বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

কেয়ার রিয়েক্টের আত্মজিবনী

"শিক্ষণীয় গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান সাফায়েত হোসেন (০ পয়েন্ট)

X আমি হচ্ছি একটি কেয়ার রিয়েক্ট।আমার নেই কোনো বাবা নেই কোনো মা।আমি তৈরি হয়েছি একদল দক্ষ মানুষের প্রগ্রামিং এর ব্যাবহার করে কিছু ধাপ শেষ করে বিশ্বের এক নাম্বার সোসাল নেটওয়ার্কিং সাইট ফেসবুক এ বিভিন্ন পোস্টের রিয়েক্ট দেওয়ার একটি নতুন সংযোজন হিসেবে আমার সৃষ্টি।আমার জন্মের অনেকদিন আগে থেকেই আমার মতো ভিন্ন কিছু রিয়েক্ট আছে ফেসবুকে।তারপর নতুন ভাবে আসলাম আমি।এখনো আমাকে নিয়ে কাজ শেষ হয় নি।সবার ভাগ্যে এখনো আমি জুটি নি।আস্তে আস্তে সবার ফেসবুক আইডিতেই আমাকে যুক্ত করা হবে।আমার জন্মে ফেসবুকে একটি আলোড়ন সৃষ্টি হয়ে গেছে।যারা পাইছে আমায় তারা পোস্ট দিচ্ছে খুশি মনে আবার কেউ পায় নি সেটা নিয়ে সেও পোস্ট দিচ্ছে।ইউটিউবে ভিডিও তৈরি হচ্ছে কিভাবে ফেসবুক আইডিতে আমাকে অন্তর্ভুক্ত করা যায়।এত কিছু দেখে আমার সত্যি যেন নিজেকে নিয়ে গর্ব হচ্ছে।আমি এতটা ভাইরাল হয়ে গেলাম সারাবিশ্বের কোটি কোটি মানুষের কাছে।কিন্তু আমার খুশিটা বেশিদিন স্থায়ী হলো না।আমার জন্মের দুই একদিন পরেই মানুষের কান্ডকারখানা দেখে আমি হতাশ হয়েছি।আমাকে তৈরি করা হয়েছে ফেসবুকে মানুষের মাঝে নতুন একটি বিনোদন নতুন একটি মাত্রা যোগ করতে।কিন্তু এই মানুষগুলো নতুন কিছু আসলে সেটা নিয়েই পড়ে থাকে সবাই।আমি তো নিজে চলতে পারি না মানুষ যেভাবে চালাবে আমি সেভাবেই চলবো কিন্তু তারা আমাকে নিয়ে যা শুরু করলো তাহ সত্যি আমার পছন্দ হয় নি।চার বন্ধুর কথা বলি তারা হলো রাকিব,আরিফ,সোহান এবং নিলয় এদের মধ্যে আরিফ বাদে বাকি তিনজন আমাকে পেয়ে গেছে ইতিমধ্যে।বলে রাখি আমাকে ফেসবুক থেকেই দিয়ে দেওয়া হবে অটোমেটিক আর ফেসবুক এপ যদি কারো আপডেট করা না থাকে তাইলে তাকে আপডেট করে নিতে হবে তাইলে একসময় আমাকে পাওয়া যাবে।তোহ আমাকে পাওয়ার খুশিতে রাকিব,সোহান, নিলয় তো খুশিতে সেই পোস্ট করে ফেসবুক গরম করা শুরু করে দিছে।চিন্তা করতেছি এত গরমে না বাস্ট হয়ে মার্ক জুকারবার্গ এর ফেসবুকের সার্ভার ডাউন হয়ে যায়।তারা কেয়ার রিয়েক্ট পেয়ে যেকোনো পোস্টে শুধু কেয়ার রিয়েক্টই দিয়ে যাচ্ছে।হোক সেটা হাসির বাহ হোক সেটা দু:খের তারা শুধু কেয়ার রিয়েক্টই দিয়ে যাচ্ছে।আর অন্যদিকে আরিফ আমাকে এখনো না পেয়ে সে তো দু:খে প্রায় জর্জরিত অবস্থা তার।রাকিব,সোহান,নিলয় তো আরো তেতিয়ে দিচ্ছে এটা বলে যে "দেখ আমরা পেয়ে গেছি কেয়ার রিয়েক্ট তুই এখনো পেলি না হাহা দোস্ত তোর আর কেয়ার পাওয়া হলো না এই জীবনে"।এসব শুনে সে তো সেই মনে ব্যাথা পেলো।সে ঝাপিয়া পড়লো কেয়ার রিয়েক্ট খুজতে।ইউটিউব এ ভিডিও দেখে ফেসবুক আপডেট করে তাও তার ভাগ্যে কেয়ার রিয়েক্ট ওরফে আমি জুটলাম না।আমি তো আগেই বলেছি আমাকে ফেসবুক থেকেই দেওয়া হবে।আমাকে নিয়ে এখনো কাজ শেষ হয়ে নি।কাজ শেষ হলে সবাইকে দেওয়া হবে কেয়ার রিয়েক্ট।কিন্তু এই কথা আরিফকে কে বুঝায় সে তো অধৈর্য হয়ে গেছে।আমি ভাবি মানুষ আসলে কত অধৈর্য।একটু ধৈর্যশীল হলে মানুষ অনেক উন্নতি করতে পারে।যাই হোক আরিফ এবার দু:খ ভরাক্রান্ত মনে নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট করলো যে " বাস্তব জীবনে কেয়ার পাইলাম না জুকার কাকু আমারে ফেসবুকেও কেয়ার রিয়েক্ট দিল না বুকটা ফাইটা যায় বুকটা ফাইটা যায়" অন্যসময় হলে হাহা রিয়েক্ট ও দু:খের রিয়েক্টের এর বন্যা বয়ে যেত কিন্তু আফসোস আরিফ এর তিন বন্ধু সহ বেশিরভাগই মানুষ কেয়ার রিয়েক্টই দিলো।অন্য রিয়েক্ট ও পড়ছে কিন্তু কম।এখন এসব দেখে না জানি অন্য রিয়েক্ট গুলো আমার বিরুদ্ধে তৃতিয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু করে দেয়।এই মানুষগুলো দেখি আমারেও বিপদে ফেলে দিল।এখন আরিফ এত কেয়ার রিয়েক্ট দেখে তার মনটা আরো খারাপ হয়ে গেল।সে রাগ আর দু:খে পোস্টই ডিলেট করে দিল।এখন আমাক খুব অপরাধী মনে হচ্ছে।আমার জন্যে কি বন্ধুত্তের মাঝে ফাটল ধরছে।কিন্তু এখানে আমার কি দোষ আমাকে তো তারা যেভাবে চালাবে আমি সেভাবেই চলবো।কাউকে বাধা দেওয়ার ক্ষমতা দিয়ে তো আমাকে তৈরি করা হয় নি।অনেক ঘটনাই তো হচ্ছে আমার জন্যে কিন্তু সবকিছু বলা সম্ভব নয় আমার পক্ষে তাই একটা ঘটনাই বললাম শুধু।আসলে মানুষজাতি ফেসবুক টা কে কি অনেক বেশি গূরুত্ব নিয়ে দেখছে?শুধু অবসর সময়টা কাটাতে কি মানুষ এখন ফেসবুক ব্যাবহার করছে?আমাকে নিয়ে তাদের মাতামাতি দেখে আমার তো তা মনে হয় না।অনেকেই কি এখন তাদের বাস্তব জীবন থেকে কি ফেসবুক কে কি বেশি গূরুত্ব দিচ্ছে নয় কি?প্রশ্নটা আমি মানুষজাতির কাছেই রাখলাম।পরিশেষে আমি সকলকে একটা কথা বলে রাখছি আমাকে নিয়ে বেশি মাতামাতির কিছু নাই।সময় হলেই সবার আইডিতে আমি পৌছে যাব।সবাই আমাকে পাবে শুধু ধৈর্য ধরো সবাই।আর পোস্ট বুঝে রিয়েক্ট দাও। নতুন কিছু এসেছে দেখে আমরা তাকেই ব্যাবহার করবো আর বাকি গুলো কে ফেলে রাখবো সেটা করা বুদ্ধিমানের কাজ নয়।তাই সব কিছু নিয়ে যেখানে যা ব্যবহার করা দরকার তাই ব্যবাহার কর।সর্বশেষ একটাই কথা বলছি "কোনো কিছু নিয় না বেশি আমলে প্রয়োগ করো তা ক্ষেত্রবিশেষে"।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৩২ জন


এ জাতীয় গল্প

→ কেয়ার রিয়েক্টের আত্মজিবনী

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now