বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
.
আবিদ হোস্টেলে থেকে লেখাপড়া করে।
বাবা মা দুজনের ভিতর ছোটবেলায়
ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়।চাচা চাচীর সংসারে
বোঝা হয়ে থাকলেও তারা তাকে বোঝা
মনে করেনা।অনেক ব্রিলিয়ান্ট ছাত্র।তাই
উনারা ওকে নিয়ে স্বপ্ন দেখে।আবিদ
গতসপ্তাহেই হোস্টেল চেঞ্জ করে আজ
নতুন হোস্টেলে আসছে।আবাসিক এলাকা
তাই খুব নিরিবিলি।তিনতলায় আবিদের রুম।
সাথে আরেকজন আছে।দুইজনে সারাদিন
লেখাপড়া চালায় আর সপ্তাহে তিনদিন
করে দুইটা টিউশনি করে।হোস্টেলের
গেটের মুখ বরাবর একটা বিশাল বাড়ি।এক
বিরাট ব্যবসায়ীর বাড়ি এটা।নতুন বিয়ে
হইছে।সেদিনও আবিদ প্রতিদিনের মত এক
হাতে কফি আর এক হাতে বই নিয়ে
জানালার পাশে দাঁড়িয়ে বই পড়ছিলো।
হঠাৎ এক মেয়েলি স্বর কানে আসে।চিৎকার
চেঁচামেচি করছে খুব।বাসার নিচেই
চিল্লাচিল্লি করায় রাস্তার অনেক লোক
দেখছিলো গেট দিয়ে উকি দিয়ে।পাবলিকের
এই একটা কাজ খুবই ভাল লাগে অন্যের
জগড়া দেখে সুখ নিতে।আবিদ জগড়াগুলো
দেখছে আর দ্রুত কফি খাচ্ছে
হঠাৎই আবিদের রুমমেট আরিফ আসলো
রুমে।মুখ ফ্যাকাশে।
- কিরে তোর মুখ এমন কেনো?
- আরেহ দেখছিস যে সামনে জগড়া চলছে?
- হ্যা দেখলাম। ভালভাবে বুঝতেছিনা
কিছুই।কাহিনী কি?
- আরেহ যেই ছেলের সাথে জগড়া উনি
আরমান ভাই নামে পরিচিত। টাকা পয়সার
অভাব নাই।নতুন বিয়ে করছে।এখন বউকে
নাকি একটু কম সময় দেয় তাই নিয়ে এই
জগড়া ওই জগড়া।
- ছেলেটা কাজে ব্যস্ত থাকতেই পারে।
- আরেহ মেয়েটা সেটাই বুঝতে চায়না।তার
বান্ধবীরা নাকি এখন জামাইর সাথে দেশ
বিদেশ ঘুড়ে।এখন সে সেভাবে ঘুড়তে
পারছেনা এটাই প্রবলেম।
- বিয়ে বান্ধবীরা তার জামাইর মত কাওকে
করেনাই।আর সে বিয়ের আগে দেখে বিয়ে
করেনাই?
- সেটা বাদ দে। ভয় এখন কিলারকে নিয়া।
অই শালা আবার কখন কি করে!শুনলাম
সেইদিন অই পাড়া থেকে নাকি এই পাড়ায়
আসবে।
- কিলার কে?অই লোকটা না যে অনেক
দম্পত্তিকে খুন করছে?
- হ্যা রে।অই এলাকাটায় এখন ভয়ে কেও
জগড়া করেনা।যেদিনই কেও জগড়া করতো
পরেরদিনই সেই দম্পত্তিদের লাশ পাওয়া
যেতো।পুলিশ কত তদন্ত করলো।কিন্তু
ফলাফল শুন্য।
- কিলারটা খুব ক্লেভার নাকি?
- কেও নাম জানেনা তাই সব নাম রাখছে
কিলার।মারাত্বক ক্লেভার।
- দেখা লাগবে।বিয়ে করে যদি আমি জগড়া
করি তাহলে সে আসবেতো!আসবেনা?
- তোর মাথা খারাপ হইছে?বই পড়।এখন।
আল্লাহ সহায় কাল এই দম্পত্তিদের কি
হয় কে জানে!
- ওয়েট এন্ড সি।
.
একসময় আবিদ দেখলো যে আরমানের
বউ আরমানের শার্টের কলার পর্যন্ত
ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করছে।যা তা ভাষা
উচ্চরণ করছে। একজন ভদ্র ফ্যামিলির
মেয়ের কাছ থেকে এইসব এক্সপেক্ট করা
অকল্পনীয়।
.
কিলারের নাম শুনলে আশেপাশের কয়েক
এলাকার মানুষ ভয়ে ঘুমোতে পারেনা
কয়েকদিন।তার কানে কিভাবে যে মানুষের
জগড়ার কথা পৌছোয় কে জানে? এখন
দেখা যাক এই দম্পত্তিদের সাথেও কি
কিলার ভাল আচরণ করবে কিনা!
পরেরদিন সকাল ৮.৩০।
আরমান অফিসের জন্য গাড়ীতে চড়ে
বসলো।মন মেজাজ ভাল হাসিখুশি।গাড়ী
স্টার্ট দিয়ে মিউজিক প্লে করে বাসা থেকে
বেরিয়ে পড়লো।বেচারা নিজেও জানেনা যে
তার গাড়ীতে রাতের অন্ধকারেই মৃত্যুর
সাজসজ্জা করানো হয়েছে।ব্রেকের সব
তার ছিঁড়া।
আরমান বের হবার সাথে সাথেই তাদের
বাড়িতে কেও একজন ঢুকে পড়লো সাথে
সাথে।বাসা একদমই ফাকা।শুধু আরমানের
বউ আছে।মা কিছুদিন আগেই গ্রামে গেছে।
আর কাজের লোক আসবে সকাল দশটায়।
লোকটা ভিতরে গেলো টিপটিপ পায়ে
চুপিচুপি।স্মার্টনেস ভাবে লুকিয়ে চলাফেরা
কাকে বলে সে বিষয়ে পূর্ণজ্ঞান আছে তা
নিশ্চিত।বিশাল অট্টালিকা এর মাঝে
বউকে খুঁজা বেশ কঠিন হলেও লোকটার
খুজঁতে দেরি হলোনা।খুব সহজেই খুজে
পেল। ড্রয়িংরুম এ টিভি দেখছে।
মেয়েরা টিভি দেখলে বেশিরভাগ সময়ই
টিভির মধ্যে ডুবে থাকে এটা তাদের একটা
ব্যাড হ্যাবিট।দিন দুনিয়ার খবর কিছুই মনে
থাকেনা।এইসময়ে পুরো বাড়িটা ঘুড়ে
দেখাটাই উত্তম।
বাড়িটা ঘুড়ার পর দেখলো যে দুইতলার
পিছনে একটা জানালা আছে যেইটায় কোন
কিছুই নাই। অইটা দিয়েই পালাবে সে।
পকেটে ছোট কেঁচি, ব্লেড,সুপারগ্লু আর
ছুড়ি আছে।
কস্টিপও আছে কালো কালারের একটা।
ধীরে ধীরে ড্রয়িং রুমের দিকে
এগোলো।
হুম এসে পড়েছে মেয়েটার কাছে।মেয়েটা
কিভাবে যেন আঁচ করলো মেয়েটার পিছন
দিয়ে কেও আসছে।পিছন ঘুড়ে দেখলো
কেও নাই।আবার টিভিতে মন দিলো।একটু
ভালভাবে ঘুড়ে দেখলেই হয়তো কিলারকে
দেখতে পেতো।কিলার মেয়েটার সোফার
পিছনেই লুকিয়ে ছিলো।কিলারকে দেখলে
মেয়েটা চিৎকার দিবে তাই কিলার সাথে
সাথেই হাতের কস্টিপ নিয়ে দাঁড়িয়ে গেল
আর মেয়েটার মুখ দিয়ে খুব দ্রুত গতিতে
মাথা আর মুখে পেচাতে লাগলো।মেয়েটা
হাত দিয়ে নাড়াচাড়া দিচ্ছে। মুখ থেকে
কস্টিপ খুলার চেষ্টা করছে।কিন্তু কিলার
খুলতে দিবেনা।পকেট থেকে ধারালো ছুরিটা
বের করে কয়েকটা পোছ দিয়ে দিলো
মেয়েটার হাতে।আর মেয়েটা এইবার হাত
নিয়ে ব্যস্ত।হাত দিয়ে রক্ত পড়ছে অনেক।
কি করবে বুঝে উঠতে পারছেনা।চিৎকার
দিয়ে কাওকে ডাকতেও পারছেনা।পুরো মুখ
কস্টিপ দিয়ে পেছানো হয়ে গেছে।কিছু
দেখছেনা মেয়েটা এইবার।শুধ্য হাত পা
নাড়াচ্ছে।এইবার মেয়েটাকে সোফায়
ধাক্কা দিয়ে শুইয়ে দিলো।সুপারগ্লুটা বের
করে মেয়েটার নাকমুখে ছড়িয়ে দিলো।
মেয়েটা গোঙ্গাচ্ছে।কিলার একটা
পৈশাচিক আনন্দ পাচ্ছে এতে।মেয়েটার
একহাত দিয়ে রক্ত পড়ছে।ফাকা হয়ে গেছে
জায়গাটা কেটে।মেঝেটা রক্তে লাল। তাজা
রক্ত পড়ছে টুবটুব করে।কিছুক্ষণ কিলার
নিজেও সোফায় বসে ওর দিকে তাকিয়ে
রইলো।তারপর ছোট কেঁচি দিয়ে চুলগুলো
কাটতে লাগলো এলোমেলো ভাবে।
মেয়েটা এইটা পর্যন্ত বলতে পারছেনা যে
কে আপনি?
ছুড়ি চালিয়ে দিলো মেয়েটার হাত পায়ের
কব্জায়।মারাত্বক ভাবে যখন মেয়েটা
জখম হয়েছে তখনই লোকটার ফোনে
কল আসে।
- হ্যালো আবিদ তুই কই?
- কেনোরে?
- আরেহ তাড়াতাড়ি হোস্টেলে আয় আজ
কিলারের খেলা শেষ হবে।আমি নিজে আজ
ওকে আমাদের সামনের বাড়িতে যেতে
দেখেছি, আমি পুলিশকেও ফোন দিয়েছি।
এখনই এসে পড়বে।
- বলিস কি?তুই দেখেছিস ওকে?
- নারে ব্লাকস্যুট আর কালো টুপি পড়া
ছিলো।
- থ্যাংকস ইয়ার ফর ইউর কাইন্ড
ইনফরমেশন।
ফোনটা রেখেই আবিদ মেয়েটার দিকে
এগোয়। প্রায় পঞ্চাশ থেকে ষাটটা কোপ
দিলো মেয়েটার পেটে।মুখের কস্টিপের
ভিতর দিয়ে রক্ত পড়ছে।শরীর ধীরে
ধীরে
নিস্তেজ হচ্ছে।অবশেষে যখন মেয়েটা
মারা যায়।তখন মেয়েটাকে উল্টিয়ে তার
পিঠে ব্লেড দিয়ে মারাত্বক জখম করে
ইংলিশে কিলার লিখলো।এরপর মেয়েটার
গাড়ে একটা কামড় দিলো।রক্তের স্বাদ
পাওয়ার পর সে তার পোশাক সেখানেই
ফেলে পিছনের সেই জানালা দিয়ে বেরিয়ে
যায়।বের হবার আগে হাতমুখ ধুয়ে নিছিল।
হোস্টেলে যাওয়ার পর দেখলো আরিফ
একদৃষ্টিতে চেয়ে আছে।
- কিরে কিলার কই?
- আরেহ সেটাইতো দেখছি এখান থেকে।
শালায় বের হচ্ছেনা।
- আমার মনে হয় সে চায়না কোন
দম্পত্তি জগড়া করুক আর সেটা দেখে তার
আশেপাশের দুএকজন দম্পত্তিও জগড়ার
জন্য আগ্রহী হোক টুকটাক বিষয় নিয়ে।
- আরেহ তাই বলে ছোট ছোট রিজনেই
এত কিছু?
- ছোট জিনিস থেকেইতো বড় কিছু।কাল
দেখছিলি মেয়েটা কলার ধরছিলো কিভাবে
ছেলেটার? আরেকদিন হয়তো পেটে
লাত্থি দিবে।
- ধ্যাত।তুই বেশি বুঝোস কিলারের মত।
- কিলারের জীবনে হয়তো এমন কিছু
আছে তাই এই অবস্থা
- তাই বলে সবাইর উপর তার ক্ষোভ
মিটাবে?
- মনে হয়।
হঠাৎ একটা লাশ নিয়ে যেতে দেখলো
বাড়ির ভিতরে।আরমানের লাশ।ভিতরে
পুলিশ বেশিক্ষণ থাকতে পারলোনা
আরেকটা লাশ নিয়ে দ্রুতই বাইরে চলে
আসতে হলো।আরিফ এসব দেখে ঘামছে।
আর আবিদের মুখে খুশির বাদ ভেঙ্গে
যাচ্ছে।আগামী কয়েকদিন বা কয়েকবছর
কেও এইরকম রাস্তায় বা বাসায়
চিল্লাচিল্লি করে জগড়া করতে পারবেনা
তা সিউর
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now