বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

কাউন্ট ড্রাকুলা-০৯

"ভৌতিক গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X "কাউন্ট ড্রাকুলা" লেখক : ব্রাম স্টোকার অনুবাদক : তন্ময় বন্দ্যোপাধ্যায় ----------------------------- পর্ব ৯ জোনাথনের দিনলিপি ৩ রা অক্টোবর।। ছোটই হোক বা বড়ই হোক, প্রতিটি ঘটনার বিবরণ লিখে রেখে যাব। এর একটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে। মীনা আমায় আশার আলো দেখিয়েছিল। বলেছিল, " ভেঙে পড়ছ কেন? দু:খ কষ্টের ভেতর দিয়ে ঈশ্বর আমাদের পরীক্ষা করেন। আশা আর বিশ্বাস হারাবে না। শেষ পর্যন্ত জয়ী হবে।" হেলসিংয়ের দিকে চেয়ে মীনা বলে, " এখন থেকে আপনাদের চিন্তা আর অগ্রগতির ব্যাপারে আমায় কিছু জানাবেন না। কি জানি যদি আমার ওপর ড্রাকুলার প্রভাব পড়ে থাকে! তাহলে সবচেয়ে কাছের হয়েও আপনাদের চলার পথের সবচেয়ে বড় শত্রু হব আমি!", মীনার সুন্দর চোখদুটো জলে ভরে ওঠে। হেলসিং তাকে আশ্বাস দেন, " আমাদের চলার পথে তোমার শুভেচ্ছা ও সহায়তার জন্য তোমার কাছে আমরা কৃতজ্ঞ। আমার স্থির বিশ্বাস ড্রাকুলা তোমায় প্রভাবিত করতে পারবে না। তুমি তো জান, পৃথিবীতে যখন সক্রিয়তার জোয়ার আসে, ড্রাকুলার ক্রিয়াকলাপে নিষ্ক্রিয়তার ভাঁটা পড়ে। সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত - এই সময়ের সুযোগটুকু যদি আমরা ঠিকমতো না নিতে পারি, তাহলে আমাদের পরাজিত হতে হবে। কাদা ভর্তি প্রতিটি বাক্স খুঁজে ধূর্ত শেয়ালটাকে ফাঁদে ফেলতেই হবে। অবশ্য এ কথা মিথ্যে নয় যে বাড়ি ফেরার সবচেয়ে সংক্ষিপ্ত রাস্তাটি অনেক সময় সুদীর্ঘ হয়ে দাঁড়ায়"। কৃতজ্ঞতায় মীনার ম্লান মুখে ঔজ্জ্বল্য আসে। ডাঃ সিউয়ার্ড প্রশ্ন করেন, " পিকাডেলির বাড়ির ভেতর আমরা কিভাবে ঢুকব?" আমি বললাম, " যে কোন প্রকারে। দরকার হলে দরজা ভাঙব।" " তোমাদের পুলিশ কি নীরব নিষ্ক্রিয় হয়ে আমাদের এই অন্ধকার প্রবেশ সহ্য করবে"?, হেলসিং সহাস্যে বলে ওঠেন। ধৈর্য হারিয়ে আমি অত্যন্ত উত্তেজিত হয়ে উঠেছিলাম। কিন্তু নিজেকে সংযত করি। জ্ঞানবৃদ্ধ হেলসিংয়ের দূরদর্শিতা বিষয়ে আমি নিঃসংশয়। বললাম, " বাদানুবাদে আর সময় নষ্ট করবেন না, যা করবেন তাড়াতাড়ি করুন। আমার ভেতর যে কি প্রচণ্ড ঝড় বইছে যদি আপনি বুঝতেন।" " আমি সবই বুঝছি জোনাথন। কিন্তু আমাদের কাছে পিকাডেলির বাড়িতে ঢোকার চাবি নেই। " আমি বললাম, " একজন অভিজ্ঞ চাবিওয়ালাকে ডেকে অতি সহজেই চাবি তৈরি করিয়ে নেওয়া যায়।" হেলসিং বললেন, " পুলিশের চোখে পড়ার আশঙ্কা আছে। অবশ্য যাঁরা রাতে পাহারা দেন, তাঁরা যে কত কর্তব্যনিষ্ঠ তা জানতে বাকি নেই। রাজপথে আলোর নীচেই তাঁদের যত বীরত্ব আর আস্ফালন। গলি ঘুঁজিতে তাঁরা বড় একটা প্রবেশ করেন না। চোরদের কিঞ্চিৎ সুবিধা না দিলে হাঁস মুর্গীর দাক্ষিণ্য থেকে যে তাঁদের বঞ্চিত হতে হবে।" আর্থার প্রশ্ন করে, " ঘোড়াদুটিকে প্রস্তুত রাখি, কি বলেন?" মরিস বলল, " ঘোড়ায় চড়ে যেতে পারলে মন্দ হতো না। তবে হেঁটে যাওয়াই ভাল। অত জাঁকজমক সহকারে পথ চললে লোকের নজর পড়বে আমাদের ওপর। " " মরিস ঠিকই বলেছে", হেলসিং মন্তব্য করলেন। আমাদের মন্ত্রণার বিষয় শুনে মীনা আনন্দিত হল। তার দাঁতের অস্বাভাবিক ঔজ্জ্বল্য দেখে আমি ভীত হলাম। কিন্তু এ সম্পর্কে আমি তাকে কিছু বললাম না। পিকাডেলিতে যাবার পথে ডাঃ সিউয়ার্ডের পাশের পোড়ো বাড়িটাতে, যেখানে আমরা গত রাতে হানা দিয়েছিলাম, সেখানে ড্রাকুলার প্রবেশ বন্ধ করতে হবে। আমি বললাম, " হেলসিং, আর দেরী করবেন না, চলুন বেরিয়ে পড়ি।" তর্ক বিতর্ক, আলাপ আলোচনায় যখন আমরা দিশেহারা, তখন মীনা আমাদের কর্তব্য সচেতন করে দিয়ে বলে, " প্রাতরাশ প্রস্তুত। খেয়ে নিয়ে এখুনি বেরিয়ে পড়ুন।" আলস্য কাটিয়ে হেলসিং উঠে দাঁড়িয়ে বলেন, " মীনা ঠিকই বলেছে, আর সময় নষ্ট করা উচিত নয়।" পরিকল্পনা মতো হেলসিং আমাদের ঘর সাজিয়েছেন। বলা বাহুল্য ড্রাকুলা যেসব জিনিস সইতে পারে না যেমন, রসুন ফুল, ক্রুশ এইসব দিয়ে ঘর সাজান হয়েছে। প্রাতঃরাশের পর আমাদের ক্লান্তি কাটল। হেলসিং মীনার ক্ষতে রঙীন কিছুটা আঠা লেপে দিলেন। গত রাতের ভয়ঙ্কর স্মৃতির কথা মনে পড়তেই মীনা ভয় পেল এবং কেঁদে উঠল। " কাঁদছ কেন? কোনও ভয় নেই। ঐ পিশাচের প্রভাব তোমার ওপর পড়বে না", হেলসিং বললেন। ডাঃ সিউয়ার্ডের উন্মাদ আশ্রমের পাশের পোড়ো বাড়ি কারফ্যাক্সে রাখা বড় বড় বাক্সের ভেতর যে মাটি ছিল হেলসিং তাতে বিচিত্র বর্নের কি কতগুলো ছড়িয়ে দিয়ে বললেন, " এখানের কাজ শেষ হল। এবার আমরা পিকাডেলির বাড়িতে হানা দেব। " দুপুর সাড়ে বারোটায় আমরা ফ্রেঞ্চ চার্চ স্ট্রীটে পৌঁছলাম। বিষন্ন দুপুর। হাঁটতে হাঁটতে আমরা পিকাডেলির সেই পুরনো বাড়িটার কাছে এসেছি। আর্থার আর মরিস চাবিওয়ালার খোঁজে গেছেন। তাঁদের অনুরোধমত আমরা গ্রীণপার্কের আড়াল থেকে বাড়িটার প্রতি দৃষ্টি রাখলাম। আর্থার বলেছেন, " চাবিওয়ালা কাজ শেষ করে চলে যাওয়ার পর আপনারা আসবেন।" লোকটি লোহার বাক্স খুলে অনেকগুলো চাবি বের করল। দরজার তালায় একের পর এক চাবি ঢুকিয়ে সে মাপ নিল। মূহুর্তের ভেতর সে চাবি তৈরি করে ফেলল। পারিশ্রমিক দিয়ে মরিস তাকে বিদায় করল। লোকটি চলে গেলে আমরা সন্তর্পণে রাস্তা পার হয়ে পিকাডেলির বাড়িতে উপস্থিত হলাম। ভেতরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দিলাম। আটটি কফিনের খবর মিলল। আমাদের কাজ এখনো শেষ হয় নি। ধুলোমাখা জানলার খড়খড়ি তুলে ভেতরে দেখলাম, কতকাল আগের বিরাট এক আস্তাবল। একটি একটি করে আটটা কফিনবক্সই খুললাম আমরা। হেলসিং সেগুলোতে রসুনফুল ছড়িয়ে দিয়ে বললেন, " এগুলোতেও ড্রাকুলার অনুপ্রবেশ বন্ধ হল। " অনুসন্ধান কাজ আমাদের এখনো শেষ হয়নি। আমরা যথারীতি অনুসন্ধান চালাতে লাগলাম। এদিকে ডাঃ সিউয়ার্ডের চাকর এসে বাইরে থেকে ডাকাডাকি শুরু করেছে। মীনা একটি চিরকুট পাঠিয়েছে। তাতে লেখা, " ড্রাকুলার সঙ্গে সংঘর্ষ ঘটতে পারে। বিশেষ এক শুভ শক্তির নির্দেশে আপনাকে সাবধান করে দিচ্ছি। অলক্ষ্য থেকে কে যেন আমায় স্মরণ করিয়ে দিয়েছে, দিনের বেলায় কাউন্ট ড্রাকুলা আজ বিশেষ ক্ষমতা পেয়েছে এবং বারোটা পঁয়তাল্লিশ মিনিটে দুর্বার গতিতে কারফ্যাক্স থেকে পিকাডেলির দিকে এগিয়ে চলেছে।" নিদারুন এক আতঙ্কে সকলে কাঁপছে। স্তব্ধতার মাঝে হেলসিংয়ের কন্ঠে ধ্বনিত হল, " প্রস্তুত হও"। কুয়াশা ভেদ করে কাউন্ট ড্রাকুলা উপস্থিত হল আমাদের সামনে। মুখে তার অবজ্ঞার কুটিল রেখা। বিশাল গ্রীবা বিস্তার করল, উদ্দেশ্য সকলের মনে আতঙ্ক সৃজন করা। হেলসিং হাতের ক্রুশটা তার দিকে বাগিয়ে ধরেছিলেন, তাই রক্ষে। ক্রুশটার থেকে নিজেকে নিরাপদ দূরত্বে রেখে কাউন্ট সক্রোধে আমায় উদ্দেশ্য করে বলল, " মিস্টার হার্কার, মিস্টার হার্কার, আপনি!" আমি বললাম, " হ্যাঁ, কাউন্ট, আমি, তোমার দিন এবার ফুরিয়ে এসেছে কাউন্ট, তোমায় আমরা এদেশ থেকে, এই দুনিয়া থেকে উৎখাত করে ছাড়ব এবার।" বিকট হেসে কাউন্ট বললে, " বোকাদের দল, সে তোরা পারবি না। দিনের বেলায় আমার অসহায় অবস্থার সুযোগ নিয়ে তোরা আমায় বধ করতে চেয়েছিলি! কিন্তু মনে রাখিস, আমারও অসংখ্য গুপ্ত আড্ডা আছে। আর মীনা এখন থেকে আমার আদেশে উঠবে বসবে....প্রয়োজনমত আমি তাকে তোদের বিরুদ্ধে পরিচালিত করব। কসাইয়ের কাছে ভেড়ার পালের যেরকম অবস্থা হয়, তোদেরও সেই অবস্থায় পড়তে হবে।" বলতে বলতে অদৃশ্য হয়ে গেল কাউন্ট ড্রাকুলা। শয়তান রক্তচোষাটা চোখের আড়াল হয়ে যেতেই আমাদের আফশোস হতে লাগল, হাতের কাছে পেয়েও তাকে বধ করতে পারলাম না! আমরা আস্তাবলের ভেতর, আশে পাশে অনেক খুঁজলাম, আর দেখা গেল না তাকে। এদিকে সূর্যাস্তের সময় হয়ে এল। আমরা বাড়ি ফিরে চললাম। আহার অন্বেষণ ও নীল আকাশের বুকে ভেসে বেড়ানো শেষ হলে শ্রান্ত পাখি যেমন দিনের শেষে ঘরে ফেরে, আমরাও বাড়ি ফিরলাম। অবসাদ, সংগ্রাম আর সংঘর্ষের মাঝে একটা দিন কেটে যায়। ড্রাকুলাকে বধ করাই আমাদের জীবনের একমাত্র লক্ষ্য এখন, আজকের ব্যর্থতার পরও হারাইনি আমাদের উদ্দীপনা। জোনাথনের দিনলিপি ৪ ঠা অক্টোবর।। সূর্য উঠেছে। চারদিকে আলোর বন্যা। গাছের পাতায় পাতায় ডালে ডালে বাতাসের শিহরণ। একদিন এসব কিছু আমার ভাল লাগত। কিন্তু আমার সৌন্দর্য প্রীতি, শান্তি সবকিছু কেড়ে নিয়েছে ড্রাকুলা। প্রতিরাতে আমাদের ঘরে পাহারার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ওদিকে, মীনার অনুরোধে হেলসিং ড্রাকুলার গতিবিধি জানতে মীনাকে সম্মোহিত করেন। মীনার চোখ বুজে আসে। সে বলে... " এ যেন এক স্বপ্নময় অপরিচিত জায়গা।" " তুমি কি দেখছ?", হেলসিং প্রশ্ন করেন। " আমি কিছুই দেখছি না", মীনা উত্তর দেয়, " সর্বগ্রাসী অন্ধকার। অবিরত জলোচ্ছাসের শব্দ আর খালাসিদের চিৎকার ছাড়া আর কোনও শব্দই শুনছি না।" হেলসিং বললেন, " তার মানে বোঝা যাচ্ছে কাউন্ট কোনও জাহাজে রয়েছে, কফিনবন্দি অবস্থায়। লন্ডনের খেলা শেষ হয়েছে। কাউন্ট আবার ফিরে যাচ্ছে ট্রানসিলভ্যানিয়ায়, পুরনো রাজত্বে।" মরিস বললে, " আর দেরী করা চলে না, লন্ডন বন্দরে অনেক জাহাজ দাঁড়িয়ে আছে। নির্দিষ্ট জাহাজটিকে খুঁজে বের করে নিতে হবে।" " কিভাবে খুঁজে বের করবে?", হেলসিং প্রশ্ন করেন। " আমি ঠিক খুঁজে নেব।" মীনার ডায়েরী ৫ ই অক্টোবর, বিকেল পাঁচটা।। হেলসিং বললেন, " আমার মনে হয় দানিয়ুবের ব্ল্যাক সি'র পথ ধরেই কাউন্ট ট্রানসিলভ্যানিয়া ফিরে যাবে। যে জাহাজগুলি নোঙর ফেলে লন্ডন বন্দরে দাঁড়িয়ে আছে সেগুলোর কোনওটাতেই বাক্সের হদিশ মেলেনি। তবে পোর্ট কমিশনার জনৈক কেরানির কাছ থেকে একটা তথ্য জানা গেছে, " সিজারিনা ক্যাথারিন' নামের জাহাজটিতে এরকম কিছু বাক্স তোলা হয়েছিল। সেই জাহাজ একটু আগে ভার্নার উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছে। লোকটিকে আরও কিছু ঘুষ দিতেই সে গড়গড় করে যা বলল, তা হল, গতকাল সন্ধ্যেবেলায় এক ভদ্রলোক তাড়াহুড়া করে আমাদের অফিসে এলেন। তিনি খুবই রোগা আর অসম্ভব লম্বা। বড় অদ্ভুত আর রহস্যময় তার আচরণ। কথা বলার সময় তার চোখদুটো আমাদের শরীরের ওপর বোলাচ্ছিল আর থেকে থেকে চকচক করে উঠছিল। কথা বলার সময় তার তীক্ষ্ণ ছুঁচালো কষদাঁত দুটো সবার আগে নজরে পড়ছিল। কালো ওভারকোট পরেছিলেন তিনি আর তাঁর মাথায় ছিল একটা খড়ের টুপি, যা মোটেও যুগোপযোগী নয়। লোকটি জিজ্ঞেস করলেন, ' ব্ল্যাক সি তে পাড়ি দেবে কোন জাহাজ?" সিজারিনা ক্যাথেরিনের সময়সূচী জেনে তিনি কোথায় যেন গেলেন। কিছুক্ষণের ভেতরেই বিরাট একটা ঠেলাগাড়ি ঠেলতে ঠেলতে জাহাজের কাছে এলেন। গাড়িতে বিরাট কতগুলো কফিনের মতো দেখতে বাক্স। ক্যাপ্টেন এলে তিনি বাক্সটিকে জাহাজে তোলার ব্যবস্থা করতে অনুরোধ করলেন। ক্যাপ্টেন বললেন, সাফ বলে দিচ্ছি আমার জাহাজে জায়গা নেই। অনুনয় বিনয় ও প্রলোভনে অবশেষে ক্যাপ্টেনের মন ভেজে। অত:পর বাক্সটি কোথায় রাখা উচিত এ ব্যাপারে ঐ ভদ্রলোক অনেক কথা বলেছিলেন। এদিকে দূর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার জন্য ' সিজারিনা ক্যাথেরিন' নির্দিষ্ট সময়ের কিছু পরে যাত্রা করবে, ক্যাপ্টেনের এই নির্দেশে নাবিকেরা স্বস্তির নিশ্বাস ফেলল। অবশেষে কুয়াশার মাঝে জাহাজটির বাঁশি শোনা গেল। ক্যাথেরিন বন্দর ছেড়ে গেল।" জোনাথন বলল, " দানিয়ুবের মুখে পৌঁছতে অনেক সময় লাগবে, তার আগেই স্থলপথে আমরা সেখানে গিয়ে পৌঁছবো। কফিন বাক্সগুলো ভার্নাতেই নামানো হবে। ওটাই হবে আমাদের শেষ সুযোগ। " কাউন্ট ড্রাকুলা যুগ যুগ ধরে রক্ত শুষে চলেছে। ট্রানসিলভ্যানিয়ার মানুষগুলোর রক্তশূন্য ফ্যাকাশে দেহে তার আকর্ষণ ফুরিয়ে এসেছিল। তাজা রক্তের লোভেই সে লন্ডনে ছুটে এসেছিল, তাড়া খেয়ে আবার তার নিজের রাজ্যে ফিরে চলেছে। আমি বললাম, " তাকে ইংলন্ড থেকে তাড়ানো হয়েছে। কোনওদিন আর সে এখানে ফিরবে না। যে জঙ্গলে বাঘ শিকার করা হয়েছে পালিয়ে যাওয়া বাঘ আর সে জঙ্গলে ফিরে যায় না। " ডাঃ সিউয়ার্ড বললেন, " যাই হোক প্রাসাদে ফেরার আগেই তাকে আমাদের বধ করতে হবে।" অত:পর আমরা কোন পথে চলব, কি করা উচিত তা ঠিক করতে লাগলাম। ডাঃ সিউয়ার্ড বললেন, " যতক্ষণ ঘুম না আসে আমরা চিন্তা করব।" হেলসিং বললেন, " সুন্দর প্রস্তাব। কিন্তু সারা রাত জেগে থাকলে নিঃসন্দেহেই আমরা কর্মক্ষমতা হারিয়ে ফেলব।" দু:খ আর নৈরাশ্যের মাঝেও সকাল আসে। চারদিকে আলো ছড়িয়ে পড়ে। কর্মচাঞ্চল্যের স্রোত বয়। আজ পাঁচই অক্টোবর। ঘুম থেকে উঠে ডাঃ সিউয়ার্ড সাত পাঁচ নানা কথা ভাবছিলেন। ড্রাকুলা বৃত্তান্তকে তাঁর দীর্ঘ স্বপ্ন মনে হয়। কিন্তু মীনার গলার কাছের জমাট রক্ত দিয়ে মুখবন্ধ ছিদ্রদুটো ড্রাকুলার অস্তিত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। অভিজ্ঞ হেলসিং সেদিন বলেছিলেন যে মীনার মধ্যে রক্তচোষার লক্ষণ দেখা দিচ্ছে। তার দাঁতগুলো আজকাল অস্বাভাবিক চকচক করে। হেলসিং একথাও বলেছিলেন, " মীনা যাতে আমাদের পরিকল্পনা ও অগ্রগতি জানতে না পারে সেদিকে দৃষ্টি রাখতে হবে। জানি এই নিষ্ঠুরতা ক্ষমার অযোগ্য কিন্তু উপায় নেই।" বন্দরে খোঁজ নিয়ে জানা গেল, সিজারিনা ক্যাথেরিনের ভার্না পৌঁছতে তিন সপ্তাহ লাগবে। হেলসিং বললেন, " কাল সকালেই আমরা ভার্নার উদ্দেশ্যে যাত্রা করব। স্থলপথে আমরা তিনদিনেই ভার্না পৌঁছতে পারব। জাহাজটি ভার্না বন্দরে থামার সাথে সাথেই বাক্সটি খুঁজে বের করতে হবে; তারপর তার ওপর ছড়িয়ে দিতে হবে একমুঠো বুনো গোলাপ।" মরিস বললে, " বাক্সটি দেখা মাত্রই আমি সেটি খুলে ফেলব আর পিশাচটাকে বধ করব।" ওঁরা এইসব আলোচনা করছেন এই সময় মীনা এসে বলল, " অধ্যাপক হেলসিং, আমিও আপনাদের সঙ্গে যেতে চাই। " হেলসিংয়ের বিব্রত ভাবটা মীনার নজর এড়িয়ে গেল না। নিজের ক্ষতের দিকে আঙুল দেখিয়ে সে বলল, " এইজন্যই আপনারা আমায় সঙ্গে নিয়ে যেতে চান না?" হেলসিং বললেন, " আমাদের এই এডভেঞ্চারের প্রতি পদক্ষেপেই বিপদের আশঙ্কা রয়েছে। অত্যন্ত এক অশুভ লগ্নেই জোনাথন ট্রানসিলভানিয়া গিয়েছিল। কত কষ্টই সে পেয়েছিল ওখানে গিয়ে। আমাদেরও অনেক ক্ষয়ক্ষতি আর বিভীষিকার সম্মুখীন হতে হয়েছে। তাই এখন চাই না, তুমি আর জোনাথন আমাদের সঙ্গে চল। বরঞ্চ তোমরা বিশ্রাম নাও।" এইসময় আর্থার এগিয়ে এসে বলল, " মীনা যখন আমাদের সাথে যেতে চায়, চলুক না। ওকে সম্মোহিত করে করে আমরা কাউন্টের গতিবিধি, অবস্থান জানতে পারব আর তার ওপর ভিত্তি করে আমাদের ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নির্ধারিত হবে।" ডাঃ সিউয়ার্ড বললেন, " আমরা আমাদের সুখ দু:খ সমানভাবে যেমন ভাগ করে নিয়েছি, ভবিষ্যতেও নেব। মীনা যদি আমাদের সাথে যেতে চায়, আপত্তি কোথায়?" হেলসিং বললেন, " বেশ, যেতে যখন চায় যাক। তাছাড়া জোনাথন একবার ট্রানসিলভেনিয়া ঘুরে এসছে, ওদিককার রাস্তাঘাট সম্পর্কে ওর ভালোই ধারণা আছে। সেই অভিজ্ঞতাও কাজে লাগান যাবে।" হেলসিংয়ের এই সিদ্ধান্তে মীনা আর জোনাথন খুশি হল, বাকিরা স্বস্তির শ্বাস ফেলল। হেলসিংয়ের নির্দেশে সবাই বাঁধাছাঁদায় ব্যস্ত হল। দূর দেশে যেতে হবে, ফিরতে কতদিন লাগবে কে জানে! পরের দিনই শুরু হবে অচিন দেশের পথে যাত্রা। জোনাথনের ডায়েরি ভার্না, ১৫ ই অক্টোবর।। ওরিয়েন্ট এক্সপ্রেসের কৃপায় ১২ ই অক্টোবর নির্ধারিত সময়ের আগেই প্যারীতে পৌঁছলাম। ওখানকার একটা হোটেলে আমাদের জন্য স্থান সংরক্ষিত ছিল। সিজারিনা ক্যাথেরিনের আশায় দিন গোনা ছাড়া করনীয় কিছুই নেই। মীনাকে, প্রফেসর হেলসিং সূর্যোদয় আর সূর্যাস্তের সময় সম্মোহিত করে যখন জিজ্ঞেস করেন, " কি দেখছ?" প্রতিদিনই মীনা একই উত্তর দেয়, " ভীষণ অন্ধকার। " " কি শুনছ?" " স্রোতের গর্জন আর বাতাসের শোঁ শোঁ শব্দ।" এ থেকে বোঝা যায়, সিজারিনা ক্যাথেরিন এখনও সমুদ্রপথে। (ক্রমশ) --------------- ।। একাকী কন্যা ।।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৭৬ জন


এ জাতীয় গল্প

→ কাউন্ট ড্রাকুলা-০৯

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now