বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

কিশোর পাশা ইমন-০২

"রোমাঞ্চকর গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X কিশোর পাশা ইমন থ্রিলার পর্ব ২ চার. কোমরের কাছে পিস্তল গুঁজে ঘরটা থেকে বের হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে সাব্বির। গত তিন মিনিট ধরে তাকে ফোনের মাধ্যমেই পিস্তলটা চালানো শেখানো হয়েছে। ওপরের ড্রয়ার থেকে চারটা ম্যাগাজিন বের হয়ে এসেছে। ব্যবহৃত ম্যাগাজিন কিভাবে রিলিজ করতে হবে এবং তারপরে সেগুলো কিভাবে ঢোকাতে হবে, পরিষ্কার কণ্ঠে শিখিয়েছে কণ্ঠটা। “ইউ আর রেডি টু রোল।” অবশেষে বলল কণ্ঠটা। “ফোনে কথা বলতে বলতেই যাবো?” জানতে চাইল সাব্বির। “অবশ্যই। তোমাকে কি আমি টার্গেটের নাম ঠিকানা নিয়ে কিছু বলেছি এখনও?” ঠুক-ঠুক শব্দ হচ্ছে দরজার কাছে। বাতাসের বেগে সেদিকে ঘুরে গেল সাব্বির। কোমর থেকে আরেকটু হলেই বের করে এনেছিল পিস্তল। “রিল্যাক্স!” মৃদু ধমক দিল ফোনের অন্যপাশের সাব্বিরের কণ্ঠ, যেন দেখতে পাচ্ছে তাকে। “রুম সার্ভিস।” বাইরে থেকে হেঁড়ে গলাতে চেঁচাল কেউ একজন, “আপনাদের কফি।” “হি ইজ ওকে।” দ্রুত বলল সাব্বির, “কফি আনতে বলেছিলাম আমি একটু আগে।” “হি ইজ নট ওকে।” এতটুকুই বলল ফোনের অন্যপাশের লোকটা। “ভেতরে আসো, রুম সার্ভিস।” চেঁচাল সাব্বিরও। পুরোনো কায়দার জামা পরেছে লোকটা। ওভারকোট আর সাদা শার্ট। হাতে একটা লম্বা ট্রে। হেহে-জাতীয় ভঙ্গি ধরে আছে মুখে। চিরায়ত আন্তর্জাতিক রুম-সার্ভিস ভঙ্গি। পরিষ্কার মোসায়েবী একটা ছাপ ফুটে আছে তাতে। “দাঁত না কেলিয়ে টেবিলের ওপর ট্রে-টা নামিয়ে রাখো।” বিরক্ত ভঙ্গিতে বলল সাব্বির। “শুট হিম।” ফোনের অন্যপাশ থেকে বলা হল ওকে। “হোয়াট!” একরকম চেঁচিয়ে উঠেছে এবার সাব্বির। “জ্বি স্যার?” হাবাগোবার মত চেহারাটা সাব্বিরের দিকে ঘুরিয়ে জানতে চাইল রুম সার্ভিস। “শাট আপ। টেবিলে ট্রে রাখো তুমি।” “শুট হিম। কাম অন, রুম সার্ভিসের কণ্ঠ কখনও এত ডাকাত-মার্কা হয় না।” চাঁদি গরম হয়ে গেল সাব্বিরের, “গ্রেট! এখন কণ্ঠস্বর শুনেই লোকজনকে আমি-” বলতে চাইছিল “গুলি করব?” কিন্তু বলতে পারল না। সামনে রুম সার্ভিস টেবিলে ট্রে রাখছে। “না, কণ্ঠস্বর শুনে না। রুম সার্ভিসকে তুমি এখন গুলি করবে কারণ আমি করতে বলেছি। ওকে? ট্রাস্ট মি, এর মধ্য দিয়ে তোমাকে যেতেই হবে। আমাকেও যেতে হয়েছে। সবচেয়ে বড় কথা, মেগান এখন আমার রুমে। আমার প্রতিটা বাক্য মেনে চললে আনটাচড অবস্থাতে তাকে ফেরত পাবে। নয়ত...ওয়েল, ভোগ করার পর গরম চিমটা দিয়ে ¯পর্শকাতর সবগুলো অঙ্গ আমি ছিঁড়ে নেব মেয়েটার।” “যদি ওকে টাচ করেছ তুমি-” দাঁতে দাঁতে চিবিয়ে বলতে যাচ্ছিল ও, অন্যপাশ থেকে থামিয়ে দেওয়া হল তাকে। “ক্লক’স টিকিং।” মোলায়েম কণ্ঠে বলল লোকটা। “এর মধ্য দিয়ে তোমাকে যেতে হবে। আমাকেও যেতে হয়েছে!” রহস্যময় কথাটার মানে বুঝতে পারল না সাব্বির। কিছু জানতেও চাইল না এ ব্যাপারে। রুম সার্ভিস লোকটা ঘুরে দাঁড়াতে দাঁড়াতে কোটের ভেতরে হাত ঢুকিয়ে দিচ্ছিল, সেই মুহূর্তে তাকে গুলি করল সাব্বির। ঝড়ের বেগে কোমর থেকে পিস্তলটা বের করে এনেই টেনে দিল ট্রিগার। রুম সার্ভিস লোকটার দুই চোখ ছানাবড়া হয়ে গেছিল। একদিকে সরে যাওয়ার চেষ্টা করেনি সে, দ্রুত হাত তুলছিল লাইন অফ ফায়ারের দিকে। হাতের তালু ফুটো করে গেছে প্রথম বুলেটটা। সাদা কাপড় ভেদ করে সোজা ঢুকে গেছে তার বুকে। তবে হৃদপি-ে নয়। আনাড়ি হাতের অস্ত্র চালনা সাব্বিরের। শতভাগ নিখুঁত হয়নি শটটা। ছিটকে মাটিতে পড়ার আগে টেবিলটা আঁকড়ে ধরতে চেয়েছিল মানুষটা, পারেনি। কফির দুটো কাপ মেঝেতে পড়ে ভাঙলো। তার মধ্যে চিত হয়ে শুয়ে থরথর করে কাঁপতে থাকল আহত লোকটা। বুকের সাদা শার্টের মধ্যে একটা লাল রঙের ফুটো। সেটা থেকে ধীরগতিতে বের হচ্ছে রক্ত। লাল রঙের রক্তগুলো একদম তাজা। চটচটে একটা ভাব আসে তাজা রক্তের প্রবাহ দেখলে। সাব্বিরের শরীরে চটচটে একটা অনুভূতি হচ্ছে। “ফিনিশ হিম, ফাক ইট!” ফোনের ওপারে কণ্ঠটা শোনার সাথে সাথে আরও দুইবার মৃতপ্রায় মানুষটার বুকে গুলি চালালো সাব্বির। ধরমর করে উঠে বসার একটা ভঙ্গিতে সোজা হয়ে গেল দেহটা। তারপর নিথর হয়ে পড়ে থাকল হোটেলের মেঝেতে। “বের হও দ্রুত। তোমার শুটিং পারফরম্যান্স দেখতে কেউ এই হোটেলে আসে না। বিশেষ করে পুলিশের গাড়িগুলো।” “পুলিশ?” “গানশট শোনা গেছে। ওরা নিঃসন্দেহে রওনা দিয়ে দিয়েছে। দ্রুত বের হও।” হাত পা ছড়িয়ে পড়ে থাকা রুম সার্ভিসের দিকে একবার তাকিয়ে দরজার দিকে পা বাড়ালো সাব্বির। পিস্তলটা কোমরে গুঁজে রাখতে যাচ্ছিল, ফোনের অন্যপ্রান্তে কণ্ঠটা শোনা গেল আবারও, “মাত্র গুলি করেছ। ওখানে ঢুকিয়ো না। পাছা পুড়ে যাবে।”


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১২৭ জন


এ জাতীয় গল্প

→ কিশোর পাশা ইমন-০২

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now