বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
(২)
মালীবুড়োকে বিদায় দিযে আমরা পাঁচজন ঝাউবনের ভেতরে সেই পোড়ো বাড়িতে এসে ঢুকলাম। সঙ্গে টর্চ ছিল। টর্চের আলোয় পথ দেখে দোতলায় উঠে পাশাপাশি দুটাে ঘর নিয়ে নিলাম আমরা। বাতি জ্বাললাম।
মহিলা তো ঘর দেখে দারুণ খুশি, “অ্যা! এমন চমৎকার ঘর। খাট বিছানা। রাজবাড়ি একটা। এরা বলে কিনা ভূতের বাড়ি! আমার তো মনে হচ্ছে সারাজীবন এইখানেই থেকে যাই।”
আমি বললাম, ‘সত্যি! কী সংস্কার বলুন তো মানুষের ?” এর পর আমরা গোটা বাড়িটাতে দাঁপিয়ে বেড়ালাম প্রায়। তারপর সিঁড়ির দরজা খুলে সবাই মিলে ছাদে উঠলাম। আঃ, কী শান্তি! মাথার ওপর নক্ষত্রখচিত কালো আকাশ।
আমি রাতের নীরবতা ভেঙে হঠাৎ চেঁচিয়ে বললাম, “ভূত বাবাজি, আমরা আজ রাত্রে আপনাদের অতিথি। আপনারা কোথায়?”
মহিলা খিলখিল করে হেসে জোরে উত্তর দিলেন, “সাড়া দেব না।”
আমি হাসতে হাসতে চেঁচিয়ে বললাম, “তা বললে কী হয়? বলুন না কোথায়?”
মহিলা হেসে লুটোপুটি খেতে-খেতেই উত্তর দিলেন “আমি এইখানে। আপনাদের সামনে।”
“আপনার নামটা জানাবেন দয়া করে।”
“হ্যাঁ। আমার নাম স্বাতী।”
যুবকও আমনই হাসতে হাসতে বললেন, “আমার নামটাও জেনে নিন। আমার নাম অরুণকুমার।”
এবার আমরা সকলেই হো হো করে হেসে গড়িয়ে পড়লাম। আমি বললাম, “যাক, আজ রাত্রে আমরাই তা হলে ভূতের ভূমিকায় অভিনয় করব।”
যুবক অর্থাৎ অরুণকুমার বললেন, “সত্যি, আপনাদের পেয়ে যে কী ভাল লাগছে আমাদের! না হলে আমরা দু’জনে তো হাঁফিয়ে উঠছিলাম।”
স্বাতীদি বললেন, “চলুন। বেশি রাত করে লাভ নেই। খাওয়াদাওয়াটা সেরে নেওয়া যাক। আমাদের টিফিন ক্যারিয়ার ভর্তি লুচি আর মাংস আছে।” -
“আমরাও মুড়ি মিষ্টি নিয়ে এসেছি।” স্বাতীদি ঠোঁট উলটে বললেন, “এ রাম! মুড়ি কে খাবে? মুড়ি আমি খেতে পারি না। তার চেয়ে মিষ্টিগুলো বরং কাজে লাগান। আপনারা বসুন। আমি টিফিন ক্যারিয়ারটা নিয়ে আসছি।”
আমি বললাম, “না না, স্বাতীদি। একলা যাবেন না। কাউকে সঙ্গে নিয়ে যান। প্রশাস্ত তুই বরং যা।”
“কোনও দরকার নেই। এত ভূতের ভয় করি না আমি। তা বলছিলাম কি, আপনাদের সঙ্গে খাবার জল আছে তো?”
“আছে। আমাদের ঘরে দেওয়ালের হুকে ওয়াটার বটলটা ঝুলিয়ে রেখে এসেছি।”
স্বতীদি সিঁড়ির দরজার কাছে যেতেই আবার বাধা দিলাম,“শুনুন, একলা যাবেন না কিন্তু।”
স্বাতীদি হেসে বললেন, “আমি একলাই যাব।”
আমি অরুণবাবুকে বললাম, “দাদা ওঁর কথা শুনবেন না। আপনিই বরং ওঁর সঙ্গে যান। বলা যায় না তো, যদি কিছু দেখে ভয়টয় পান।”
অরুণবাবু বললেন, “ঠিক।” বলে স্বাতীদির সঙ্গে গেলেন।
একটু পরেই সবকিছু নিয়ে ওপরে উঠে এলেন ওঁরা। তারপর ছাদে বসে বেশ জুত করে লুচি, মাংস আর রসগোল্লা খেলাম। খেয়ে জলটল খেয়ে ঘড়ি দেখলাম, রাত বারোটা।
স্বাতীদি বললেন, “আর ছাদে নয়। এবার নীচে চলুন। ওঃ, কী আনন্দের দিন আজ। আমার চোখে তো একটুও ঘুম আসছে না। চলুন, এবার আমরাই সারারাত ধরে গান গেয়ে, চেঁচিয়ে, হল্লা করে ভূতের উপদ্রব করি। এমন উপদ্রব করব যে, ভূত বলে যদি কিছু থাকেও, তারাও ভয়ে পালাবে।”
বিমান বলল, “ঠিক কথা।” আমরা যেই উঠতে যাব অমনই কোথা থেকে একটা কেঁদো কুকুর এসে হাজির হল সেখানে।
স্বাতীদি লাফিয়ে উঠলেন, “ও মা! এ কী! এ কী! এখানে কুকুর এল কোথা থেকে?” কুকুরটা তখন স্বাতীদির পায়ের কাছে এসে লুটোপুটি খেতে লাগল।
প্রশান্ত বলল, “এই হচ্ছে তা হলে পোড়ো বাড়ির ভূত। রাত্রিবেলা চেঁচাবে আর লোকে ভাববে ভূতে ডাকছে।”
কুকুরটা এবার স্বাতীদিকে ছেড়ে আমাদের এটাে পাতাগুলোর ওপর লাফিয়ে পড়ল। তারপর কড়মড় করে মাংসের হাড়গুলো খেতে লাগল চিবিয়ে। আমরা কুকুরটাকে ছাদে রেখেই সিঁড়ির দরজা বন্ধ করে নেমে এলাম।
নেমে এসেই দেখি আমাদের ঘরের পাশে মালীবুড়ো আর বিশু চুপচাপ বসে আছে।
স্বাতীদি বললেন, “এই তোমরা এখানে কেন ? যাও, নীচের ঘরে যাও। এখানে আমরা শোবো, হল্লা করব। সারারাত ঘুমোতে পারবে না তোমরা।”
আমি মালীবুড়োকে বললাম, “হ্যাঁ, স্বাতীদি ঠিকই বলেছেন। তোমরা নীচের ঘরেই যাও। নইলে আমাদের দাপাদাপিতে তোমরা অস্থির হয়ে উঠবে।”
তারপর বিশুকে বললাম, “কী রে ব্যাটা, কেমন বুঝছিস ?”
বিশু হেসে বলল, “আপনারা শহরের লোক। সাহস আছে আপনাদের।”
“যা, এবার নীচের ঘরে গিয়ে আরাম করে ঘুমোগে যা। ভয় পেলে ডাকিস।”
মালীবুড়ো হঠাৎ বলল, “জলসাঘরের দরজা খুলল কে ?”
“আমরা খুলেছি।”
“ওটা এখুনি বন্ধ করে দিন।”
স্বাতীদি বললেন, “থাক না খোলা। আজ রাত্রে আমরাই যদি এখানে গানবাজনা করি?”
মালীবুড়ো স্বাতীদির কথার উত্তর না নিয়ে বলল, “এই ঘর অভিশপ্ত। এ ঘরের দরজা খুলবেন না। কোনওরকমে রাতটা কাটিয়ে চলে যান এখান থেকে।” -
আমি বললাম, “না। আজ আর কোনও ঘরই বন্ধ নয়। সব ঘরের দরজাই খুলে দেব আমরা। এই বাড়ির অভিশাপ আজ আমরা কাটাবই।”
“আপনাদের এখানে থাকতে দেওয়াটাই আমার ভুল হয়েছিল। ঠিক আছে, যা ভাল বোঝেন করুন।” বলে মালীবুড়ো বিশুকে নিয়ে চলে গেল।
ওরা চলে গেলে আমরা কেউ আর শোওয়ার ঘরে না ঢুকে জলসাঘরে ঢুকলাম।
বিমান রসিকতা করে বলল, “এই তা হলে জলসাঘর। এই ঘরেই একসময় নাচগানের ফোয়ারা ছুটত ? তা যারা সেসব করত তারা কোথায় লুকোলে বাবারা ? শোনাও না একটু তোমাদের গানবাজনা ?”
স্বাতীদি বললেন, “হ্যাঁ, ঠিক কথা। এই পোড়ো বাড়িতে, আমরা যাদের অতিথি হয়ে এসেছি তারা কেন আমাদের সঙ্গে এইরকম করছে? যা হোক শোনানো উচিত।”
প্রশান্ত বলল, “যদি অশরীরী কেউ থাকো এই বাড়িতে, তা হলে আমি এক-দুই-তিন বলছি। তিন বলার সঙ্গে-সঙ্গেই সাড়া দেবে। নইলে জানব এখানে কেউ নেই। সব ভাঁওতা।” বলেই প্রশান্ত হাঁক দিল, “এক-দুই-তিন।”
কিন্তু না। কোনও সাড়াশব্দই কোথাও থেকে এল না। প্রশান্ত বলল, “তা হলে আমরাই শুরু করি। আজ রাতে জলসাঘর আবার ভরে উঠুক গানে গানে।"
একটা বাংলা সিনেমার গান দিয়ে শুরু হল। প্রথম লাইনটা প্রশাস্ত ধরতেই সুরে সুর মিলিয়ে আমি কণ্ঠ দিলাম। তারপর বিমান। বিমানের দেখাদেখি স্বাতীদিও সুরেলা গলায় গান ধরল। অরুণবাবুও চুপ করে রইলেন না। সবকটা কণ্ঠ একত্রিত হয়ে জলসাঘর ভরিয়ে তুলল একেবারে।
গান শেষ হলে আমরা হো হো করে হেসে লুটিয়ে পড়লাম। রাত তখন একটা। প্রশান্ত বলল, “আর কি! এবার শুয়ে পড়া যাক।”
স্বাতীদি অবাক হয়ে বললেন, “ওমা, শোবে কী! শোওয়ার পরে যদি চুপি চুপি ভূতেরা আসে? আজ কোনও শোওয়া-টোয়া নয়। আজ শুধু রাত জেগে ভূতের জন্য অপেক্ষা করা | ”
বিমান বলল, “ঠিক। শুলেই গোলমাল। তার চেয়ে আমি বলি কি, স্বাতীদি, আপনি একটা গান ধরুন। খুব ভাল গলা আপনার।”
স্বাতীদি বললেন, “একা একা শুধু গলায় কি গান হয় ? বেশ হত যদি একটা হরমোনিয়াম থাকত। ”
অরুণবাবু বললেন, “এই তো, ঘরের কোণে একটা হারমোনিয়াম রয়েছে দেখছি।”
স্বাতীদি বললেন, “কবেকার পুরনো। ওতে আওয়াজ বেরোবে?” বলে হারমোনিয়ামটা কাছে টেনে রিডগুলো টিপে দেখতেই সুরে সুরে ঘর ভরে গেল। হঠাৎ বিছে কামড়ালে যেমন হয় ঠিক সেইভাবে লাফিয়ে উঠলেন স্বাতীদি, “এ কী এ কী! আমার সারা গা জ্বলে যাচ্ছে কেন? আমার যেন কীরকম হচ্ছে। বড় কষ্ট হচ্ছে আমার।”
অরুণবাবু উঠে গিয়ে স্বাতীদিকে ধরলেন, “না না ও কিছু নয়। কী কষ্ট হচ্ছে? আসলে সারাদিন ঘোরাঘুরি করেছ। রাত জেগে হইহল্লা করছ।একটু শুয়ে থাকো, সব ঠিক হয়ে יין কিন্তু বললেই কি হয়? স্বাতীদির গলা থেকে একটা চাপা আর্তস্বর বেরিয়ে এল, “আ-আ-আঃ।”
সঙ্গে সঙ্গে বাতি নিভে গেল। গোটা ঘর ভরে গেল অন্ধকারে। বাইরে চাপাগাছের ডালে একটা নিশাচর পাখি ডাকল। হঠাৎ ফুলের গন্ধে ভরা একঝলক মিষ্টি বাতাস বয়ে গেল আমাদের শরীরের ওপর দিয়ে।
পরক্ষণেই আলোয় ভরে উঠল গোটা ঘর। কিন্তু এ কী ! এ কী দেখছি আমরা! দেখলাম জলসাঘরের মাঝখানে শলমা চুমকির পোশাক পরে রাজনৰ্তকীর সাজে সজ্জিতা হয়ে দাঁড়িয়ে আছেন স্বাতীদি। আমাদের দিকে চেয়ে মিষ্টি হাসছেন। মাথার ওপর ঝাড়লন্ঠনের আলোর বন্যা বইছে। একপাশে তাকিয়ায় ঠেস দিয়ে রাজপোশাক পরে সুরাপাত্র হাতে অরুণকুমার। যেন রুপোলি পর্দার কোনও ছায়াছবির দৃশ্য দেখছি আমরা। স্বাতীদি আমাদের দিকে তীব্র দৃষ্টিতে তাকিয়েই পায়ের ঘুঙুর বাজিয়ে হাতে তাল দিলেন— তা থেই তা তা থেই। অমনই নেপথ্যে এক সুরেলা হারমোনিয়াম দ্রুত লয়ে বেজে উঠল। সেই সুরে সুর মিলিয়ে ওস্তাদি গানের সঙ্গে জলদে উঠল তবলার লহরা। তারপর ত্রিতাল ঠেকার তালে তালে শুরু হল নাচের ঘূর্ণি।
আমরা বিস্মিত, বিমূঢ়, স্তব্ধ।
হঠাৎ সেই নাচগানের মাঝখানে চেঁচিয়ে উঠলেন অরুণকুমার, “এ কী! তুমি! তোমাকে কে এখানে আসতে বলেছে ? বন্ধ করো এই গান। নাচ থামাও। বেরিয়ে যাও এখান থেকে।
স্বাতীদি বললেন, “না। শুনতেই হবে তোমাকে। আজ আমি সারারাত ধরে নাচব গাইব। আমাকে নাচতে দাও ! আমাকে গাইতে দাও।”
“খবরদার বলছি। আমার কথা অমান্য করার পরিণাম কি তা জানো ?”
“জানি। তুমি আমাকে গুলি করে মারবে, এই তো? মারো–মারো আমাকে। দেখব তোমার বন্দুকে কত গুলি আছে! এইভাবে বেঁচে থাকার চেয়ে মরে যাওয়া ঢের ভাল।”
বলার সঙ্গে-সঙ্গেই অরুণকুমার উঠে দাঁড়ালেন। তারপর দেওয়ালে আটকানো বন্দুকটা নিয়ে এসেই উঁচিয়ে ধরলেন স্বাতীদির দিকে।
আমরা চিৎকার করে উঠলাম, “আরে আরে! এ কী করছেন? আপনি কি সত্যি সত্যি গুলি করে মারবেন নাকি? অরুণবাবু!”
“সরে যাও। সরে যাও তোমরা। ওকে আমি শেষ করে দেব।” ততক্ষণে বন্দুকের গুলি ছুটে গেছে। স্বাতীদির বুক রক্তে ভেসে গেল। স্বাতীদি—আ-আ-আঃ করে ঘরের মেঝেয় লুটিয়ে পড়লেন।
বন্দুকের শব্দ শোনামাত্র ছাদের ওপর একটা কুকুর ঘেউ ঘেউ করে ডেকে উঠল। হঠাৎ দেখা গেল কুকুরটা ছুটে এসে ঝাঁপিয়ে পড়ল স্বাতীদির ওপর। এ কী করে সম্ভব! এ তো সেই কুকুরটা। যেটাকে আমরা ছাদে রেখে সিঁড়ির দরজা বন্ধ করে নেমে এসেছি।
আবার গর্জে উঠল বন্দুক।
কুকুরটা আ-আ-আঁউ করে যন্ত্রণায় কঁকিয়ে স্থির হয়ে গেল।
অরুণকুমার হঠাৎ স্বাতীদির দিকে ঝুঁকে পড়ে বললেন, “এ কী এ কী করলাম, আমি কি সত্যি মেরে ফেললাম তোমাকে? স্বাতী, তুমি কথা বলছ না কেন?”
এইসব চেঁচামেচি আর বন্দুকের শব্দ শুনে মালীবুড়ো ও বিশু ছুটে এসেছে ওপরে . বিবর্ণ মুখে দরজার একপাশে কাঠ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে ওরা। মেঝেয় পড়ে থাকা রক্তাক্ত স্বাতীদির দিকে চেয়ে চোখের পাতা ফেলতেও ভুলে গেছে যেন।
অরুণকুমার চোখ লাল করে বললেন, “তোরা এখানে কেন। কী চাই তোদের, মজা দেখতে এসেছিস ?”
আতঙ্কে থমথম করছে ওদের মুখ। মালীবুড়ো কাঁপা কাঁপা গলায় বলল, “এ কী করলে দাদাবাবু! আপনি সত্যি সত্যি মেরে ফেললেন বউদিমণিকে ?”
“স্টপ ইয়োর ওয়ার্ড। ননসেন্স। তোদেরকেও আমি গুলি করে মারব। এই বাড়ির একটি প্রাণীকেও জীবিত রাখব না আমি। যেমন করে স্বাতীকে মেরেছি, ঠিক সেইভাবেই তোদেরকেও মারব।”
মালীবুড়ো আর বিশু তখন চোখের পলকে ছুটে পালাল সেখান থেকে।
অরুণকুমার বন্দুক উচিয়ে তাড়া করলেন ওদের, “কোথায় পালাবি বাছাধন?”
আমরা বিস্মিত, বিমূঢ়। কী যে হচ্ছে, কেন হচ্ছে, মাথামুণ্ড কিছু বুঝতে পারছি না তার। তবুও আমরা ছুটলাম ওদের পিছু পিছু যে করেই হোক এই হত্যালীলা বন্ধ করতেই হবে।
বিমল বলল, “কী হচ্ছে অরুণবাবু? আপনি পাগল হয়ে গেলেন নাকি? আপনি কি জানেন খেয়ালের বশে কী কাণ্ড করেছেন আপনি? আমরা সবাই যে একধার থেকে অ্যারেস্ট হয়ে যাব।”
অরুণকুমার তখন বারান্দার কাছে ছুটে গেছেন।
বিশু এক লাফে গেট পার হয়ে গেল। কিন্তু মালীবুড়ো পারল না। যেই না গেটের কাছে আসা অমনই ওপর থেকে শব্দ হল গুডুম। মালীবুড়োর দেহটা ছিটকে পড়ল একটা ম্যাগনোলিয়া গাছের কাছে। কে জানে হয়তো এই গাছটা মালীবুড়েই একদিন যত্ন করে বসিয়েছিল নিজের হাতে।
অরুণকুমার এবার তরতরিয়ে সিড়ি বেয়ে নীচে নামলেন। আমরাও নামলাম ওঁর পিছু পছু।
অরুণকুমার গেট পেরিয়ে ছুটে চললেন ঝাউবনের দিকে।
আমরাও ছুটছি।
ওই তো বিশু, সেও ছুটছে প্রাণের দায়ে।
ওকে বাঁচাতেই হবে।
অরুনকুমারের বন্দুক আবার গর্জে উঠল।
অসহায় বিশুর কাতর আর্তনাদ শোনা গেল--আ-আ-আ।
অরুনবাবু ছুটে বিশুর কাছে গিয়ে ঝুঁকে পড়ে একবার দেখলেন ওকে। তারপর ওর বুকে একটা পা রেখে অল্প একটু চাপ দিয়ে আমাদের দিকে তাকিয়ে মৃদু হেসে বললেন,“শেস হয়ে গেছে। আর একটিমাত্র গুলি অবশিষ্ট আছে। সেটা আমি নিজের জন্য রাখলাম।
আপনারা ছেলেমানুষ। তার ওপর আমাদের অতিথি। সেইজন্যই কিছু বললাম না। তবে ভবিষ্যতে এই বাড়িতে আর কখনও রাত্রিবাস করবার চেষ্টা করবেন না। যান চলে যান।”
আমরা অতিকষ্টে সেখানে থেকে পালিয়ে বাঁচলাম। ভেঅরবেলা গ্রামে পৌঁছে শুনলাম গতকাল আমরা বিশু, মালীবুড়ো, স্বাতীলেখা ও অরুনকুমার নামে যাদের দেখেছি তারা কেউ জীবিত নয়। ১৯৩০ সালের এক ভয়ঙ্কর রাতে কী এক অজ্ঞাত কারণে ওরা নাকি ওইভাবেই মারা গিয়েছিল।
(সমাপ্ত)
--------------
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now