বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
★গল্প★
("খাউজানি!
এইযে প্যান্টের চিপায় চাপায় ঘা!
অনবরত চুলকায়!
ভাইজানঃ
চুলকানি উঠলে আর কোনো হুশ থাকেনা!
চুলকাইতে চুলকাইতে ছাল তুল্যে ফ্যালেন!
এ্যরপর মরিচের মতো জ্বলে!
একবার লাগান!
মাত্র একবার!!")
^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
আজমত বসেই আছে পুরো এক ঘন্টা থেকে।
বাজারের ভেতরে, মেইন রাস্তার পাশে এই জায়গাটা ফাঁকা। দুই আড়াই বিঘা পরিমান এইটুক ফাঁকা জায়গা এতোদিন ইন্ডিয়ার মাটি ছিলো, দেশের ভিতরে অন্য একটা দেশের মাটি কিভাবে যে আসলো এই বেপারটা অনেক ভেবেও বের করতে পারেনি আজমত। কাউকে জিজ্ঞেস করলে অবশ্য জানা যেতো; কিন্তু কখোনোই সেই ইচ্ছেটা হয়নি আজমতের।
এতোদিন মেলা বসতো এখানে, দুর্গাপুজা, দোলযাত্রায় জমজমাট হয়ে যেতো এই কাঁচারীরমাঠ। আর হকাররা প্রতি হাঁটবারে আসতোঃ ম্যাজিক মলম, দাউদের মলম, সেক্সের ওষুধ, দুর্বল শরীরকে সবল করার ওষুধ, ডায়বেটিস..... আহ!!
সর্বরোগ বিশেষজ্ঞ এই সব হকারদের কেউ কেউ খ্যালা দেখাতো, ঢাক ঢোল পিটিয়ে সে এক এলাহী কান্ড। জায়গাটার এখন অনেক বদল হয়ে গেছে, মালিকানার সাথে সাথে চেহারারও। ছিটমহল বিনিময় চুক্তিতে এটা এখন বাংলাদেশ সরকারের সম্পত্তি। ভূমি অফিসের জন্য নতুন বিল্ডিং উঠছে, চারিদিকে বাউন্ডারি দেয়া হয়েছে। তবে মধ্যখানে বিশালাকৃতির বটগাছটা মনে হয় থাকবে। এই বটগাছটা আজমতের অনেক পছন্দের। কোন এক অতীতের কালে বটগাছের গোড়াটা গোল করে বাঁধাই করা হয়েছে, পলেস্তারা খঁসে গিয়ে ইট বেরিয়ে গেছে কিন্তু এখোনো বসে থাকার জন্য দারুন; অন্তত আজমতের কাছে দারুনই মনে হয়। অনেকগুলো উদ্দেশ্যহীন দুপুর অথবা সালমার অপেক্ষায় অনেক অনেক দিন সকাল থেকে পুরো অর্ধেকদিন পর্য়ন্ত বসে থেকে কেটেছে আজমতের।
কিন্তু কখোনোই বিরক্তি লাগেনি।
এই জায়গাটার প্রতি অথবা বটগাছটার প্রতি হয়তো মায়া জন্মে গেছে!
চারপাশের মানুষগুলোর দিকে তাকিয়ে, মানুষগুলো অথবা সালমা কিংবা ভবিষ্যত্ জীবনের ভাবনায় তার সপ্নাতুর মনটা বুঁদ হয়ে এই বটগাছের শানবাঁধানো জায়গায় অনেক সুন্দর সময় কাটিয়ে দিয়েছে। কিন্তু আজ বারবার কল্পনার সুতোগুলো ছিড়ে যাচ্ছে, হয়তো অনবরত বেঁজে যাওয়া ঐ বিশ্রী কথা গুলোর জন্য অথবা তার প্যান্টের নিচে অনবরত চুলকানোর জন্য; আজমতের প্যান্টের চিপায় খুব চুলকাচ্ছে! আর বারবার চুলকানি ওঠার মুহুর্তে মনে পড়ে যাচ্ছিলো যেঃ সিগ্রেট কেনার পর এখন মানিব্যাগে মোটে একটি ন্যাতানো দুই টাকার নোট আছে।
^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
("খাউজানি!
এইযে প্যান্টের চিপায় চাপায় ঘা! অনবরত চুলকায়! ভাইজানঃ চুলকানি উঠলে আর কোনো হুশ থাকেনা! চুলকাইতে চুলকাইতে ছাল তুল্যে ফ্যালেন!
এ্যরপর মরিচের মতো জ্বলে! একবার লাগান! মাত্র একবার!")
যাহোক, আজমতের উরুর চিপায় ভীষনভাবে চুলকাচ্ছে, এই গরমে জিন্সের মোটা একটা প্যান্ট সবসময় পড়ে থাকার জন্য অথবা হয়তো এই মলম বিক্রেতার অনবরত বাঁজানো চুলকানির বিজ্ঞাপনের জন্যই এভাবে চুলকাচ্ছে বোধহয়!" কিন্তু আজমত সঠিক সিদ্ধান্তে আসতে পারেনা।
অন্য কোনো দিনেও হয়তো এইভাবেই চুলকাতো আর আনমনে থাকা আজমতের হাতটা সাবধানে একটু চুলকে নিতো!
কিন্তু আজ সে চুলকাতে পারছেনাঃ প্রথমত মলম বিক্রেতা লোকটি এদিকেই চেয়ে আছে, হয়তো ওরকম ভেঁপসা গরম আর রোদের মধ্যে বসে থাকতে থাকতে তার দম বেরিয়ে যাচ্ছে, হয়তো তারও মন চাচ্ছে বটগাছের নিচে একটু বসে থাকতে? কিন্তু হয়তো বাড়িতে থাকা অসহায় কিছু করুণ মুখ তাকে ওইভাবে বসে থাকতে বাধ্য করছে? লোকটির জন্য আজমতের করূণা হয়! ওর জায়গায় নিজেকে কল্পনা করতে গিয়ে দম বন্ধ হয়ে আসতে চায় আজমতের।
কিন্তু আজমত যদি জানতো যেঃ মলম বিক্রেতা ঐ লোকটির চোখে ধরা পড়ে যাওয়া-তার বিকৃত আর অস্থির মুখে, অকারণ বসে থাকা ময়লা পোশাক আর খোঁচা খোঁচা দাড়ির চেহারাটি মলম বিক্রেতাকে ঠিক কোন ভাবনাটি ভাবতে বাধ্য করেছে? কিন্তু আজমত মলম বিক্রেতার মাথায় ঘুরতে থাকা ভাবনাগুলো না জেনেই, ওর কষ্টের কথা ভেবে কয়েক মুহুর্তের জন্য অসম্ভব ভাবে চুলকাতে থাকা জায়গাটির কথাও বোধহয় ভুলে যায়।
আর তখনঃ এই দুটি প্রানীকে নিয়ে খেলতে থাকা মহাশক্তিধর ঈশ্বর হয়তো হাসে এবং এদের একজনের দিকে করুণার দৃষ্টি দেয়।
কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে বিধাতার সেই করুনাটুকু আমাদের গল্পের নায়ক আজমতকে পাশ কাটিয়ে মলমবিক্রেতা লোকটির উপরে পড়ে। সুশ্রী চেহারার দাড়িওয়ালা একটি লোক এসে মলমবিক্রেতার কাছ থেকে একটি মলম কিনে নেয় আর সেই মুহুর্তে আজমতের চুলকানিটা অনেকগুন বেড়ে গিয়ে হঠাত্ আক্রমন করে বসে, আর তার মনে পড়ে সিগ্রেট কেনার পর তার কাছে আর মলম কেনার মতো দশটি টাকা নেই ।
আজমত তবু চুলকায়না, ওর মনেহয় ঐখানে চুলকাতে দেখলে হয়তো মলমবিক্রেতা লোকটি উঠে এসে হুবহু ক্যাসেটে বাঁজতে লোকটির কন্ঠে বলে উঠবেঃ
ভাইজান এই যে চুলকানি, "খাউজানি!
এইযে প্যান্টের চিপায় চাপায় ঘা! অনবরত চুলকায়! ভাইজানঃ চুলকানি উঠলে আর কোনো হুশ থাকেনা! চুলকাইতে চুলকাইতে ছাল তুল্যে ফ্যালেন!
এ্যরপর মরিচের মতো জ্বলে! একবার লাগান! মাত্র একবার! দেখবেন একদম ছলছলা হয়ে গেছে!"
"তখন আমি কি বলবো? আমার কাছে দুই টাকা আছে, দুইটাকার মলম দেন?" এই মধ্যবিত্য মার্কা সেন্টিমেন্ট টুকু আজমতকে প্যান্টে হাত ঢুকিয়ে না চুলকাতে বাধ্য করে।
কিন্তু আজমত আর সহ্য করতে পারেনা।
সে উঠে দাঁড়ায়।
একটু হাঁটাহাঁটি করে।
আবার বসে।
চুলকানি কমেনা।
হয়তো বাড়ে, কিন্তু সালমা কি আজ আসবে না?
আজমত ভাবতে পারেনা আর।
আর হয়তো সে চুলকানির কথা ভুলে যায়।
আর তখন সে পুনরায় বটগাছের নিচে ঠায় বসে থাকে।
★★★
আজমত গত বছর ডিগ্রী পাশ করেছে। ক্লাস এইটে থাকতে পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি বাবা মরে যাবার পর অনেক কষ্টে পড়াশোনাটা আজ এতোদুর পর্যন্ত এগিয়েছে। কিন্তু অনবরত পোড় খাওয়া আর লাঞ্চনা বঞ্চনার শিকার হওয়া আজমতের মাঝে যে ব্যক্তিত্ববোধ গড়ে ওঠার কথা সেটা হয়ে ওঠেনি। পরিবারের আর একমাত্র সদস্য আজমতের মায়ের লিভারের অসুখ। মায়ের অসুখের পেছনে ব্যয় হয়ে যাওয়া টাকাটা সে অনেক কষ্টে জোগায়, এককানি জমিটাও হাতছাড়া হয়ে গেছে, তিনটে টিউশনি বাড়ির থেকে অগ্রীম টাকা নিয়ে নিয়েছে।
চাকরীর পেছনে ঘুরতে ঘুরতে আজ আজমতের মনে হয় এই পড়াশোনা করার কোনো মানেই ছিলোনা।
কিন্তু ভীষন সপ্নাতুর মনটা তাঁর অনবরত সপ্ন দেখেঃ তাঁর একদিন অবশ্যই একটা ভালোমানের চাকরী হয়ে যাবে আর তাঁরপর সালমাকে নিয়ে একটা ছোট্ট ছিমছিম সুখের সংসার।
আজ কতদিন থেকে সালমা বিয়ের জন্য চাপ দিয়ে আসলেও আজমত কোনো সিদ্ধান্ত সালমাকে জানাতে পারেনি।
কিন্তু আজমতের মনে এই বিশ্বাষটুকু বাসা বেঁধেছে যেঃ যতো দেরিই হোক সালমা তাকে কোনোদিন ছেড়ে যাবেনা।
গত পরশু সালমা আজমতকে যেকোনো কিছু একটা সিদ্ধান্ত জানাতে বলেছে। গোটা একটা দিন অপেক্ষায় থেকে থেকে শেষে বাড়িতে গিয়ে কারো একটা ফোন জোগাড় করে আজমতকে ফোন দিয়ে খুব কান্নাকাটি করেছে সালমা।
কিন্তু মাকে নিয়ে হাসপাতালে ব্যস্ত থাকা আজমত অনেক অনুনয় বিনয় করে আজকের দিনটি পর্যন্ত সময় বাড়িয়ে নিয়েছে। সালমা কিছু বলেনি, অনেকক্ষন কান্নাকাটির পর ফোন রেখে দিয়েছে।
কিন্তু আজ এই অপেক্ষায় থাকা আজমত একবারের জন্য ভাবেনি যে, সালমা আসবে না। আজমতের বিশ্বাষ সালমা আসবে।
--- ---
দুপুর গড়িয়ে গেছে অনেক্ষন হলো।
মলমবিক্রেতা লোকটি খাওয়া দাওয়া করে আবারো এসে তাঁর দোকান খুলে বসেছে।
কিন্তু ক্যাসেট প্লেয়ার টি এখোনো চালু করেনি।
আজমত ভাবেঃ লোকটি ক্যাসেট প্লেয়ারটি চালু করলেই বুঝি ওরও চুলকানি শুরু হয়ে যাবে!
আজমত শঙ্কায় থাকে, এই বুঝি লোকটি ক্যাসেটটি চালু করবে আর তারও চুলকানি শুরু হবে!
কিন্তু আজমতের আরো অনেক বড়ো শঙ্কায় বুক কাঁপতে থাকেঃ সালমার বিয়ে হয়ে গেলো নাতো?
আজমত কিছুই ভাবতে পারেনা।
এই প্রথমবার কেনো জানি ওর মনেহয় সালমা আসবেনা, হয়তো আর কোনোদিন আসবে না!!
তবে কি সত্যিই সালমা আর আসবেনা? আজমতের বুকের ভেতর ধ্বকধ্বক করে শুধু। সালমার মুখটা দেখার জন্য আরো অস্থির হয়ে যায় মন।
★ ★
:আজমত ভাই!
আজমত চমকে উঠে, ঘাঁড় ঘুরিয়ে দেখে রাস্তায় বাউন্ডারীর উপর মাথা তুলে সালমার বান্ধবী রিনা ডাকছে।
আজমত উঠে দাঁড়াতে চায় কিন্তু তার আগেই রিনা বলে ওঠেঃ আজমত ভাই গতরাতে সালমার ......"
("খাউজানি!
এইযে প্যান্টের চিপায় চাপায় ঘা! অনবরত চুলকায়! ভাইজানঃ চুলকানি উঠলে আর কোনো হুশ থাকেনা! চুলকাইতে চুলকাইতে ছাল তুল্যে ফ্যালেন!
এ্যরপর মরিচের মতো জ্বলে! একবার লাগান! মাত্র একবার!")
মলম বিক্রেতার ক্যাসেট প্লেয়ারের সাউন্ডে রিনার কথা গুলো হারিয়ে যায়। আজমতের শোনার ইচ্ছেও করেনা আর।
আজমত মাথা নিচু করে থাকে, পারিপার্শিকতা ভুলে গিয়ে প্যান্টের নিচে হাত ঢুকিয়ে অনবরত চুলকাতে থাকে আর হয়তো ছাল তুলে ফেলে, হয়তো সে এবার ভুলেই যায় যে তার কাছে মলম কেনার মতো দশটি টাকা নেই।
আর অনবরত ঘুরে ফিরে বাঁজতে থাকেঃ
"খাউজানি!
এইযে প্যান্টের চিপায় চাপায় ঘা! অনবরত চুলকায়! ভাইজানঃ চুলকানি উঠলে আর কোনো হুশ থাকেনা! চুলকাইতে চুলকাইতে ছাল তুল্যে ফ্যালেন!
এ্যরপর মরিচের মতো জ্বলে! একবার লাগান! মাত্র একবার!"
কথাগুলো শুনতে আজমতের অনেক ভালো লাগে এবার
♥♥♥
(০৪ সেপ্টেম্বর ২০১৬)
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now