বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
সেদিন ছিল জোছনার রাত।অয়ন এমনিতেই প্রতিদিন দীদার কাছ থেকে কাহিনী শুনত।তবে সেদিন তার
অসময়ে কাহিনী শোনার সাধ জগল।সে তার দীদার কাছে গেল।বলল "দীদা!কাহিনী শোনাবে না?" তার দীদা চমকে
ওঠে বললেন "আজ এত তাড়াতাড়ি কেন
দাদু-ভাই?"
অয়ন::ঘরের ভেতর ভালো লাগছে না।
দীদা::ওও ।
অয়ন::দীদা! শোনাও!
দীদা::দাদু-ভাই, আজকের জন্য আমাকে ছুটি দিতে পারবে?
অয়ন::কেন?
দীদা::আজ আমার শরীর একেবারেই ভালো লাগছে না।
(অয়ন হতাশ হয়ে রন্ধনঘরের দিকে গেল)
দেখল,তার মা চুলায় কী যেন রাধঁছেন।
অয়ন::মা,তোমার কাজ কী শেষ হয়েছে?
মা::হ্যা,,,প্রায় শেষ।
অয়ন::১টা কথা বলব মা,
মা::কী বলো!
অয়ন::দিদি কোথায় মা?
মা::মনে হয়, পড়ছে।
অয়ন তারপর তার দিদির ঘরের দিকে গেল।দেখল, দিদি ঘরে নেই।সে বেরিয়ে এলো।মন খারাপ করে বারান্দায় এসে বসল।এমনসময় দিদি কোথা থেকে জানি এসে,অয়নের পাশে বসল।
দিদি::কি হয়েছে?মুখ এত ভার করে আছিস কেন?
অয়ন::দিদি, আর বলিস না...........
দিদি::কেন কি হয়েছে?
অয়ন::দীদা আজকে আমাকে কাহিনী শোনায়নি।
দিদি::ওমা!এত তাড়াতাড়ি কেন।দীদা তো
তোকে ঘুমানোর সময় কাহিনী শোনায়।
অয়ন:: আজ এমনিতেই তিনি শোনাতেন না।কারন,দীদার শরীর আজ ভালো ঠিকছে না।তাই,,,, আর আমার তো কোনো খেলার সাথীও নেই।
দিদি::বুঝতে পেরেছি, তাতে মন খারপের
কি আছে?আমি তো আছি,আমি তোর সাথে খেলব।
অয়ন::সত্যি বলছ?
দিদি::হ্যা।
অয়ন::তো তুমিতো পড়ছিলে তাইনা! তোমার পড়ার কি হবে?
দিদি::আরে দূর........এই গরমে কে পড়ালেখা করবে? চল আমরা খেলা শুরু করি।
অয়ন::চলো!!!!কি খেলব?
দিদি::কানা মাছি খেললে কেমন হয়?
অয়ন::খুব ভালো!
(এইবলে তারা খেলা শুরু করল)
---অনেকসময় পর-----
অয়ন::আহ!!আর পারছিনা দিদি এবার থামো।
দিদি::এটুকুতেই হাপিয়ে গেলি!ঠিক আছে।চল ঘরে যাই।
ঘর ঢুকেই তারা মাকে দেখতে পেল।
মা::এতসময় কোথায় ছিলি?
দিদি::আমরা খেলছিলাম।
মা::তাই বলে ছাদে খেলবি?ছাদে দেয়াল-
টেয়াল কিছু নেই।কোনসময় কি হয় কে জানে?তার উপর রাতের বেলা।উফ!!আর
ভলো লাগে না।দেখি,,,,যা তোরা খেতে যা।
রাতের খাওয়া শেষ করে অয়ন তার মার
সাথে ঘুমুতে গেল।
এভাবে অনেকদিন ধরে তারা রাতের আকাশে চাঁদ দেখলেই ছাদে ওঠে কানামাছি খেলত।একদিন দেখল,আকাশে
অনেক বড় করে চাঁদ ওঠেছে।এই দেখে
অয়ন ও তার দিদি খুব খুশি হয়ে গেল।
ভাবল,আজ আরোও মজা করে খেলবে।
ছাদে গিয়ে তো তারা অবাক.........এত সুনদর চাঁদের আলো এর আগে তারা কখনো দেখেনি।এরপর,অয়ন ও তার দিদি খেলা শুরু করল।দিদি প্রথমে অয়নের চোখ দুটো মোটা কাপড় দিয়ে বেঁধে দিল।তারপর খেলা শুরু করল।খেলতে খেলতে অয়ন আচমকা একটি আওয়াজ শুনতে পেল।কে যেন খুব জোরে
চিৎকার করে ওঠল।পরে সে বুঝতে পারল যে ওটা তার দিদির চিৎকার ছিল।
চোখের বাঁধন খুলে সে তার দিদিকে খুঁজতে লাগল।দেখল,কোথাও তার দিদি নেই।তারপর কিছু শোরগোল শুনে সে নিচে নেমে এলো।অয়ন দেখল যে তাদের বাড়ির পেছনে ভিড় জমে গেছে।কৌতুহল
মেটাতে সেও দেখতে গেল।দেখল,১টা মেয়ের লাশ পড়ে আছে।খুব ভয় পেয়ে গেল অয়ন।ঘরের ভেতরে এসে সে আবারো দিদিকে খুঁজতে লাগল।সে যেন কিছুই বুঝতে পারছে না।তারসবকিছু কেমন যেন ওলোটপালোট লাগছে।
হঠাৎ করে ঘরের সবাই কেমন যেন করতে লাগল।তারপর তার মা তাকে বলল,"বাবা তুমি ঘর থেকে বেরুবে না।মা
একটু বাইরে গেলাম। আবার চলে আসব।"এই বলে,মা চাচা ও খালাকে নিয়ে বেরিয়ে গেলেন।কোথায় গেলো কিছুই বলে গেলো না।মার কথা ভাবতে ভাবতে তার আবার দিদির কথা মনে পড়ল।তাই দিদার কাছে দিদির কথা জানতে গেল অয়ন।দীদা বললেন যে চলে আসবে।.......দীদার কথা ঠিক ছিল। দিদি
ফিরে এলেন...............লাশ হয়ে।অয়নের মাথায় যেন বাজ পড়ল।একথা কিছুতেই মেনে নিতে পারলো না যে তার খেলার সাথী দিদির .......মৃত্যু হয়েছে। তাও ছাদ
থেকে পড়ে গিয়ে।এখন হয়ত জোছনা রাতে অয়নের মন খারাপ হলে দিদি আর খেলার জন্য আসবে না........অয়নের মন
এটা এলো যে দিদি হয়তো নতুন কোনো
খেলার সাথী পেয়েছে।তাই দিদি আর অয়নের সাথে খেলতে আসে না।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now