বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

কন্সপিরেসি—০১

"ফ্যান্টাসি" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X পলিটিক্যাল থ্রিলার,কন্সপিরেসি (পর্ব-১) উপক্রমনিকা ঢাকা,রাত একটা বেজে চুয়াল্লিশ মিনিট। রাজধানীর একটি অভিজাত এলাকায় অবস্থিত সাততলা ভবনের গায়ে স্ট্রিট লাইট আলো ফেলছে। এলাকাটাতে এখনো বসতি ঘন হয়ে গড়ে ওঠেনি।তবে দ্রুতই ফাঁকা জায়গাগুলো দখলে নিচ্ছে বহুতল ভবন।খুব তাড়াতাড়িই কংক্রিটের জঙ্গলে পরিণত হবে এলাকাটা। আশপাশটা প্রায় নিঝুম।মাঝে মধ্যে একটা অ্যালসেশিয়ান ডেকে উঠছে রাতের নিরবতাকে চূর্ন করে,সাথে তাল মিলাচ্ছে নাইট গার্ডদের হুইসেলের আওয়াজ।অনেক হোমরা চোমরাদের বাসস্থান এলাকার নিরাপত্তা জোরদার করতে গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা রাখছে। সাততলা ভবনের পাঁচ নম্বর ফ্লোরের একটি জানালা নিঃশব্দে খুলে গেল।এতক্ষন ধরে জানালার কাঁচে প্রতিফলিত হওয়া স্ট্রিট লাইটের মৃদু আলো খোলা জানালা পথে ভেতরে ঢুকে পড়ল।সেই সাথে ঢুকে পড়ল একটি ছায়ামূর্তি। ছায়ামূর্তির গায়ে রাতের মতই কালো পোশাক।ফ্ল্যাটটাও ডুবে আছে আঁধারে। ফ্ল্যাটটা বেশ বড়।সবমিলিয়ে পাঁচটা রুম।দুটো বেডরুমই ভেতর থেকে আটকানো।বাকিগুলো হাট করে খোলা।ছায়ামূর্তিটা সন্তর্পনে এগিয়ে গেল খোলা একটি রুম লক্ষ্য করে।হাঁটার ভঙ্গি চিতার মত।এতটুকু শব্দও হচ্ছেনা। কয়েক সেকেন্ড পরই সে যে রুমটাতে উপস্থিত হল সেটাকে দেখা মাত্রই স্টাডিরুম হিসেবে চিহ্নিত করা যায়। চারটা র্যাক বইয়ে ঠাসা।বইগুলোর নামের উপর চোখ বোলালেই এর মালিকের জ্ঞানের গভীরতা সম্পর্কে কিছুটা ধারনা পাওয়া যায়। আর এক র্যাক ভর্তি বিভিন্ন নথি,ফাইল ইত্যাদি দিয়ে। আগন্তুকের সেদিকে আগ্রহ নেই।সে তাকিয়ে আছে গোদরেজের তৈরি ভারী সিন্দুকটার দিকে।এত সুরক্ষিত লকার সচরাচর দেখা যায়না।তবে লকারের দৃঢ়তা আগন্তুকের দৃঢ়তায় ফাঁটল ধরাতে পারলনা।শান্ত ভঙ্গিতে সে বসে পড়ল লকারের সামনে।পিঠে বাধা ন্যাপস্যাক নামিয়ে কয়েকটা জিনিস বের করল।দু ঠোঁটের মাঝে একটা পেন্সিল টর্চ গুজে নিয়েছে। টর্চটা শুধু নির্দিষ্ট জায়গাতেই আলো ফেলছে।আশেপাশে ছড়াচ্ছেনা। কাজ শুরু করে দিল আগন্তুক।ঘড়ি ধরে ছয় মিনিটের মাথায় মৃদু কিট আওয়াজ করে খুলে গেল ভারী লকারটা।সন্তুষ্টির একটা হাসি ফুটে উঠল আগন্তুকের ছায়া ঢাকা ঠোঁটে। ভেতরে দেখা যাচ্ছে টাকার বেশ কয়েকটা বান্ডিল।সে যা আশা করেছিল তার চাইতে বেশিই।তবে আগেই বান্ডিলে হাত দিলনা সে। খুটিয়ে খুটিয়ে লকারের ভেতরটা দেখছে।হঠাত তার চোখ আটকে গেল একতাড়া কাগজের দিকে। বেশিনা,মাত্র দশ থেকে বারো পৃষ্ঠা হবে। আগন্তুকের ভ্রু নিজের অজান্তেই কুঁচকে উঠল।একবার ঘুরে কাগজপত্র রাখার র্যাকের দিকে তাকাল সে।ওখানে না থেকে কাগজগুলো এই সুরক্ষিত লকারে কী করছে?টর্চের মৃদু আলোতে চোখ বোলাতে লাগল কাগজগুলোর উপর। মুহুর্তেই তার নিঃশ্বাস ঘন হয়ে উঠল।অন্ধকারে দেখা না গেলেও তার চোখগুলো নিশ্চিতভাবেই বিস্ফারিত হয়ে গেছে।এবার চোখ বোলানো বাদ দিয়ে মনোযোগ দিয়ে পড়া শুরু করল।যদিও মনোযোগ ধরে রাখা প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়াচ্ছে। কিছুক্ষন পর যখন পুরো ফাইলটা পড়া হয়ে গেল তখন তার অন্তরে শুধু একটাই প্রার্থনা,হায় খোদা,এগুলো যেন মিথ্যে হয়। এক ‘আপনি কি আপনার মা’র সাথে কখনো বেইমানী করতে পারবেন? কখনো ধোকা দিতে পারবেন তাঁকে? পারবেন তাকে অবলীলায় শত্রুর হাতে তুলে দিতে? জানি পারবেন না।কারন আমরা সবাই মানুষ।আমাদের মধ্যে মনুষত্ব বলে কিছু একটা আছে।আমাদের মনুষত্ব আমাদের বলে মা’কে ভালবাসতে হবে,শ্রদ্ধা করতে হবে,তার জন্য প্রয়োজনে জীবন দিতে হবে।কিন্তু কখনো কি নিজের কাছে প্রশ্ন করেছেন,আমরা কি সত্যি আমাদের মা’কে ভালবাসি?সত্যিই তাকে শ্রদ্ধা করি?তার জন্য জীবন দেবার প্রয়োজন সামনে এসে দাড়ালে কি আমরা বুক টান করে দিতে পারব? জানি আমার কথায় অবাক হচ্ছেন। ভাবছেন হয়ত আমি পাগল হয়ে গিয়েছি।ভাবাটা স্বাভাবিক।কারন আমি জানি আপনাদের মাকে আপনারা কতটা ভালবাসেন। কিন্তু আমাদের মা কি শুধু তিনিই,যিনি আমাদের দশ মাস অমানুষিক কষ্ট করে গর্ভে ধারন করেছিলেন? আমাদের পরম মমতায় লালিত করেছেন?এই দেশটা আমাদের মা নয়?এদেশের মাটি কি আমাদের মায়ের ত্বকের মতই আপন নয়? এদেশের জল,মাটি কি মায়ের স্নেহের মতই কি ঘিরে রাখেনি আমাদের প্রতিনিয়ত?তবে কেন আজ আমাদের মায়ের এত কষ্ট?কেন ভিনদেশী শকুনেরা তাদের কু নজর আমাদের মায়ের প্রতি নিক্ষেপ করে চলেছে অনবরত?আমরা কি পারিনা আমাদের মাকে তার প্রাপ্যটুকু দিতে?’শেষের দিকে গলাটা ধরে এল মঞ্চে দাঁড়ানো মানুষটার। ড.আসাদ কায়সার।এক হারা ঋজু দেহ কাঠামো।ঝাড়া ছয় ফুট লম্বা মানুষটা।চোখে সোনালী ফ্রেমের চশমা।গায়ের সাদা পাঞ্জাবীর উপর চড়িয়েছেন ছাই রঙা কোটি।জুলফির হালকা রুপালী ছোঁয়া পাওয়া চুলগুলো তার ব্যাক্তিত্বকে বাড়িয়ে দিয়েছে অনেকখানি।মুখে মেহেদী রাঙানো ফ্রেঞ্চ-কাট দাড়ি তাকে করে তুলেছে আরো আকর্ষণীয়। স্বাধীনতার পর থেকে তার মত এত জনপ্রিয় নেতাকে আর কখনো দেখেনি বাংলাদেশ।ড.আসাদ কায়সারের হৃদয় ছোঁয়া বক্তৃতা মনে করিয়ে দেয় বঙ্গবন্ধুর সেই ঐতিহাসিক ভাষণের কথা।তার দৃঢ়তায় ফুটে ওঠে জেনারেল ওসমানী কিংবা মেজর জিয়ার সেই সামরিক দৃঢ়তা। বাংলাদেশ সুচনালগ্ন থেকেই দেশে গণতন্ত্রের নামে চলছে পরিবারতন্ত্র। স্বাধীনতার দুই প্রধান রুপকারের মৃত্যর পর তাদের পরিবার যেন এদেশের একচ্ছত্র ক্ষমতার অধিকারী হয়ে পড়ল। একবার এর হাতে ক্ষমতা তো আরেকবার ওর হাতে ক্ষমতা।জনগন চুড়ান্ত বিভ্রান্তির মধ্যে পড়ে গেল। পাঁচ বছর পর পর যখন এক সরকারের ক্ষমতা ছেড়ে দেবার সময় হয় তখন তাদের প্রতি সারাদেশের জনগনের বিতৃষ্ণা চরমে পৌছে।যায়। ভাবতে থাকে বিরোধী দল এবার ক্ষমতায় গেলে তারা হয়ত খানিকটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে পারবে। কিন্তু ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটে বারবার।জনগন কখনই স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে পারেনা। এর বাইরে ভিন্ন নেতৃত্বের স্বপ্ন দেখতেও তারা ভয় পায়।কারন দীর্ঘ প্রায় একযুগের সামরিক শাষন এদেশের মানুষের কাছে এখনো একটা দুঃস্বপ্নের মতই কালো অধ্যায়। তবে সবাই হয়ত চাইছিল এমন কাউকে, যে হবে তাদেরই লোক। তাদের কথা বুঝবে,তাদের কথা শুনবে। তাদের নিয়ে পথ চলবে।ভেঙ্গে দেবে এদেশের চিরায়ত রাজনৈতিক ধারা। ঠিক এমন সময় আবির্ভাব হল ড. আসাদ কায়সারের। পেশায় তিনি একজন শিক্ষক।ঢাকার একটা নাম করা বিশ্ববিদ্যালয়ের পলিটিক্যাল সায়েন্স ডিপার্টমেন্টের প্রধান।পলিটিক্যাল সায়েন্সের উপর কেমব্রিজ থেকে পিএইচডি করেছেন।জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক রাজনীতির উপর ড.আসাদ কায়সারের অগাধ জ্ঞান। পত্রিকায় নিয়মিত কলাম লেখেন। তিনি মূলত কলাম লেখক হিসেবেই সারা দেশে পরিচিত।তার ক্ষুরধার,তীক্ষ্ণ বিশ্লেষণ সম্বলিত এক একটা লেখার জন্য স্বয়ং সম্পাদক পর্যায় থেকে অনুরোধ আসে।তার লেখা থাকা মানেই পত্রিকার কাটতি অনেকখানি বেড়ে যাওয়া।বিভিন্ন টক শো থেকে তাকে প্রায়ই আমন্ত্রন জানানো হলেও ক্যামেরার সামনে তাকে খুব একটা দেখা যায়নি।প্রচার বিমুখ মানুষ তিনি।মাত্র কদিন আগেও দেশের অধিকাংশ মানুষ তার চেহারা পর্যন্ত দেখেনি।অথচ এই মানুষটাই আজ হয়ে উঠেছে দেশের কোটি মানুষের নির্ভরতার জায়গা। তার রাজনীতিতে আসার প্রেক্ষাপটও খুব অদ্ভুত।এদেশে একটা কথা প্রচলিত আছে,দেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক দল আসলে পাশ্ববর্তী দুই দেশের ‘দালাল’।এই দল দুটোর কার্যক্রম যাচাই করে দেখলে গুজবটাকে কিছুটা হলেও সত্যাশ্রিত মনে হওয়াটা অস্বাভাবিক নয়।শত হলেও এই তিনটা দেশ আগে একই দেশ ছিল। সুতরাং নিজেদের মধ্যে অতিমাত্রায় মিত্রতা বা শত্রুতা থাকাটাও স্বাভাবিক।কিন্তু এই অতি মাত্রার মিত্রতা থেকে হঠাৎ করেই বর্তমান সরকার একটি আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত নিয়ে বসে। বছর দুয়েক আগে প্রধানমন্ত্রী প্রতিবেশী রাষ্ট্র সফর করার সময় দুই দেশের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক হয়, যাতে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার ভিত্তিতে বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং সঞ্চালনের বিষয়টি ছিল।সুন্দরবন এলাকার রামপালে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের জন্য ২০১২ সালের ২৯ জানুয়ারি ভারতের ন্যাশনাল থারমাল পাওয়ার করপোরেশনের(এনটিপিসি) সঙ্গে চুক্তি করে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড(পিডিবি)।কিন্তু শুরু থেকেই পরিবেশবাদীরা এর প্রবল প্রতিবাদ করে আসছে এবং হাইকোর্টও সেখানে বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন না করতে কেন নির্দেশনা দেয়া হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে।কারণ রামপালের বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি হবে দুই দেশের সমান অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে দুই দেশের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার কোম্পানি নামে একটি কোম্পানিও গঠন করা হয়েছে।এই প্রকল্পের অর্থায়ন করবে ১৫% পি ডি বি, ১৫% ভারতীয় পক্ষ আর ৭০% ঋণ নেয়া হবে। যে নীট লাভ হবে সেটা ভাগ করা হবে ৫০% হারে। উৎপাদিত বিদ্যুৎ কিনবে পি ডি বি। বিদ্যুতের দাম নির্ধারিত হবে একটা ফর্মুলা অনুসারে। কী সে ফর্মুলা? যদি কয়লার দাম প্রতি টন ১০৫ ডলার হয় তবে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ এর দাম হবে ৫ টাকা ৯০ পয়সা এবং প্রতি টন ১৪৫ ডলার হলে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ ৮ টাকা ৮৫ পয়সা। অথচ একটি দেশীয় কোম্পানী প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ দিচ্ছে ৪ টাকায়। এসবের তোয়াক্কা না করেই সরকার এর মধ্যেই ১৪৫ ডলার করে রামপালের জন্য কয়লা আমদানির প্রস্তাব চূড়ান্ত করে ফেলেছে। তার মানে ৮ টাকা ৮৫ পয়সা দিয়ে পি ডি বি এখান থেকে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ কিনবে সেটা মোটামুটি নিশ্চিত। এছাড়াও পৃথিবীর একমাত্র ম্যানগ্রোভ ফরেস্টের গা ঘেসে এমন একটি স্থাপনা নির্মান নিজেদের অস্তিত্বকে বিলীন করে দেয়ারই নামান্তর।এমন পরিস্থিতে দেশের সব মানুষ কামনা করছিল কেউ যেন রুখে দাঁড়ায় এর বিরুদ্ধে।এরই মধ্যে চুক্তিটা চুড়ান্ত করা হলে কিছু সচেতন নাগরিক মিলে এর প্রতিবাদে একটি লংমার্চের আয়োজনও করলেও সেটা নিতান্তই অপ্রতুল বলে প্রমানিত হয়েছে।ঠিক তখনই আবির্ভাব ড.আসাদ কায়সারের। তিনি জনমতকে একাট্টা করার জন্য ব্যাবহার করলেন অনলাইন। ফেসবুক,টুইটার,ব্লগে ঝড় তুললেন তিনি।দেখা দেখি গজিয়ে গেল প্রচুর পেজ,গ্রুপ,ইভেন্ট।সবাই জ্ঞাতসারে কিংবা অজান্তেই মনে মনে আসাদ কায়সারকে নেতার আসনে বসিয়ে ফেলল। সেই সাথে পত্রিকাতে কলাম লেখা তো চলছেই।সরকার যখন নড়ে চড়ে বসল এমন সময় তিনি ঢাকায় এক সমাবেশ ডেকে বসলেন।মিডিয়া জোর প্রচারনা চালাল সেই সমাবেশের। কেউই ধারনা করেনি সমাবেশ আসলে মহা সমাবেশে পরিণত হবে। স্বরণকালের অন্যতম বড় মহা সমাবেশ হল সেটা।আসাদ কায়সারের হৃদয় চুরমার করে দেয়া ভাষনে উত্তাল তরঙ্গ তৈরী হল।অবশেষে জনগনের প্রবল চাপের মুখে সরকার রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রর নির্মান কাজ স্থগিত ঘোষনা করে।কিন্তু এখান থেকেই শুরু নতুন এক উপাখ্যানের। ইতোমধ্যেই ড.আসাদ কায়সারের নির্মোহ চরিত্র সবার মনে ঠাই করে নিয়েছে।সুশীল সমাজ থেকে শুরু করে তরুণ প্রজন্মের চোখে নায়কে পরিণত হয়েছেন আসাদ কায়সার। প্রচার বিমুখ যে মানুষটা শুধুমাত্র দেশের জন্য আপামর জনসাধারনকে নিয়ে রাস্তায় নামতে পারে তার সম্পর্কে মানুষের ধারনা অত্যন্ত উঁচু হবে তাতে আর সন্দেহ কী? এছাড়াও তার অতূলনীয় আরো কিছু গুণ আছে।যেগুলো হয়ত প্রতক্ষভাবে রাজনীতির সাথে যুক্ত না কিন্তু পরোক্ষভাবে কখনো কখনো অত্যন্ত গুরুত্বপুর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।তার মধ্যে অন্যতম হল ধর্মের ব্যাপারে তার অগাধ শ্রদ্ধা।এজন্য সকল ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মানুষের কাছেই তার ব্যাপক গ্রহনযোগ্যতা।যেটা কিনা বাংলাদেশের জন্য বিরল একটা ঘটনা।এছাড়াও এদেশের প্রেক্ষাপটে কমিউনিজমের মত যেসব রাষ্ট্রনীতি প্রয়োগ করা অসম্ভব সেসব তিনি সযত্নে এড়িয়ে চলেন।সব মিলিয়ে সর্বস্তরের জনগনের থেকে তার কাছে অনুরোধ আসতে লাগল রাজনৈতিক দল খোলার।এমনকি সমাজের বিশিষ্ট কিছু নাগরিক তার কাছে গিয়ে আগামী নির্বাচনে দাঁড়াবার জন্য অনেকবার অনুরোধও করেন।তবে প্রতিবারই বিনয়ের সাথে তাদের ফিরিয়ে দিয়েছেন ভদ্রলোক। অবশেষে একজন মানুষের বহু কাঠখড় পোড়ানোর বদৌলতে রাজী হতে হয়েছে আসাদ কায়সারকে। "জনবন্ধু" নামে একটি রাজনৈতিক দল সদ্যই নিবন্ধিত হয়েছে।আর নিবন্ধিত হবার আগেই পেয়ে গেছে জনগনের নিরংকুশ সমর্থন।সারাদেশ থেকে বাছাই করে করে সেরা লোকটাকেই নিজের পার্টির জন্য মনোনয়ন দিয়েছেন ড.আসাদ কায়সার।জনবন্ধু পার্টির প্রতিনিধিরা বলতে গেলে সবাই রাজনীতিতে নতুন হলেও রাজনীতি সম্পর্কে সবার ধারনাই অত্যন্ত স্বচ্ছ এবং অতি অবশ্যই সৎ।এদের সবাই নিজ নিজ এলাকার সম্মানিত ব্যাক্তিত্ব।জনগনের মতামত এবং অত্যন্ত যাচাই বাছাই করার পরই এদের মনোনয়ন দিয়েছেন আসাদ কায়সার।আর তিনমাস পরই জাতীয় নির্বাচন।ড.আসাদ কায়সারের প্রধানমন্ত্রী হওয়া এখন কেবল সময়ের ব্যাপার মাত্র। এখনো মাঝে মধ্যে চিন্তা করে কুল পাননা তিনি।একেবারে অপ্রত্যাশিতভাবে কী থেকে কী হয়ে গেল!কদিন আগেও তিনি ছিলেন একজন সাধারন অধ্যাপক,আর আজ তিনি হতে চলেছেন দেশের সবচাইতে ক্ষমতাবান মানুষ।হয়,এরকমই হয়। আব্রাহাম লিংকন থেকে শুরু করে অনেক রাষ্ট্র নায়কই উঠে এসেছেন একেবারে শূন্য থেকে,অপ্রত্যাশিত ভাবে। তবে তার এই যাত্রা যে একেবারেই কুসুমাস্তীর্ন তা কিন্তু নয়।সেটা কবেই বা হয়েছে?অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলো তার বিরুদ্ধে একের পর এক প্রপাগান্ডা চালিয়ে আসছে।তাদের সংখ্যাটাও নেহায়েত কম নয়।শুধু প্রপাগান্ডা এমন কোনো ক্ষতি করতে পারত না ড.আসাদ কায়সারের কিন্তু সমস্যা দেখা দিয়েছে অন্য জায়গায়। এরই মধ্যে তাকে হত্যা করবার জন্য তিন তিনবার চেষ্টা চালানো হয়েছে। খুব শীঘ্রই হয়ত আরো একবার হতে যাচ্ছে।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮০ জন


এ জাতীয় গল্প

→ কন্সপিরেসি—০১

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now