বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

কলঙ্কিনী চাঁদ

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান আজফার মুস্তাফিজ (০ পয়েন্ট)

X গল্পঃ কলঙ্কিনী চাঁদ লেখকঃ আজফার মুস্তাফিজ আমার একটি চাঁদ আছে। নিজস্ব আকাশে লুকানো থাকে। সে সৃষ্টির সবথেকে সুন্দরী। শুধুই আমার। আমি চাঁদকে ঢেকে রেখেছি চোখের পর্দা দিয়ে। আমি ছাড়া আর কেউ দেখবে না তাকে। আমার চাঁদের হঠাৎ ইচ্ছে হলো সেও উজ্জ্বলতায় ছেয়ে যাবে। আমি তো আবার তাকে খুব ভালোবাসি। তার সব আবদার মেটাতে পারি। আমার চোখের পর্দা সরিয়ে, নিজের সব আলোটুকুও তাকে দিয়ে দিলাম। হ্যাঁ, আমার চাঁদ এখন আকাশ জুড়ে আলো ছড়ায়। খুশিতে খিলখিলিয়ে হাঁসে। খুব ভালো লাগে তার হাঁসির দিকে চেয়ে থাকতে।চিলেকোঠার ছাদে বসে প্রায় আমি সেদিকে তাকিয়ে থাকি। অনেক দূরে বসেও তাকে সবটুকু ভালোবাসা দিয়েছি। মাঝে মাঝে খুব ইচ্ছে হয় চাঁদের হাঁসি একটু ছুঁয়ে দেখি। কিন্তু হাত বাড়াতে ইচ্ছে হয় না আর। আমার চাঁদ তো আমারই। অন্য একদিন সে নিজেই আমাকে জ্যোৎস্না দিয়ে ছুয়ে দেবে। আমার চাঁদ আজকাল খুব খুশি থাকে। আকাশ জুড়ে ঘুরে বেড়ায়। তার আলো ছড়ায়৷ একদিন হঠাৎ দেখলাম আকাশের এক কোনে কিছু তারার আগমন। দূর থেকে আমার চাঁদের আলো দেখে হিংসেই জ্বলে পুড়ে মরছে। তা দেখে আমার খুব রাগ হলো। আমার চাঁদের দিকে তারা কেন তাকিয়ে আছে। কিন্তু আমি তো অনেক দূরে বসে। কিছুই করার নেই। আমার যদি পাখনা থাকতো উড়ে গিয়ে সব কটাকে লাথি মেরে তাড়িয়ে দিতাম। একদম কালো গহব্বরের ভেতরে পুরে দিতাম। আমার সহ্য হয় না। চাঁদ তুমি শুধু আমার৷ কিন্তু একসময় চাঁদ বললো তার নাকি এতো বড় আকাশে একা একা লাগে। তাহলে কো করার! অন্য আকাশের কিছু তারা এসে জুটেছে ততদিনে। তারাগুলো দেখতে উজ্বল। আমার সব আলো তো চাঁদকে দিয়ে দিয়েছি। আমার মতো আঁধার কালো না। টিমটিম করে চাঁদের আশেপাশে জ্বলে। চাঁদকেও অনেক খুশি মনে হয়। সে তারার আলোতে আরো ঝলমল করে। তাকে দেখতে অপরূপ লাগে। সত্যিই অপরূপ। আকাশে তাকিয়ে শুয়ে পড়ি আমি। দেখি আমার চাঁদের হাঁসি। মাঝেমাঝে চিৎকার করে বলি ভালোবাসি তোমায় ভালোবাসি। আমার চিৎকার কী শুনতে পাই সে? নাকি তারাদের সাথে ব্যাস্ত! একদিন আমার চাঁদকে দেখলাম আকাশে নেই। কোথায় গেল সে? পরে জানলাম সে ঐ তারাদের সাথে গিয়েছিল। তার নাকি ঘুরতে খুব ভালো লাগে। কিন্তু আগে আমার আকাশই তার কাছে ভালো লাগত। চাঁদ প্রায়ই তারাদের সাথে যায়। আমার খুব রাগ হয়। কষ্ট হয়। একদিন তাকে আমি তাদের সাথে থাকতে নিষেধ করে দিলাম। সে যেন আর তারাদের সাথে না মেশে। কিন্তু এতে চাঁদ খুব রেগে গেল। বলে দিল সে আমার কথা মানবে না। কেন মানবো? সত্যিই আমার তো কোনো অধিকার নেই। তাই না? আমার কোনো ক্ষমতাও নেই। সে তো ঐ আকাশে থাকে। তাকে আটকাবো কীভাবে? একদিন আমার চাঁদের গায়ে দাগ দেখা দিল। আমার সামনে অনেক লুকানোর চেষ্টা করছিল। আমিও কিছু জিজ্ঞেস করলাম না আর। আবার কিছুদিন পর চাঁদের সারা দেহে কালো দাগ ছিল। তার উজ্জ্বলতা আর আগের মতো নেই। তারাগুলোও আশেপাশে থাকে না। তাই তাদের আলোও পাই না। আমার অনেক কষ্ট হয়েছিল। আমার চাঁদকে ভালোবেসে আমার সব আলো তো দিয়ে দিয়েছিলাম। তাও আজ আমার চাঁদের ওপর আঁধার নেমেছে। এটা মেঘে ঢাকা আঁধার না। কলঙ্কের আঁধার৷ আমি শুধু গোপনে কেঁদেছি। অনেক কেঁদেছি। কেউ শুনতে পাইনি। চাঁদ তুমি কেন আমার হলে না, আমি তো সবটুকু তোমাকে দিয়েছিলাম। অনেক বছর পর আজ আবার ছাদে এসেছি। আগের গ্রামের বাড়িতে থাকি না। এটা শহরের নতুন বাড়ি। সবাই ছাদে এসেছে ঈদের চাঁদ দেখবে। চাঁদ দেখার কথা আসলেই আমি পালিয়ে যেতাম। কিন্তু আজ আমাকে আর পালাতে দিল না। ছোট্ট মেয়েটি হঠাৎ বড় হয়ে গেছে। কথা বলাও শিখে গেছে। সে এখন ছাদে গিয়ে চাঁদ দেখবে। আমাকে বললো, "আব্বু আব্বু আমাকে চাঁদ দেখাও।" আমি না করতে পারলাম না। তার কোনো আবদার আমি ফেলতে পারি না। সে চাঁদ দেখে খুব খুশি। আকাশ ভরা তারা মাঝে একটি কলঙ্কিনী চাঁদ। সেই চাঁদকেই আবার সবাই ভালোবাসে। সে অনেকের হয়েছে। অনেক তারা তার আশেপাশে ঝলমল করছে। আমি খুব খুশি। তার কলঙ্কটাকেও সবাই ভালোবাসছে। আসলে আমি তো কাওকেই বলিনি সেটা কলঙ্কের দাগ। কেও জানবে না। আমি কাওকে জানতে দেব না। "সব আলো দিয়ে তোমায় জড়াবো, আমি না হয় কালো আঁধারে হারাবো।" মা এসে কাঁধে হাত রাখলেন। "কতদিন আর এভাবে ছেলে মানুষি করবি? এবার বিয়েটা করে নে। আমারও তো ইচ্ছা হয় তোর সন্তানের সাথে খেলা করব।" আমি শুধু হাঁসলাম। মা এই জবাব জানেন। আগেও অনেকবার বলেছি। "সুমিই আমার মেয়ে। ও থাকতে সন্তানের জন্য বিয়ে করার কী দরকার?" মেয়েটি চাঁদ দেখতে এসে নিজেই ঘুমিয়ে গেছে। কাধে মাথা রেখে কখন যে শুয়ে পড়েছে! ওকে বিছানায় শুইয়ে দিতে গিয়ে অনেক অবাক হলাম। আকাশের চাঁদ তো ধোঁকার প্রতিক। সত্যিকারের চাঁদ আমার কাছেই। সমাপ্ত ©আজফার মুস্তাফিজ


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৭৭ জন


এ জাতীয় গল্প

→ কলঙ্কিনী চাঁদ

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now