বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
হয়তো একটু পরেই আমার অক্সিজেনের প্রয়োজন ফুরিয়ে যাবে। ধীরে ধীরে ক্ষীণ হয়ে আসছে সকল আলো।শেষ বারের মতো চিরচেনা মুখগুলো মনে করার চেষ্টা করছি।
দিন শেষে আজ আমি খুব দূরে, বহু দূরে! কেউ জানতে পারবেনা আমি কোথায় কিভাবে আছি। অচেনা মানুষগুলি হয়তো আমার দেহটা একটু পরেই লুকিয়ে ফেলবে। মাগো, আর বুঝি ফেরা হলো না তোমাদের কাছে । শেষবার যখন তাদেরকে দেখেছিলাম— বাবার চোখে একটা চিন্তার ছাপ পেয়েছিলাম। বাবা আমাকে বুঝতে দেয়নি।আড়াল করে রেখেছিলেন। বুঝতাম বাবা তোমার চিন্তার কারণটা। বাবার ইচ্ছে ছিল আমি সমাজের একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তি হয়। অনেক সাঁতরিয়েছেন বাবা। কখনো ক্লান্ত বোধ করেননি।বাবার শেষ বয়সের ভরসা হতে চেয়েছিলাম,পারিনি। মায়ের মুখের দিকে তাকাতেই পারছিলাম না। তাঁর চোখ দুটো অশ্রুতে ছল ছল করছিলো। হয়তো একটু মন খুলে কাঁদতে পারলেই বাঁচে সে। আমার ছোট্ট মেয়েটার নিষ্পাপ চেহারা খুব মনে পরে। বাবা বলে আপন করে জড়িয়ে ধরতো খুব।বুকটা তখন অনেক শীতল হয়ে যেতো।স্বপ্ন ছিল খুব বড় করবো মেয়েটাকে, অনেক বড়, পারলামনা। জীবন সঙ্গিনীর মুখটা খুব মনে পরে। ওর বড় বড় চোখের শেষ ভাষাটা বলছিল তোমার অপেক্ষায় থাকবো। হয়তো আছে বসে আমি কখন ফিরবো। তুমি আর আমার অপেক্ষায় থেকো না বউ। অনেক স্বপ্ন নিয়ে এসেছিলাম আপনজনদের ছেড়ে। আর বোধ হয় ফেরা হবে না আপন মানুষের কাছে —আপন ঘরে। আমার চোখ দুটো বুঝে আসছে। আমি চলে যাবো স্বার্থপরের মতো বাবাকে ঋণি করে। বাবার ঋণের
বোঝাটা বৃদ্ধি পাবে চক্রবৃদ্ধিহারে।বাবা, ও বাবা তুমি আমাকে অভিশাপ দাও, চরম অভিশাপ— আমি তোমার অপারগ ছেলে ।তোমার কোনো কথায় রাখতে পারলাম না। পারলে আমায় ক্ষমা করো।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now