বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

কলম সৈনিক

"ছোট গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X কলম সৈনিক লিখেছেন - এ কে সরকার আমার প্রিয় বন্ধু মাহির । আমি আর মাহির একই ক্লাসে পড়ি। সব সময় এক সাথে থাকি। মাহিরদের বাড়ি গোপালপুরে। মাহির এখানে পড়ে ওর মামার বাড়ি থেকে। মাহির পত্রিকায় লেখালেখি করে এ জন্য আমি ওকে যথেষ্ট উৎসাহও দেই। মাঝে মাঝে আমি ওকে ক্ষুদে সাংবাদিক বলেও রসিকতা করি। একদিন মাহির আমায় বললঃ কিরে হৃদয়, সামনে তো পরীক্ষা। পরীক্ষার পর কি করবি? আমি বললামঃ কি আবার ? বাড়িতেই থাকব, মজার মজার ছবি দেখব। মাহির বললঃ তাহলে চল আমাদের বাড়িতে যাই। তুইতো আমাদের বাড়ি কখনো যাসনি। আমি মাথা নেড়ে বললামঃ আচ্ছা দেখা যাবে, সেটা সময়ই বলে দেবে। পরীক্ষা শেষ। ৮দিন ছুটি। আমি আর মাহির রওনা হলাম। গন্তব্য গোপালপুর। মাহিরদের দেশের বাড়ি। সকাল ৭.২০ মিনিটে বাস ছাড়ল। মহান আল্লাহর নাম নিয়ে আমাদের যাত্রা শুরু করলাম। প্রায় ৭৫ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করার পর গোপালপুর পৌছলাম। এলাকাটাকে ছোটখাট শহর বলা যেতে পারে। বেশির ভাগ মানুষই শ্রমিক। মাহিরদের বাড়িতে এসে পৌছলাম বেলা ১২.৩০টায়। রাস্তায় অসম্ভব যানজট। তাই এত দেরি। মাহিরদের পরিবারে ৫ জন সদস্য। মা-বাবা, ভাই-বোন, দাদী। মাহিরের বোন ক্লাস ফোর এ পড়ে। মাহিরের বাবা আমি এসেছি জেনে খুব খুশি হলেন। দুপুরের খাবার খেয়ে কিছুক্ষণ গল্পগুজব করার পরে ঘুরতে গেলাম। মাহিরদের এখানে এক প্রসিদ্ধ পীরের মাজার আছে, সেখানে মাহির আমাকে নিয়ে গেল। পাশের গ্রামের এক বন্ধুর বাড়িতেও মাহির আমাকে নিয়ে গেল। ওর বন্ধুর সাথে পরিচয় করিয়ে দিল। সন্ধ্যা ৭টার সময় বাড়ি ফিরলাম। সারাদিন ঘুরে শরীর ক্লান্ত। তাই তাড়াতাড়ি রাতের খাবার খেয়ে বিছানায় গেলাম। দুই বন্ধু এক সাথে। মাহিরের রুমটা একটু পর্যবেক্ষণ করলাম। রুমে তেমন কিছু নেই। ১টা খাট, পাশে পড়ার টেবিল; টেবিলের উপর একটা কলম। কলমটা ফ্রেমে বন্দি। পাশে লেখা কলম সৈনিক। এমন ফ্রেমে বন্দি কলম দেখে আমার ভ্রু একটু কুচকাল। মাহিরকে বলতে বললাম এ সম্পর্কে। মাহির কিছুক্ষণ চুপ থেকে তারপর বলল; তুইতো জানিস আমি একটু একটু লেখালেখি করি। তখন আমি ক্লাস সেভেনে পড়ি। কিছু কিছু লেখা আমি পত্রিকায় প্রকাশের জন্য দিতাম। তেমনিভাবে একদিন এক পত্রিকায় লেখা দিলাম। আমার লেখা প্রকাশিত হল। কয়েকদিন পর আমি সেই পত্রিকার সাংবাদিকের সাথে দেখা করলাম। তিনি আমাকে লেখালেখি সম্পর্কে অনেক পরামর্শ দিতেন। আমি সেগুলো মেনে চলতাম। হঠাৎ একদিন শুনি সংবাদ সংগ্রহের সময় মাস্তানদের হাতে মার খেয়ে তিনি গুরুতর আহত হয়েছেন। হাসপাতালে আমি তাক দেখতে যাই। তার এমন মুর্মূর্ষু অবস্থা দেখে আমি কাঁদো কাঁদো স্বরে তাকে এই পেশা থেকে অব্যাহতি নেওয়ার জন্য অনুরোধ করি। তখন তিনি আমায় বললেন এর মধ্যেই তো শান্তি। তোমার কাছে যদি কলম থাকে তবে তা দিয়ে তুমি অবিরাম লড়াই করো, লড়াই। এ লড়াইয়ে তোমার বেঁচে থাকা হয়ত কষ্ট হবে, কিন্তু তবুও তুমি তা করবে। কেননা এ হল কলম সৈনিকের পরিচয়। তখন তিনি আমায় তার বুকপকেটে রাখা কলমটা দিয়েছিলেন। সেই কলমটাই হল এটা। আমি বললাম-এখন তিনি কেমন আছেন? মাহির কাঁপা কন্ঠে বলল যেদিন তিনি আমায় কলম দেন তার পরের দিন তিনি মারা যান। এমন কথা শুনে আমি আর কোনো কথা বলতে পারলাম না চুপ করে রইলাম।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১০৫ জন


এ জাতীয় গল্প

→ কলম সৈনিক

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now