বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
কল্পনার মানুষগুলোকে কাছে পেলে সত্যিই অনেক খুশী লাগে
ছেলেটার সাথে ফিহার অনেকদিনের পরিচয়। দুই বছর হবে। ফেইসবুক থেকেই ছেলেটাকে চিনতো। শুরুতে ছেলেটিই নক দিতো মেয়েটাকে। দু-চারটা কথা বলে আবার চলে যেত। সপ্তাহে দু-একবার
কথা হতো ওদের।
আবির আহমেদ….। এই ছেলেটির ফিহার ফেইসবুক ফ্রেন্ড। আবির কলেজে পড়ে আর ফিহা এখনও স্কুলে। ফেইসবুকই তাদের যোগাযোগের একমাত্ত মাধ্যম। অথচ, তারা একই শহরে থাকে। তবে কখনোও দেখা হয়নি। আসলে, দেখা করার সুযোগ হয় নি। দু-বার অনেক প্লান করে দেখা করার সুযোগ আসলেও দেখা হয় নি। হয়তো,ফিহা আসতে দেরী করেছে, নয়তো আবির। তবুও থেমে থাকে তাদের কথাবলা। হুট করেই ওদের কথা বলার মাত্তাটা বেড়ে যায়। সারাদিন চার কোনের মেসেজ বক্সে লুকিয়ে থাকে দুই জন।
ওরা দুজন দুজনকে বন্ধু বললেও আসলে ওদের সম্পর্কটা বন্ধুত্বের থেকেও বেশী ছিলো। তবে, আবির একটু চুপচাপ প্রকৃতির হলেও ফিহা প্রচন্ড চঞ্চল। সারাদিন পকপক করতেই থাকে আর এসব পাগলামি দিন দিন আবিরের ভালোবাসাটাকে আরো বাড়িয়ে দেয়। মেয়েটাকে প্রচন্ড ভালোবাসে আবির। একদিন সাহস করে বলেই দিয়েছিলো-
_ভালোবাসি তোমাকে।
_মজা নিও না।
_আরে, সত্যি বলছি তোমাকে অনেক ভালোবাসি।
_আমার বয়ফ্রেন্ড আছে।
_মানে, কি বলতেছো এইসব ?
_হুম। তোমাকে অনেক ভালো বন্ধু ভাবতাম। আর
তুমি ? ছি.. বাই দা ওয়ে ভালো থেকো, বাই।
ফিহার নীল নামটা কালো হয়ে যায়। আবিরকে ব্লক দিয়ে দেয় ফিহা। মেয়েটার কাছ থেকে এ রকম কিছু আশা করে নি আবীর। আবিরের মোবাইলে স্কীনটা ক্রমশই ঝাপসা হয়ে যাচ্ছে,পরক্ষনেই নিজেকে সামলাতে চেস্টা করে আবীর। আইডি ডিএক্টিব করে রাখে।
আস্তে আস্তে স্বাভাবিক হতে চেস্টা করে আবির। পড়ালেখা নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ে সে, সামনে তার পুরো ভবিষ্যত পরে আছে। মাসখানেক পর নিজের ইচ্ছাতেই আইডী এক্টিব করে আবির। খুজে পায় ফিহার আইডী। আনব্লক করেছে ফিহা তাকে। পুরো টাইমলাইনে ঘুরতে থাকে আবির। দেখে নিজের সবগুলো ছবি ডিলেট করে দিয়েছে ফিহা। তিন দিন আগে একটা স্টাটাস ও দিয়েছে – ফিরে আসো। আবির ভাবে হয়তো বয়ফ্রেন্ডের সাথে ব্রেক-আপ হয়ে গেছে, তাই এসব করছে। আবির আর নক দেয়নি তাকে, সে চায় না মানুষটিকে আর জ্বালাতে। আজ দুই বছর পর সেই মেয়েটির সাথে আবির তিন চাকার গাড়িতে চড়ে রাজপথের নিয়ন আলোতে ঘুরে বেড়ায়। হ্যা, ভালোবাসার সবগল্পগুলো ব্যর্থ হয় না। একটু সাহস থাকলে কাছে আসা যায় প্রিয় মানুষটির। তারপর হটাত একদিন…
.
.
.
ভাগ্যের জোড়েই মেয়েটির সাথে দেখা হয়ে যায় আবিরের। দুজনই চিনতে দুজনকে, কিন্ত আবীর লুকিয়ে যেতে চেস্টা করে, তাকে আর কস্ট দিতে চায় নি। কিন্ত, পথ আটকায় ফিহা।
হাতে চিমটি কেটে দেখে আসকে এটিই সেই মানুষ যার জন্য তার এত অপেক্ষা। ফিহা কাদছিলো, আর আবির তা মুছে দিচ্ছিলো। কল্পনার মানুষগুলোকে কাছে পেলে সত্যিই অনেক খুশী লাগে। রচিত হয়ে যায় আরেকটি ভালোবাসার গল্প। দুটি মানুষের কাছে আসার গল্প। নিজেদের আপন করে নেয়ার গল্প।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now