বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
.
- ভাইয়া, ওই ভাইয়া।
;মুরগীর বাচ্চার মত ডাকিস কেনো?
-ডাকি কি আর সাদে?
;কি হইছে বলবি নাকি, চোপার দিয়ে দুই মারির চারটা দাঁত ফেলে দিব। তখন বুঝবি মাংস গিলে খাওয়ার সাধ কেমন?
-এক দম মিথ্যে কথা বলবে না?
;আমি সত্যিবাদি পোলা, মিথ্যা বলি না।
-ওহ ভুলেই গেছিলাম তুমি যে হুজুর।
-হ্যা! কি বলবি বল না হলে ফুটলি এখন থেকে।
;আমার বান্ধুবি তিথিকে চিনো?
;কে সে?
- কে সে তাই না?
;হ্যা কে সে?
-আমার হবু ভাবি।
;যা বইন তোর খিদা লাগছে, তাই ভুল প্রলাপ করছিস।
-ভাইয়া আমি সিরিয়াস।
;আমিও সিরিয়াস।
-তুই কি তার সাথে দেখা করছিস। তাও আবার পার্কে?
খাইছে রে এই কথা পাগলী টা জানল কি করে। আর আমি তো ইচ্ছে করে দেখাও করি নাই। আজ বুঝি বাসার ভাত কপালে নাই।
;ওই কথা।
-হ্যা কাহিনী কি বল?
;কোন কাহিনী নাই, একটা কাজে পার্কে গেছিলাম তখন দেখা হইলো পরে কিছুক্ষণ কথা বলছি আর কিছু না বইন বিশ্বাস কর।
-পার্কে কিসের কাজ? বাদাম বিক্রি কররো নাকি আইস্ক্রিম।
; ওই এক দম ফালতু কথা বলবি না বলে দিলাম। তোরে কে বলছে সেটা বল।
-ওনি নিজেই বলছে। আর এটাও বলছে আমি যেন তাকে ভাবি বলে ডাকি।
মারছে রে। আজ পিটের ছাল দিয়ে নিশ্চিত ছোট খাট একটা তবলা বানাবে। একটু পর বাসায় নিশ্চয় বড় একটা গোল মিটিং বসবে। টপিক হবে শিহাব আমাদের না জানিয়ে সম্পর্ক করছে।
নিশ্চয় ছোট চাচ্চু রেগে গিয়ে বলবে।
- ছেলের মুখ দিয়ে তো এখনো দুধের গন্ধ বের হয়! তাতেই এই সব।
তা শুনে ছোট চাচি আম্মা বলবে।
-এই বয়সে নাকে সমস্যা দিলো।
তাদের মাঝ দিয়ে কথা বলে উঠবে বাসার সব থেকে পিচ্ছি ছেলে হানিফ। খালি পিচ্ছি না কথায় যাকে বলে বুড়ো। আমার দাদা ভাইয়ার মত।
-যাক তবে সিরিয়াল থেকে একজন কমে গেলো। বাকি গুলা যেন দ্রুত যায় তাহলে আমার পথটা ক্লিয়ার।
হানিফের কথা শুনে সবাই তাকিয়ে আছে। ছোট চাচ্চু মনে হয় সরম পেয়েছে। তাই চেয়ার ছেড়ে ভিতরে চলে গেলেন। আমি ঘর থেকে সব স্পষ্ট শুনতে পেয়েছি। মনে হল সবাই খুশি। আমার আর তিথির সম্পর্ক সবে মাত্র এক বছর পার হয়েছে। পাগলী(ছোট বোন) কিছুটা জানে। তার বেষ্ট ফ্রেন্ডের সাথে সম্পর্ক জানাটাই স্বাভাবিক। তবে গত কাল পার্কের কথা তিথি বলছে বলে মনে হয় না। খুব চিন্তায় পড়ে গেলাম সাথে খুশিও। খুশি এই জন্যে আমার আর কষ্ট করে বাসায় বুঝাতে হল না। এমনিতেই বুঝে গেলো। যে বলেছে তাকে ধন্যবাদ। সবার আগে পাগলীকে ধন্যবাদ দিতে হবে। চলে গেলাম তার রুমে।
;কি করিস বইনে।
-ধন্যবাদ দিতে হবে না। আমি কিছুই বলি নি। আমাকে জিজ্ঞাস করা হয়েছিল যা জানি বলে দিছি। আর সকালে মিথ্যা কথা বলছিলাম। তুমি যেদিন তিথিকে প্রপোজ কর ও সেদিন আমাকে সব বলেছে।
;তাহলে বাসায় এই সব বলল কে?
-জানি না আমি।
এ দিকে মহা চিন্তা কে এত বড় উপকারটা করল
তার তো আমার প্রয়োজন। তার থেকে প্রয়োজন তিথির সাথে কথা বলাটা। ফোন বের করে ফোন দিলাম।
;কি করছে আমার জানটা।
'সাজুগুজু করছি।
;বল কি ছেলে দেখতে আসবে নাকি?
'না আমি ছেলেকে দেখতে যাব ।
;আস্তাকফিরুল্লাহ। এই সব কি বল জান। তুমি আমাকে ছাড়া আর কাউকে দেখবা না।
'বিয়ে করব, ছেলে তো দেখতেই হবে। এই শুন বিজি আছি পরে কথা বলব। বাই।
হায় আল্লাহ সে কয়কি। ছেলে নাকি দেখতে যাবে। কোথায়? আর আমার কি হবে? টেনশনে চুল ছিড়তে ইচ্ছা করছে। হাতের কাছের পানির গ্লাস নিয়ে ঢক ঢক করে পানি খেয়ে থপাস করে চেয়ারে বসে পড়লাম।
>বড় মিয়া চিন্তিত মনে হচ্ছে? (হানিফ)
;আর বলিস নে ছোট মিয়া, সর্বনাশ প্রায়।
> বল কি লুঙ্গী খুলে নেওয়ার ধমকি কেউ দিলো নাকি?
;এক দম ফাজলামো করবি না।
>এখানে ফাজলামো কোথায় বড় মিয়া। পুরুষের তো লুঙ্গী খুললে সর্বনাশ হয়? আচ্ছা কাহিনী কি সেটা বল তো।
;তোর ভাবি নাকি ছেলে দেখতে যাচ্ছে।
> আলাহামদুলিল্লাহ! এ কি, ছেলে দেখতে যাইব। তাহলে তোমার কি হবে। (বলেই চিব্বায় কামড় দিল)
;জানি না রে ভাই।
> তা জানবে কেমনে? পার্কের ব্রেঞ্জে কোমড় ধরে যখন বসে এক আইস্ক্রিম ভাগ করে খাও তখন কিছু মনে থাকে না। দুনিয়া থেকে কি লজ্জা সরম উঠে গেছে। বড় গুলার লাইগা ছোট গুলা একটু পার্কে যাইতে পারবে না। (বলেই দিল দৌড়)
;ওই দাড়া দাড়া
বাসায় তাহলে এই ফাজিলটা জানিয়েছিল। নিশ্চয় অর্চিরে নিয়ে ঘুরতে গেছিল। ফাজিল একটা। দেখছিস ভাল কথা বাসায় বলার ক দরকার ছিল। এক দিকে ফুলের বিচানা করলি কিন্তু তার নিছে কাটা দেয়ার কি দরকার। তিথির ফোনে আবার ফোন দিলাম কিন্তু রিসিভ করল না। চিৎকার করে কান্না করার ইচ্ছা করছে কিন্তু সম্ভব না। মহা টেনশনে আছি। টেনশনে দুপুরে খাইতে ভুলে গেছি। পেট মশাই আর সহ্য করছে না। তার খাবার চাই কিন্তু টেনশনে আমি তো ক্লান্ত। তখন ফোনে একটা ম্যাসেজ আসল।
-তোমার দেয়া নীল শাড়িটা পড়ে ছেলে দেখতে যাচ্ছি।
ম্যাসেজটা দেখে মনে হল জলন্ত আগুনে ডিজেল দিয়ে আগুন নিভানোর চেষ্টা করছে। আমিও একটা ম্যাসেজ দিলাম।
;বাবুটা যেও না। তাহলে আমার কি হবে বল?
-আমার বিয়া করা দরকার আমি যাবই।
;আমি তোমাকে বিয়ে করব।
-এত দিন তো না করছে বিয়া পরে করবা আজ কেনো। করব না বিয়া।
টেনশনের মাত্র বেড়েই চলছে তখন আম্মু ডেকে বলল
-বাবা শিহাব বাসায় মেহমান আসবে তুই গোসল করে রেডি হ।
;আইচ্ছা আম্মু।
শালার মেহিমান আসার সময় পেল না। ফ্রেশ হয়ে কাপড় পড়ে বাহিরে আসতেই দেখতে পেলাম সবাই জটলা পাকিয়ে দাঁড়িয়ে আছে তখন সবাইকে জিজ্ঞাস করলাম।
;কি হইছে ওখানে এভাবে দাঁড়িয়ে কেনো?
তখন হানিফ বলল
>বিদেশ থেকে আমার জন্যে একটা বউ অর্ডার দিয়ে আনছে তাই দেখা হচ্ছে। তুমি দূরে থাকো।
;এক দম মজা করবি না।
বলেই সিঁড়ি বেয়ে নিছে নেমে আসলাম। ভিড় সরিয়ে যা দেখলাম তাতে টাস্কি। এ দেখি তিথি।
নিজেকে সামলিয়ে যখন দিব একটা দৌড় তখন ফাজিলটা বলে উঠল
> বড় মিয়াও আজ কাল সরম পায় কি যে করি।
- ওই তুই চুপ থাকবি।(ধমক দিয়ে)
আরো বলতে লাগল..
-শিহাব আয় তো দেখি তোমাদের কেমন মানায়।
দুই জনকে পাশাপাশি দাড় করিয়ে দেখে বলল।
-মাশা-আল্লাহ। পার্ফেক্ট জোড়া
> এবার খালি আমারটা মেনে নিলেই হয় (হানিফ)
অতঃপর হাসির ঢল ।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now