বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

কারিন (পর্ব:১)

"ভৌতিক গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Rawsif Ishrak Labib(guest) (০ পয়েন্ট)

X গুড়িগুড়ি বৃষ্টিতে আবহাওয়া পাল্টে হালকা ঠান্ডা পরেছে। চারদিক ভিজে একাকার। এদিকে পরীক্ষার পর কলেজ প্রায় মাসখানেকের জন্য বন্ধ। লম্বা ছুটি কাটানোর মতো কোনো উপায় মাথায় আসছে না। কিছুদিন ধরে বন্ধুদের সাথে আশেপাশে বেশ কয়েকটা জায়গা ঘুরেছি। কিন্তু শহরের এই কৃত্তিম পরিবেশটা যেন এখন আর মনে ধরছে না। একটু প্রাকৃতিক হাওয়ায় নিজেকে পেলে যেন তৃপ্ত হতাম। সেই সুযোগটা করে দিলেন আমার বাবা। । । শুনলাম গ্রামে বাবার এক বন্ধুর বাড়িতে যাওয়া নিয়ে মা আর বাবার মধ্যে কথা হচ্ছিল। এক পর্যায়ে বাবা, মাকে উদ্দেশ্য করে বলে উঠলেন... :- কিছুদিন ধরে অফিসে যা কাজ চলছে তাতে অন্তত দশ পনেরো দিনের আগে আমার ছুটি নেয়া সম্ভব হবে না।এদিকে ছোটবেলার বন্ধু এতোদিন পর একটা কথা বললো তার উপর আর ৩ দিন পর ওর বড় মেয়েটার বিয়ে। আমরা না গেলে খারাপ দেখায়। কি যে করি! এক কাজ করো তুমি বরং যারিনকে নিয়ে সেখানে চলে যাও। গ্রামে গিয়ে তোমাদেরও খুব ভালো লাগবে। বাবার কথা শুনে মা কিছুটা অসন্তুষ্ট হয়ে বললেন.. :-আমি যে তোমার মেয়েটাকে নিয়ে চলে যাবো তোমাকে দেখবে কে? নিজের খেয়াল টুকু তো আমাকে ছাড়া রাখতে পারবে না তার ওপর ঠিকমতো ঔষধের খাওয়ার কথাও মনে থাকে না। তোমাকে ফেলে একদিন সেখানে আমি শান্তিতে থাকতে পারবো? বাবা বললেন... :- তাহলে কি আমার দেয়া কথাটা রাখতে পারবো না ? আমি চুপচাপ বাবা মায়ের সব কথা শুনলাম। মাথায় তখনি বুদ্ধি খেলে গেলো। এইতো সুযোগ, ছুটিটা বেশ মজায় কাটানো যাবে তার উপর একটা বিয়ে বাড়ি ভেবেই উত্তেজিত হয়ে যাচ্ছি। আমি এর আগে কখনও গ্রামের বিয়ে দেখিনি। তাই ঝটপট বাবাকে বলে ফেললাম... :- বাবা, এমন যদি হয়! তুমি অফিসের কাজ ও করলে আবার তোমার বন্ধুকে দেয়া কথাও রাখলে তবে? :- কিন্তু কিভাবে? :- শোনো, যদি তোমাদের বদলে আমি গ্রামে যাই?  :-কিন্তু তুই একা? না না, একা যাওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। :- এই একটা জিনিস আমার ভালো লাগে না। আচ্ছা আমি কি এখনও ছোট? এর আগেও তো অনেক বিপদ থেকে নিজেই নিজেকে রক্ষা করেছি নাকি? :- সে ঠিক আছে! :- তাহলে আর কোনো কথা নয়, আমি গ্রামে যাবো ব্যাস। বাবা আর কি বলবেন! এর আগেও আমি যে কিভাবে বন্ধুুদের সাথে মিলে রহস্য সমাধান করতে গিয়ে অনেক বিপদকে বেশ দক্ষতার সাথে কাটিয়ে দিয়েছি সেটা মা বাবা ভালোকরেই জানে। তাই এই নিয়ে আর বেশি কিছু না বলে আমাকে যাওয়ার অনুমতি দিয়ে দিলেন তবে বললেন একা না গিয়ে বন্ধুদের সাথে নিয়ে যেতে, পথে একা লাগবে না আর আনন্দও করা যাবে। আমি রাজি হলাম। । । ঘরে গিয়ে একে একে, অনা, ইশান,দিপুকে ফোন দিলাম। সবাই জানালো তারা এখন আসতে পারবে না। মনটা বেশ খারাপ হয়ে গেলো। কি ভাবলাম আর কি হলো। শেষমেশ একাই যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলাম। বাবাকে কোনো মতো রাজি করিয়ে নিলাম। । । ব্যাগ গুছাতে গিয়ে রিভালবারটার কথা মনে পড়লো.. বেশ কিছুদিন আগে আমার জন্মদিনে বাবা আমায় একটা রিভালবার গিফ্ট করেছেন। এই একটা জিনিস আমি বাবার থেকে প্রথম চেয়েছিলাম। ছোট থেকেই আমার রিভালবারের প্রতি একটা আলাদা আকর্ষণ রয়েছে। আমার সাহস আর বুদ্ধি দেখে বাবা খুশি হয়েই এটা আমায় দিয়েছেন। দেয়ার সময় বার বার সাবধান করে দিয়েছেন যেন নিজের আত্মরক্ষা ছাড়া এটা কোনো অপ্রয়োজনীয় কাজে ব্যবহার না করি।  । কিন্তু গ্রামে কি রিভালবরের প্রয়োজন হবে? হোক বা নাই হোক নিয়ে তো যাই, কে যানে হয়তো কোনো রহস্যের খুঁজও পেয়ে যেতে পারি? ( অনেকে হয়তো ভাববে একটা মেয়েকে এতো সহজে কেনইবা তার মা বাবা রিভালবার দিয়ে দিলো। তার জবাব একটাই, এখন শুধু ছেলেরা নয় বরং ছেলেদের পাশাপাশি মেয়েরাও অনেক ক্ষেত্রে নিজেদের দক্ষতার পরিচয় দিচ্ছে। নিজের আত্মরক্ষার জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। )  । । পরদিন সকালে... ট্রেন ধরে পাহাড়তলি গ্রামের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলাম। জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে আছি। কারো ডাকে ঘুরে তাকালাম। দেখলাম একজন মাঝবয়সী টিটি এসে আমার কাছে টিকিট চাইছে। আমি আমার টিকিট টা দিলাম। টিকিটের দিকে তাকিয়ে লোকটার হাস্য উজ্জ্বল মুখটা কেমন অন্ধকার হয়ে গেলো। আমার পা থেকে মাথা পর্যন্ত একবার ভালোভাবে তাকিয়ে থেকে হুট করে চলে গেলো। বেশ অবাক হলাম। পাশের সিটে বসা একটা মহিলা আমায় জিজ্ঞেস করলেন কোথায় যাবো। যেই পাহাড়তলি গ্রামের কথা বললাম মহিলাও থমকে গেলো। চোখমুখে ভয়ের একটা ছাপ দেখতে পেলাম। মহিলাটি আমায় বললো " সাবধানে থেকো মা " বলেই চুপ করে গেলেন। কারণ জিজ্ঞেস করায় কেমন যেন একটা এড়িয়ে গেলেন। বিষয়টা সন্দেহজনক, টিটি আর মহিলা দুজনের আচরণে অস্বাভাবিকতা লক্ষ্য করলেও আর তেমন কিছুই বললাম না। । । প্রায় ৪ ঘন্টা পর বিকেলের দিকে ট্রেনটা স্টেশনে এসে থামলো। স্টেশন বলতে শুধু একটা বোর্ড আর সামনে খোলা জায়গা। প্রথম দেখায় কেউ ভাবতেই পারবেনা এটা স্টেশন। ট্রেন থেকে নেমে চারদিকে তাকিয়েও তেমন একটা লোকজন দেখতে পেলাম না। আমি ছাড়া আর কেউ ট্রেন থেকে নামলো না। আমাকে বাড়িতে নেয়ার জন্য একজনের আসার কথা ছিল কিন্তু কাউকেই তো দেখছি না। সামনেই একটা চায়ের দোকান। তবে দোকানে কোনো ক্রেতা নেই। একজন বৃদ্ধ লোক বসে চা বানাচ্ছেন।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১১২ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now