বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
পরের দিন শুভ মনমরা ভাব নিয়ে স্কুলে গেল। শুভ গতকাল ভেবেছে। শামীমার চিঠিতে যে প্রেমের প্রস্তাব আব ভালবাসার কথা বলেছে তা বিশ্বাসযোগ্য নয়। শুভ শামীমার চিঠির কি উত্তর দেবে তা ভাবছে। আবার ভাবছে কোন উত্তরই দেবে না। স্কুলে গিয়ে বন্ধু-বান্ধবের সাথে দেখা হলে সব ভাবনা চলে যায়। মনটা হাসি-খুশী থাকে। বন্ধদের সাথে থাকলে মনটা ভাল থাকে। কিন্তু আজ মনটা ভাল হচ্ছে না শুভর। লাভলী জিজ্ঞাসা করলো, “শুভ তোমার কী হয়েছে? মন মরা কেন? কোন দুসংবাদ?” শুভ একবাক্যে উত্তর দেয় না। শামীম, উত্তম, ফরহাদ, রবীর একই কথা শুভর কি যেন হয়েছে। শুভ চেষ্টা করছে সবার সাথে হাসি-খুশী থাকতে। স্কুলের সমাবেশের ঘন্টা পড়েছে। সমাবেশের ঘন্টা পড়লে কিছু ছাত্র স্কুল থেকে বের হয়ে যায়। তারা সমাবেশে অংশগ্রহণ করবে না। রোদ্রে দাঁড়িয়ে প্রতিদিন একই কাজ বারবার করা, লেফ-রাইট আর আমি শপথ করিতেছি বলতে ভাল লাগে না। স্কুলের বিগত সালের রেফারেন্স অনুসারে যারা সমাবেশ অংশগ্রহণ করে না বা সমাবেশের সময় যারা পালিয়ে যায় তারা তেমন ভাল ছাত্র নয়। তাদের লিখার অগ্রগতি তেমন হয় না। স্কুলে নতুন ক্রীড়া শিক্ষক মোশারফ হোসেন স্যার দলভিত্তিক সমাবেশ করায়। দলভিত্তিক সবায় সারি সারি দাঁড়িয়ে সমাবেশ অংশগ্রহণ করতে হয়। লাইন সোজা না হলে দলের ক্যাপ্টেন বা সহাযোগী ক্যাপ্টিন শাস্তি পেতে হবে। লেফ-রাইটের সময় পায়ের তাল ঠিক রাখতে হবে। জাতীয় সংগীতের সময় জোড় গলায় বলতে হবে, ইত্যাদি নিয়মগুলি কিছু ছাত্রের ভাল লাগে না। তাই সমাবেশের ঘন্টা পড়লে স্যারের চোখের আড়াল হবার জন্য দৌড়ে পালায়। শুভদের ক্লাসের কয়েকজনও এইরূপ করে, যেমন-কবির, মোশারফ, ফরহাদ প্রভৃতি। মোশারফ হোসেন দলভিত্তিক হাজিরাও নেয় তারপরেও সমাবেশ ফাঁকি দেবার অভ্যাস কমে না। সমাবেশ ছাত্ররাই পরিচালনা করে। শুভ সালাউদ্দিন দলের অধিনায়ক। আজ সমাবেশ পরিচালনার দায়িত্ব পড়ছে শুভর। সমাবেশ পরিচালনা এবং শপথ বা সুরা পাঠ করতে হবে। শুভ ক্লাসে পড়া অনাসায় বলতে পারে কিন্তু এই দু/তিনশত ছাত্র ছাত্রীর সামনে দারিয়ে শপথ পড়াবে তা অত্যান্ত ভয়াবয় অবস্থা। ক্লাসে পড়া বলা আর সমাবেশে পড়া বলা এক নয়। যাহা হোক মোশারফ স্যারের কথা ফেলনার নয়। মোশারফ হোসেন স্যার যেমনি উৎসাহ দেয় তেমনি ভুল হলে বেতের মাইরও দেয় তাই অনেকটা বাধ্য হয়েই সামনে যেতে হলো। উল্লেখ্য যে, স্কুলে ওয়াসকুরণী সমাবেস ভাল পরিচালনা করতে পারে। সমাবেশ পরিচালনা জন্য চার পাচজনের ডাক পরে কিন্ত আজ ওয়াসকুরণীর ডাক পড়েনি। কাজেই শুভরই সমাবেশ পরিচলালনা করতে হবে।
আজ শুভ সমাবেশ পরিচালনা করছে। শুভর পিছনেই স্যারেরা দাঁড়িয়ে আছে। শুভ কমান্ড করছে আর ছাত্র/ছাত্রীরা অনুসরণ করছে। শুভ শপথ পাঠ করাবে। শুভ এক লাইন বলবে তারপরে সবাই একসাথে শুভর বলা একলাইন বলবে। এইভাবে শপথ পাঠ করানো হবে। শুভ শপথ করানোর মাঝখানে সামনের সারির শামীমার চোখে চোখ পড়ল। শামীমার চোখের উপর শুভর চোখ পড়ায় আৎকে উঠল। এরপর শুভ খুব দ্রুত শপথ পড়ালো যা আগে কখনে এতো দ্রুত শপথ পড়ানো হয়নি। শপথের শেষে মোশারফ হোসেন স্যার হেসে বললেন,”কিরে এতো তাড়াহুড়ো কেন? একটু ধীরে ধীরে বল। আবার শপথ পড়া”। স্কুলে রফিক ভাই (একবছরে সিনিয়র) খুব ভাল ভাবে শপথ পড়াতে পারে। কিন্তু আজ রফিকভাইও নাই। শুভ আবার শপথ পড়ালেন। “আমি শপথ করছি যে, মানুষের সেবায় সর্বদা নিজেকে নিয়োজিত রাখব। দেশের প্রতি অনুগত থাকব। দেশের একতা ও সংহতি বজায় রাখার জন্য সর্বদা সচেষ্ট থাকব। হে প্রভু, আমাকে শক্তি দিন আমি যেন বাংলাদেশের সেবা করতে পারি এবং বাংলাদেশকে একটি শক্তিশালী রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে পারি। আমিন। আমিন।” এবার কিছুটা ভাল হয়েছে। মেয়েদের একটি দল জাতীয় সংগীত গাইলেন-“ আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি।
চিরদিন তোমার আকাশ, তোমার বাতাস, আমার প্রাণে বাজায় বাঁশি॥
ও মা, ফাগুনে তোর আমের বনে ঘ্রাণে পাগল করে,
মরি হায়, হায় রে—
ও মা, অঘ্রানে তোর ভরা ক্ষেতে আমি কী দেখেছি মধুর হাসি॥
কী শোভা, কী ছায়া গো, কী স্নেহ, কী মায়া গো—
কী আঁচল বিছায়েছ বটের মূলে, নদীর কূলে কূলে।
মা, তোর মুখের বাণী আমার কানে লাগে সুধার মতো,
মরি হায়, হায় রে—
মা, তোর বদনখানি মলিন হলে, ও মা, আমি নয়নজলে ভাসি”।
সমাবেশে সুরা পাঠ (সুরা ইখলাস) করলেন আবুল হাসান, “কুল হুয়াল্লাহু আহাদ। আল্লাহুচ্চামাদ। লাম ইয়ালিদ ওয়া লাম ইউলাদ। ওয়া লাম ইয়াকুল্লাহু কুফুয়ান আহাদ।’ (মাখরাজসহ বিশুদ্ধ উচ্চারণ শিখে নেয়া জরুরি )
অর্থ : (হে রাসুল! আপনি) বলুন, তিনিই আল্লাহ, একক। আল্লাহ অমুখাপেক্ষী। তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং কেউ তাকে জন্ম দেয়নি। আর তার সমতুল্য কেউ নেই।“ সমাবেশ শেষ হলে শুভ যেন কঠিন কাজ থেকে উদ্ধার হলেন। শুভ হাড়েহাড়ে বুঝতে পারলো, কয়েকজনের সামনে কথা বলা আর কয়েকশত লোকের সামনে কথা বলা এক নয়।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now