বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
খর্গজিত এর বয়েস হয়েছে। দ্রুতগতি দুরের কথা, চলাফেরা করার সামান্য শক্তিটুকুও তার আজ নেই। দয়া করে তাকে কেউ একটু পাতা-লতা দিলে খাওয়াটা জোটে।
নয়তো উপোষ করে থাকতে হয়। কতদিন হয়ে গেল সে একটু গাজরের স্বাদ পায়নি, তা সে নিজেও জানে না।
রাস্তার ধারে একটা খালি জায়গায় চারিপাশে জাল দিয়ে ঘিরে পাড়ার ছেলেরা একটা ছোটোখাটো চিড়িয়াখানা বানিয়েছে। একটা এক্যুরিয়ামে কয়েকটা মাছ
, ঝুলন্ত হাঁড়িতে কয়েকটা পাখী আর মাটিতে চারটে গিনিপিগের সাথে খর্গজিতেরও সেখানে জায়গা হয়েছে। তার অমন লাল লাল বড় বড় চোখদুটোতে এখন ছানি পড়েছে। একটু দুরের জিনিস আর দেখতে পারে না।
অমন লম্বা লম্বা কান, সামান্য একটা পাতা গাছ থেকে পড়লে সে যার আওয়াজ পেত, আজ সেই কানে সে ভালো করে শুনতেও পায় না। পাড়ার ছেলেরা এই মিনি চিড়িয়াখানার সামনে সন্ধ্যেবেলায় অতো যে চেঁচামেচি করে ক্যারম খেলে,
খর্গজিত’এর কানে তার বিন্দুমাত্র প্রবেশ করে না। অমন ধবধবে সাদা লোমগুলো জালের মধ্যের মাটি আর নিজের মলমুত্র লেগে আর সাদা নেই, অদ্ভুত কদাকার রঙে পরিনত হয়েছে। দেখে পাড়ার বাচ্চাগুলো নাক সিঁটকে বলে – ইসসস......
খরগোশটা কি নোংরা দ্যাখ! শুনে খর্গজিতের খুব কষ্ট হয়। আজ ওকে এমন অবস্থায় দেখে বাচ্চাগুলো এমন বলছে। অথচ একদিন............! স্মৃতির ঝাঁপি খুলে খর্গজিত তন্ময় হয়ে যায়...............
খর্গজিত চিরকাল এমন ছিল না। ছোটোবেলায় তার নাম ছিল খর্গদ্যুতি। তার দুরন্তপনায় বাবা-মা ব্যাকুল হয়ে উঠত। ধবধবে সাদা লোম, লাল টুকটুকে চোখ আর তিড়িংবিড়িং নৃত্য সব্বার দৃষ্টি আকর্ষণ করত।
আর একটু বড়ো হতেই তাকে প্রতিযোগিতায় নেমে পড়তে হলো কচ্ছপের সাথে। ততদিনে সেও পড়ে ফেলেছিল তার প্রপিতামহ আর কচ্ছপদের প্রপিতামহের দৌড় প্রতিযোগিতার কাহিনী। শুধু পড়াই নয়, পড়ে পড়ে মুখস্থও হয়ে গিয়েছিল।
তাই তার সঙ্গে যখন কচ্ছপের দৌড় প্রতিযোগিতা হলো তখন সে মাঝপথে একটুও বিশ্রাম নেয়নি। একেবারে দৌড় শেষ করে থেমেছিল। না, কচ্ছপের সাথে দৌড়ে জিতেই তার দৌড় প্রতিযোগিতা শেষ হয়ে যায় নি।
কচ্ছপের পর একে একে ইঁদুর, বেজী, ছাগল, কুকুর, শুয়োর, গরু, গাধা সবার সাথে তার দৌড় প্রতিযোগিতা হয়েছিল। একটা প্রতিযোগিতা শেষ হতে না হতেই আরেকটা প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে গিয়েছিল।
সে কখনো হারে নি, তাই তার নাম হয়ে গিয়েছিল খর্গজিত। আর তাই সে বিশ্রাম নিতেও পারেনি। একটু জিরোতে গেলেই প্রথমদিকে তার বাবা-মা আর পরে তার শুভানুধ্যায়ীরা বলেছে – না এখন নয়, পরে বিশ্রাম নেবে.....
.তোমাকে আরো আরো আরো দৌড়াতে হবে...আরো...ও...ও...। দৌড়ের নেশায় সেও নতুন উদ্দ্যমে বার বার প্রতিযোগিতায় নেমেছে।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now