বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
"কাউন্ট ড্রাকুলা"
লেখক : ব্রাম স্টোকার
অনুবাদক : তন্ময় বন্দ্যোপাধ্যায়
--------------------------
পর্ব ১১
জোনাথনের দিনলিপি
৩০ শে অক্টোবর, রাত্রি।।
স্টিমলঞ্চে বসে ডায়েরি লিখছি। পর্যাপ্ত আলো না থাকায় অক্ষরগুলি উঁচু নীচু হয়ে আসে। অনুমান করতে পারি ৪৭ ডিগ্রি উত্তর অক্ষাংশ নদী ও কারপাথিয়ান পর্বতঘেরা পথেই কাউন্ট তার নিজের রাজত্বে ফিরে চলেছে। তাকে বাঁচতে হলে জলপথের আশ্রয় নিতেই হবে। কারণ স্থলপথে ঐসব বড় বড় বাক্স বহন করে নিয়ে যাওয়ার ঝামেলা অনেক, যা জলপথে প্রায় নেই বললেই চলে।
আমাদের লঞ্চ দ্রুত বেগে এগিয়ে চলেছে। আর্থার আমায় কিছুক্ষণ ঘুমিয়ে নিতে বললেন। আমার কিন্তু ঘুম আসছে না। মীনার কথা মনে পড়ছে। জানিনা সে কেমন আছে। ডাঃ সিউয়ার্ড আর মরিস কতদূর এগিয়েছে কে জানে!
অন্ধকারের বুক চিরে লঞ্চের তীব্রগতি, ইঞ্জিনের কেঁপে ওঠা শব্দ, জলকল্লোল, হিমেল হাওয়ার ঠাণ্ডা ছোঁয়া.... সব মিলে মন্দ লাগছিল না। আমরা যদি আরও দ্রুত এগোতে পারতাম!
৩১ শে অক্টোবর।।
দিনের আলো ফুটেছে। ভীষণ ঠাণ্ডা। কয়েকটি নৌকো রাজ্যের ক্লান্তি নিয়ে মন্থর গতিতে এগিয়ে চলেছে। কোনওটিতেই বাক্স নেই। আর্থার নিদ্রিত।
১ লা নভেম্বর, সন্ধ্যা।।
এখন আমরা বিসত্রিসের ভেতর চলেছি। মাঝিদের অনেক প্রশ্ন করেছি কিন্তু তারা কোনও বিরক্তি প্রকাশ করে নি। কয়েকজন স্লোভাক একথাও জানিয়েছে যে বড় একটা নৌকো তাদের পাশ কাটিয়ে চলে গেছে। কনকনে ঠাণ্ডা। আর্থার আমায় বিশ্রাম নিতে বললেন।
২ রা নভেম্বর, সকাল।।
আর্থার আমায় জাগান নি। তাঁকে বসিয়ে রেখে আমার এতক্ষণ ঘুমোন ঠিক হয় নি। সঙ্কোচ বোধ করছি। ঘুমের মাঝে দু:খ কষ্ট ভুলে ছিলাম। গত রাতে আর্থার সারাক্ষণ পাহারা দিয়েছেন! এখন আমার পালা।
ঘোড়া ও গাড়ি কিনতে হেলসিংয়ের বেশ কিছুটা সময় নষ্ট হবে। অবসাদ ভুলে তাঁরা যদি এগিয়ে থাকেন তাহলে এতক্ষণে তাঁদের বোরগো পাসে পৌঁছনোর কথা।
তিনদিন হল ডাঃ সিউয়ার্ড আর মরিসও পথে বিপথে ঘুরছেন। প্রতি মূহুর্তই তাঁদের কাছে মূল্যবান। তুষারপাত শুরু হয়েছে। ক্রমে ক্রমে পথেঘাটে বরফ জমে ওঠে। শীতে কাঁপতে কাঁপতে ডাঃ সিউয়ার্ড বললেন, " মরিস, এবার বোধহয় আমাদের রুশীয় মানুষদের মতো স্লেজ গাড়ির সাহায্য নিতে হবে।"
মরিস বললে, " মন্দ কি? এডভেঞ্চার জমে উঠবে।"
ধূসর আকাশের মাঝে সূর্যের মুখ দেখা যাচ্ছে। রোদ উঠছে ধীরেধীরে। একটু পরেই বরফ গলবে। নিশ্বাস প্রশ্বাসের শব্দ শোনা যাচ্ছে। ডাঃ সিউয়ার্ড গভীর চিন্তামগ্ন। দুঃসাহসিক ভ্রমণ মরিসের ভাল লাগে....সে তাই খুশীতে উজ্জ্বল।
মীনার ডায়েরী
২১ শে অক্টোবর।।
এখন দুপুর। আমরা ভারেস্টিতে এসেছি। হেলসিং ঘোড়া ও গাড়ি কেনার জন্য বেরিয়েছেন। এখনও আমাদের সত্তর মাইল পথ অতিক্রম করতে হবে।
প্রতিদিনের মতো আজও সকালে হেলসিং আমায় সম্মোহিত করেন। আমি বলেছিলাম, " অন্ধকার। চুপচাপ। "
ভারেস্টি ফরাসী শিল্পির আঁকা একটি রঙিন ছবির মতো। রঙিন টালির বাড়িটি কি সুন্দর! আর একটু এগিয়ে আকাশের নীল আর গম ক্ষেতের সবুজ মিলে মিশে একাকার হয়ে গেছে। ইচ্ছে করে ঘোড়া ছুটিয়ে গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে ছুটে যাই। শ্রান্ত হলে সহজ সরল গ্রামবাসীদের কুঁড়েঘরে আশ্রয় নিতাম, ড্রাকুলা যদি না থাকত।
গাড়ি ও ঘোড়া কিনে এইমাত্র হেলসিং ফিরলেন। নৈশভোজের পর আমরা পুনরায় যাত্রা শুরু করলাম। এখানকার জমিদার গিন্নি আমাদের সঙ্গে এক ঝুড়ি খাবার দিয়েছেন। একটুও বাড়িয়ে বলছি না, একদল সৈন্যের ক্ষিদে মিটিয়েও খাদ্য বেঁচে যাবে। হেলসিং অনেকগুলো ফারকোট আর শীতবস্ত্র কিনে নিয়েছেন।
১ লা নভেম্বর।।
ভাল ব্যবহার পেয়েছে বলে বোধহয় ঘোড়াগুলি সারাদিন বেশ দ্রুতগতিতে ছুটেছে। অধ্যাপক হেলসিং অল্প কথার মানুষ। তিনি কৃষকদের বলেছেন, " আমাদের খুব তাড়াতাড়ি বিসত্রিসে পৌঁছতে হবে। "
তিনি তাদের অনেক টাকাপয়সা দিয়েছেন এবং বিনিময়ে গরম ঝোল, কফি এবং সবুজ চা আদায় করেছেন। খাওয়া দাওয়া সেরে আবার আমরা যাত্রা করি। এত সুন্দর দেশ আর আগে দেখিনি। গ্রামবাসীরা সহজ, সরল ও শক্তিশালী। দোষের ভেতর তারা কুসংস্কারাচ্ছন্ন। আমরা এক চাষীর বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিলাম। আমার গলার ক্ষতের দিকে দৃষ্টি পড়তেই বাড়ির গিন্নী সাত হাত পিছিয়ে গেলেন। ভয় পেয়ে তিনি বুকে ক্রুশ চেপে ধরলেন এবং কুদৃষ্টির প্রভাবমুক্ত হবার জন্যে আমাদের খাদ্যে অতিরিক্ত রসুন মিশিয়ে দিয়েছিলেন। অবশেষে আমি একটা উপায় বের করলাম। টুপি দিয়ে কপালের অর্ধেক ঢেকে রাখায় আর কেউ আমার ক্ষত দেখতে পায় নি।
হেলসিংয়ের অক্লান্ত কর্মদক্ষতা আমায় বিস্মিত করেছে। সূর্যাস্তের সময় তিনি আমায় সম্মোহিত করেছিলেন। আমি বলেছিলাম, " অন্ধকার, জলোচ্ছ্বাস ও বনমর্মর।" হেলসিং বললেন, " তোমার উক্তি থেকে আমি এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছি যে শয়তান কাউন্ট ড্রাকুলা এখনও জলপথেই রয়েছে। "
হেলসিং ঘুমোচ্ছেন। যতক্ষণ তিনি জেগেছিলেন তাঁর সুপ্রসন্ন মুখ বেশ উজ্জ্বল।
একজন চাষীর বাড়ি বসে এই ডায়েরী লিখছি। ঈশ্বর জানেন শেষ পর্যন্ত আমরা জয়ী হব কিনা!
২ রা নভেম্বর, রাত্রি।।
জানিনা পথের শেষ কোথায়। ঘোড়াগুলো খুব ছুটেছিল তাই অনেকটা পথ অতিক্রম করতে পেরেছি। অসীম বিস্ময়ে তাকিয়ে আছি কারপেথিয়ান পর্বতের দিকে।
কাল সকালে বোরগো গিরিপথে পৌঁছনোর কথা।
( ক্রমশ)
--------------
।। একাকী কন্যা ।।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now