঘশ্বাস ফেলে আমরা ভেবেছিও, যদি এরকম একটা দ্বীপের খোজ পেতাম!
পরক্ষণেই হোয়ত ভেবে বসেছেন, এসব দ্বীপ শুধু গল্প উপন্যাসেই পাওয়া যায়। বাস্তবেও এরকম দ্বীপ সত্যি আছে। সেরকমই একটি দ্বীপ হল কোকোস দ্বীপ। রবার্ট লুই ভিনসেন্টের বিখ্যাত উপন্যাস “ট্রেজার আইল্যন্ড” এর কাহিনী এই দ্বীপটিকে ঘিরেই লেখা হয়েছে। দ্বীপটি বর্তমান কোস্টারিকার অন্তর্ভুক্ত।
বিভিন্ন প্রাচীণ নথি এবং গবেষকদের মত অনুসারে এই দ্বীপে প্রায় ২০০ কোটি ডলারেরও বেশি গুপ্তধন লুকিয়ে আছে। শুধু যে গবেষকদের ধারণা তাই নয়, দ্বীপটির মাটির নিচে যে গুপ্তধন আছে তার জলজ্যান্ত প্রমাণও রয়েছে।
একবার এক ছয় জনের অভিযাত্রী দল দ্বীপটির সমুদ্রতীরে বালির নিচে কাঠের বাক্স খুজে পায়। বাক্সটি সোনা, হীরা সহ নানান মূল্যবান পাথরে ভর্তি ছিল। এর মধ্যে নিরেট স্বর্ণের তৈরী মাতা মেরীর একটি মূর্তি খুজে পাওয়া যায় যার ওজন ছিল প্রায় সাড়ে চুরাশি কিলোগ্রাম।
এর বাজারদর প্রায় বিশ লক্ষ ডলার বেশি। ১৯৭৮ সালে কোস্টারিকান সরকার দ্বীপটিতে বহিরাগতের প্রবেশ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। এখনো পর্যন্ত দ্বীপটিতে কোস্টারিকান সরকার দ্বীপটিতে প্রবেশের অনুমতি দেয় না।
এত গুপ্তধন কোথা থেকে আসলো? কে রাখলো এই মহামূল্যবান সম্পদ? এর পেছনে রয়েছে এক বিশাল ইতিহাস। এই ইতিহাস জানতে হলে আমাদের পিছিয়ে যেতে হবে প্রায় পাচশত বছর আগে। ১৫৩২ সালে পেরু দখল করেন স্পেনীয় শাসক ফ্রান্সিসকো পিজারো। তবে এর জন্য এক প্রচন্ড রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ জয় করতে হয় রাজাকে।
এরফলে স্পেনীয় বণিক এবং ব্যবসায়ীরা পেরু বাণিজ্য করতে শুরু করেন। প্রায় তিনশ বছর এভাবে চলতে থাকে। ১৮২০ সালে পেরুর জনগণ স্বাধীনতার জন্য আন্দোলন শুরু করে। এই আন্দোলনের নেতৃত্বে ছিলেন সাইমন বলিভার। তখন পেরুর রাজধানী লিমাতে অনেক ধনী স্প্যানিশ বণিক বাস করতেন।
স্বাধীনতা আন্দোলন শুরু হওয়ায় তারা বেশ বিপদে পড়ে যান। যখন তখন তাদের ওপর হামলা হতে পারে এরকম এক অসহায় পরিস্থিতির ভেতর পড়ে যন তারা। তাই কয়েকজন স্প্যানিশ বণিক সিদ্ধান্ত নেন তাদের সকল সম্পদ নিয়ে স্পেনে ফিরে আসার। এ উদ্দেশ্যে স্কুনার মেরিডান নামের এক জাহাজ ভাড়া করে স্পেনের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়।
সেসময় স্পেনযাত্রা বেশ বিপজ্জনক ছিল। কেননা সে পথে জলদস্যু, সমুদ্রঝড় সহ নানান বিপদ ছিল। তাছাড়া চারদিকে তখন যুদ্ধ। এর উপর জাহাজ ছিল মূল্যবান হীরা, সোনা, মুক্তা সহ নানান মূল্যবান পাথর এবং স্বর্ণমুদ্রায় বোঝাই। বণিকেরা তাদের সারাজীবনের অর্জিত সম্পদ নিয়ে ফিরছিলেন।
পথে জাহাজের ক্যাপ্টেন এবং নাবিকেরা এই মূল্যবান সম্পদ হাতানোর ষড়যন্ত্র শুরু করলেন। এরই পরিকল্পনা হিসেবে, তারা বণিকদের হত্যা করে সাগরে ভাসিয়ে দিলেন। অত সম্পদ নিয়ে দেশে ফেরাটাও বুদ্ধিমানের মত কাজ মনে করেননি জাহাজের ক্যাপ্টেন।
তাই তিনি কোকোস দ্বীপে জাহাজ ভেড়ালেন। সেখানে অন্তত ছয় জায়গায় মাটি খুড়ে সকল সম্পদ রাখা হয়। পরবর্তীতে যাতে জায়গাগুলি খুজে পাওয়া যায় সেজন্য সাংকেতিক ম্যাপ আকানো হয়।
তবে জাহাজের ক্যাপ্টেন ১৮৪৪ সালে মারা যান। তার আর দ্বীপে ফিরে গুপ্তধন নিয়ে আসার সুযোগ হয়নি। সেই থেকে ওখানেই আছে সেই মহামূল্যবান গুপ্তধন। বর্তমানে কোস্টারিকা সরকার দ্বীপটিতে জন সাধারণ প্রবেশের অনুমতি দেয় না।
Collected
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now