বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

কেমনে তোমাকে ঠকায় বল?

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Ruhul Amin Raj (০ পয়েন্ট)

X স্পৃহা প্রায় কলেজে যাবার সময় দেখে একটি ছেলে তার কলেজের সামনে দাড়িয়ে থাকে । ছেলেটা দেখতে মন্দ না । তবে ছেলেটাকে দেখে বুঝতে পারা যায় যে ছেলেটি হিন্দু । একদিন স্পৃহা ঠিক করলো ছেলেটি কে জিগ্গাস করবে কেন সে তাকে follow করে । যেই ভাবা সেই কাজ । স্পৃহা কলেজ থেকে বেরিয়ে দেখে ছেলেটি দাড়িয়ে আছে । স্পৃহা ছেলেটির কাছে যায় । -- আপনি সব সময় আমার follow করেন কেন? -- কই? -- কই মানে? আমি তো সব সময় আপনাকে এখানে দেখি । -- কিছু তো করি নি । আপনাকে দেখতে আমার ভালো লাগে তাই । -- আপনার নাম কি? -- জয় । -- ভালো নাম । আর কখনো আমাকে follow করবেন না । -- ঠিক আছে । সেদিনের পর থেকে জয় আর স্পৃহার কলেজের সামনে দাড়ায় না । স্পৃহা প্রতিদিন সেই বকুল গাছটা দেখে কিন্তু সেখানে জয় কে দেখতে পায় না । জয়ের কথা খুব মনে পরতে লাগলো স্পৃহার । তাহলে কি জয় কে ভালোবাসে স্পৃহা??? স্পৃহা মনে মনে জয়কে খুঁজতে লাগলো । একদিন এক শপিং মলে জয়ের দেখা পেলো । -- জয়? কোথায় ছিলেন এতদিন??? -- আপনি তো মানা করেছিলেন তাই আর আপনার কলেজের সামনে যাই নি । -- আমি বললেই যাবেন না? -- যাকে ভালোবাসি তাকে কস্ট দেবার কোনো প্রশ্নই আসে না । -- সত্যি ভালোবাসেন? -- কোনো প্রমান চাই? -- না । কোনো প্রমান চাই না । সেই শপিং মল থেকে শুরু হলো স্পৃহা আর জয়ের প্রেম ।জয় হিন্দু আর স্পৃহা মুসলিম। কিন্তু তাদের ভালোবাসায় কোনো কমতি নেই । সামনে আসছে দুর্গা পুজো । জয় পুজোর শপিং নিয়ে ব্যস্ত । এতো ব্যস্ততার মধ্যে ও জয় স্পৃহার জন্য কিছু নিতে ভুলল না । দুর্গা পুজোয় জয় আর স্পৃহা এক সাথে অন্জলি দিবে । দেবী দুর্গার কাছে আশীর্বাদ চাইবে তাদের ভালোবাসার জন্য । দেখতে দেখতে পুজো চলে এলো । জয়ের দেওয়া লাল জামদানি শাড়ি পড়ে পুজোতে এসেছে স্পৃহা । জয় তার দিকে নি:পলক ভাবে চেয়ে আছে । -- এই? কি দেখছো? তুমি না বললে অন্জলি দিবে? -- আমার দুর্গাকে দেখছি । -- আমার কি ১০ হাত আছে নাকি -- লাগবে না । ২হাতই যতেস্ট । পুজো শেষে ভালোই কাটছিল তাদের ভালোবাসা । হঠাৎ একদিন স্পৃহা জয়কে দেখা করতে বলে । জরুরি কথা আছে । -- কিগো মহারাণী । দেখা করতে বললে কেন? -- তুমি আমাকে ভুলে যাও । -- মানে???? -- তোমার আর আমার সম্পর্ক কেউ মেনে নিবে না । তুমি হিন্দু আমি মুসলিম । -- ধর্মই কি সব??? -- এত কিছু বলতে পারবো না । ভালো থেকো । কথা গুলি বলেই স্পৃহা চলে গেল । জয় নিজের কান কে বিশ্বাস করতে পারছে না । যে মানুষটা তাকে এতো ভালোবাসতো সে কিনা আজ তাকে ছেড়ে চলে গেল এতো সহজেই? তাহলে কি দেবী দুর্গা তাদের ভালোবাসা মেনে নেননি??? ৫ মাস পর,,,,,,,,,,,,,,, জয় আজ অনেক দিন পর তাদের সেই বকুল গাছের নিচে বসে আছে । আজ তার স্পৃহার কথা খুব মনে পরছে । তাদের সেই দিনগুলোর কথা ভাবছে জয় । হঠাৎ তার মোবাইল বেজে উঠলো । একটা অপরিচিত নম্বর থেকে ফোন এসেছে । --- হ্যালো? --- আপনি কি জয়? --- জি । আপনি কে? --- আমি """" হাসপাতাল থেকে বলছি । স্পৃহার অবস্থা ভালো না । তার ব্লাড ক্যাসার হয়েছে । আপনে একবার দেখতে চায় । আপনি তাড়াতাড়ি আসুন । ফোন পেয়ে জয় দৌড়ে হাসপাতালে যায় । সেখানে পৌঁছে দেখে স্পৃহা শুয়ে আছে । জয় কে দেখে টেবিলের উপর রাখা চিঠিটার দিকে ইশারা করলো । জয় টেবিলের উপর থেকে চিঠি নিয়ে পড়তে শুরু করলো । "জয় " আমি জানি তুমি এখনো আমাকে ভালোবাসো । বিশ্বাস কর । আমি তোমাকে কস্ট দিতে চাই নি । আমি বাধ্য হয়েছিলাম তোমাকে কাদাতে । আমার অসুস্থতার কথা শুনার পর আমি একদম ভেঙে পড়েছিলাম । যখন তোমার মুখ চোখের সামনে ভেসে উঠলো তখন আর নিজেকে সামলাতে পারলাম না । আমার মৃত্যুর পর যেন তোমার কস্ট না হয় তাই ওই কথা গুলি বলেছিলাম । তোমাকে দেখতে খুব ইচ্ছা করছিল । সাহস করতে পারি নি । তোমাকে কস্ট দিয়ে আবার কোন মুখে তোমার সামনে যাব বল? কিন্তু আজ আর পারলাম না । তোমাকে শেষ বারের মত দেখতে চেয়েছিলাম । আমার হাতে সময় বেশি নেই । ভালো থেকো । ইতি স্পৃহা চিঠিটা পড়ে দু চোখ জলে ঝাপসা হয়ে এলো জয়ের । স্পৃহার পাশে বসে তার হাত শক্ত করে ধরলো জয় । স্পৃহা চোখ মেলে তাকিয়ে জয় কে বললো --- কেঁদো না । আমি চলে যাচ্ছি । আমাকে ক্ষমা করে দিও । -- না তুমি আমাকে ছেড়ে কোথাও যেতে পারবে না ততক্ষণে স্পৃহা পাড়ি জমিয়েছে অপারে । না ফেরার দেশে । আজ ১৭ এপ্রিল । স্পৃহার জন্ম দিন । তাই জয় সকাল বেলা বকুল ফুলের মালা নিয়ে এসেছে স্পৃহার কবরের পাশে । জয় স্পৃহার সাথে সেখানে অনেক কথা বলে । কিন্তু স্পৃহার কথা গুলি জয়ের কল্পনা । --- এই যে মহা রানী । তোমার জন্য বকুল ফুলের মালা এনেছি । ----------- -- কি? তোমাকে পড়িয়ে দিবো? ----------- -- না আমি তোমাকে পড়িয়ে দিবো না । অন্য কাউকে দিবো । ---------- --- এই রাগ করছ কেন? তুমি তো শুধু আমার । জয়ের এই রকম কথা বলা কবরস্থানের সবাই দেখে । তাদের মধ্যে অনেকে কেঁদে ও ফেলে । আবার কেউ বলে " মেয়েটা বেঁচে থাকলে পৃথিবীর সব থেকে সুখী হতো " । আবার কেউ জয়কে শান্তনা দিয়ে বলে " তোমার মহারানী সব সময় তোমার পাশেই


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮৩ জন


এ জাতীয় গল্প

→ কেমনে তোমাকে ঠকায় বল?

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now