বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

কাঠাল বাগান থেকে শাহবাগ

"উপন্যাস" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান তানজিদুল ইসলাম(guest) (০ পয়েন্ট)

X কাঠাল বাগান থেকে শাহবাগ পায়ে হেটে প্রায় বিশ থেকে পঁচিশ মিনিটের রাস্তা।ক্রংক্রিটের আবরণে ঢাকা শহুরে রাস্তা দিয়ে হেটে চলছে পাঁচটি মানব মূর্তি।ঘড়িতে সময় প্রায় দুইটা বেঝে ত্রিশ মিনিট।চাপা গলির দুই ধারে মাথা উঁচু করে দাড়িয়ে থাকাপাহড় সম দালান গুলোর আড়ালে লুকিয়ে যাবার পথ খুঁজছে সূর্যটা।যদিও এখনো লুকানোর সময় হয়নি।তবুও সময় হবার আগেই লুকাতে চাচ্ছে মনে হয়ে ব্যস্ত শহরের এই ব্যস্ত আকাশটা তার কাছে ভাল লাগেনা।তাই শহুরে মানুষগুলো সূর্যটাকে অনেক আগেই হারিয়ে ফেলে।ক্রিং ক্রিং বেল টিপে মহাব্যস্ততায় ছুটে চলছে রিক্সা গুলো।আজ শুক্রবার তাই রাস্তায় অনেক ভির।ঢাকা শহর হলো বিশ্বের গণমানুষের শহর সমূহ থেকে একটি।তাই ভির থাকাটাই সাভাবি কিন্তু তার পরও শুক্রবারে ভিরটা খোব বেশী মনে হয়। কিছুক্ষণ হলো নামাজ পড়ে বের হলাম।রাস্তায় হাটছিলাম এমন সময় কোথা থেকে মাহাদি এসে বললো তারাতারি আস ভাইয়া ওরা সবাই রওনা হয়ে গেছে।বাসায় না গিয়ে মাহাদির সাথেই ছুটলাম তাদেন দিকে।অল্পক্ষণ ছুটার পরই তাদের নাগাল পেয়ে গেলাম।ব্যস্ত নগরীর ব্যস্ততম রাস্তার পাশে দাড়িয়ে আমার জন্য অপেক্ষা করছে পাঁচজন মানবী।তাদের মাঝে সেও আছে।আজ তাকে অনেক সুন্দর লাগছে হালকা হলুদের মাঝে সবিজ রঙের নকশি আঁকা এক সেট থ্রী পিচ পরে আছে।বাঙালি মেয়ে তাই সভ্য বাঙালির মত উড়নাটা মাথায় দিয়ে গায়ে জরিয়ে রেখেছে। =দাড়িয়ে আছ কেন হাটতে থাক। =হেটে যাব কেন রিক্সা নাও রিক্সায় যাই। =এখানে কতক্ষণ দাড়িয়য়ে থাকব ত্রচে বরং হাটতে থাক।রাস্তায় পেলে নিয়ে নেব।না হয় হাতিরপুল গিয়ে নেব। সবাই একসাথে হাটতে লাগলাম। আজ সকালেই ঢাকায় পৌছেছে।ডিসেম্বর মাস বার্ষিক পরিক্ষা শেষ।তাই লম্বা একটা ছুটি পেয়েছে।সেই ছুটি কাটাতেই ঢাকায় আসা।ঢাকা শহরে তার তেমন আসা হয়না।ঢাকায়তো আর তেমন কাছের আত্নীয় বলতে কেও নেই।তাই আসাও হয়না একারনেই ঢাকা শহরটা তার কাছে প্রায় একদমই অপরিচিত।গতকাল আমায় ফোন করেছিল সেই মারফতে আমিও এসেছি।বাসায় পৌছতে পৌছতে আমার প্রায় বারোটা বেজেগেছ।সেই সকাল আটটা থেকে ওরা আমার জন্য অপেক্ষা করছে।এতক্ষণে মনটা বিষিয়ে উঠেছে হয়ত।আর উঠবেইতো অপেক্ষার প্রহরতো আর ফুরাতে চায়না।তাইতো কোন এক বিজ্ঞ ব্যাক্তি বলেছিল কারো জন্য অপেক্ষা করা মৃত্যুর থেকেও কষ্টকর। আমার আসার কথাছিল ভোরবেলায়।আজ শুক্রবার আমান ক্লাশ ছিলনাা তাই ইচ্ছা করলে ওদের আগেই আসতে পারতাম।ভাবলাম ওতো যাদুঘর দেখতে যাবে আ যাদুঘরতো খুলবে দপুর দুইটার পর তাই এত তারাতারি গিয়ে কি দরকার তারচে বরং একটু ঘুমিয়ে নেই।কাল রাতে অনেক্ষণ ধরে লেখালেখি করেছি।ঘুমাতে অনেক রাত হয়েছিল।তাই শরিরটাও কেমন মেজমেজ করছে।যাওয়ার চিন্তা পিছনে রেখে নিশ্চিন্তে একটা ঘুম দিলাম।ঘুম ভাংলে ঘড়িতে তাকিয়ে দেখি এগারোটা বাজে।অনেক দেরী হয়ে গেল।অবশ্য আমার এত দেরী করার ইচ্ছে ছিলনা।অনেক সময় ইচ্ছা না থাকলেও অনেক কিছু করতে হয়।ওদিকে ওরা হয়তো ওরা আমার জন্য অপেক্ষা করছে।রাগে মনে হয় ফুঁস ফুঁস করছে।যাক একদিকথেকে ভালআ হলো।আজ আবার তার রগত মুখটা দেখার সৌভাগ্য হবে।ও যখন রাগকরে মুখটা লাল করে ফেলে তখন তাকে খোব সুন্দর লাগে।ক্রোধে ভরা নয়নে যখন দৃষ্টিপাত করে মনে হয় যেন রাণী অরুন্ধতী তাকিয়ে আছে।ভ্রু কুঞ্চিত হয়ে চোখগুলো ছুট হয়ে আসে।দেখরে মনেহয় যেন ঘুম পেয়েছে।আসলে ঘুম পায়নি বরং রাগলে মানুষে চোখ এমনিই ছুট হয়ে যায়।আর বিস্ময়ের চোখ হয় বড় বড়।তবে অন্যের তুলনায় তার গুলো একটু বেশীই ছুট দেখা যায়।রাগে ক্ষেপে থাকা রক্তচক্ষু দেখার কথাটা মাথায় রেখেই ছুটলাম কাঠাল বাগানের দিকে।অবশ্য রক্তচক্ষুযে দেখতেই হবে এব্যপারে পুরুপুরি নিশ্চিত না।কারণ আজকাল ও যেন কেমন হয়ে গেছে।আগে অল্পকিছুতেই রেগে বাঘ হয়ে যেত।এখন অনেক সময় দেখাযায় রাগের কাণ্ড ঘটলেও রাগ করেনা।মাঝে মাঝে অভিমান করে কোন কথা না বলে চুপ করে বসে থাকত।আজকল তাও করেন।ওদিকে কোন আমলই দেয়না।যানিনা কেন সে আস্তে আস্তে এমন বদলে যাচ্ছে।হয়ত বয়স হচ্ছে তাই স্বভাটাও পাল্টাচ্ছে।কিন্তু তার সেই রাগত চক্ষু আর রক্তিম চেহারাটা খোব মিস করি।ভাবতে ভাবতে পৌছে গেলাম বাসার কাছে।সিড়ি দিয়ে উপরে উঠছি চতুর্থ তলায় উঠতে হবে।দ্বিতীয় তলায় উঠতেই ওদের গলার আওয়াজ শুনতে পেলাম।উপরে উঠে দেখি রুমের সামনে ছাদের খালি যায়গাটায় চৌকির উপর বসে একটা মেয়ের সাথে গল্প করছে।মেয়েটাকে চেনা চেনা মনে হচ্ছে আগে কোথাও দেখেছি হয়ত।মনে পরেছে ওদের এবাড়িতেই দেখেছিলাম।ওদের পাশের বাড়িতেই থাকে।কাছে গিয়ে বললাম কেমন আছ?আমার আওয়াজ শুনে ম্লান মুখে আমার দিকে তাকালো।একটা দ্বীর্ঘশ্বাস ছেড়ে উত্তর দিল ভাল।তুমার এতক্ষণে আসার সময় হলো।আমরা সেই সকাল আটটা থেকে তুমার জন্য অপেক্ষা করছি।:না মানে এইতো একটু দেরী হয়েগেল আরকি।আমারা নাস্তা খেয়েফেলেছি তুমার জন্য নাস্তা রাখা আছে যাও খেয়ে নাও তারপর আমরা বেরুবো।কথাগুলো একদমে বলে আবার পাশে বসা মেয়েটির সাথে গল্প জুরেদিলো। ভেবেছিলাম রাগে তেজিয়ে থাকা অরুন্ধতীকে দেখব। কিন্তু তা আর হলোনা।অতটা রাগ বলে মনে হলোনা।তব চেহারাটা মলিন করে রেখেছিল অভিমান করছে কিনা বুঝা মুশকিল।অনেক সময় কোন কারণ ছাড়াই মুখটা মলিন করে রাখে।সোজা রুমের ভিতর ঢুকলাম।দেখি সবাই আমার জন্য অপেক্ষা করছে।নানী জিজ্ঞাস করলো কিরে এত দেরী করলি ক্যান?কখন শাহবাগ যাবি?নানী মানে আমার আপন নানী না।আমার নানীর ভাইয়ের বৌ।মানে তার ভাবি। :কই দেরী।আর অত সকালে আইসা কি করমু যাদুঘরকো খুলব দুইটার পরে। :আয় তোর জন্য খাবার রাখা আছে খেয়ে নে। :না নানী এখন আর খাবনা।আমি কেবল মাত্র খেয়ে আসলাম।তুমি এক কাজ করো আমাকে এক গ্লাশ পানি দাও।নানী আমার সামনে এক বাটি ফিরনী এগিয়ে দিয়ে বলল ভাত নাখেলি ফিরনীটা খেয়ে নে তারপর পানি খাস।ফিরনীটা খেয়ে খানিক্ষণ শুয়ে আরাম করলাম।ইতিমধ্যে ওর মা এসে বলল কি ব্যাপার এত দেরী করলে কেন?কোন সমস্যা হয়েছিল নাকি। :না সমস্যা হয়নি আসলে একটু ঘুমিয়ে পরেছিলামতো তাই আরকি। :ও আচ্ছা ওতো রিতি মত রাগ করা শুরু করে দিয়েছে।ঠিকআছে এখন বিস্রাম কর একটু পরে যেও।এরিমধ্যে জুমার আজান দিয়ে দিল।নামাজটাও পড়া দরকার।তাই ওদের বললাম নামাযটা পড়ে আসি তারপর রওয়ানা দেই।এই বলে নামায পড়তে গেলাম।নামায পড়ান পর আর বাসায় যাওয়া হয়নি সোজা শাহবাগের দিকে ছুটলাম।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১২৬ জন


এ জাতীয় গল্প

→ কাঠাল বাগান থেকে শাহবাগ

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now