বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
কল্পনার রাজ্য
"ফ্যান্টাসি" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান mim (০ পয়েন্ট)
X
কলেজের প্রথম ক্লাস শেষ হওয়ার সাথে সাথেই বাইরের করিডোরে হইহুল্লোর শুনে ক্লাসের বাইরে বেরিয়ে এল মনীষা। উদ্দেশ্য হল কি ঘটেছে তা জানা।বাইরে বেরিয়ে এসে ও জানতে পারল যে শ্রেয়া এসেছে।শ্রেয়া ওদের ক্লাসেরই একজন সহপাঠিনী কিন্তু এবার সে মিস ইন্ডিয়া প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়েছে।এরপর মিস ইউনিভার্স কম্পিটিশনের জন্য বিদেশে যাচ্ছে। যাওয়ার আগে একবার বান্ধবীদের সাথে দেখা করতে এসেছে।সকল বান্ধবীদের সাথে মনীষাও এগিয়ে গেল দেখতে। শ্রেয়াকে নিয়ে সবাই হইহুল্লোর করছে আর শ্রেয়াও নানারকম গল্প করছে।ওর হাতে ধরা আইপ্যাড খুলে ফোটো স্যুটের নানারকম ছবি দেখাচ্ছে।সব মেয়েদের সাথে মনীষাও সেইসব ফোটো দেখতে লাগল। ফোটো দেখতে দেখতে একটি ফোটোর উপর মনীষার চোখ আটকে গেল।ফোটতে শ্রেয়ার সাথে একজন পুরুষ মডেল রয়েছে। ছেলেটিকে দেখতে দারুন।মুখটা কেমন যেন মায়া মাখানো।ওই ছেলেটির দিকেই মনীষার নজর আটকে গেল।ও শ্রেয়াকে ছেলেটির সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতে যাবে এমন সময় অপর দুই বান্ধবী আইপ্যাড নিয়ে টানাটানি করতে গিয়ে ওটাকে মাটিতে ফেলে দিল এবং তার ফলে ওটার স্ক্রিনগার্ডটা ভেঙ্গে গেল।...এই ঘটনার পর শ্রেয়া যারপননাই রেগে গেল আর বলল," তোদের হাতে কোন জিনিশ দেওয়াই উচিত হয় নি।গেট লস্ট"..এই বলে নিজের ভাঙ্গা আইপ্যাডটা হাতে তুলে নিয়ে সোজা গাড়িতে উঠে চলে গেল।
মনীষার আর শ্রেয়াকে ওই ছেলেটি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়ে উঠল না।কিন্তু এরপর থেকেই মনীষা ওই ছেলেটিকে নিয়ে দিনরাত ভাবতে লাগলো। ওকে নিয়ে একটা স্বপ্ন গড়ে তুলল।কিন্তু নেটে সার্চ করেও কোথাও ছেলেটির ফোটো আর দেখতে পেল না।
মনীষার মা স্থানীয় পার্টির বিধায়ক।বাবা ছোটবেলায় মারা গেছেন।পারিবারিক পয়সা যথেষ্ট।মনীষাকে ছেলেদের মত ক্যারাটে, বক্সিং সব শেখানো হয়েছে।ট্রাকিং করতে খুব ভালোবাসে মনীষা। টুকটাক অ্যাডভেঞ্চারও করেছে।এই বয়েসেই একা একা আন্টার্টিকা ঘুড়ে এসেছে।সেই সুত্রেই একদিন মনীষার এক বন্ধু অর্নব ওর বাড়িতে এল আর বলল,"মনীষা!! আমরা গুপ্তধনের সন্ধান পেয়েছি।আমার দাদু দুমাস আগে মারা গেছেন আর মারা যাওয়ার আগে আমার হাতে একটা ম্যাপ দিয়ে গেছেন।উনি একবার আফ্রিকার জঙ্গল গিয়েছিলেন আর সেখানে কিছু সোনার জিনিশ খুঁজে পেয়েছিলেন।সব আনতে পারেন নি।কিছু মাটির তলায় পুঁতে রেখেছেন। চল আমরা কয়েকজন বন্ধু মিলে সেটা খুঁজে আনি।"...মনীষা তো শুনে খুব খুশি।অ্যাডভেঞ্চার করতে ওর দারুন লাগে।কিন্তু মনীষার মা রিক্তাদেবী রাজী নন।সামনে মনীষার ফাইনাল ইয়ার এক্সাম তাই তিনি চান না যে মনীষা এখন এসব আজেবাজে জিনিশ নিয়ে মেতে উঠুক।কিন্তু মনীষা যাবেই।কাজেই রিক্তাদেবী আর মনীষার মধ্যে দারুন ঝামেলা লেগে গেল।রিক্তাদেবী রেগে গিয়ে বললেন,"বাড়ি থেকে যাচ্ছিস যা।আর কোনদিন বাড়িতে আসলে ঢুকতে দেব না"...।মনীষা রেগে মেগে বাড়ি থেকে বেরিয়ে গেল।
অর্নব,মনীষা এবং আরও কয়েকজন বন্ধু মিলে আফ্রিকার জঙ্গলে হাজির হল এবং ম্যাপ দেখে দেখে সামনে এগিয়ে যেতে লাগল। এক যায়গায় গিয়ে ওরা দেখল যে সামনে একটা বিশাল বড় খাদ রয়েছে যার তলা দেখা যাচ্ছে না।আর এই খাদ পেরিয়ে ওদের ওপাড়ে যেতে হবে। ওরা হুকে দড়ি লাগিয়ে হুকটিকে খাদের ওপারে ছুঁড়ে দিয়ে একটা পাথরের সাথে আটকে দড়ি বেয়ে বেয়ে এগিয়ে যেতে লাগল।সবার শেষে ছিল মনীষা।সবাই ওপাড়ে চলে গেল কিন্তু মনীষা যখন পাড় হচ্ছিল ঠিক সেই সময় হঠাৎ দড়িটা ছিঁড়ে গেল আর মনীষা নিচে খাদে পড়ে গেল।বন্ধুরা চিৎকার করে উঠল।ওরা মনে করল যে মনীষা মৃত।
নাহ!!মনীষা মরে নি।যখন ওর জ্ঞান ফিরল তখন ও দেখল যে ও একটা নদীর পাড়ে জলের মধ্যে শুয়ে রয়েছে।আকাশে সূর্য উঠেছে আশেপাশে গাছে সুন্দর সুন্দর ফল ফলে রয়েছে,চারিদিকে পাখীর ডাক শোনা যাছে।কি দারুন এক সুন্দর পরিবেশ।এত সুন্দর পরিবেশ দেখে বন্ধুদের থেকে আলাদা হওয়ার দু:খ মনীষার মন থেকে এক্কেবারে চলে গেল।ও আনন্দের সাথে জায়গাটিকে ঘুড়ে ঘুড়ে দেখতে লাগল। এমন সময় একটা গোঁঙানির শব্দ শুনে থেমে গেল মনীষা।সামনের একটা গুহা থেকে শব্দটা আসছে। গুহার দিকে এগিয়ে গেল মনীষা।
গুহার ভিতরে তাকিয়েই মনীষা চমকে উঠল।একজন সন্ন্যাসী জাতিয় মানুষ শুয়ে রয়েছেন কিন্তু তার সারা গায়ে ঘা ভর্তি।পুঁজ বেরোচ্ছে।মনীষাকে দেখে ওই সন্ন্যাসী পরিষ্কার বাংলায় বললেন,"আমাকে বাঁচাও মা।এখান থেকে একমাইল দূরে সোজা হেঁটে গেলে একটা কুলগাছের মত গাছ পাবে।ওই গাছের পাতা ছিঁড়ে এনে লাগালে আমি ভালো হয়ে যাব।দয়া করে আমার জন্য এই কাজটা একটু কর না মা"...'আর্তকে সাহায্য করা উচিত।'...এই নীতিবোধ থাকার কারণে সাধুর কথায় মাথা নেড়ে সম্মতি জানিয়ে গাছের পাতা আনতে এগিয়ে গেল মনীষা।আর অদ্ভুতভাবে ওই পাতা লাগানোর সাথে সাথেই সাধু সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে উঠিলেন।
সুস্থ হয়ে ওঠার পর সাধু বললেন,"তোমার উপর আমি সন্তুষ্ট হয়েছি মা।তুমি কি বর চাও"...মনীষা অবাক হয়ে জিজ্ঞাসা করল,"সত্যি আপনি বর দিতে পারেন??""..সাধু বলল,"হ্যাঁ পারি..এই স্থানে সচরাচর কোনো মানুষ আসে না একশো-দুশো বছর বাদে বাদে হঠাৎ হঠাৎ করে দুই-একজন মানুষ এখানে চলে আসেন।আর যে আসে আমি তার মন পরীক্ষা করার জন্য রোগী হওয়ার অভিনয় করি।আর এক্ষেত্রে যে আমার রোগ সারাতে সাহায্য করে তাকে আমি বরদান করি আর যে করে না তাকে আমি অভিশাপ দিই।এবার তুমি বল যে তুমি কি বর চাও"..মনীষা অনেক ভেবে তারপর বলল,"আমি আমার বান্ধবী শ্রেয়ার আইপ্যাডে একটা ছেলের ছবি দেখেছিলাম। আমি ওই ছেলেটিকে বয়ফ্রেন্ড হিসেবে পেতে চাই।"....সাধু বললেন," একটু দাঁড়াও আমি আগে ধ্যান করে জেনে নিই যে ওই ছেলেটির সাথে তোমার মিলন কিভাবে সম্ভব হবে?"..এই বলে সাধু বেশ কিছুক্ষণ ধ্যান করলেন তারপর বললেন," ওই ছেলেটিকে পেতে গেলে তোমায় তোমার বর্তমান রূপ পরিত্যাগ করে নতুন রূপ নিতে হবে কারণ ওই ছেলেটিও তোমার মত মনে মনে অন্য একজন নারীকে ভালোবাসে।
তাই ওর মন পেতে গেলে তোমাকে সেই নারীর রূপ ধারণ করতে হবে".. মনীষা বলল,"তাহলে সেই মেয়েটির কি হবে?"...উত্তরে সাধু বললেন,"সেই মেয়েটির বর্তমানে পৃথিবীতে কোনো অস্তিত্বই নেই।।তোমায় ব্যপারটা খুলে বলি শোনো।তুমি যেই ছেলেটিকে পেতে চাইছ তার নাম আকাশ। সে মুম্বাইতে থাকে।ছোটখাটো মডেলিং করে।ও একদিন ওর এক বন্ধুর বাড়ি গিয়েছিল।ওর সেই বন্ধুর কাকা একজন পেইন্টার ছিলেন।তার ঘরে তার নিজের হাতে আঁকা একটি রাজস্থানি মহিলার ছবি ছিল।আকাশ এই ছবিটিকে দেখা মাত্র ছবির মেয়েটির প্রেমে পরে যায়।বন্ধুর কাকাকে মেয়েটির সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করায় তিনি বলেন যে প্রায় চল্লিশ বছর আগে রাজস্থানে এই মেয়েটিকে উনি দেখেছিলেন।মানে যদি মেয়েটি বেঁচেও থাকে তাহলেও সে এতদিনে বৃদ্ধা হয়ে গেছে।কিন্তু আকাশ কেন জানিনা ভীষণভাবে ওই ছবির মেয়েটির প্রেমে পরে গেল আর বন্ধুর কাকার কাছ থেকে হাতে পায়ে ওই ছবিটা চেয়ে এনে নিজের ঘরে রেখে দিল।তাই তুমি যদি আকাশের মন পেতে চাও তাহলে তোমায় সেই ছবির মেয়েটির রূপ ধারণ করতে হবে।তা তুমি কি তাতে রাজি??"..
মনীষা কিছুক্ষণ ভেবে বলল,"হ্যাঁ রাজি।কারণ আমার তো আর মা ছাড়া কেউ নেই আর তিনিও আমায় বাড়ি ঢুকতে বারণ করেছেন।"...সাধুবলল,"ঠিক আছে তোমায় আমি সেই মেয়ের রূপ প্রদান করছি।কিন্তু মনে রেখ এই রূপ পাওয়ার পরে তুমি যদি কোনদিন কারোর কাছে তোমার আগের আসল পরিচয় প্রকাশ করে ফেল তাহলে কিন্তু তুমি তোমার আগের রূপে আবার ফিরে আসবে।"...মনীষা আবার কিছুক্ষন ভেবে বলল,"ঠিক আছে আমি রাজি"...
সাধু এবার মন্ত্র পড়লেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই মনীষার রূপ পরিবর্তন হয়ে গেল।সাধু এবার বললেন,"আজ থেকে তোমার নাম হল মোহিনী "..তারপর আবার মন্ত্র পরে মনীষা তথা মোহিনীর হাতে কিছু কাগজ দিয়ে বললেন,"এগুলো তোমার মোহিনী হওয়ার পরিচয় পত্র।..তোমায় আমি যোগবলে মুম্বাই পাঠিয়ে দিচ্ছি।তুমি তোমার কাম্য পুরুষকে পেয়ে যাবে"..
সাধুর যোগবলের দ্বারা মুম্বাইতে এসে হাজির হল মোহিনী।একটা মডেলিং ইন্ডাস্ট্রিতে কাজও পেয়ে গেল।আর তারপরেই একদিন এই ইন্ডাস্ট্রিতেই আকাশের সাথেও আলাপ হয়ে গেল।আর আলাপ হতেই প্রেম এবং তার ছ-মাসের মধ্যেই বিয়েও হয়ে গেল।
বিয়ের পর ছ-বছর কেটে গেছে। ওদের একটি সন্তানও হয়েছে।এমন সময় একদিন আকাশ আর মোহিনী কলকাতা বেরাতে এল।বেরাতে বেরাতে রাস্তার এক ভিখারিনীকে দেখে চমকে গেল মোহিনী।এ তো ওর মা রিক্তাদেবী।মেয়ে হারিয়ে যাওয়ার শোকে পাগল হয়ে রাস্তায় রাস্তায় ঘুড়ে বেরাচ্ছেন।এই দৃশ্য দেখার সাথে সাথেই সাধুর শর্তের কথা ভুলে গিয়ে মোহিনী ডেকে উঠল,"মা??"..আর এই মা ডাকার সাথে সাথেই আকাশের চোখের সামনেই মোহিনীর রূপ পরিবর্তন হয়ে সে তার আগের মনীষা রূপে ফিরে এল।আকাশ এই দেখে অজ্ঞান হয়ে যাচ্ছিল কিন্তু কোন রকমে নিজেকে সামলে নিল।নিজের মেয়ের ডাকে সম্বিত ফিরে পেলেন রিক্তাদেবী।আর মনীষাকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে লাগলেন।এরপর মনীষা আকাশকে সব খুলে বলল আর তারপর বলল,"আমার রূপ পরিবর্তন হয়ে গেছে।তাই তুমি তো আমাকে আর ভালোবাসবেনা আকাশ।তাই আমি আমার মায়ের সাথে আমার আগের বাড়িতে ফিরে যাচ্ছি"...এবার আকাশ মনীষার হাত ধরে বলল,"আমি তোমার সাথে ছবছর কাটিয়েছি মনীষা।তোমার রূপের মোহ আমার আর নেই।তুমি আমার অভ্যাস আর আমার দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় পরিনত হয়েছ।তাই দয়া করে আমাকে ছেড়ে চলে যেওনা মনীষা।"...এরপর আকাশ আর মনীষা পরস্পরকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে লাগল।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now