বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
কেমন আছো তুমি
(২৮) :- দোস্ত দেখ এই ভাবে জীবন চলে না
:- কেন কি ভাবে চলে
:- দেখ মেয়েটা তার স্বার্থের জন্যে চলে গেছে। সে নিশ্চই সুখেই আছে আর তুই নিজের জীবনটাকে বরবাদ করে দিচ্ছিস
:- কই একেই বলে জীবন। কোন সাংসারিক মায়া নেই কিছু নেই আহ কি শান্তি
:- চল এখান থেকে চল
:- তুই যা আমি আসি
:- আচ্ছা ৫ মিনিটের মধ্য আয়। আন্টি অনেক টেনশনে আছে
:- আচ্ছা যা
কথা হচ্ছিল রবিন আর অর্নবের মধ্য। দুইজন কাজিন+ স্কুল, কলেজ & ভার্সিটির ফ্রেন্ড। অনেক ভাল বোঝাপড়া তাদের মধ্য। রবিন যে মেয়েটির কথা বলছিল সে ছিল অর্নবের প্রেমিকা। কিন্তু বেকার দেখে অর্নব কে ছেরে চলে যায়। অর্নব প্রথম দিন ভার্সিটিতে যাবার জন্য রিক্সাতে যাচ্ছিল হঠাৎ একটি মেয়েকে দেখে তার চোখ আটকে যায়। অনেক সুন্দর না তবু চেহারার মধ্য কেমন যানি মায়া আছে। প্রতি দিন অর্নব ভার্সিটিতে যাওয়ার সময় দেখত মেয়েটা ওখানেই দ্বারিয়ে থাকে। এই ভাবেই সে ভালবেসে ফেলে মেয়েটিকে।একদিন সে দেখে মেয়েটা তার বোনের সাথে গল্প করছে। বাসায় ফিরে সে তার বোন কে বলল
:- কিরে ঐ মেয়েটা কে
:- কোন মেয়ে
:- আরে তুই সকালে যার সাথে গল্প করলি ওটা।
:- ওহ অবন্তির কথা বলছিস
:- হুম
:- তা ভাইয়া পছন্দ নাকিরে
:- হ্যাঁ
:- তাইলে তুই আমারে ২,০০০ টাকা দিবি তাইলে লাইন হয়ে যাবে
:- পারব না
:- ওকে তাইলে থাক
:- আচ্ছা 1500 টাকা দিলে হবে
:- ওকে কাল রহিম মামার ফুচকার দোকানে আসবি
পরের দিন ফুচকার দোকানে গিয়ে দেখে অবন্তি বসে। :- কিরে রিমি
:- ভাইয়া ভাবির সাথে বসে আছি
:- কে তোর ভাবি
:- আচ্ছা লোক তো তুই। অবন্তি ভাবি
:- অনেক ফাজিল হয়ে গেছিস তারপরে অবন্তিকে বললাম
:- হাই কেমন আছেন
:- ভাল। তুমি
:- ভাল
:- আর শুনো এই আপনি কথা বাদ দাও ওকে।
:- হুম।
:- ফুল আনছো
:- কেন
:- তাইলে প্রপোজ করবা ঘোড়ার ডিম দিয়া।
:- ওহ সরি ভুলে গেছিলাম
:- আচ্ছা লাগবে না। এক কাজ করো এমনি প্রপোজাল করো। হাটুগেরে অর্নব প্রপোজ করল
এই ভাবেই চলতে থাকে তাদের ভালবাসার দিন গুলি। কিন্তু হঠাৎ একদিন অবন্তি ফোন দিয়ে অর্নব কে পার্কে আসতে বলল পার্কে যেতেই অবন্তি বলল
:- তোমাকে কিছু বলার ছিল
:- বলো
:- আসলে বাবা বিয়ে ঠিক করেছে ছেলে চাকরি করে।
:- তারমানে সম্পর্ক
:- হুম এখানেই শেষ
:- আমাকে ছেরে ভাল থাকতে পারাবা
:- হুম অনেক ভাল থাকব
:- আচ্ছা ভাল থেকো
কান্না জরিত কন্ঠে বিদায় জানালো তাকে। তারপর থেকেই এমন অবস্থা।সারাদিন পার্কে বসে থাকে আর অপেক্ষা করে একদিন নিশ্চই সে তার ভুল বুঝতে পারবে। ভাবতে ভাবতে বাড়ী পৌছে যায় অর্নব। রাতে খাবার পরে সে সুয়ে ভাবতে থাকে রবিনের কথা গুলা। অবশ্যই অবন্তি সুখি আছে। আমি কেনো তার সৃতি আক্রে রেখে কষ্ট পাচ্ছি। আজ থেকে নতুন জীবন শুরু করব অবন্তিকে দেখিয়ে দেব। আমিও বেকার না। আগামি কালই শুরু হবে আমার স্টাগেলিং। পরের দিন সকালে উঠে মর্নির ওয়ার্কে যায়। সকালে মা ডাকতে গিয়ে তাকে না পেয়ে চিন্তায় পরে যায়। মাথায় হাত রেখে বসে থাকে। হঠাৎ কলিং বেল এর শব্দে মা গিয়ে দরজা খুলে দিয়ে অবাক চিত্তে তাকিয়ে আছে।
:- কি মা কি দেখছো
:- তুই জগিং এ গেছিলি
:- হুম কেন
:- আচ্ছা ফ্রেস হয়ে আয় নাস্তা দিচ্ছি।
:- ওকে যাই। আজ একটা ইইন্টার্ভিউ আছে কয়েকটা টাকা দিও।
:- আচ্ছা।
নাস্তা করে মায়ের বাবার দোয়া নিয়ে ইন্টার্ভিউ দিতে যায় সে। এবং সাকসেসফুল। একটি সফটওয়্যার কোম্পানি তে। প্রায় ৭০ হাজার টাকা বেতন। ভালই চলে যাচ্ছিল।এর মধ্য মা বাবার জন্য বিয়ের পিড়িতে বসতে যাচ্ছে সে। শপিং করতে গিয়ে সে মলের সামনে দেখে অবন্তি দ্বারিয়ে আছে। তার সামনে গিয়ে অর্নব বলল
:- কেমন আছো তুমি কিন্তু উত্তর দেওয়ার আগেই একজন ছেলে এসে তার হাত ধরে নিয়ে চলে গেল। হয়তো বা তার স্বামী হবে। কিন্তু অর্নব তার উত্তর পেল না। অজানাই থেকে গেল `` কেমন আছে সে "
ভালোবাসি বলার কিছুটা আগে!
(২৯) তোকে রোজ একটি করে গোলাপের পাপড়ির টিপ পরিয়ে দেব। আমার কথা শুনে মুখ টিপে হাসে মেঘলা। মিষ্টি রিনরিনে গলায় বলল, যখন আমার বিয়ে হয়ে যাবে? তাত্ক্ষণিক উত্তরটা দিতে পারলাম না। কেনো যেন থেমে গেলাম, সত্যি তো, মেঘলার বিয়ে হয়ে গেলে কী হবে? রিকশাটা ঝাঁকুনি খেতেই মেঘলা আমার হাত চেপে ধরল। আরেকটু হলেই হয়েছিল...। আমি হেসে বললাম, তুই এত মোটা কেন?আমাকে নিয়ে তোর দেখছি খুব টেনশন, এটা নিজের বউয়ের ওপর প্রয়োগ করিস। রাগ করলি?আমি রাগ করলে তোর কী?একটু বেশি রাগ কর না। মানে? খুব সোজা, রাগলে তোকে খুব সুন্দর লাগে। এতটা সময় আমি তোর সঙ্গে থাকি অথচ আজকের আগে জানতামই না। মেঘলা এবার আমার পিঠে চাপড় দিয়ে বলল, ইউ...তুই একটা হনুমান।তোর মতো মুটি তো নই।
মেঘলা চুপ হয়ে গেল, খেয়াল করলাম, ওর চোখের কোণে জল ছলছল করছে। বাড়ির কাছে আসতেই রিকশা থেকে নেমে গেল। প্রতিদিন পেছনে ফিরে একবার তাকায়, আজ তাকাল না। রাতে অনেকবার ফোন দিলাম, ফোন ধরল না। পরদিন ভার্সিটিতেও এল না। কয়েকটা দিন কেটে গেল। হঠাৎ মেঘলার মেসেজ, ‘তুই কি আমাকে নিয়ে একটু রিকশায় ঘুরবি, জাস্ট এখনই?’ আমি সঙ্গে সঙ্গে উত্তর দিলাম, ‘অবশ্যই। তুই ফোন ধরিস না কেন?’
—তুই আমার বাড়ির সামনে আয়, আমি দাঁড়িয়ে আছি।আমি সঙ্গে সঙ্গে রিকশা নিয়ে গেলাম, মেঘলা দাঁড়িয়ে আছে। শাড়ি পরেছে আজ, বাসন্তী রঙের, আমার খুব পছন্দের কালার।তুই ফোন ধরিস না কেন? আর এমন বউ সেজে আছিস কেন?
—তোর ঘাড়ে চাপব বলে। ফোন না ধরলে তোর কি খুব লেগেছে?সত্যি এ কটা দিন খুব কষ্টে কেটেছে। কেন?
জানি না।আমি জানি।
কী? তুই আমাকে ভালোবাসিস।কী করে বুঝলি?মেয়েরা সব বুঝতে পারে। তুই একটা বোকা, গাধা। সাহস করে ভালোবাসার কথাটা বলতে পারিস না।
বিশ্বাস নিয়ে খেলা
(৩০) -ছেলেটা কে?
-আমার ফ্রেন্ড।
-ওর সাথে এতক্ষণ কি কথা বলতেছিলা?
-তেমন কিছুনা।
-এটা আমার প্রশ্নের উত্তর নই।(অনেকটা ধমকের স্ররে)
-আজব,তোমার সাথে প্রেম করছি বলে আমি অন্য কারো সাথে কথা বলতে পারব না?
-আমি তো সেটা বলিনি। আমি জাস্ট জানতে চাচ্ছি এত হাসাহাসি করে কি কথা বলতেছিলা?
-তুমি কি আমাকে সন্দেহ করছ?
-এখানে সন্দেহের কি হল?আমি জাস্ট জানতে চাইলাম আরকি।তার কারণ তুমি ভাল করেই জান।
-আমাকে ভালবাস তাইতো? আমি কি তোমাকে ভালবাসি না?
-হুম ভাসতো।
-তাহলে এত জেরা কর কেন?
-তোমাকে হারানোর ভয়ে।
-চিন্তা করোনা।বিশ্বাস রাখতে পার,আমি সবসময় তোমারই থাকব।
-হুম।
সেদিনের প্রমিসটা ছিল শুধু মুখের। অন্তর থেকে ছিলনা।তাইতো অনি আজ অন্যের হাতে হাত রেখে সুখের স্বপ্ন বুনছে। আর নিলয়ের জন্য রেখে গেল কষ্টের পাহাড়।নিলয়ের সেদিনের সন্দেহটা সঠিক ছিল।ছেলেটা ছিল তার নতুন bf। সত্যটা প্রথমে শিকার করতে একটু কষ্ট হয়ে ছিল যে,তার ভালবাসার মানুষটি থাকে ধোকা দিছে। এখন তা সয়ে গেছে,সিগারেটের ধোয়ার মাধ্যমে। অনির সাথে নিলয়ের পরিচয় কলেজ লাইফের শেষের দিকে।তার পর ভার্সিটিতে উঠেই শুরু হয় দীর্ঘ ১ বছরের পথচলা। নিলয় প্রপোজ করে ছিল।আর অনি দেরী করল না একসেপ্ট করতে। অনির আসল রূপ নিলয়ের কাছে ধরা পড়তেই,নিলয় ব্রেকাপ করে নেই।আর অনি,সে তো এই সময়টার অপেক্ষায় ছিল।তখন থেকেই তাদের মাঝে কোনো যোগাযোগ নেই।ব্রেকাপের ৬ মাস পর নিলয়ের মোবাইলে হঠাৎ একটা আননোন নাম্বার থেকে কল আসে।সে রিসিভ করল
-হ্যালো.
-কেমন আছো?
-কে বলছেন?(যদিও ছিনতে পেরেছে)
-কেন ছিনতে পারছ না?এত তাড়াতাড়ি ভুলে গেলা?
-আপনি পরিচয় দিবেন, নাকি ফোন রাখব?
-আমি অনি।এইবার চিনতে পারছ?
-ও তুমি?এতদিন পর কি মনে করে?
-তোমার সাথে কি কাল দেখা করা যাবে?সেই পরিচিত জায়গাই?প্লিজ?(অনেকটা করুণ কন্ঠে)
-কেন?
-দেখা হলেই বলব।প্লিজ না করো না। অনিচ্ছা সত্তেও রাজি হলো।সময়মতো পোঁছালো নিলয়। আর কিছু সময় পর অনি আসল।এসে নিলয়ের পাশে বসল।অনিই প্রথমে শুরু করল।
-কেমন আছো?
-বেশ ভালই আছি।(যদিও অনিকে ছাড়া একদম ভালোছিল না)
-কিন্তু আমি যে ভাল নেই।
-ভাল থাকার জন্যেই তো আমাকে ছেড়ে চলে গিয়েছিলে। তো এখন ভাল নেই কেনো জানতে পারি?
-আমি ভুল ছিলাম।একটা মোহোর মধ্যে ছিলাম।আমাকে কি একবার ক্ষমা করে আরেকটা সুযোগ দেওয়া যায় না? (নিলয়ের হাত ধরে কান্না করে করে)
-প্লিজ এইসব অভিনয় বন্ধ কর।
-আমি অভিনয় করছি না নিলয়।আমার চোখের দিকে তাকিয়ে দেখ।আমি সত্যি বলছি।
-তোমার চোখের ভাষা তখন বুঝতে পারি নাই,আর এখন কি বুঝব?
-প্লিজ আমাকে একটা সুযোগ দাও। প্লিজ....
-সুখের মোহে আমাকে একবার ছেড়ে চলে গিয়েছিলে।আবার যাবে না তার কি কোনো নিশ্চয়তা আছে? অনি আর কিছু বলতে পারছে না।কিইবা বলবে সে?তার কাছে যে এই কথার কোনো জবাব নেই।সে বড় দামি জিনিষ ভেঙ্গেছে। হা সে বিশ্বাস ভেঙ্গেছে। ভেঙ্গেছে হাজারো স্বপ্ন। নিলয় চলে যাচ্ছে। আর অনি অশ্রু সিক্ত নয়নে তার পথ চেয়ে আছে।আর অনুশোচনাই ভুগছে। বিশ্বাস জিনিষটা এমনই।সহজে ভেঙ্গে যায় না।আর একবার ভাঙ্গলে তা আর ঠিক হয় না।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now