বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

কবি ও তার কবিতারঙ্গ

"মজার গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান নাসরুল্লাহ (০ পয়েন্ট)

X কবির চোখ দিয়ে অঝরে অশ্রু ঝরছে। আহা কী একখানা লাইন লিখলাম! - মনে মনে ভাবে সে। তার আবেগ সব চোখ গলে গলগল করে বেরিয়ে আসছে। মধ্যরাত। চারদিক শুনশান। কবি তার ঘরের দক্ষিণের জানালার পাশের টেবিলে মগ্ন কবিতা লেখায়। পাশের ঘর থেকে হঠাৎ মায়ের কাশির শব্দ ভেসে আসে - খক্ খকর খক্ ! এমন নিস্তব্ধতার মাঝে সে শব্দ কবির কানে জোড়ালো হয়ে বাজে।তার আবেগের স্রোত কিছুটা স্তিমিত হয়। কবি ভাবে - ইশ, মায়ের চিকিৎসাটা হলো না এখনো ! আসলে ডাক্তার অনেকগুলো টেস্ট করাতে বলেছে। এতোগুলো টেস্ট করানো অনেক টাকার ব্যাপার। এতো টাকা সে একা কী করে জোগাড় করবে ? ভাই-বোনগুলোও এমন হয়েছে মায়ের সব দায়িত্ব তার দিকে ঠেলে দিয়ে নিজেরা সটকে পড়েছে। কবির মনে ক্রোধ ভাবের উদয় হয়। কিন্তু তা ঝেড়ে ফেলে সে আবার কবিতায় মন দেয়। ক'লাইন লেখা হলো গোনে। শেষ লাইনটা পড়ে আবার তার আবেগ চোখ গলে বেরুতে থাকে। ঘরের ভেতর টেবিল ল্যাম্পের মোলায়েম আলো। সে আলোয় কবির চোখ চলে যায় বিছানার পাশে রাখা ছোট্ট টেবিলটার দিকে। ওকি! টেবিলের ওপর এখনো ঐ মূল্যবান কাগজটা পড়ে আছে! নাহ্ তার বউটার আর আক্কেল বলতে কিছু হলো না। বিকেলে জমির বায়নানামাটা করে ফিরে এসে সে পই পই করে বলেছে কাগজটা যাতে যত্ন করে সিন্দুকে রাখা হয়। আর তার বউ কিনা সেটা এখনো বিছানার পাশে ফেলে রেখেছে! কবি বিরক্ত চোখে তার ঘুমন্ত বউ-এর দিকে তাকায়। কিন্তু আবছা আলোয় সে দেখে তার বউ-এর মুখে একটা কেমন মৃদু হাসি লেপ্টে আছে। কবি বোঝে, বউ তার ঘুমের আগেও ঐ কাগজটা উল্টেপাল্টে দেখেছে। আর নতুন জমি পাওয়ার আনন্দে তার মুখে অমন হাসি ফুটে আছে। কবির মুখেও হাসি ফোটে। লক্ষী বউ আমার - মনে মনে ভাবে সে - সোনার ডিমপাড়া হাঁস আমার ! তুমি অত ভালো চাকরি না করলে, সংসারের হাল এতো কঠোর ভাবে না ধরলে আজ কী আর আমাদের জমি হতো ! সে আবার কবিতা লেখায় মন দেয়। এ নিয়ে মোট ক'টা কবিতা হলো গোনে। আগামি বই মেলায় একটা বই বের করতে হলে ক'টা কবিতা লাগবে হিসাব করে। হিসাবে ব্যাঘাত ঘটায় তার মোবাইলটা। এতো রাতে সাইলেন্ট করা থাকলেও ভাইব্রেশনে ঘর্ ঘর্ করে কেঁপে ওঠে সেটা। স্ক্রীনে ভেসে ওঠে 'নিউক্লিয়াস ১'। এটা তার দু'জন ব্যবসায়িক পার্টনারদের একজন। সে দু'জনের নাম মোবাইলে সেভ করেছে নিউক্লিয়াস ১ আর নিউক্লিয়াস ২ নামে। এরা হচ্ছে তার ব্যবসার মূল পার্টনার। আরও কিছু ছুটকা পার্টনার ছিল তার ব্যবসায়। কিন্তু তারা তাকে বিশেষ কোন সুবিধা দিতে রাজি না হওয়ায় একেকটাকে লাথি মেরে তাড়িয়েছে সে। কবি ফোনটা রিসিভ করে আগ্রহের সাথে - হ্যালো দোস্ত কী খবর বল ? - 'আরে দোস্ত খবর খুব ভালো। তেলের বড় চালানটা গোডাউনে তুইলা ফালাইছি।' ও পাশে হাসি মাখা কন্ঠ নিউক্লিয়াস ১-এর। - সাব্বাশ ! তোরে দিয়া হইবো দোস্ত। আচ্ছা, প্যাকেটগুলা সব চেক করছোস তো ? আসল নকল বোঝা যায় না তো ? - আরে না, সব ঠিকঠাক আছে। ১০০% ওকে। - এক্সিলেন্ট ! শোন বাড়তিগুলার খবর নিউক্লিয়াস ২-রে কস নাই তো ? - একদম না। - গুড। ঐগুলা তোর আর আমার। এখন বাড়ি যা। ঘুমা। - আরে শোন, ঠোলা মামা ফোন দিছিল। অফিসে আসতে চায়। - ঐটা আমি দেখুমনে। কালকে একটা খাম নিয়া ধরায়া দিমুনে। - আচ্ছা ঠিক আছে তাইলে। খোদা হাফেজ। - খোদা হাফেজ। হাসি মুখে কবি লাইন কাটে। আহা, মনটা তার ফুর্তিতে নেচে ওঠে। আগামি কয়টা দিন ভালো যাবে বোঝা যাচ্ছে। মনের ভেতর যদিও একটা খচখচানি মাথা চাড়া দেয়। কিন্তু সে মনকে প্রবোধ দেয় - ব্যবসায় আবার আসল নকল কী! টাকা ইনকামটাই বড় কথা। আর দুনিয়ার রীতিই হইলো 'মারো নয় তো মরো'। কবি আবার কবিতায় মনযোগী হয়। ব্য বসায়িক কথাবার্তায় আবেগের ঢল একটু কমে এসেছে। তবে কবির গভীর প্রচেষ্টায় তা আবার চক্ষু গলে বেরিয়ে আসে। আহারে লাইনগুলো কী মর্মভেদী হচ্ছে রে ! মোবাইল ফোনের ভাইব্রেটর আবার তার আবেগের রাশ টেনে ধরে। এবার স্ক্রীনে ভেসে উঠেছে 'মফিজ ১১'। এই মফিজগুলা হচ্ছে কবির ব্যবসার সাপ্লায়ার। সব মফিজের কাজ পাওয়ার শর্ত হচ্ছে কবিকে টু-পাইস বখড়া দেয়া। বখড়া না দিলে কাজ নাই। কবি মহা বিরক্তি ভরে ফোন ধরে - কী ব্যাপার, এতো রাতে ফোন দিছেন ক্যান ? - স্যার, এই মাত্র আপনের গোডাউনে দুইশ কার্টন তুইলা দিয়া আইলাম। বিলটাও পাইছি নগদ নগদ। - ভালো খবর। তা এইটা তো সকালে ফোন করেও বলতে পারতেন ? - না স্যার, আমি ইকটু বিপদে আছি তো এই জইন্য ফোনটা দিলাম। - কী বলবেন বলেন। - স্যার, বলতেছিলাম কী, আপনের এইবারের ভাগের টাকাটা যদি আগামি বিলের লগে একবারে নিতেন, তাইলে .... ওপাশের কথা শেষ হবার আগেই কবি ধমকে ওঠে - শোনেন মিঞা, কাজ করতে চান নাকি চান না? করতে চাইলে ভালোয় ভালোয় আমার ভাগ আগামি কাল ১০টার মধ্যে আমার এ্যাকাউন্টে জমা করবেন। তা না হইলে এমন লাত্থি মারুম উইড়া গিয়া বুড়িগঙ্গার ঐপাড়ে পড়বেন। বুঝছেন আমার কথা?! - জ্বি স্যার, জিজ-জ্বি স্যার। ওপাশ থেকে তোতলানো শব্দ ভেসে আসে। কবি লাইন কেটে দেয়। মোবাইলটাকে ঠকাস করে টেবিলে ফেলে। এই মফিজগুলারে লাথিগুতার উপর না রাখলে হয় না। সুযোগ পেলেই লাইন ছেড়ে বেলাইনে চলে যায়। সে টেবিলের কর্নারে রাখা কমলার ‌জ্যুসের গ্লাসটা তুলে নেয়। চুমুক দেয়। কমলার সুমিষ্ট স্বাদে তার ক্রোধ প্রশমিত হয়। তার আবেগ আবার উথলে ওঠে। গ্লাস নামিয়ে রেখে সে কবিতার লাইন গোনে। দশ লাইন হয়েছে। বাহ্ আর চার লাইন হলেই একখানা সনেট হয়ে যাবে!


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৯১ জন


এ জাতীয় গল্প

→ কবি ও তার কবিতারঙ্গ

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now