বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
কিআ এবং ৫০ টাকা
"ছোট গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান ʀɪᴍᴜ (০ পয়েন্ট)
X
লেখা:সাদিয়া হাসান
কিছুদিন ধরে টুসি পত্রিকায় দেখছে, বড় বড় করে লেখা কিআ, আর তার নিচে দাম ৫০ টাকা।
টুসি ক্লাস টুতে পড়ে। স্বভাবতই এত ছোট মেয়ের পত্রিকা পড়ার কথা না। কিন্তু বেসিক আলী পড়তে তার খুব ভালো লাগে। টুসির কোনো কিছু দরকার হলে আম্মুকে বললেই আম্মু কিনে দেন। তাই কিআর বিজ্ঞাপন দেখে টুসি আম্মুকে কিআ কিনে দিতে বলল।
টুসির কথা শুনে আম্মু যেন আকাশ থেকে পড়লেন। ধমকের সুরে বললেন, ‘তোমার এসব কিআ টিআ পড়া লাগবে না। শুধু শুধু হোমওয়ার্কের সময় নষ্ট। যাও, পড়তে বসো আর মাথা থেকে ওই সব কিআর চিন্তা বাদ দাও। বড় হও তারপর পড়বে।’
কিআ পড়তে বড় কেন হতে হবে টুসি বুঝতে পারল না। কিআ কি বুড়োদের জন্য নাকি? কিআ তো সবার জন্য।
সারা দিন আম্মুর কাছে ঘ্যানর ঘ্যানর করেও যখন ৫০ টাকা আদায় করা গেল না, তখন এক পৃথিবী সাহস সঞ্চয় করে টুসি বাবাকে বলল ৫০ টাকা দিতে। বাবা কাছে ডেকে টুসিকে আদর করে বলল, ‘৫০ টাকা দিয়ে কী করবে মামণি?’
‘কিআ কিনব।’টুসির বাবা কিআ কী জানেন না। সারা দিন ব্যবসার পেছনেই এত বেশি সময় দেন যে তাঁর এসব জানার সময় নেই। দেশের খবরাখবর জানানোর জন্য তাঁর একজন আলাদা কর্মচারী আছে। সে হয়তো তাঁকে কিআ সম্পর্কে কিছু বলেনি। কারণ, কিআ তাঁর ব্যবসার কাজে লাগবে না।
টুসির বাবা টুসিকে আদর করে জিজ্ঞেস করল, ‘কিআ কী, মামণি।’
টুসি আনন্দের সঙ্গে বলল, ‘এটা একটা পত্রিকা, বাবা। এখানে মজার মজার গল্প ছাপা হয়। আরও অনেক অনেক মজার তথ্য ছাপা হয়। আমাদের মতো ছোটদের লেখা ছাপা হয়।’
টুসির কথা শুনে তার বাবা রাগে ফেটে পড়লেন। প্রায় চিত্কার করে বললেন, ‘তোমার পড়াশোনা নেই? ঠিকমতো হোমওয়ার্ক করো, যাও। এসব কিআ ফিআ ফালতু বই তোমার জন্য না।’
টুসির চোখে পানি চলে এল। মনে মনে সে ভাবল, ‘কিআ সে কিনবেই।’
পরদিন স্কুলে গিয়ে টুসি দেখে তার সবচেয়ে প্রিয় বান্ধবী ঐশী চুপচাপ বসে কী যেন পড়ছে আর একা একাই হাসছে। টুসি যে এসে তার ডেস্কের পাশে ব্যাগ রেখেছে সেদিকে ঐশীর খেয়ালই নেই। সে এক মনে পড়েই চলেছে।টুসি কাছে গিয়ে দেখে ঐশী কিআ পড়ছে। এবার টুসির মনটাই খারাপ হয়ে গেল। যে করেই হোক তাকে কিআ কিনতেই হবে।
ক্লাসে মনোযোগ না দিয়ে টুসি ভাবতে লাগল, কীভাবে ৫০ টাকা জোগাড় করা যায়?
হঠাৎ করেই সে চিত্কার করে উঠল, ‘ইউরেকা, ইউরেকা।’ তার যে টম অ্যান্ড জেরির স্টিকারগুলো আছে ওগুলোর প্রতি ঐশীর খুব লোভ। স্টিকারগুলো ঐশীর কাছে বিক্রি করে দিলে কেমন হয়?
কিন্তু পরক্ষণে তার মন খারাপ হয়ে গেল। ছোট খালামণি তাকে স্টিকারগুলো গিফট করেছিল। খুব পছন্দের জিনিস তার। কখনো হাতছাড়া করে না স্টিকারগুলো।
কিন্তু তার পরই টুসি ভাবল, তাকে তো কিআ কিনতেই হবে।
ঐশীকে স্টিকারগুলো নেওয়ার কথা টুসি বলতেই ঐশী চোখ বড় বড় করে বলল, ‘মাত্র ৫০ টাকায় তুমি আমাকে সব স্টিকার দিয়ে দেবে?’
ঐশী বলল, ‘হ্যাঁ।’
ঐশীকে স্টিকারগুলো দিয়ে ৫০ টাকা নিয়ে টুসি ছুটল স্কুলের পাশে বইয়ের দোকানে। আনন্দে টুসির নাচতে ইচ্ছে করছে। সে কিআ কিনতে চলেছে। বইয়ের দোকানে গিয়ে কিআ দেওয়ার কথা বলতেই দোকানদার কাকু টুসিকে বললেন, ‘কিআ তো শেষ হয়ে গেছে। আমি আবার অর্ডার দিয়েছি। তোমাকে আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে।’
‘আরও কিছুদিন!’
টুসির মনটাই খারাপ হয়ে গেল। সে আরও কিছু বইয়ের দোকান ঘুরল। কিন্তু সবার একই কথা। এক সাগর মন খারাপ করে টুসি অপেক্ষা করতে থাকল কিআর জন্য আর ঐশীর কাছে কিআর গল্প শুনে শুনে ঈর্ষান্বিত হতে লাগল।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now