বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
স্কুল জিবনে সেই প্রথম
দিন থেকে তামান্নার
সাথে পরিচয় শান্তর।
ধীরেধীরে দুজনের
মাঝে সুন্দর এক বন্ধুত্ব
গড়ে উঠে।
তবে আবেগী নারী
নিজের আবেগ ধরে
রাখতে না পেরে সুন্দর
বন্ধুত্বের আরো একটা
নতুন রূপ দিতে পঞ্চম
শ্রেণীতে উঠে শান্তকে
প্রপোজ করে।
দিশাহারা শান্ত তখন
সম্পূর্ণভাবে বুঝে উঠতে
না পেরে তামান্নাকে
"না" বলে দেয়।
ভাগ্যক্রমে গল্পটা আর
সেখানে থেমে
থাকেনি।
দুষ্টু-মিষ্টি তামান্না
পরেরদিন থেকে
কোনোভাবে শান্তর
ভাবনার জগত কেড়ে
নেয়।
প্রতিদিন-প্রতিরাত-
প্রতিক্ষণ ভাবায়
শান্তকে।
ভাবনার জগত থেকে
বেড় হতে না পেরে
আবেগে পড়ে সপ্তম
শ্রেণীতে উঠে শান্ত
তামান্নাকে প্রপোজ
করে বসে।
তবে সে যে নারী
জাত,প্রতিশোধ যে
তাদের থেকেই জন্ম।
তাইতো প্রতিশোধের
আগুনে জ্বলে সাথে
সাথে শান্তকে "না"
করে দেয় তামান্না।
এটাও অন্তিম নয়
গল্পের।
একবছরের জন্য দুজন
নিশ্চুপ থাকলেও অষ্টম
শ্রেণীতে উঠে শান্তকে
আবার প্রপোজ করে
তামান্না।দ্বিতীয়
ভুলটা আর না করে তখন
সাথে সাথে গ্রহণ করে
নেয় শান্ত।
শুরু হয়
পথচলা,ভালবাসা
খুনসুটি আর অভিমানের
মধ্য দিয়ে মুহূর্ত একে
একে পার করা।
সময়টা খুব ভালোই
কাটছিলো দুজনের।তবে
দেখার বিষয় সেটা
কতটা ক্ষণস্থায়ী......
দুজনের মাঝে
ভালবাসাটা বৃদ্যমান
রেখে ছাত্রজীবনে চলে
আসে স্কুল জিবনের
অন্তিম পরীক্ষা।
তারপর দুজন খুব
ভালোভাবে পরীক্ষাটা
শেষ করে।
এরি মাঝে সারা
এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে পরে
তাদের মাঝে গড়ে ওঠা
রিলেশনের কথা।
তাইতো সেটা এড়াতে
তামান্নাকে তাঁর
পরিবার রাজশাহী
পাঠিয়ে দেয়।আর শান্ত
চলে যায় কুষ্টিয়া।
তবে থেমে থাকেনি
তাদের যোগাযোগ।
দিনশেষে সেলফোনের
মাধ্য দুজনের মাঝে
ঠিকি কথা হতো।
কথায় আছে "চাকাহীন
গাড়ি আর আবেগহীন
নারী দুটোই অসম্ভব।"
তাইতো রাজশাহী গিয়ে
নতুন পরিবেশে নতুন
লোকের ভীরে নতুন করে
অন্য কারো প্রেমে পরে
তামান্না।
আর সেই নতুন প্রেম
নিয়ে আসে শান্তর
জিবনে অব্যক্ত তুমুল ঝড়।
প্রিয় মানুষের কাছে
ইগনোর আর তাঁর এড়িয়ে
চলা রূপ যে কতটা
বেদনা দায়ক সেটা
শুধুমাত্র শান্তর স্থানে
থাকা মানুষ গুলাই
বোঝে।
শান্ত সেই বেদনা সহ্য
করতে না পেরে
তামান্নার পথ থেকে
সরে যায়।
.
তবে আবেগী মেয়েটা
যে কি বড় ভুল করেছিলো
সেটা বুঝতে পারে
শান্তর অবর্তমানে।
সে তার ভুল বুঝতে পেরে
নিজেকে পাপী ভেবে
শান্তর কাছে ক্ষমা
প্রার্থনার আশায় তাকে
কল দেয়.......
- হ্যালো।
- কে?(কাঁপে কণ্ঠে)
- তামান্না।
- ওহ্,কেমন আছো?
- হুম ভালো,তুমি?
- আছি...বেঁচে।
- আমায় মিস করোনা?
- জাস্ট মুহূর্ত গুলোকে
মিস করি।
- একটা কথা বলবো?
- হুম বলো।
- আমায় ক্ষমা করা
যায়না?
- ক্ষমা না করলে হয়তো
আজ কলটা রিসিভ
করতাম না।
- আমি বুঝতে পারিনি
শান্ত,"আই এম রিয়েলি
সরি।"আমি তোমায় আবার
আগের মতন ফিরে পেতে
চাই।তোমার সাথে
বাকিটা জীবন থাকতে
চাই।প্লিজ আমায়
ফিরিয়ে দিওনা,একটা
সুযোগ দাও।"আই লাভ্ ইউ
শান্ত,আই লাভ্ ইউ সো
মাচ।"(কান্না জড়িত
কণ্ঠে)
- ধুর পাগলি,কান্না
থামাও।ভুল করেছো
সেটা ব্যাপার
না,ভুলটা বুঝতে
পেরেছো সেটাই অনেক
কিছু।"আই লাভ্ ইউ টু।"
ব্যস,নিভু নিভু
ভালবাসা আবার প্রাণ
ফিরে পায়।দিন
পেরিয়ে রাত,মাস
পেরিয়ে বছর দুজনে
পুরনো রূপে চলতে চলতে
ইন্টার কম্পিলিট করে
ফেলে।
তবে দুর্ভাগ্য শান্তর
পিছু ছাড়তে নারাজ।
তাইতো শান্তর অজান্তে
তামান্নার পরিবার
থেকে তাঁর বিয়ে ঠিক
করে ফেলে।
কথাটা যখন শান্ত
জানতে পারে তখন
তাদের মিলনের
একটিমাত্র পথ বেঁচে
ছিলো "পালিয়ে বিয়ে
করা।"
উপায়হীন দুজনে সেই
পথটাই বেছে নেয়।
.
পারিবারকে না
জানিয়ে দুই প্রেমিক-
প্রেমিকা হারিয়ে যায়
অজানা অচেনা এক
শহরে।
সেখানে ছোট্ট এক ঘরে
গড়ে তুলে সীমাহীন
ভালবাসার প্রতিফলন।
ধীরেধীরে তখন তাদের
পরিবার অতুলনীয়
ভালবাসার কাছে হার
মেনে তিনমাস বাদে
দুজনকে মেনে নেয়।
এখানেও যদি গল্পটা
শেষ হয়ে যেতো তবে
অপূর্ণ রয়ে যেতো
বাস্তবতার আরো একটা
ভয়ংকর রূপ।
.
হঠাৎ একদিন তামান্না
শান্তকে বলে বসে
"আমার ডিভোর্স
চাই।"কারণহীন এমন
কথায় শান্তর মাথায়
আকাশ ভেঙে পরে।
কি বলবে ভেবে না
পেয়ে সে সরাসরি বলে
দেয় "এটা সম্ভব নয়।"
তামান্নাও কম কিসে!
সে তাঁর কথা থেকে সরে
দাঁড়াতে নারাজ।তাইতো
এই নিয়ে অনেক
হয়রানির পর গ্রামের
সকল গণ্যমান্য
ব্যক্তিদের নিয়ে
বিচার ডাক দেয় এবং
বিচারে সকলের সামনে
বলে "শান্ত তাকে জোর
করে বিয়ে করেছে।"
আর কি চাই!এ যে
গণতন্ত্র নয় নারীতন্ত্র
দেশ।তাই শান্তর
কোনো কথায় গ্রাহ্য
না দিয়ে সকলে তাদের
ডিভোর্সের কথায় শাই
দেই।
তবে সবকিছুর মাঝে
আইন বলেও কিছু
রয়েছে,সেটার প্রতিরূপ
হিসেবে তাদের ছয়মাস
একসাথে থাকতে হয়।
অবশ্য এতে খুব বেশি
কিছু হয়নি।
২২-০২-২০১৭ তে ঠিকি
তাদের ডিভোর্স হয়ে
যায়।
অদ্ভুত ভাবে ডিভোর্সের
রাতে শান্তর কাছে
খবর আসে "তামান্না
সুইসাইড কড়ার চেষ্টা
করেছে।"
একে একে ঘটেচলা
ঘটনা গুলো এরিমধ্যে
শান্তকে ডিপ্রেশনের
কবলে ঠেলে দিয়েছে।
যেটা থেকে বেড়িয়ে
আসতে তাঁর সময় লাগে
গুনে গুনে ছয়টি মাস।
.
শান্ত যখন পুরনো স্মৃতি
মুছে কিছুটা হাসতে
শিখেছে তখনি এক
রাতে কালো মেঘের
ন্যায় হানা দেয়
তামান্নার কল।
স্ক্রিনে ভেসে ওঠা
চিরচেনা সেই নাম্বার
শান্তর চোখ বেয়ে দু-
ফোঁটা লোনা জল বয়িয়ে
আনতে বাধ্য করে।
বাস্তবতা আর
ভালবাসার যুদ্ধে সে
তখন আবেগের কাছে
হার মেনে কলটা
রিসিভ করে।তারপর
কাঁপা হাতে ধীরেধীরে
মোবাইলটি কানে ধরতে
ওপাশ থেকে ভেসে আসে
তুমুল বেগে ঝরে চলা
কান্নার আওয়াজ।
শান্ত তখন কি বলবে
ভেবে না পেয়ে চুপচাপ
সেই কান্না শুনতে
থাকে।
এভাবে কিছুক্ষণ চলার
পর তামান্না তাঁর
কান্না থামিয়ে ভাঙা
ভাঙা গলায় বলে
"হ্যালো"।
- হুম।
- জানি তোমার কাছে
ক্ষমা চাওয়ার যোগ্যও
আমি নই।তবুও ভুল থেকে
শিক্ষা হয়,তাই সেটা
অনুসরণ করে আরো
একবার তোমার কাছে
শেষ সুযোগ চাই।এমন ভুল
আর কখনো হবে না।
- আমার কাছে ক্ষমা
চেয়ে কি লভ!পারবে
আমার বাবা মায়ের
কাছে ক্ষমা চেয়ে
নিতে?
- সব পারবো।তুমি যা যা
বলবা সব করতে রাজি।
- ঠিক আছে,কাল সকালে
তাদের থেকে ক্ষমা
চেয়ে নিও।এখন রাখছি।
- আর কিছুক্ষণ কথা
বললে হয় না?
- হুম।
তারপর দুজন সেদিন
সারারাত কথা বলে
এবং সকালে তামান্না
শান্তর বাবা মায়ের
থেকে ক্ষমা চেয়ে নেয়।
ডিভোর্সের ছয়মাস পর
দুজনের মাঝে হারিয়ে
যাওয়া ভালবাসা আবার
নতুন করে শুরু হয়।
ভাববার বিষয় সেই
ভালবাসা আদৌ কোন
দিশায় চলতে প্রস্তুত।
দিশাহীন দুটি মন
পাশাপাশি চলতে চলতে
আবারো মোড় নেয় এবং
একটি মন নতুন কারো
সাথে সম্পর্ক গড়ে তুলে।
সবশেষে ১০-০২-২০১৮
শান্ত ও তামান্নার
ফাইনাল বিচ্ছেদ ঘটে।
এটা হয়তো কোনো গল্প
হলে খাতা আর কলমের
কালি ফুরিয়ে হারিয়ে
যেতে পারতো,ভাগ্যক্রম
ে এ এক অভাগার জীবন
কাহিনী।
যেটা হৃদয়ের মাঝে
নাড়া দিয়ে বুঝিয়ে
দেয় "ভালবাসা এমন এক
দৃশ্যমান বাক্যের
নাম,যেটা অদৃশ্যমান
ভাবে বাঁচিয়ে রেখে
মেরে ফেলে মনকে।"
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now