বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

কাউন্ট ড্রাকুলা-০৮

"ভৌতিক গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X "কাউন্ট ড্রাকুলা" লেখক : ব্রাম স্টোকার অনুবাদক : তন্ময় বন্দ্যোপাধ্যায় --------------------------- পর্ব ৮ ভোরের নির্জন পথে আবার তাঁদের যাত্রা শুরু হল। পথচারীদের আনাগোনায়য় রাজপথ এখন চঞ্চল। এসাইলামে ফিরে এলেন তাঁরা। রেনফিল্ডের একটানা অভিযোগ এখনও থামে নি। চিন্তাক্লিষ্ট মনে জোনাথন মীনার ঘরে এসে ঢুকল। দেখে, মীনা গভীর নিদ্রায় আচ্ছন্ন। তাকে আজ কেমন যেন নিষ্প্রভ লাগছে। বুকে কান পেতেও তার হৃদপিন্ডের স্পন্দন ভাল করে শোনা যায় না। জোনাথন ঠিক করল, এখন থেকে তাদের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার বিন্দুমাত্রও মীনাকে জানাবে না। যেদিন তারা জয়ী হবে, সেদিন তাকে সবকিছু জানানো হবে। আবার সবকিছুইই গোপন করলে মীনা অন্যকিছু ধারণা করতে পারে, তাই সবদিক বিবেচনা করে সে সিদ্ধান্ত নিল যে সেটুকুই তাকে বলা চলে যেটুকু শুনলে সে ভয় পাবে না। ক্লান্তিতে শরীর শিথিল হয়ে এসেছে জোনাথনের। আস্তে আস্তে সে সোফায় বসে পড়ল। রাতে ঘুম হয় নি, সকালটাও ব্যস্ততার মধ্যে কেটেছে। কাজেই তার ঘুম এল প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই। সূর্য যখন মাঝ আকাশে, তখন জোনাথনের ঘুম ভাঙল। দেখে, মীনা তখনো ঘুমোচ্ছে। পর পর দু তিনবার ডাকে সে চোখ মেলে চাইল। প্রথমটায় সে যেন জোনাথনকে চিনতেই পারল না। কয়েক মিনিট পর সে বললে, " বড় ক্লান্ত লাগছে। উঠতে পারছি না।" জোনাথন বললে, " সাফল্যের সঙ্গেই আজকের অভিযান শেষ হয়েছে। ঊনত্রিশটি বাক্সের খোঁজ পাওয়া গেছে। একুশটি বাক্স, ইতিমধ্যেই ' সে' সরিয়ে ফেলেছে।" মীনার কোনও ভাবান্তর হল না। তার আজ কি হয়েছে! রাজ্যের ক্লান্তি যেন পেয়ে বসেছে তাকে। জোনাথন ভাবল, একটু বিশ্রাম নিলেই বোধহয় ঠিক হয়ে যাবে। একটু থেমে সে আবার বলল, " একটু পরে আবার বেরবো আমি। থমাস স্নেলিংয়ের বাড়ি যাব। কিছু জরুরী কথা আছে।" এর চেয়ে বেশী বিবরণ জোনাথন দিল না, সযত্নে এড়িয়ে গেল। জোনাথনের দিনলিপি ১ লা অক্টোবর, রাত দশটা।। বেথলান গ্রীণে থমাস স্নেলিংয়ের বাড়ি গেলাম। তিনি বাড়িতেই ছিলেন। কিন্তু বাক্সের ব্যাপারে তিনি কোনও খবরই দিতে পারলেন না। তিনি আমায় ওয়ালওয়ার্থে জোসেফ স্মোলেটের সঙ্গে দেখা করতে বললেন। ওয়ালওয়ার্থের উদ্দেশ্যে যাত্রা করলাম। সবেমাত্র চা পান শেষ করে স্মোলেট বাইরে বেরোবার জন্য প্রস্তুত হচ্ছিলেন। হিসাব না পাওয়া মাটি ভর্তি বাক্সগুলোর হদিশ জানতে চাইতেই তিনি এক টুকরো কাগজে পেন্সিল দিয়ে খসখস করে কি কতগুলো লিখে আমার হাতে দিলেন। দুপুরের চোখ ঝলসানো রোদে আমার বেশ কষ্ট হচ্ছিল। একদল শ্রমিক সস্তা দরের একটি সরাইখানায়য় পানাহার ও জটলায় মত্ত। অল্প কিছু ঘুষ দিয়ে তাদের একজনের কাছ থেকে স্মোলেট নির্দেশিত জায়গাটির খবর নিলাম। অবশেষে পিকাডেলিতে পৌঁছেছিলাম। জনশূন্য বাড়িটির সন্ধান পেতে খুব একটা অসুবিধে হল না। কয়েকদিন হল, কাউন্ট এই বাড়িটি ভাড়া নিয়েছে। জানলাগুলি রঙ চটা ও ধূলায় মলিন। কারুকার্য খচিত বড় বড় থামগুলি থেকে চুন বালি খসে পড়ছে। হিমে রোদে বাড়িটির সামনে টাঙানো নোটিশ বোর্ডে লেখা ' ভাড়া দেওয়া হবে' লেখাগুলি ম্লান হয়ে এসেছে। নোটিশ টা এখনো সরান হয়য় নি। সকালে বেরিয়েছিলাম। এক গ্লাস জল খাব সে সময়টুকু পাই নি। একটা দোকানে এক কাপ কফি আর কয়েক টুকরো স্যান্ডুইচ খেয়ে সোজা বাড়ি চলে এলাম। আমার জন্য নিশ্চয় সকলে অপেক্ষা করছে। নীরবতার মাঝে আমাদের আহার পর্ব শেষ হল। অন্য দিন মীনা কত হাসিখুশি থাকে, আজ সে কেমন যেন চুপচাপ। তার মুখচোখ অসম্ভব ফ্যাকাসে আর তাতে যেন রাজ্যের ক্লান্তি। সে শুতে চলে গেল। ডাঃ সিউয়ার্ড মীনাকে একটি লাল ট্যাবলেট দিলেন। বললেন, " এতে শরীরের কোনও ক্ষতি হবে না, ভাল ঘুম হবে। আপনি শুতে চলে যান। শুভরাত্রি। " হেলসিং, ডাঃ সিউয়ার্ড আর মরিস আগুন পোহাচ্ছিলেন আর নতুন পরিকল্পনা, আলাপ আলোচনা করছিলেন। তাঁদের কাছে পিকাডেলির বাড়িটির ব্যাপারে বললাম। সবাই প্রস্তুত হতে লাগল পিকাডেলির বাড়িতে হানা দেওয়ার জন্য। হেলসিং দুটি ঘোড়াকে প্রস্তুত রাখতে বললেন। যে কোনও সময় ঘোড়াদুটির দরকার হবে, তাই আর্থার ঘোড়াদুটির পরিচর্যায় ব্যস্ত। সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত এই সময়টুকু হচ্ছে ড্রাকুলাকে বধ করার সুবর্ণ সুযোগ। কারণ এই সময়টুকুতে সে কফিনের ভেতর নিতান্ত অসহায়। রেনফিল্ডের ঘরে প্রচণ্ড শব্দ শুনে চাকরটি ছুটে এসে ডাঃ সিউয়ার্ডকে বলে, " অবিলম্বে রেনফিল্ডের ঘরে যান। সম্ভবত তার কোনও দূর্ঘটনা ঘটেছে। " ডাঃ সিউয়ার্ড সহ বাকিরা দৌড়ে এলেন রেনফিল্ডের ঘরে। রেনফিল্ড মুখ থুবড়ে পড়ে আছে। মেঝেতে যেন রক্তের নদী বইছে। মুখ তার ক্ষতবিক্ষত, শিরদাঁড়াটি সম্ভবত বেঁকে গেছে। ডাঃ সিউয়ার্ড কিংকর্তব্যবিমূঢ়। হেলসিং বললেন, " এ কি শোচনীয় পরিণতি!" আর্থার বললেন, " হায় ভগবান! এর এই অবস্থা কে করল?" মূহুর্তের জন্য সবাই কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে দাঁড়িয়ে পড়ল। হেলসিং বললেন, " মনে হচ্ছে মাথায় সাঙ্ঘাতিক আঘাত লেগেছে। এ আর বাঁচবে না, তবে জ্ঞান ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করতে হবে। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, এর কাছ থেকে অনেক কিছু জানা যাবে।" রেনফিল্ডের রক্ত বন্ধ হচ্ছে না। শ্বাস প্রশ্বাসও অনিয়মিত। অবশেষে হেলসিংয়ের আপ্রাণ চেষ্টায় আশাতীত ফল পাওয়া গেল। রেনফিল্ড চোখ মেলল। হেলসিং তাকে বললেন, " তোমার এই অবস্থা কে করল?" রেনফিল্ড বলল, " আমার সময় হয়ে এসেছে। তাই আপনাদের আর ঠকাতে চাই না। মৃত্যুর আগে আমি সব যদি না বলে দিয়ে যাই তাহলে আমার পাপের আর শেষ থাকবে না। " " তুমি কি দেখলে, সেটা বল", হেলসিং বললেন। রেনফিল্ড হেঁচকি তুলতে তুলতে কোনওরকমে বলতে লাগল, " কুয়াশা ভেদ করে সে এল। বহুবার তাকে দেখেছি। সেই জ্বলন্ত লাল চোখ....পাখিরা যেমন আসন্ন ঝড়ের ইঙ্গিত পায় আমিও তেমনি তার আগমনের সঙ্কেত পেতাম। আজ বিকেলে মীনা এসেছিল, তার ফ্যাকাসে মুখ দেখে আমি আশঙ্কা করেছিলাম সম্ভবত মীনাও তার শিকার হয়েছে। আমার মাথায় খুন চেপে গিয়েছিল। তাই সে এসে যখন বলল, 'রেনফিল্ড, আমায় অনুসরণ কর। পৃথিবীতে কোনও কিছুই চিরদিন থাকে না। আমায় অনুসরণ করলে তুমি অমর হবে, আমার মতোই যুগ যুগ বেঁচে থাকবে। ' আমার মনে হল, আমি জীবন দিয়েও মীনাকে বাঁচাব। আমি ঝাঁপিয়ে পড়লাম শয়তানটার ওপর। কিন্তু সে মিলিয়ে গেল।" বলতে বলতে রেনফিল্ডের কণ্ঠস্বর ক্ষীণ হয়ে আসে। পরক্ষণেই সে মারা গেল। এবার সবাই মীনার ঘরের দিকে দৌড়ে গেল। মীনার ঘরের দরজা বন্ধ। হেলসিং বললেন, " আমার অনুমান সত্য হতে চলেছে। কর্তব্য ভুলে দাঁড়িয়ে থাকলে জোনাথন আর মীনাকে হয়ত হারাতে হবে। দরজা ভেঙে ফেল।" দরজা ভেঙে ফেলতেই চাঁদের আলোয় যে ভয়াবহ দৃশ্য তাঁরা প্রত্যক্ষ করলেন, তা ভাষায় বর্ননা করা যায় না। জোনাথন সম্ভবত জ্ঞান হারিয়েছে। কাউন্ট ড্রাকুলার চোখে বন্যপশুর মতো হিংস্র দৃষ্টি। মীনার অচেতন মুখের ওপর ঝুঁকে আছে শয়তান রক্তচোষাটা। মীনার গলার কাছে সেই দুটো সূক্ষ্ম ছিদ্র থেকে রক্ত তখনো চুঁইয়ে চুঁইয়ে পড়ছে। হেলসিং একটি ক্রুশ ড্রাকুলার মুখের সামনে তুলে ধরতেই একটুকরো কালো মেঘ চাঁদকে ঢেকে ফেলল, ক্ষনিকের অন্ধকার, মেঘ কেটে গেলে দেখা গেল ঘরে আর সে নেই। মীনার অধর ওষ্ঠে গাঢ় রক্ত লেগে রয়েছে। সে জ্ঞান হারিয়েছে। হেলসিংয়ের চেষ্টায় সংজ্ঞা ফিরে পেয়ে মীনা আকুল কান্নায় ভেঙে পড়ে। স্নেহপ্রবণ হেলসিং স্বান্তনা দিয়ে তাকে বললেন, " কাঁদছ কেন? তোমার ওপর ড্রাকুলার প্রভাব বিস্তারের সব প্রচেষ্টাই ব্যর্থ হবে।" মীনা বলল, " যতদিন বেঁচে থাকব, এ কলঙ্ক, এই দূর্বলতা মুছবে না।" জোনাথন সুস্থ হয়েছে। আর্থার এখানে সেখানে তন্ন তন্ন করে খুঁজেও ড্রাকুলার টিকিটিও আর কোথাও দেখতে পেলেন না। তবে রেনফিল্ডের ঘরের দিক থেকে একটা বাদুড়কে উড়ে যেতে দেখলেন তিনি। ডাঃ সিউয়ার্ডের নির্দেশে মীনা তার অভিজ্ঞতার কথা বলে.... " ঘুমের বড়ি খেয়ে ঘুম এল না। ভয়ও পেয়েছিলাম খুব। রক্তচোষা বাদুড়, রক্ত, নরক, বার বার এসব মনে পড়ছিল। কখন ঘুমিয়ে পড়েছিলাম বলতে পারব না। জোনাথন কখন এসেছিল, তাও জানি না। তারপর? তারপরই কুয়াশায় চারিদিক ছেয়ে গেল। কুয়াশার বুক চিরে এগিয়ে এল সে। কালো আলখাল্লা পরা, প্রচণ্ড লম্বা, মড়ার মতো শুকনো মুখ, লাল চোখ...সেই লোকটা। মনে পড়ছিল, লুসি একদিন আমায় বলেছিল, সেই ভয়ঙ্কর চোখের কথা, পড়ন্ত রোদ্দুরের মতোই তার চোখদুটো লাল। ট্রানসিলভ্যানিয়ার প্রাসাদে জোনাথন তার কপালের যে জায়গায় আঘাত করেছিল, সেই দাগটি পর্যন্ত আমি চিনতে পেরেছিলাম। পক্ষাঘাত গ্রস্ত রোগীর মতো আমার চলচ্ছক্তি লোপ পেয়েছিল। চেঁচাব যে সেই সাধ্যও ছিল না। সে বলল, ' চুপ। কোনওরকম শব্দ করলেই জোনাথনের ইহলীলা সাঙ্গ হবে। পথশ্রমে আমি ক্লান্ত। তোমার তপ্ত যৌবনের তাজা রক্ত কিছুটা আমায় পান করতে দাও। তারপর বহু যুগের পুরনো ঠাণ্ডা আমার রক্ত যতখুশি তুমি খেতে পার। ব্যস, তাহলে আমার প্রভাব পড়ল তোমার ওপর। আমার নির্দেশে তুমি চলবে, তুমি হবে আমার হাতের পুতুল। দেশ কাল, জল স্থলের সকল বাধা অতিক্রম করে আমার ডাকে তোমায় সাড়া দিতে হবে।" ভোর হয়ে এসেছে। উদিত সূর্যের রক্তিম কিরণে গাছপালা, বাড়িঘর ক্রমশ স্পষ্ট হয়ে উঠল। লালবুক রবিন পাখি ভোরের আগমনী গান গেয়ে সুন্দর একটি দিনকে বরণ করে নিচ্ছে। খামার বাড়িতে মোরগগুলি চঞ্চল হয়ে উঠেছে। মীনা ঝিমিয়ে পড়ে....অতিরিক্ত রক্তক্ষয়ে সে ক্লান্ত। (ক্রমশ) ---------------- ।। একাকী কন্যা ।।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৭৮ জন


এ জাতীয় গল্প

→ কাউন্ট ড্রাকুলা-০৮

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now