বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

ক্ষুদা

"জীবনের গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান muntasir al mehedi (০ পয়েন্ট)

X এটা কোনো বানানু গল্প না সকাল বেলা মর্নিং ওয়াক করে চায়ের দোকানে বসে চা খাচ্ছিলাম হটাত লক্ষ্য করলাম একটা ছেলে পাসের ভদ্র লোককে খুবি আপত্তিকর ভাবে বলছে খুধা লাগছে ভাইয়া কিছু খামু। ভদ্রলোক ছেলেটাকে ২ টাকা দিলো আর ছেলেটা ওখান থেকে চলে গেলো। আমি দ্রুত চা শেষ করে ছেলেটার পেছু নিলাম। জানিনা কেন পিছু নিলাম maybe because I was having a bad day as well. ছেলেটা কিছুদূর গিয়ে একটা ফাস্টফুড দোকানের সামনে দাড়িয়ে ডিসপ্লে করা বার্গার আর সেন্ডুইচের দিকে দূর থেকে তাকিয়ে আছে। আমার কাছে খুবি অদ্ভুত লাগলো কারন মানুষ কতটা খুধারত হলে এভাবে খাবারের দিকে তাকিয়ে থাকে! আমি সকালের নাস্তা করে বের হইনি তাতেই I was already feeling hungry. আমি আর দেরি না করে ছেলেটার দিকে এগোলাম। আমি: কিরে খিদা লাগছে? ছেলেটা: হ ভাইয়া। (অবাক হয়ে আপত্তিকর ভাবে দেরিতে রিপ্লাই দিল) আমি: তোর নাম কি? কই থাকস? ছেলেটা: সাজ্জাদ। কালসি থাকি ভাই। আমি: বার্গার খাবি? সাজ্জাদ: না ভাই অনেক খিদা লাগছে ভাত খামু। আমি আর কথা না বারায়ে কাছের একটা বিরিয়ানির দোকানে ওকে নিয়ে গেলাম বাট ও ভাত ছাড়া কিছুই খাবেনা। ওর কথামত ভাতের হোটেলে বসলাম জিজ্ঞেস করলাম, কি খাবি? সাজ্জাদ: সবজি দিয়া ভাত খামু। আমি: আর কি খাবি? সাজ্জাদ: আর কিছু খামুনা। আমি হোটেলের লোককে ডাক দিয়ে জিজ্ঞেস করলাম গরু মুরগির প্লেট কত? সাজ্জাদ আমাকে বললো, ভাই ডিম দিয়া খামু। আমি: তুই গরু, মুরগি খাস না? সাজ্জাদ: না ভাই অডির দাম বেশি, ডিমের দাম কম। আমি হেসে দিলাম, জিজ্ঞেস করলাম গরু নাকি মুরগির মাংস বেশি পছন্দ? সাজ্জাদ: মুরগি। ভাত মুরগি আর ডাল অর্ডার করলাম। আমি: তোরা কয় ভাই বোন? তোর বাপ মা কি করে? সাজ্জাদ: বাপ আরেক বিয়া করছে। দুই ভাই। বড় ভাই বিয়া কইরা আলাদা থাকে। আমি: তোর বড় ভাই টাকা পয়াসা দেয় না? সাজ্জাদ: না। আমি: তুই পূরবিতে কি করস? সাজ্জাদ: আইজকা দুই দিন ধইরা বাসায় পাক করেনাই হের লাইগা খাবার খুজতে আইছি। আমি: তুই কি কাজ করস? সাজ্জাদ: হ, কালশির একটা হোটেলে হারি পাতিল পরিস্কার করি। ইদের পরথিকা এহনো খুলে নাই হোটেল। আমি: কত দেয়? সাজ্জাদ: দুইবেলা খাওন দেয় খালি। ইতোমধ্যে ওর খাবার চলে আসলো। ও একপ্লেটের বেশি ভাত খাবে না, তাও জোর করে দুই প্লেট খাওয়ালাম। সাজ্জাদ: কেউ আমারে কহনো এম্নে খাওয়ায় নাই। বাপ মায়ও খাওয়ায় নাই। ভাইয়া আপনের নাম কি? আমি শুনে সাথে সাথে ইমোশনাল হয়ে পরলাম, নাম বললাম। জিজ্ঞেস করলাম, কোক ফান্টা খাবি? বললো না ভাই, বাসায় জাওনের টাকা নাই ৫ টাকা দিলে ভালো হয়। হোটেল থেকে বের হলাম দুইজন দুইটা আইস্ক্রিম খেলাম তারপর ওকে রিক্সায় উঠিয়ে দিলাম। সাজ্জাদ জাওয়ার সময় পেছনে তাকালো আর হাসি দিয়ে জরে একটা সালাম দিলো। খুশি হয়ে গেলাম। হটাত বুঝতে পারলাম আমার খুদা আর খারাপ দিন দুইটার একটাও আমার সাথে আর ছিলো না। জীবনে কতটাকা কতদিকে উরায়ে ফেললাম মনেও নাই কিন্তু আজ মাত্র ১২৭ টাকা খরচ করে যা পেলাম তা কোটি টাকা দিয়েও সম্ভব না। আমি জানি একবেলার খাবার দিয়ে আমার পক্ষে সাজ্জাদের জীবনে পরিবর্তন আনা সম্ভবনা,,,,,,, জানিনা, পরের বেলা ও কোথায় খাবে,,


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৭৯ জন


এ জাতীয় গল্প

→ এক ক্ষুদার্ত আত্মা
→ ক্ষুদাথদের পাশে
→ ক্ষুদা
→ ভাইয়া আমার না খুব ক্ষুদা লেগেছে

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now