বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
"কাউন্ট ড্রাকুলা"
লেখক : ব্রাম স্টোকার
অনুবাদক : তন্ময় বন্দ্যোপাধ্যায়
---------------------------
২ য় পর্ব
রাত প্রায় শেষ হয়ে এসেছে। রুদ্ধদ্বার সুপ্ত সৌধের সামনে দাঁড়িয়ে আছি। ড্রাইভার আমার মালপত্র নামিয়ে দিল। তারপর সে আমার হাত ধরে আমায় নীচে নামতে সহায়তা করল। উহ, সে কি শক্ত হাত, যেন ইস্পাতের তৈরি। মূহুর্তের ভেতর দূরের অন্ধকারের মাঝে মিলিয়ে গেল সেই গাড়ি।
গাছের ডালে ডালে তখনো রাতজাগা পাখিরা ডানা ঝাপটে চলেছে। একাকী এই জঙ্গলের মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে আমার গা টা ছমছম করে উঠল। এগিয়ে গিয়ে প্রাসাদের দরজায় ঘা দিলাম। সঙ্গে সঙ্গে ভেতর থেকে খিল খোলার আওয়াজ পেলাম। ব্যাপারটা আমার কাছে একটু অদ্ভুত ঠেকল। সাধারণত দরজায় নক করার কিছু সেকেন্ড পর দরজা খোলা হয়। কিন্তু এক্ষেত্রে মনে হচ্ছে কেউ যেন আগেভাগেই দরজায় দাঁড়িয়ে ছিল, নক করা মাত্র কাজে লেগে গেছে।
আমার সামনের বিরাট দরজাটি ধীরেধীরে খুলে গেল। এগিয়ে এলেন বৃদ্ধ এক ভদ্রলোক। দাড়ি তার পরিষ্কার ভাবে কামানো, দীর্ঘ শুভ্র তাঁর গোঁফ, গলা থেকে পা পর্যন্ত কালো আলখাল্লায় ঢাকা। তাঁর হাতের বাতিদান থেকে স্বচ্ছ রূপালী আলো বিচ্ছুরিত হচ্ছে। চোস্ত ইংরেজিতে তিনি আমার সঙ্গে কথা বললেন। তাঁর সঙ্গে করমর্দন করার সময়েও অবাক হলাম আমি.... ঘোড়াগাড়ির ড্রাইভারের মতো তাঁর হাতেও কি প্রচণ্ড শক্তি!
জিজ্ঞেস করলাম, " আপনি কি কাউন্ট ড্রাকুলা?"
তিনি বললেন, " হ্যাঁ, আমিই কাউন্ট ড্রাকুলা। আমার গৃহে আপনাকে সাদর অভ্যর্থনা জানাই। শেষ রাতের বাতাস কনকনে ঠাণ্ডা, এখন আপনার আহার ও বিশ্রাম দুই-ই প্রয়োজন। "
আমার সঙ্গে সামান্যই জিনিসপত্র ছিল। কাউন্ট নিজেই তা বয়ে নিয়ে চললেন আর আমি তাঁকে অনুসরণ করলাম।
আমার আহারের জন্য কাউন্ট বেশ ভালো আয়োজন করেছিলেন। খাওয়ার শেষে ভাবছি একটা সিগারেট হলে বেশ ভাল হতো। কাউন্ট আমার মনের কথা বুঝলেন এবং আমায় একটি দামী সিগারেট দিলেন। সকালের আলো ছড়িয়ে পড়ছে চারদিকে। কাউন্ট বললেন, " আমার কাজ আছে, এখন চলি, পরে গল্প করব। "
তাঁর মুখে কেমন যেন বিশ্রী গন্ধ। অপ্রস্তুত হয়ে তিনি সরে গেলেন।
দূরে নেকড়ের চিৎকার শোনা গেল। আনন্দে উজ্জ্বল হয়ে ওঠে কাউন্টের মুখ, তিনি শখ মেটাতে এইসব নিরীহ প্রাণীদের বধ করে আনন্দে মেতে ওঠেন। একটু হেসে বললেন, " আপনার শয্যা প্রস্তুত, আরাম করে ঘুমোন, রঙীন স্বপ্নের সাথে খেলা করুন। সন্ধ্যের পর আবার দেখা হবে।"
৭ ই মে।।
বেশ কয়েক ঘণ্টা ঘুমের পর শয্যা ত্যাগ করলাম। হাত মুখ ধুয়ে প্রাতঃরাশ পর্ব শেষ করি। খাবারগুলোর বিশেষত্ব এই যে সেগুলো অসম্ভব ঠাণ্ডা। কেটলিতে যে কফি ছিল, তা অবশ্য গরম। খাবার টেবিলে দেখি একটা কার্ড, তাতে লেখা আছে....
' বিশেষ কাজে বাড়ির বাইরে গেলাম। ব্রেকফাস্ট বা লাঞ্চের সময় যেন আমার জন্য অপেক্ষা করবেন না'।
আমার ঘরে যে টেবিল ছিল, তা স্বর্ণখচিত। এছাড়া বহু পুরনো দুটো চেয়ার ছিল। ঘরে বইপত্র বা লেখার সরঞ্জাম কিছু ছিল না, ছিল না আরশি কিংবা চিরুনি। এত বড় প্রাসাদে কাউন্ট কি একাই থাকেন! এ পর্যন্ত তো কোনও দাসদাসীরও সন্ধান পেলাম না। কাউন্টের নির্জন প্রাসাদে কেমন যেন হাঁফিয়ে উঠেছি। পাশের একটি ঘরে লুকিয়ে ছিল অনন্ত বিস্ময়। সেল্ফ বোঝাই ইতিহাস, ভূগোল, রাজনীতি, উদ্ভিদবিদ্যা, আইন ইত্যাদি বিভিন্ন বিষয়ের ওপর অজস্র বই। তবে বইগুলো বেশ পুরনো, যেন বহুযুগ আগের।
একটা বই তুলে নিয়ে দেখছি এমন সময় দরজা ঠেলে ভেতরে এলেন কাউন্ট। তিনি বললেন, " আপনাকে এই লাইব্রেরী ঘরে দেখে আমি খুবই আনন্দিত। গ্রন্থের চেয়ে বড় সঙ্গী মানুষের আর নেই। এরা আমার বিশ্বস্ত বন্ধু। বই পড়েই আপনার সুন্দরী ইংলন্ডকে জেনেছি, তাকে ভালবেসেছি। আমি আপনার দেশে যেতে চাই, সেখানের ব্যস্ততা, জীবন মৃত্যু, পরিবর্তন, সবকিছুর অংশীদার হতে চাই। কিন্তু আমার ভয়, এই ট্রানসিলভ্যানিয়ায় যেমন আমি একচ্ছত্র প্রভু, ইংলন্ডে গেলে আমি কেবলমাত্র একজন আগন্তুক। আগন্তুক শব্দটা আমি একদম সহ্য করতে পারি না। মিস্টার হার্কার, আপনি কেবলমাত্র হকিন্স প্রেরিত দূতই নন, আপনি আমার বন্ধু। আপনার কাছে সবসময় থাকতে পারি না, গল্প করার সুযোগ পাই না, এজন্য আমি মার্জনাপ্রার্থী। একা মানুষ, কাজের অন্ত নেই। আপনি এই প্রাসাদের সর্বত্র অবাধ চলাফেরা করতে পারেন, কিন্তু যে ঘরগুলো বন্ধ দেখবেন, সেগুলোতে ঢুকবেন না।"
অত:পর কাউন্ট ট্রানসিলভ্যানিয়ার গৌরবোজ্জ্বল দিনগুলির বর্ণনা করলেন। প্রসঙ্গক্রমে লন্ডনে বাড়ি কেনার কথাও উঠল। আমি আরও কিছু প্রাসঙ্গিক প্রশ্ন করলাম, কিন্তু কাউন্ট সেগুলো সযত্নে এড়িয়ে গেলেন। সহসা চঞ্চল হয়ে তিনি বলে উঠলেন, " বিদায় মিঃ হার্কার, কাজ আছে।"
৮ ই মে।।
এখানে আসা অবধি দাড়ি কামানো হয় নি। আয়না আর দাড়ি কামানোর অন্যান্য সরঞ্জাম বের করলাম। সবেমাত্র খুরটা একবার টেনেছি, হঠাৎ দেখি পেছনে দাঁড়িয়ে রয়েছেন কাউন্ট। আশ্চর্য! আরশিতে তো তাঁর প্রতিচ্ছবি পড়েনি! আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে আছেন তিনি, অথচ আয়নায় তাঁর বিন্দুমাত্র প্রতিবিম্ব ফুটে ওঠেনি!
" এ কি রে বাবা!",নিজের মনেই বলে ফেললাম। কাউন্ট দিনে দিনে যেন আমার কাছে ক্রমেই রহস্যময় হয়ে উঠছেন। আমি হতবিহ্বল ভাবে একবার আয়নার দিকে, আর একবার কাউন্টের দিকে তাকাতে লাগলাম।
অসাবধানতাবশত খুর লেগে আমার গালের কিছুটা অংশ কেটে গেল। টপটপ করে গড়িয়ে পড়ল রক্ত। সঙ্গে সঙ্গে কাউন্টের মুখে এক আশ্চর্য প্রতিফলন লক্ষ্য করলাম। দানবীয় প্রতিহিংসায় তাঁর দু'চোখে যেন আগুন জ্বলে উঠল। মূহুর্তের জন্য তিনি তাঁর লাল ঠোঁট প্রসারিত করলেন আমার গালের ক্ষতস্থানটার দিকে। কিন্তু আমার গলায় ঝোলান ক্রুসের প্রতি দৃষ্টি পড়তেই তিনি নিজেকে সামলে নিলেন। এতক্ষণ তাঁর দু'চোখে যে লালসার উন্মত্ত বহিঃপ্রকাশ দেখছিলাম, তার জায়গায় এখন জমাট বাঁধা ভয় ভীতি। নিজেকে সামলে নিয়ে তিনি বললেন, " আমার রাজ্যে আর কোনওদিন এ ধরনের বিপদের ঝুঁকি নেবেন না যেন। " তারপর আমার হাত থেকে আয়নাটা ছিনিয়ে নিয়ে বললেন, " ঘৃণিত, তুচ্ছ এই জিনিসটার জন্যই আপনি আপনার চিবুকের এতটা জায়গা কেটে ফেলেছেন", অত:পর ভারী জানলাটা খুলে আরশিটা নীচে ফেলে দিলেন তিনি।
প্রাতঃরাশ প্রস্তুত। কিন্তু কাউন্টকে কোনওখানেই দেখতে পেলাম না। প্রতিদিনের মতো আজও একা একাই খেলাম। আশ্চর্য মানুষ এই ড্রাকুলা! কোনওদিন আমি তাঁকে পান করতে বা আহার করতে দেখলাম না। ট্রানসিলভ্যানিয়
ার নির্জন প্রাসাদে কাউন্টের সাদর অভ্যর্থনা প্রথমে আমার আন্তরিক বলেই মনে হয়েছিল। কিন্তু ক্রমে বুঝতে পারলাম, লোকটিকে ঘিরে রয়েছে অনন্ত রহস্য। ড্রাকুলার প্রাসাদে আমি বন্দি, আমার জীবন বিপন্ন। দুঃসহ উত্তেজনায় দরজায় ঘা দিলাম। দরজা খুলল না, বাইরে থেকে বন্ধ।
রাতে লাইব্রেরী ঘরের দরজার ফাঁক দিয়ে দেখলাম, কাউন্ট আমার বিছানা পাতছেন। যা সন্দেহ করেছিলাম, তাই-ই ঠিক....তাঁর কোনও দাসদাসী নেই। আর একটা ধারণা অবশেষে দৃঢ় হল, যেহেতু কাউন্ট এখানে একাই থাকেন তাই যে ঘোড়ার গাড়ি করে এখানে এসেছি সেটির চালকও ছিলেন তিনি। আর আশ্চর্য ক্ষমতার অধিকারী এই কাউন্ট ড্রাকুলা! নেকড়েগুলো তাঁর অনুগত। এখন বুঝতে পারছি কেন আমি ড্রাকুলার প্রাসাদে যাব শুনে হোটেল পরিচালিকা ভয় কেঁপে উঠেছিলেন, সকলে কেন আমার দিকে তাকিয়ে ক্রুশ চিহ্ন আঁকছিল। সরাইখানার মহিলাকে ধন্যবাদ.... আমার গলায় ক্রুশ ঝুলিয়ে দেওয়ার জন্য।
কাউন্ট আর তাঁর রহস্যময় প্রাসাদ নিয়ে সহজেই একটা উপন্যাস লেখা যেতে পারে। মোরগের ডাকের সঙ্গে প্রভাতের সূচনায় কোথায় হারিয়ে যায় তাঁর বীরত্ব।
১২ ই মে।।
আইন বিষয়ক কিছু আলোচনা হল কাউন্টের সঙ্গে। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, " হকিন্স বা অন্য কারোকে আপনি কি কোনও চিঠি লিখেছেন?"
বললাম, " না।"
তিনি আমায় তিনখানা দামী চিঠি লেখার কাগজ আর খাম দিয়ে বললেন, " এই নিন। একটি লিখবেন হকিন্সকে। তাঁকে জানাবেন, আপনি ভাল আছেন এবং এখানে আরও একমাস থাকবেন। "
ভয়ে আমার রক্ত হিম হয়ে গেল। বললাম " সেকি! আমি কেন এখানে একমাস থাকব!"
বীভৎস হয়ে উঠল ড্রাকুলার মুখ। তিনি বললেন, " আমার আদেশ অগ্রাহ্য করার সাহস কারো নেই। নষ্ট করার মতো সময়ও আমার হাতে নেই। ব্যস্ত লোক আমি, এখুনি আমায় বেরোতে হবে। একটা কথা মনে করিয়ে দিই....আপনার জন্য নির্দিষ্ট ঘরটি ছাড়া অন্য কোনও ঘরে যেন ঘুমিয়ে পড়বেন না। আমার এই প্রাসাদ অতীতের অনেকনেক স্মৃতি বুকে আঁকড়ে ধরে দাঁড়িয়ে আছে। কাজেই যেখানে সেখানে ঘুমিয়ে পড়লে আপনার গা ছমছম করে উঠবে।"
এই বলে চলে গেলেন কাউন্ট।
রেলিঙের ধারে অদ্ভুত এক দৃশ্য দেখলাম। টিকটিকির মতো মাথাটা নীচের দিকে করে খাড়া দেওয়ালের গা বেয়ে ড্রাকুলা নীচে নেমে গেলেন। কাউন্ট কি মানুষের আকার এবং পরিচ্ছদে কোনও পশু? নাকি কোনও অপদেবতা? অমঙ্গলসূচক আগামী দিনের একটি ছবি আমার মনের কোণে ভেসে উঠল। আমি ভয়ে কাঁপতে লাগলাম।
১৫ ই মে।।
চন্দ্রালোকিত রাত। ফুটফুটে জ্যোৎস্নায় চারিদিক প্লাবিত হয়ে আছে। নদীতীরে আলো ছায়ার খেলা চলছে। একটার পর একটা দরজা, সবগুলোতেই তালা দেওয়া। একটা দরজা শুধু ভেজানো ছিল।।ঠেলা দিলাম, হারিয়ে যাওয়া ইতিহাসের একটা অধ্যায়ের আবরণ যেন উন্মোচিত হল। ওক কাঠের একটা টেবিল রয়েছে ঘরের মাঝে। ক্লান্ত হয়ে একটা সোফায় বসে পড়লাম।
১৬ ই মে।।
ঠাণ্ডা হাওয়ার ছোঁয়ায় কখন যে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম জানি না। অস্ফুট গুঞ্জন উচ্ছ্বাস ও কলধ্বনিতে চোখ মেলে দেখি অপরূপ সুন্দরী তিনটি মেয়ে। একটি জ্যোৎস্নার মতোই ফরসা। অন্য দুজন তার মতো ফরসা নয়। গৌরবর্ণা মেয়েটির চোখের মণি নীলকান্ত মণির মতো। তার এক রাশ সোনালি চুলে বাতাস দোলা দিয়ে যায়।
" তুমি আগে শুরু করো, আমরা তোমায় অনুসরণ করব", ফরসা মেয়েটিকে লক্ষ্য করে বলল অপেক্ষাকৃত কালো মেয়েটি।
এ এক অদ্ভুত ইন্দ্রজাল। মেয়ে তিনটি এল কোথা থেকে? ধূলিধূসর মেঝেতে শুধু আমার পদচিহ্ন রয়েছে, চাঁদের আলোয় এখনও তা স্পষ্টই বোঝা যাচ্ছে। মেয়ে তিনটি ঘরে ঢুকেছে, অথচ তাদের পায়ের সামান্যতম চিহ্নও কোথাও নেই! আমি সম্মোহিত, কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে গেলাম। ফরসা মেয়েটি ধীরেধীরে আমার কাছে এগিয়ে এল। বিকট একটা অট্টহাস্য করে আমার ওপর ঝুঁকে পড়তে লাগল। ঠোঁটের দুই পাশ দিয়ে বেরিয়ে এসেছে দুটো তীক্ষ্ণ শ্বদন্ত। আমার গলার চামড়ায় মেয়েটির শানিত দংশন অনুভব করলাম।
" জোনাথনের ওপরেও তোমাদের দৃষ্টি পড়েছে দেখছি", রাগে উত্তেজনায় কাউন্টের চোখদুটো আগুনের মতো জ্বলে উঠল।
ফরসা মেয়েটি মিষ্টি সুরে বলল, " রাজা, অত রাগ করছ কেন? আগে তো কোনওদিন এভাবে তিরষ্কার কর নি।"
কাউন্ট তখনো গর্জে চলেছেন, " এই লোকটা আমার, আমি একে সংগ্রহ করেছি।"
" তাহলে আমাদের জন্য আজ রাতের সংস্থান কি?", কালো মেয়েটি জিজ্ঞেস করল।
কাউন্ট মেঝের একদিকে অঙ্গুলি নির্দেশ করলেন। সেদিকে তাকিয়ে দেখি, একটা ছোট থলে সেখানে পড়ে আছে। থলের ভেতর থেকে শিশুর করুন কান্না ভেসে আসছে। আমার বুকের ভেতরটা হাহাকার করে উঠল ঐ হতভাগ্য শিশুটির জন্য। কোন জঘন্য উদ্দেশ্যে শিশুটিকে ঐভাবে থলেতে পুরে রাখা হয়েছে, বুঝতে পারলাম না।
এদিকে চেয়ে দেখি, সুন্দরী মেয়ে তিনটি তাড়াতাড়ি এগিয়ে গেল থলেটার কাছে। থলের মুখের বাঁধনটা খুলে ভেতরে উঁকি দিতেই তাদের চোখ জ্বলজ্বল করে উঠল। একসঙ্গে তিন তিনটে মুখ ঢুকে পড়ল ভেতরে। চোঁ চোঁ করে শব্দ শুনতে পেলাম।
আমি চেতনা হারিয়ে ফেললাম।
যখন চেতনা ফিরল, দেখি নিজের ঘরে শুয়ে আছি। রাতের স্মৃতি আচ্ছন্ন করে রেখেছে আমার সমস্ত মন। আমি নিশ্চয় স্বপ্ন দেখছিলাম। ঐ সুন্দরী মেয়ে তিনটি, ওরা কি পেত্নী হতে পারে? গলায় হাত দিতেই চমকে উঠলাম। হ্যাঁ, এই তো , গত রাতের ফরসা মেয়েটির তীক্ষ্ণ দাঁতের ক্ষত স্পষ্ট টের পাচ্ছি।
( ক্রমশ)
-------------
।। একাকী কন্যা ।।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now