বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

কন্সপিরেসি-০৩

"ফ্যান্টাসি" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X পলিটিক্যাল থ্রিলার,কন্সপিরেসি (পর্ব-৩) *** শুধু কামালই না,আরো এক জোড়া চোখের দৃষ্টি আকর্ষন করেছিল সালামের ব্যাতিব্যাস্ততা। এই লোকটা মাত্রই সমাবেশ স্থলে উপস্থিত হয়েছে।ঢোকার মুখেই তার নজরে পড়ে যায় সালাম।এই আগন্তুকও লক্ষ্য করে সালামের অস্থিরতা।তখনই পিছু নেয়া শুরু করে কামালের মত।তবে এই লোকটার অভিজ্ঞ চোখ কামালের কিছু আগেই সালামকে শনাক্ত করেছে যার ফলে কামালের আগেই পিছু নিতে সক্ষম হয় সে। কিছুদুর গিয়ে কয়েক মুহুর্তের জন্য হারিয়ে ফেলেছিল সালামকে। সালামের পিছু পিছু কয়েক পা এগোতেই তার মনেও বদ্ধমূল হয়ে যায়,কিছু একটা অঘটন ঘটতে চলেছে। ঠিক তখনই পায়ের আঙ্গুলে ভর দিয়ে দেখতে পায় সালামকে। ততক্ষনে সালাম স্টেজের কাছে চলে গেছে।তার কাছ থেকে প্রায় বিশফুট দুরে এই মুহুর্তে সালামের অবস্থান। বুকটা ছ্যাৎ করে উঠল তার।প্রচন্ড ভীড় ঠেলে এগোতে শুরু করল সালামের দিকে। আর যখন দশ ফুটের মত বাকি ঠিক তখনই সে দেখতে পেল,পিস্তল তাক করছে আততায়ী। একটা কাজই করার আছে এই মুহুর্তে।সেটাই করল আগন্তুক। *** দিশেহারা কামাল ঘামতে লাগল। চোখের সামনে এত বড় ব্যার্থতা কিভাবে দেখবে? অক্ষম রাগে চুল ছিঁড়তে ইচ্ছে করল তার।কেন লোকটাকে আগে চোখে পড়ল না?কেন হারিয়ে ফেলল তাকে? কেন ঠিক সময় মত খুঁজে পেলনা? ঠিক তখনই চোখের সামনে একই সঙ্গে ঘটতে শুরু করল কয়েকটা ঘটনা।একেবারে স্লো মোশন ছায়াছবির মত। হঠাৎ করে পিস্তলধারী আততায়ীর পেছন দিকের জটলাটা ফাঁক হয়ে গেল।তীরের বেগে কেউ একজন ছুটে যাচ্ছে আততায়ী লোকটার দিকে। আশেপাশের মানুষগুলোর কেউ কেউ ছুটন্ত লোকটার ধাক্কায় মাটিতে পড়ে গেল।কিন্তু সেদিকে বিন্দুমাত্র মনোযোগ নেই তার।একমাত্র লক্ষ্য অস্ত্রধারী আততায়ী। আশ্চর্য ব্যাপার, এতগুলো ঘটনা ঘটল অথচ স্টেজের কেউ কিছুই বুঝতে পারেনি।আসাদ কায়সারের বক্তৃতাও বন্ধ হয়নি।এখনো যদি আসাদ কায়সারকে সরিয়ে নেয়া হত তাহলে বেঁচে যান ভদ্রলোক। তবে টের না পাওয়াই স্বাভাবিক।এত মানুষের মধ্যে কে কার উপর ঝাপিয়ে পড়ছে সেটা লক্ষ্য করা মুশকিলই বটে। এদিকে ছুটন্ত দেহটা গিয়ে ঝাপিয়ে পড়ল সালামের উপর।ঠিক একটা ক্ষীপ্র চিতার মতই।সঙ্গে সঙ্গে গুলি ছুটল আততায়ীর পিস্তল থেকে। আকাশ বাতাস কেঁপে গেল সে আওয়াজে। তবে আশার কথা,গুলিটা লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়েছে। শুরু হয়ে গেল তান্ডবলীলা।গুলির ভয়াবহ আওয়াজে পাগলের মত ছোটাছুটি করতে লাগল উপস্থিত হাজার হাজার জনতা।তাদের পায়ের আঘাতে উড়ন্ত ধুলো অন্ধকার করে দিয়েছে পুরো এলাকা।প্রায় অন্ধ অবস্থায় হাতড়ে হাতড়ে মাটিতে ধস্তাধস্তি করতে থাকা দেহ দুটোর দিকে এগোতে লাগল কামাল।কালো স্যুট পড়া অবয়বটা আবছাভাবে নজরে পড়ছে শুধু। অবয়বটার দিকে এগোতে এগোতেই একটা গুলির শব্দ শুনতে পেল কামাল।বুকটা কেঁপে উঠল তার।কারন এই মাত্র সে আগন্তুককে চিনে ফেলেছে। ছুটন্ত মানুষের মাঝ দিয়ে পথ করে এগোতে বেশ বেগ পেতে হচ্ছে কামালকে।কাছাকাছি হতেই দেখতে পেল আততায়ী আগন্তুকের উপর উঠে বসেছে।এমনিতেই আততায়ী শক্তিশালী মানুষ।তার উপর আগন্তুকের গলায় চেপে বসেছে তার দুই হাত।তথৈবচ অবস্থা নীচের মানুষটার।হাঁসফাস করছে।পিস্তলটা এক পাশে পড়ে আছে আততায়ীর নাগাল থেকে কিছুটা দুরে।আততায়ী সেটা নাগালের মধ্যে পেতে চাইছে। একবারেই ঝামেলা মিটিয়ে ফেলবে। তবে পিস্তলের দিকে মনোযোগ দেয়াটাই তার কাল হল।সামান্য সুযোগ পেতেই আগন্তুক গলায় চেপে বসা একটা আঙ্গুল মুঠো করে ধরে মুচড়ে দিল ভয়ানক ভাবে।এত আওয়াজের মধ্যেও হাড় ভাঙার গা শিউড়ানো আওয়াজটা শুনতে কষ্ট হলনা কামালের। পশুর মত গোঙাচ্ছে সালাম।এখনো এক হাত দিয়ে ধরে আছে আগন্তুকের গলা।তবে জোর না থাকায় সহজেই হাতটা থেকে গলা ছড়িয়ে নিতে পারল আগন্তুক। সালামকে এক পাশে ঠেলে দিয়েই উঠে দাঁড়াল। উঠেই দেখতে পেল সালামও উঠে দাড়িয়েছে।মচকানো আঙ্গুলের ব্যাথা এবং সেই সাথে ধরা পড়ে যাবার রাগে উন্মাদ হয়ে উঠল সালাম।বুনো মোষের মত ছুটে গেল আগন্তুকের দিকে। যেকোনো লড়াইয়ের প্রথম শর্ত হল মাথা গরম করা যাবেনা।নিয়ম ভেঙ্গেছে সালাম।খেসারত তো দিতেই হবে। সালামকে ষাড়ের মত ছুটে আসতে দেখেও জায়গায় অনড় রইল আগন্তুক।সালাম যখন তার তিনফুটের মধ্যে চলে এসেছে তখন আচমকা নড়ে উটল সে।সালামের পথ থেকে সরে দাঁড়িয়ে পা টা আস্তে করে বাড়িয়ে দিল। রাগে অন্ধ সালাম বাড়িয়ে দেয়া পায়ে বেধে কয়েকফুট দূরে গিয়ে ধুপ করে পড়ল মাটিতে।এবার আর উঠে দাড়াবার সুযোগ পেলনা।আগন্তুক কয়েক পা দৌড়ে গিয়ে সালামের তলপেটে ভয়ংকর এক লাথি মেরে বসল।সঙ্গে সঙ্গে জ্ঞান হারাল সালাম। এতক্ষন হতভম্ব হয়ে সংক্ষিপ্ত অথচ প্রানঘাতী লড়াইটা দেখছিল কামাল।শত্রু পরাভূত হতেই এগিয়ে গেল আগন্তুকের দিকে।‘স্যার আপনি?’ ‘হুম,’কপালের ঘাম মুছে নিয়ে বলল মেজর সাইফ হাসান।সিক্রেট শ্যাডোর হেড অফ অপারেশন। ‘আপনার কিছু হয়নি তো?’ ‘নাহ।’ভ্রু কুঁচকে আশপাশটা দেখতে দেখতে জবাব দিল সাইফ।পরখ করে দেখছে বিপদের সম্ভবনা এখনো আছে কিনা। ‘পরে আরেকটা গুলির আওয়াজ শুনলাম যে?’ ‘ধস্তাধস্তি করতে গিয়ে বেরিয়ে গিয়েছিল।কারো গায়ে লাগেনি।’ হাঁপ ছাড়ল কামাল।এমন সময় ওদের টিমের লিডার জাহিদ দৌড়ে হাজির হল।‘আপনি কখন এলেন স্যার?বলে উঠল সে। ‘এইতো এইমাত্র।অফিসে কাজ ছিলনা।ভাবলাম তোমাদের সিকিউরিটির সেটআপটা দেখে যাই। আর এসেই নজরে পড়ল একে।’মাটিতে পড়ে থাকা দেহটার দিকে ইশারা করল সাইফ।‘এমনিতে সন্দেহের বশেই পিছু নিলাম।কিছুদুর গিয়েই বুঝতে পারলাম এই লোকের মধ্যে গড়বড় আছে।এরপর তো দেখলেই সব।বাই দ্যা ওয়ে,ভিকটিম কেমন আছে?’ ‘বাকিরা গার্ড দিয়ে গাড়ির কাছে নিয়ে গেছে তাকে।’ ‘হুম,’মাথা দোলালো সাইফ।’তোমাদের আরো সতর্ক থাকার দরকার ছিল।’এছাড়া আর কিছুই বলল না সাইফ।ও জানে এটা নিছক দুর্ঘটনা।কারো অবহেলা দায়ী নয় এর পেছনে। ‘স্যার,আপনি কি ভিকটিমের সাথে কথা বলবেন?’ জবাব দেয়ার আগে সামনে তাকিয়ে দেখল,এতক্ষনে একজন এসআই দুজন কনস্টেবলকে নিয়ে ভুঁড়ি দুলিয়ে ছুটে আসছে।স্টেজের পাশে যে দুজন কনস্টেবল ছিল তারা গোলাগুলি শুরু হতেই পালিয়েছে! সাইফ জবাব দিল,‘এখন না।এখানে তার থাকাটা নিরাপদও নয়।তোমরা চারজন তাকে বাড়িতে নিয়ে যাও।আর দুজন এই লোকটাকে হেড কোয়ার্টারে দিয়ে এসো।একে ইন্টারোগেট করতে হবে।পুলিশ এখনো বুঝতে পারেনি কিছু।তাদের বলবে আততায়ী পালিয়েছে।আর এ আমাদের লোক।তেমন বুঝলে পরে পুলিশের হাতে তুলে দেয়া যাবে।’ ‘ওকে স্যার।’ কথা শেষ হতেই ঘুরে দাঁড়াল সাইফ। ভুড়িওয়ালা এসআইকে ওরা সামলাক। এখন ওর বাসায় ফিরে কিছুক্ষন বিশ্রাম নেবার ইচ্ছে।গত কয়েকদিন ধরে কাজের মারাত্মক চাপ যাচ্ছে। মাত্র কিছুদিন আগেই এক ভয়ংকর জঙ্গী সংগঠনের ভেতর ইনফিলট্রেশন করে পুরো সংগঠন ধ্বংস করে দিয়েছে ও।এরপর প্রতিদিনই অনেক রাত কাজ পর্যন্ত কাজ করতে হয়।ওর এজেন্সির সবাই প্রায় নতুন।ওকেই বুঝিয়ে দিতে হয় কাজ।তবে মানতেই হবে এদের সবাই দেশ এজেন্সীর প্রতি নিবেদিত প্রাণ।সেই সাথে দক্ষও বটে।শুধু অভিজ্ঞতার অভাব আরকি। সাইফ ওর গাড়িতে উঠে স্টার্ট দিতে যাবে এমন সময় ফোন বেজে উঠল। হেড কোয়ার্টার থেকে ফোন এসেছে। ‘হ্যালো,’রিসিভ করল সাইফ।ফোন করেছে অ্যানালাইসিস উইং এর প্রধান খসরু আহমেদ। ‘স্যার,আপনাকে একটু আসতে হবে অফিসে।আশ্চর্য একটা মেসেজ এসেছে এইমাত্র।’ ‘খোঁজ নিয়ে দেখেছেন ব্লাফ কিনা?’ ‘যতটুকু নেবার নিয়েছি।তবে আমার মনে হচ্ছে ব্যাপারটা জরুরী।আপনি আসবেন একবার?’ খসরু ফালতু কথার মানুষ না।কিছু একটা নিশ্চয়ই আছে এর মধ্যে। ‘আমি আসছি।’একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে গাড়ি স্টার্ট দিল সাইফ। দুই ঘ্যাচ করে সিক্রেট শ্যাডোর হেড কোয়ার্টারের সামনে ব্রেক কষল মেজর সাইফ হাসানের গাড়ি।হেড কোয়ার্টার উত্তরাতেই।তেমন সময় লাগেনি এখানে পৌঁছতে। সাইফ সিক্রেট শ্যাডোর হেড অফ অপারেশন।সেটা নামেই।বলতে গেলে পুরো এজেন্সিই চলছে ওর একার কৃতিত্বে। সাইফ বাংলাদেশ আর্মির একজন সাবেক মেজর,একজন দুর্ধর্ষ কমান্ডো। দক্ষতা,দুঃসাহস আর দেশপ্রেম ওকে খুব অল্প বয়সেই মেজরের আসনে বসায়।মেজর হবার পরই বাংলাদেশ আর্মির ইন্টেলিজেন্স উইং এর হয়ে কাজ করতে শুরু করে। উল্লেখযোগ্য কিছু মিশনের তাক লাগানো সফলতায় যখনই ওকে ইন্টেলিজেন্স উইং এর সেকেন্ড ইন কমান্ড হিসেবে নিয়োগের গুঞ্জন বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে ঠিক তখনই ও আবিষ্কার করে বসে আর্মির কিছু হাই লেভেল অফিসার জঘন্য একটা ষরযন্ত্রে বেশ ভালভাবেই লিপ্ত। কিছু রাজনৈতিক নেতার সাথে হাত মিলিয়ে আর্মির টপ সিক্রেট কিছু ইনফর্মেশন পাচার করে দিচ্ছে বিদেশে। সাইফ প্রতিবাদ করে বসার সাথে সাথেই কর্তারা হাত,চোখ সব উল্টে নিল ওর থেকে।ফলাফল,সাইফ আর্মি থেকে বহিষ্কৃত। সাইফ চাইলে আর কিছু না হোক,নিজের চাকরিটা অন্তত বাঁচাতে পারত।ওর ব্যাকগ্রাউন্ডের একজন কমান্ডোকে হাতছাড়া করবার মত বোকা না কোনো দেশের আর্মি। কিন্তু সাইফ নিজেই আর আগ্রহ খুঁজে পায়নি।আর্মি ছেড়ে চলে আসে। ঠিক সেই সময় আরেকজন অফিসার নির্দোষ সাইফকে বরখাস্তের প্রতিবাদে নিজেই পদত্যাগ করে বসেন।কর্নেল আজহার চৌধুরী। তার সম্পর্কে বলা হয়ে থাকে,নীতির প্রশ্নে আপোষ করলে ভদ্রলোক এতদিনে মেজর জেনারেল হয়ে যেতেন। কর্নেল আজহার সাইফের বাবার বাল্যবন্ধু।পড়াশোনা শেষ হতেই পারিবারিক ব্যাবসায় ঢুকে পড়ে সাইফের বাবা আর কর্নেল আজহারের ধ্যান জ্ঞানে পরিনত হয় আর্মি।তবে প্রথম প্রেম আর্মিকে ছেড়ে আসতে এতটুকু দ্বিধাও করেননি তিনি।বাল্যবন্ধুর ছেলের পরিবর্তে অন্য যে কেউ হলেও তার প্রতিবাদের ভাষা এতটুকু নরম হত না। সাইফের মধ্যে ছোটবেলা থেকেই যে দুঃসাহসের ছাপ দেখা যেত সেটাই মূলত ওকে পথ বেছে নিতে সাহায্য করেছিল।বুঝ হবার মত বয়সে পৌছতেই নিজের পথ নিজেই বেছে নিল সাইফ।ও আর্মি হবে।বাবার বিপুল ধন সম্পদ ব্যাবসা কিছুই ওকে টানেনি।সেই থেকে এখন অবধি খেলে যাচ্ছে যুদ্ধ যুদ্ধ খেলা।বেছে নিয়েছে এক বিপদজনক পেশা। বাবা মা অনেক আগেই মারা গেছেন। সাইফের কোনো ভাই বোনও নেই। পারিবারিক ব্যাবসা এখন বিশ্বস্ত ম্যানেজারই দেখাশোনা করে। এমনকি আর্মি থেকে বরখাস্ত হবার পরও ব্যাবসায় জড়িয়ে পড়ার কোনো ইচ্ছাই ওর মধ্যে দেখা যায়নি।এরপর কর্নেল আজহার চৌধুরীর পরামর্শে গড়ে তোলে ইন্টারন্যাশনাল প্রাইভেট এজেন্সী সিক্রেট শ্যাডো।কর্নেল আজহারই বর্তমানে সিক্রেট শ্যাডোর চীফ। বিশ্বের বড় বড় বেশ কিছু শহরে চালু করা হয়েছে সিক্রেট শ্যাডোর ব্রাঞ্চ।পর্যায়ক্রমে বিশ্বের প্রতিটা দেশেই শাখা খোলার পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে সংস্থাটি।প্রতিটা শাখা অত্যন্ত সফলতার সাক্ষর রেখে চললেও অন্যান্য দেশে ব্রাঞ্চ খোলার লাইসেন্স পেতেই ঝামেলা হয়ে যাচ্ছে।কোথাকার কোন 'বাংলাদেশের' একটা এজেন্সির এত সুনামের সাথে কাজ করে যাওয়াটা অনেকেরই ভাল লাগার কথা না। সাইফ গাড়ি পার্ক করে দোতলা ভবনটাতে ঢুকে পড়ল। বাহ্যিকভাবে যেহেতু এটা প্রাইভেট ইনভেস্টিগেশন এজেন্সী সেজন্যই কোনো লুকোছাপা নেই।সবাই জানে বিশালাকার এই ভবনটাই সিক্রেট শ্যাডোর হেড অফিস। সারা পৃথিবীতে সিক্রেট শ্যাডোর ছড়িয়ে থাকা ফিল্ড এজেন্টদের আসল সংখ্যা খুবই সতর্কতার সাথে গোপন রাখা হয়।তবে বাংলাদেশে এইমুহুর্তে প্রায় শ খানেক ফিল্ড এজেন্ট কাজ করে যাচ্ছে বিভিন্ন মিশন নিয়ে। সিক্রেট শ্যাডো পরিচালিত হয় বেশ কটি উইং এর মাধ্যমে।প্রতিটা ডিপার্টমেন্ট আলাদা হওয়ায় কাজগুলো খুবই শৃংখলার সাথে সমাধা হয়।এর মধ্যে আছে ট্র্যাক অ্যান্ড ট্রেস।সংক্ষেপে টি এন টি (TnT)।এদের কাজ মূলত টেলি কমিউনিকেশনের উপর।ফোন কলের সুত্র ধরে ট্র্যাক করা কিংবা আড়ি পাতাই এদের মূল কাজ। এরপর আছে অ্যানালাইসিস উইং। বিভিন্ন ধরনের ইনফর্মেশন যাচাই বাছাই করাই এদের দায়িত্ব।এদের ডাটাবেজ দেখলে যে কারো মাথা ঘুরে উঠবে। এছাড়াও আছে ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট। সংক্ষেপে আই এন আই (eye n eye) বলে ডাকা হয়। এটাই বলতে গেলে সিক্রেট শ্যাডোর মূল ডিপার্টমেন্ট।সব ধরনের তদন্ত এবং জাতীয় পর্যায়ের ইন্টেলিজেন্স কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে আই এন আই।তবে গোপন আরেকটি ডিপার্টমেন্ট আছে যেটার ব্যাপারে সাধারন অনেক এজেন্ট এবং অফিসারও অজ্ঞাত। অন্যান্য দেশের মত বাংলাদেশেও লাইসেন্স পাওয়া নিয়ে সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়েছিল সিক্রেট শ্যাডোকে।এধরনের প্রতিষ্ঠান যেহেতু এদেশে এই প্রথম সেহেতু খানিকটা দ্বিধা দন্দে ভুগছিল সরকার।তবে লাইসেন্স দেয়ার কদিনের মধ্যেই এজেন্সীর সাফল্য দেখে সরকারের তরফ থেকেই অনুরোধ করা হয় বাংলাদেশের হয়ে আন অফিশিয়ালি এসপিওনাজ কার্যক্রম পরিচালনা করার।বিনিময়ে সরকারের তরফ থেকে সব ধরনের সাহায্য পাবে সিক্রেট শ্যাডো। এক শর্তে রাজি হয় কর্নেল আজহার চৌধুরী।এজেন্সীর কাজ কর্মে সরকারের কোনো হস্তক্ষেপ চলবেনা। শুধুমাত্র প্রধানমন্ত্রীকে জবাবদিহি করবে সিক্রেট শ্যাডো। রাজি হয়ে যায় সরকার। সেই থেকে প্রাইভেট ইনভেস্টিগেশনের পাশাপাশি আন অফিশিয়ালি বাংলাদেশের হয়ে এসপিওনাজ কার্যক্রমও পরিচালনা করে আসছে সিক্রেট শ্যাডো। সাইফের নেতৃত্বে এজেন্সীর দশজন টপ এজেন্ট আন্তর্জাতিক এবং স্পর্শকাতর এসপিওনাজ মিশনগুলোয় কাজ করে যাচ্ছে। আরো গুরুত্বপূর্ন একটি উইং হচ্ছে কমান্ডো ইউনিট।শুধু বাংলাদেশীই না বিশ্বের বিভিন্ন দেশের দুনিয়াসেরা কমান্ডোদের সমন্বয়ে মোট পঞ্চাশজন কমান্ডোর মাধ্যমে গঠিত ইউনিটটির নাম দ্যা ব্ল্যাক সার্কেল।এই পঞ্চাশজনের মধ্যে সেই বিশেষ দশ এজেন্টও অন্তর্ভুক্ত। এই পুরো স্ট্রাকচারটার নামই হল সিক্রেট শ্যাডো।তবে টপ এজেন্টদেরও কোডনেম সিক্রেট শ্যাডো।সাইফের কোডনেম এস এস-ওয়ান।বাকিদেরও এভাবেই আলাদা আলাদা সংখ্যার মাধ্যমে চিহ্নিত করা হয়। সাইফ সোজা দোতলার অ্যানালাইসিস উইং এ চলে এল। ঘরটা অনেক বড়।তার প্রায় পুরোটাই দখলে নিয়েছে গোটা দশেক কম্পিউটার। ওগুলোর সামনে মাথা নীচু করে কাজ করে যাচ্ছে একজন করে অপারেটর।সারা পৃথিবীর সমস্ত শাখা থেকে আগত ইনফর্মেশন যাচাই বাছাই করছে।প্রয়োজনীয়গুলো জায়গামত পাঠিয়ে দিচ্ছে।আপাত অপ্রয়োজনীয় ইনফর্মেশনগুলোর জায়গা হচ্ছে ভুগর্ভস্ত ডাটাবেজে। কোনো ইনফের্মশনই ফেলে দেয়া হয়না।কে জানে,কখন কোনটার প্রয়োজন পড়ে যায়? এদের মধ্যে অনেকে আবার ব্যাস্ত পৃথিবীর আরেক প্রান্তে মিশনে ব্যাস্ত কোনো এক এজেন্টের চাহিদা অনুযায়ী তথ্য যোগান দিতে। সাইফের উপস্থিতি বোধহয় কেউই টের পায়নি।সাইফ চায়ও না কেউ পাক।সাইফের সম্মান দরকার নেই, দরকার কাজ।এই মুহুর্তে সবাই সেটাই করছে। রুমের ও মাথায় ঘোলা গ্লাস দিয়ে ঘেরা একটা চেম্বার।ওটাই অ্যানালাইসিস উইং এর প্রধান খসরু আহমেদের কামরা। সাইফ দরজার সামনে গিয়ে মৃদু টোকা দিল। ভেতর থেকে ভেসে এল,'কাম ইন।' সাইফ ভেতরে ঢুকে পড়ল। ওকে দেখেই খানিকটা সন্ত্রস্ত হয়ে পড়ল খসরু।দাঁড়িয়ে পড়ল।তবে খুব বেশি অবাক হয়নি সে।ভাল মতই সাইফের স্বভাব তার জানা আছে। এজেন্সীর সেকেন্ড ইন কমান্ড হওয়া সত্বেও ডেকে না পাঠিয়ে অধস্তনের কাছে নিজেই চলে যাওয়াটা সবার দ্বারা সম্ভব না। খসরু আহমেদের বয়স সাইফের থেকে কিছু বেশিই হবে।আগে এফবিআইয়ের টেলিকমিউনিশন বিভাগের পদস্থ কর্মকর্তা ছিল। আমেরিকাতেই পড়াশোনা ইনফের্মশন টেকনোলজির উপর। আমেরিকার সিটিজেন হওয়া সত্বেও সাইফের প্রস্তাব ফিরিয়ে দিতে পারেনি খসরু। এফবিআইয়ের তুলনায় অনেক কম বেতনে যোগ দিয়েছে সিক্রেট শ্যাডোতে।এরাই এজেন্সীর গর্ব।দেশের তো বটেই। 'কী ব্যাপার?'কাজের কথায় চলে এল সাইফ। 'স্যার,আপনি বসুন,বলছি সব।' সাইফ বসে পড়ল চেয়ারে। ওপাশে খসরু বসে বলল,'স্যার,ঘন্টা খানেক আগে একটা অদ্ভুত মেসেজ এসেছে আমাদের কাছে।' সাইফ চুপ করে থাকল।এটা আগেই শুনেছে। এজেন্সী খোলার পর থেকে মাঝে মধ্যেই এধরনের উটকো কল পায় ওরা।সবগুলোই যাচাই করে দেখা হয়। শতকরা নব্বই ভাগ ক্ষেত্রে দেখা যায় এগুলো অলস মস্তিষ্কের কিছু মানুষের কাজ। 'মেসেজটা অনেকগুলো কারণেই অদ্ভুত।'বলল,খসরু।'মেসেজটা আমাদের সাধারন হট লাইনে আসেনি। এসেছে আমাদের এজেন্টদের সাথে যোগাযোগের জন্য যে নাম্বার ব্যাবহার করি তার একটাতে।'থামল খসরু। এবার ব্যাপারটা কিছুটা গুরুত্বের দাবি রাখে।তবুও সাইফ বলল,'নাম্বার যোগার করা কঠিন হলেও অসম্ভব নয়।' 'জানি স্যার,দ্বিতীয় অদ্ভুত ব্যাপারটা হল,মেসেজের ভাষা। সাধারন ব্লাফে যেমন যায় তেমন নয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায় উড়ো ফোনকলগুলো থেকে বলা হয় অমুক জায়গায় মাফিয়াদের মিটিং চলছে,তমুক জায়গায় স্মাগলিং হচ্ছে ইত্যাদি।কিন্তু এই মেসেজটা...আপনি নিজেই শুনুন,'বলে কম্পিউটারে একটা অডিও ফাইল ওপেন করল খসরু। প্রথম কয়েক মুহুর্ত নীরব। রিং হবার আগের মুহুর্ত। এরপর অপারেটরের গলা শোনা গেল,'সিক্রেট শ্যাডো, কিভাবে সাহায্য করতে পারি?' কলার কোনো জবাবের ধার ধারল না।আচমকা বলা শুরু করল,'বিপদ,ভয়ংকর বিপদ...দেশের উপরে ভয়ংকর বিপদ নেমে আসছে...প্লিজ কিছু করুন আপনারা। আমার পক্ষে এর চাইতে বেশি কিছু বলা সম্ভব না।আপনারা চাইলেই সূত্র ধরে এগোতে পারবেন।' আচমকা খুট করে লাইন কেটে গেল। এরপর অপারেটর কয়েকবার হ্যালো হ্যালো করল,তারপরই নীরব হয়ে গেল লাইন। সাইফের ভ্রু কুঁচকে উঠল।মেসেজের বক্তব্য আসলেই রহস্যজনক।এর আগে কখনই এরকম মেসেজ ওরা পায়নি। তারচাইতেও বড় কথা,লোকটার গলায় স্পষ্ট ভয়ের ছাপ লক্ষ্য করা যাচ্ছিল।কী এমন ঘটবে যার জন্য গোটা দেশের ওপর ভয়াবহ বিপদ নেমে আসবে?ওর কাছেও এখন আর ব্লাফ মনে হচ্ছেনা।ব্যাপারটা ইতিবাচক হোক কিংবা নেতিবাচক, গুরুত্বপুর্ন হবার সম্ভবনা ফেলে দেয়া যাচ্ছেনা। 'নাম্বারটা ট্র্যাক করা হয়েছিল?' জানতে চাইল সাইফ। জী স্যার, ট্র্যাক করার পর ঘটনাস্থল থেকে যা পেয়েছি সেটাই আমার ধারনা সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ। দেখুন,বলে ড্রয়ার থেকে রুমাল জড়ানো একটা কালো রঙের বস্তু টেবিলে রাখল খসরু। সেদিকে তাকিয়ে সাইফের ভ্রু আবারও কুঁচকে গেল।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮৩ জন


এ জাতীয় গল্প

→ কন্সপিরেসি-০৩

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now