বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
ফোনটা বের করে দেখলাম ভোর ৪.১০ মিনিটে ম্যাসেজটা ডেলিভারি হইছে ঐ নম্বরে। কিছুটা অপ্রস্তুত হয়ে রেজিষ্ট্রারে গিয়ে জানতে চাওয়ায় খাতা বাহির করে দেখালো। লাশ গ্রহণকারীর ঠিকানায় যে নম্বর সেটাতেই ম্যাসেজ করেছিলাম। কয়েকবার ফোন দিলাম, রিসিভ হলো না।
প্রায় ১৩ দিন পর ঐ নম্বর থেকে ম্যাসেজ।
‘কথা বলা যাবে কী?’
উত্তর না দিয়ে ফোন দিলাম।
‘ঐশী, এটা আমার নাম। আপনার?’ রিসিভ করেই এভাবে কথা বলবে সেটা বুঝিনি।
‘নিশাত’।
একটু অপেক্ষা করে-‘বাবার চিকিৎসায় আপনার কিছু টাকা খরচ হইছে, সেটা কীভাবে নিবেন?’
কথায় এসব বিষয় চলে আসতে পারে তা জানতাম না। জানালাম টাকাটা ফেরত না দিলেই খুশি হবো।
আমার খুশি দিয়ে যে তার ঋণবোধ দূর হবে না, সেটাই ভালো করে কয়েকবার বুঝিয়ে দিল।
কখন যে কল কেটে গেছে নাকি কেটে দিছে তা বুঝতে পারিনি। ম্যাসেজ ভাইব্রেট হওয়াতে কান থেকে ফোনটা সরালাম।
‘ধন্যবাদ’। শুধু এটুকুই লিখা ছিল।
এরপর প্রায় প্রতিনিয়তই কথা হতো। প্রথমদিকে হায়-হ্যালো, তারপর খেয়েছেন কিনা, তারপর কাল কি করবেন, তারপর………………… প্রায় ১ মাস অতিবাহিত। গত এক মাসে ফোনে মিনিট থেকে মিনিট বেড়েছে, ম্যাসেজের সংখ্যা একটু একটু করে বেড়েছে, ফেসবুক-এ নিজেদের জানতে-জানাতে শিখেছি। এতকিছুর পরও আমি তাকে বুঝাতে পারিনি-‘টাকা টা ফেরত না দিলেই আমি খুশি হবো’।
আজ প্রায় ৩ মাস পর সিনিয়রকে বলে ২ দিনের অবসর পেয়েছি। ছোট বোনের ভার্সিটির ভর্তির দিনটা অন্তত ওর সাথে থাকতে পারবো।
ইশিকা, ছোট বোন। এস. এস. সি তে ভালো কিছু করতে পারলেও এইচ. এস. সি তে ভালো করে নি। তবুও কেন যেন ভার্সিটি চান্সটা পেয়েছে। ওর জন্ম থেকেই দেখছি ভাগ্য ওকে সহায়তা করে সবসময়।
শীতের মধ্যসময়। না বেশি না কম। ছুটির দিনগুলোতে ফোন বন্ধ করেই রাতের ঘুমটা ঘুমাতে যাই। মাও এমন দিনগুলোকে সকালে ডাকবে না জানি। সকালে ঘুম থেকে উঠতেই প্রায় ১০ টা।
ফোন অন করলাম। বাথরুম থেকেই শুনতে পেলাম ম্যাসেজ টোন পর পর দুইবার। ‘মা, নাস্তা দাও’ খাবার টেবিলে যেতে যেতেই ফোনটা হাতে নিয়ে ম্যাসেজ দেখলাম। ‘শুভ রাত্রি। কিছু কথা বলার সময় হবে?’ রাত ১.২৩ মিনিটের ম্যাসেজ।
‘শুভ সকাল। কিছু কথা বলতাম। সময় হবে কী?’ সকাল ৮.৩৪ মিনিটের এটা। নাস্তা শেষে ফোন করলাম। ‘সময় হলে একটু ফেসবুকে আসেন’ বলেই ফোনটা কেটে দিল।
ঐশীর ফেসবুকের নামটা এখনোও আমার কাছে স্পেশাল কিছু। এমন নামের কারণ জানতে চেয়েছি বারবার, ঘুরে ফিরে একই উত্তর। তাই একই উত্তর শুনতে গিয়ে সীমাবদ্ধ সময়ের কিছু অংশ নষ্ট করে কাজ নেই।
‘বর্ণিল কাশফুল’। আমি কখনো শুনিনি বা দেখিনি কাশফুল সাদা ছাড়াও কিছু হয়। তার ফেসবুকের এমন নামের যুক্তি-‘মানুষ কাশফুলকে ছুয়ে দেখে, ছবি তুলতে এই ফুলের সাহায্য নেয়, কিন্তু ভুল করেও এই ফুলকে বাড়ির সৌখিনতা বৃদ্ধিতে কাজে লাগায় না।’
ফেসবুকে আসলাম।
‘কেমন আছেন?’ প্রথম আমিই লিখলাম।
‘হ্যা ভালো। আপনার বাড়ির সবাই ভালো?’
‘হ্যা।’
‘আপনার মা কিন্তু অনেক ভালো আর ইশিকা তো সেই ভালো। বাবা একটু কঠিন কিন্তু সুন্দর মনের মানুষ।’
অবাক হলাম। কি লিখবো তাই বুঝছি না। আমি আমার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে তার সাথে কখনোই এতো কিছু বলিনি। বোনের নামটাও বলিনি।
‘আপনি কীভাবে জানলেন?’
‘আপনার বাড়ি গিয়ে দেখে এবং জেনে এসেছি।’
রহস্য থাকলেও খুব ভালো লাগছে।
‘কীভাবে সম্ভব? আর আমার বাড়ির কেউ তো কিছু বললোও না।’
‘সেটা তো জানি না। ফোন দিচ্ছি রিসিভ করেন।’
অফলাইন হওয়ার আগেই ফোন বেঁজে উঠলো।
‘হ্যা বলুন’ ল্যাপটপটা শাটডাউন দিতে দিতে ফোন রিসিভ করলাম।
‘আপনি কোথায় জব করেন, আপনার ফোন নম্বর আমার কাছে, এগুলো থাকলে কারো বাড়ি খুঁজে বের করা কী অসম্ভব?’ কিছুটা হাসিমাখা কন্ঠ ঈশীর।
‘তা ঠিক, কিন্তু এত কিছু কেন?’
‘কৃষ্ণচূড়ার গাছ দেখেছেন কখনোও?’ অনেক টা সময় নিরব থাকার পর প্রশ্নটা করলো।
‘হ্যা, অনেক।’
‘এই গাছে ফুল আসার পূর্বে গাছের সব পাতাই ঝরে যায়, তারপর নতুন পাতা গজানোর আগেই ফুল দিয়ে গাছ ভরে যায়। আমরা কখনোও ভাবিই না যে এতসুন্দর ফুলে ফুলে ছেয়ে যাওয়ার আগে গাছটি নগ্ন ছিল।’
‘হ্যা। কিন্তু সেটা প্রাকৃতিক নিয়ম।’ বাড়িতে আসার কারণ মেটানোর অধীর আগ্রহ নিয়ে কথা বলেই যাচ্ছি।
‘সব কিছুই তো প্রাকৃতিক। কোনোটাকে আমরা প্রাকৃতিক বলি আর কোনোটাকে বলিনা। এগুলো আমাদের ভাবনার ভুল। এগুলো ছাড়ুন। আপনার পরিবারটা কিন্তু অসম্ভব সুন্দর।’
‘আমার………’ কথা শেষ না হতেই কেটে দিলো। ফোন দিলাম, বন্ধ।
অনেক-অনেকবার ফোন দিলাম, বন্ধ।
নিজের ওপর খুব রাগ হচ্ছে। কী করা উচিৎ তা ভেবে পাচ্ছি না। ল্যাপটপ টা ওপেন করলাম। না, ফেসবুকেও নেই। আবার ল্যাপটপ বন্ধ করলাম।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now