বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

কারূনের ধ্বংসের কাহিনী

"ইসলামিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান মোঃ আনিছুর রহমান লিখন (০ পয়েন্ট)

X মূসা যাদুকরদের পরাজিত করার পর ফেরাউনের কর্মচারীগণ ইস্রায়েলীদের উপর অত্যাচারের মাত্রা বাড়িয়ে দিল। লোকদের এই দুঃখ-দুর্দশার সময় মূসা কারূণকে গরীব দুঃখীদের পাশে এসে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে অনুরোধ করলেন। কারূণ (Qarun) ছিল মূসার চাচাত ভাই আর সে ফেরাউনের অনুগ্রহে প্রচুর ধন-সম্পদের মালিক হয়েছিল। মূসার পিতামহ কাহত ছিলেন কারূণেরও পিতামহ। কাহতের দু‘পুত্রের একজন ইয়াসহুর- যার পুত্র কারূণ। আর অপর পুত্র ইমরান হলেন মূসার পিতা। অন্যান্য বনি-ইস্রায়েলী অপেক্ষা কারূণ অধিক পাককিতাব জানত, আর তার কন্ঠও ছিল সুমধুর। এই কারণে তাকে মুনাওয়ারও বলা হত। কিন্তু সে ছিল অত্যাচারী। কারূণ ফেরাউনের রাজ-দরবারের উচ্চপদস্থ কর্মচারী ছিল। ফেরাউন তাকে বনি-ইস্রায়েলীদের জিম্মাদার নিয়োগ করেছিলেন। সরকারী দায়িত্বের ক্ষমতাবলে সে বিরাট ধন-সম্পদের মালিক হয়েছিল। তার সম্পদ এত অধিক ছিল যে, সেগুলো গুদামে রেখে তালাবদ্ধ করে চাবিগুলি একত্রিত করলে তা একজন শক্ত সমর্থ লোকের পক্ষেও বহন করা কঠিন ছিল। এই চাবিগুলো ছিল চামড়ার তৈরী, প্রতিটি এক আঙ্গুল পরিমান লম্বা। মূসা ছিলেন বনি-ইস্রায়েলীদের নেতা। আর তার ভাই হারুণ ছিলেন তার উজির বা সাহায্যকারী। এ দেখে কারূণ হিংসায় জ্বলে উঠল। তার কথা হল- ‘হারুণ যেভাবে মূসার বংশের লোক এবং ভাই, আমিও তো তেমনি তার বংশের লোক এবং ভাই। সুতরাং বনি-ইস্রায়েলী সম্প্রদায়ের উপর নেতৃত্বে আমার অংশ থাকবে না কেন?’ একদা মূসা বনি-ইস্রায়েলীদের এক সমাবেশে পূর্ববর্তী সম্প্রদায়সমূহের আলোচনা করছিলেন। কারূণ যেহেতু নিজেকে তার প্রতিদ্বন্দ্বী বলে মনে করত তাই সে তার এই সমাবেশকে পন্ড করে দিয়ে তাকে হিম্মতহারা করার এক পরিকল্পণা করল। সে জাঁকজমকপূর্ণ পোষাকে সজ্জিত হয়ে অতি সু-সজ্জিত একটি খচ্চরের পিঠে সমাবেশের নিকটবর্তী হল। তার পশ্চাদুসরণ করছিল মূল্যবান পোষাক পরিহিত তারই সেবক দল। তারা মজলিসে উপস্থিত হওয়ার সাথে সাথে উপস্থিত লোকদের রূখ পরিবর্তন হয়ে গেল। তারা তাদের দিকে মনোনিবেশ করল। কারূণের মনি-মানিক্য খঁচিত পোষাক-পরিচ্ছদ এবং তার সেবকদের চাকচিক্যপূর্ণ আড়ম্বর দেখে বনি-ইস্রায়েলীদের অনেকে নিজেদের জন্যে আফসোস করতে লাগল। তারা বলতে লাগল, ‘আহা! কারূণ কত বড় ভাগ্যবান।’ যাদেরকে আল্লাহ জ্ঞান দিয়েছিলেন তারা এই আফসোস শুনে বলল, ‘আল্লাহর দরবারের সওয়াব পার্থিব সম্পদ অপেক্ষা হাজারগুণ উত্তম।’ বনি ইস্রায়েলীদেরকে হেদায়েতরত মূসা। মূসার সমাবেশে কারূণের চলার ভঙ্গি মূসাকে এ কথা বুঝাতে চেষ্টা করল যে, ‘হে মূসা! যদি তোমার দাওয়াতের ধারা এভাবে জারী থাকে তাহলে তুমিও জেনে রাখ যে, একদল মানুষ আমাকেও অনুসরণ করছে; আর আমি তাদের নেতা; অধিকন্তু আমি অগনিত হীরা-মানিক্যের মালিক। সুতরাং আমি তোমা অপেক্ষা উত্তম, তোমার অনুসরণ করা আমার জন্যে অত্যাবশ্যক নয়।’ এদিকে মূসাও বুঝতে পারলেন যে, কারূণ ভাল কোন উদ্দেশ্য নিয়ে সেখানে উপস্থিত হয়নি। তাই তিনি তাকে ডেকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘তোমার এই কর্মকান্ড যা তুমি যা করছ এর পিছনে কি কারণ রয়েছে?’ সে বলল, ‘হে মূসা! তুমি নব্যুয়ত লাভ করে আমা অপেক্ষা অধিক মর্যাদার অধিকারী হয়েছ। তবে জেনে রাখ, আমিও পার্থিব সম্পদের দিক দিয়ে তোমার উপর প্রাধান্য লাভ করেছি। সুতরাং এ সম্প্রদায়ে আমার মর্যাদা তোমার চেয়ে কম নয়। সুতরাং তুমি যেরূপ সম্প্রদায়ের নেতৃত্ব করছ তদ্রুপ আমিও কেন নেতৃত্বের অধিকারী হব না?’ কারূণ এভাবে স্বীয় অভিমত ব্যক্ত করলে মূসা বললেন, ‘এ বিষয়ে তো আমার কোন হাত নেই। আল্লাহর পক্ষ থেকে যা কিছু হচ্ছে, আমরা তা মেনে নিচ্ছি। এ ব্যাপারে তিনিই সর্বেসর্বা। তিনি যাকে ইচ্ছে নেতৃত্ব দান করেন, আবার যাকে ইচ্ছে নেতৃত্ব থেকে দূরে রাখেন।’ কারুণ ও তার সেবকদল। কারূণ তার এই জবাবে সন্তুষ্ট হতে পারল না। সে ঈর্ষা ও হিংসের মনোভাব নিয়ে বলল, ‘হে মূসা! আল্লাহ তোমাকে তূরপর্বতে ডেকে নিয়ে নব্যুয়ত দান করেছেন, ভালকথা, কিন্তু তোমার ভাই হারুণ তো আমাদের মাঝেই ছিল-তার নেতৃত্বের লক্ষণ কি?’ তিনি বললেন, ‘আল্লাহই তাকে আমার সাহায্যকারী হিসেবে দিয়েছেন।’ মূসার এই উত্তর জানার পরও হারুণের নেতৃত্ব নিয়ে এই একই প্রশ্ন ইস্রায়েলীদের একাংশ আবারও উত্থাপন করেছিল যখন তারা মিসর ত্যাগ করে প্যালেস্টাইনের পথে ছিল। সেসময় মূসার নির্দেশে বারগোত্র প্রধান ও হারুণকে একটি করে লাঠি আবাস তাম্বুর মধ্যে সাক্ষ্য সিন্দুকের পাশে রাখতে হয়েছিল। ঐসময় হারুণের নেতৃত্বের লক্ষণ হিসেবে তার লাঠিতে ফুল ফুটেছিল। যাহোক এসময় কারূণের চোখেমুখে অবিশ্বাস লক্ষ্য করে মূসা শান্তস্বরে বললেন, ‘হে কারুণ, আল্লাহ তোমাকে অগনিত ধন-সম্পদ ও অর্থের মালিক বানিয়েছেন, তোমাকে ইজ্জত ও সম্মান দান করেছেন। সুতরাং এর হক আদায় কর। ফকীর, মিসকীন ও দরিদ্রদিগকে যাকাত প্রদান কর ও অন্যান্য ভাবে দান খয়রাত কর।’ -এই কথা বলে মূসা তাকে স্বরণ করিয়ে দিলেন যে নেতৃত্ব থেকে দূরে রাখলেও আল্লাহ তাকে প্রচুর সম্পদের মালিক বানিয়েছেন। সুতরাং তার উচিৎ এইসব ফালতু চিন্তা বাদ দিয়ে বরং ঐসব অনুগ্রহের জন্যে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করা। ‘যার যেমন বোধ’-সম্পত্তির অংশবিশেষ গরীবের মধ্যে বিলিয়ে দিয়ে তার প্রতি পরকালের জন্যে কিছু সঞ্চয়ের উপদেশ শুনে কারূণ মনে করল মূসা তার সম্পত্তির এক বিরাট অংশ নিয়ে যেতে চাচ্ছে। তাই সে অহংকার ও ঔদ্ধত্য সহকারে বলল, ‘হে মূসা, আমি সম্পদ অর্জন করার বিভিন্ন কৌশল শিখেছি। এসব কৌশল অবলম্বন করে এই সমস্ত ধন-সম্পদ সঞ্চয় করেছি। সুতরাং ধন-সম্পদ বিষয়ে আমার গৌরব অনর্থক নয়। যা আমি স্বীয় শ্রম ও কৌশল ব্যাবহার করে অর্জন করেছি তা সম্পর্কে কথা এই যে, এ আমার প্রতি দয়া করা হয়েছে এ সঠিক নয়। আমি নিজে পরিশ্রম করে অর্জন করেছি হেতু এর সম্পূর্ণ স্বত্ত্ব আমার। সুতরাং এতে অন্য কারও হক থাকে কিভাবে?’ সে মূসার প্রতি ঘৃণার মনোভাব নিয়ে চলে গেল। মূসার অনুসারীরাও কারূণের পিছু ছাড়ল না। তার সঙ্গে দেখা হলেই তারা তাকে বলতে লাগল, ‘হে কারূণ, দেমাগ করবেন না, আল্লাহ দাম্ভিকদের পছন্দ করেন না। আল্লাহ যা আপনাকে দিয়েছেন তা দিয়ে পরলোকের কল্যাণ অনুসন্ধান করেন এবং ইহলোকে আপনার বৈধ সম্ভোগকে উপেক্ষা করবেন না। আপনি সদয় হন, যেমন আল্লাহ আপনার প্রতি সদয়। আর পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করবেন না। আল্লাহ ফ্যাসাদ সৃষ্টিকারীদের ভালবাসেন না।’ কারূণ যখন দেখল মূসা কিছুতেই তার পিছু ছাড়ছে না, তখন সে তাকে ভীত ও লোক সমক্ষে লজ্জিত ও হেয় করার জন্যে এক ঘৃণ্য পরিকল্পণা করল- মূসাকে সে ব্যভিচারের অপবাদ দিতে চাইল। আর তাই সে এক দুঃশ্চরিত্রা নারীর সাথে এই মর্মে চুক্তি করল যে, সে নারীকে মোটা অংকের অর্থ প্রদান করবে আর উক্ত নারী মূসা যখন বনি-ইস্রায়েলীদের ভরপুর মজলিশে ওয়াজ-নসিহত করতে থাকবে তখন উঠে দাঁড়িয়ে বলবে যে, মূসা তার সাথে ব্যভিচার করেছে। কারূণ এই চুক্তির উপর উক্ত নারীকে অর্থ প্রদান করল আর সেই মহিলা অতঃপর চুক্তিমত মূসার এক মজলিশে গেল। মূসার অপদস্থতা স্বচক্ষে অবলোকনের আকাঙ্খায় কারূণও সেই মজলিশে উপস্থিত হল। মূসা পূর্ববর্তী সম্প্রদায়ের কাছে আগত রসূল ও তাদের উপর প্রেরিত ঐশীবাণী বনি-ইস্রায়েলীদের শুনাচ্ছেন। মজলিস ভরপুর। এমতাবস্থায় উক্ত নারী উঠে দাঁড়িয়ে উপস্থিত সকলকেই সম্বোধন করে বলল, ‘আপনারা মূসার সম্পর্কে এ কথা শুনুন যে'-সে ক্ষণকালের বিরতি নিয়ে তারপর বলল, 'তিনি আমার সাথে ব্যভিচার করেছেন।’ কারুণের আবাসস্থল। ঐ নারীর একথা শুনে মূসা স্তম্ভিত হলেন। তিনি বুঝতে পারলেন তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হয়েছে। তিনি তৎক্ষণাৎ সিজদায় পড়লেন এবং আল্লাহর কাছে মুনাজাত শেষে উক্ত নারীকে উদ্দেশ্য করে বললেন, ‘ওহে নারী! আমি তোমাকে আল্লাহর কসম দিয়ে বলছি তুমি সত্যি করে বল, কি কারণে তুমি আমার বিরুদ্ধে এই অপবাদমূলক কথা বলছ?’ ঐ নারী বলল, ‘হে মূসা! যেহেতু আপনি আমাকে আল্লাহর কসম দিয়েছেন, সেহেতু মিথ্যে কথা বলা যাবে না। প্রকৃত ঘটনা হল এই- কারূণ আমাকে মোটা অংকের অর্থ প্রদান করেছেন যেন আমি আপনার সম্পর্কে এসব কথা বলি। এখন আমি দয়াময় আল্লাহর কাছে আমার অপরাধের জন্যে ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং তওবা করছি।’ মূসা সাথে সাথে সিজদায় পড়ে আল্লাহর কাছে কারূণের বিচার প্রার্থনা করলেন। আল্লাহ ওহীর মাধ্যমে জানিয়ে দিলেন-জমিনকে এ নির্দেশ দেয়া হয়েছে, যেন সে তার (মূসার) নির্দেশ মত কাজ করে। এদিকে কারূণ গোপনে মজলিস থেকে পালিয়ে তার তাম্বুতে গিয়ে আশ্রয় নিল। পরদিন মূসা কারূণের তাম্বুর কাছে এসে সেখানে উপস্থিত ইস্রায়েলীদেরকে বললেন, ‘তোমরা এই দুষ্ট লোকের তাম্বুর কাছ থেকে সরে যাও। তার কোন জিনিষ তোমরা ছুঁয়োনা; যদি তা কর তবে তার পাপের জন্যে তোমরাও ধ্বংসের অধীন হবে।’ লোকেরা তার তাম্বুর কাছ থেকে সরে গেল। মূসা ইস্রায়েলীদেরকে বললেন, ‘কারূণ, তার পরিবার ও অনুসারীদের যদি স্বাভাবিক মৃত্যু হয়, অন্য মানুষের যা হয় তা থেকে ব্যতিক্রম কিছু না ঘটে, তাহলে বুঝবে আমি আল্লাহ প্রেরিত রসূল নই। কিন্তু যদি নতুন কিছু ঘটে এবং জমিন যদি তাকে তার সবকিছুসহ গিলে ফেলে আর সে জীবিত অবস্থায় মৃতস্থানে চলে যায় তবে বুঝবে যে এই ব্যক্তি আল্লাহকে অস্বীকারকারী এবং তাঁর রসূলের বিরুদ্ধে ঘৃণ্য ষড়যন্ত্রকারী।’ মূসা জমিনকে নির্দেশ দিলেন, ‘হে জমিন! কারূণকে তার ধন-সম্পদ ও সহায়-সম্বলসহ গ্রাস কর।’ তৎক্ষণাৎ কারুণের তাম্বুর নীচের মাটি দু‘ভাগ হতে শুরু হল। কারূণ চীৎকার করে লাফ দিয়ে তার তাম্বুর বাইরে বেরিয়ে এল। কিন্তু সে পালিয়ে যেতে পারল না। জমিন তাকে, তার পরিবারের সমস্ত লোক এবং তার সহায়-সম্পদ সবকিছু ধীরে ধীরে গিলে ফেলতে শুরু করল। এ যেন চোরাবালিতে ধীরে ধীরে ডুবে যাচ্ছে সব। জমিন তাকে হাঁটু পর্যন্ত গ্রাস করে ফেলল। মূসা জমিনের উদ্দেশ্যে বললেন, ‘তাকে আরও শক্ত ভাবে ধর।’ এভাবে জমিন যখন তাকে গলা পর্যন্ত গ্রাস করল, মূসা চিৎকার করে বললেন, ‘হে কারূণ, এখনও সময় আছে- আল্লাহর উপর ঈমান আন আর যাকাত প্রদান করার ওয়াদা কর।’ সে বলল, ‘হে মূসা, আমি তোমার কথায় জীবন থাকতে আমার সম্পদের এক কানা-কড়িও বিলিয়ে দেব না।’ মূসা জমিনকে আদেশ করলেন, ‘তবে তাকে তার ধন-সম্পদসহ সম্পূর্ণরূপে গ্রাস করে ফেল।’ কারুণ, তার আবাস তাম্বু, ধন-ভান্ডার, সমস্তকিছু জমিনের ফাঁটলের মধ্যে দেখতে দেখতে অদৃশ্য হয়ে গেল। উপস্থিত ইস্রায়েলীরা এই দৃশ্যে ভীত হয়ে চীৎকার করে ছুটে পালাল। তারা ভাবল জমিন হয়তঃ তাদেরও গিলে ফেলবে। কাজ শেষে জমিনের উপরকার ফাঁটলটা আবার বন্ধ হয়ে গেল। আগের দিন যারা কারূণের মত হতে চেয়েছিল তারা তখন বলতে লাগল, ‘দেখ! আল্লাহ তাঁর দাসদের মধ্যে যার জন্যে ইচ্ছে জীবনের উপকরণ বাড়ান ও যার জন্যে ইচ্ছে, তা কমান। যদি আল্লাহ আমাদের উপর সদয় না হতেন তবে আমাদেরকেও তিনি মাটির নীচে মিলিয়ে দিতেন। দেখ! অবিশ্বাসীরা সফল হয় না।’ আর কারূণের পরিণতি সম্পর্কে কোরআনের আয়াতসমূহ- কারূণ ছিল মূসার সম্প্রদায়ভূক্ত কিন্তু সে তাদের উপর জুলুম করেছিল। আমি তাকে এত ধন-ভান্ডার দিয়েছিলাম যার চাবিগুলো বহন করা একজন শক্তিশালী লোকের পক্ষেও কষ্টসাধ্য ছিল।..তার সম্প্রদায় তাকে বলেছিল, ‘দেমাগ কোরও না, আল্লাহ দাম্ভিকদের পছন্দ করেন না। আল্লাহ যা তোমাকে দিয়েছেন তা দিয়ে পরলোকের কল্যাণ অনুসন্ধান কর এবং ইহলোকে তোমার বৈধ সম্ভোগকে উপেক্ষা কোরও না। তুমি সদয় হও, যেমন আল্লাহ তোমার প্রতি সদয়। আর পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি কোরও না। আল্লাহ ফ্যাসাদ সৃষ্টিকারীদের ভালবাসেন না।’ সে বলল, ‘এ সম্পদ আমি আমার জ্ঞানের জোরে পেয়েছি। আর তা থেকে এক কানাকড়িও আমি নষ্ট হতে দেব না।’ কারূণ তার সম্প্রদায়ের সম্মুখে জাঁকজমকের সাথে উপস্থিত হয়েছিল। যারা পার্থিব জীবন চাইত তারা বলল, ‘আহা! কারূণকে যা দেয়া হয়েছে আমরা যদি তা পেতাম! সত্যিই তিনি বড় ভাগ্যবান।’ আর যাদেরকে জ্ঞান দেয়া হয়েছিল তারা বলল, ‘ধিক তোমাদেরকে, যারা বিশ্বাস করে ও সৎকাজ করে তাদের জন্যে আল্লাহর পুরস্কারই শ্রেষ্ঠ, আর ধৈর্য্যশীল ছাড়া কেউ এ পাবে না।’ তারপর আমি কারূণকে ও তার প্রাসাদকে মাটির নীচে মিলিয়ে দিলাম। তার পক্ষে এমন কোন দল ছিল না যারা আল্লাহর শাস্তির বিরুদ্ধে তাকে সাহায্য করতে পারত। আর সে নিজেও আত্মরক্ষা করতে পারেনি। আগের দিন যারা তার মত হতে চেয়েছিল তারা তখন বলতে লাগল, ‘দেখ! আল্লাহ তাঁর দাসদের মধ্যে যার জন্যে ইচ্ছে জীবনের উপকরণ বাড়ান ও যার জন্যে ইচ্ছে, তা কমান। যদি আল্লাহ আমাদের উপর সদয় না হতেন তবে আমাদেরকেও তিনি মাটির নীচে মিলিয়ে দিতেন। দেখ! অবিশ্বাসীরা সফল হয় না।’-(২৮:৭৬-৮২)


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৯৮ জন


এ জাতীয় গল্প

→ কারূনের ধ্বংসের কাহিনী

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now