বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
গল্পের নামঃ KaRib
লেখকঃ মেহেদী হাসান
~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
এতসব চিন্তাভাবনার মাঝেই রুমের একটি দরজা খুলে গেল আর রাকিব দেখল রুমে মোজাফফর হোসেন প্রবেশ করছে। মোজাফফর হোসেন এই এলাকার কাউন্সিলর। তার অনেক খারাপ কাজের কথা শুনেছে সে(রাকিব)। খুবই বাজে লোক। বিভিন্ন কাজের নাম করে সরকারের ও মানুষের সব টাকা হাতিয়ে নেন।
"কি? কেমন আছো??
প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে রাকিব পালটা প্রশ্ন ছুড়ল,
" আমাকে এখানে এনেছেন কেন?"
"অনেক কিছুর জন্য আনা হয়েছে।"
বলেই রুম কাপিয়ে বিকট একটা হাসি দিলেন মোজাফফর হোসেন। রাকিবের কাছে হাসিটা ভয়ংকর ও একই সাথে বিদঘুটে লাগল।
"শোনো রাকিব, তোমার বাবা তোমাকে দেড় বছর আগে একটা বিদেশি কলম কিনে দিয়েছিল। সেই কলম টাতে বিস্ফোরক লাগানো আছে। ঠিক ৯ দিন পর সেটা বিস্ফোরিত হবে।তাই আমি তোমাকে বলছি এই কলমটা আমাকে দিয়ে দাও।"
কিছুক্ষণের জন্য ভাবতে বসল রাকিব। একটা কলমের জন্য কেন তাকে কিডন্যাপ করবে??
বর্তমানে একজাতের বিস্ফোরক বের হয়েছে যা অন করার ২ বছর পরেও বিস্ফোরণ হয়। কয়েকদিন ধরে ওই বোমা নিয়ে হই চই চলছে যা রাকিবের অজানা নই। সপ্তাহ দুয়েক আগে বোমা বিস্ফোরণে ৮ জন মারাও গিয়েছিল। কিন্তু তদন্ত কমিটি শুধু একটিই রহস্য বের করতে পেরেছিল আর তা হলো বোমাটি আড়াই বছর আগের।
~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
দেড় ঘন্টা পর জ্ঞান ফিরল সাকিবের। সামনে চেয়ে দেখে তানভীর কিছু একটা করছে। এহসান দেয়ালে ঠেস দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। দেয়ালের পাশে দুইটি আহত ব্যাক্তি। মুখে রক্ত। কি হয়েছে তাদের?? নিশ্চয় মারামারি হয়েছে। কার সাথে?? প্রশ্ন করলে এহসানকে,
" কিরে কি হয়েছে?"
এহসানের বদলে তানভীর উত্তর দিল,
" পরে বলব। আগে তোর হাত পায়ের বাঁধন (বাঁধ)গুলো কেটে নেয়।"
সাকিবকে একটা চেয়ারে রশি দিয়ে বাঁধা হয়েছে। রশিগুলো কেটে দিয়ে তানভীর বলতে শুরু করল,
" তুই এখানে আসার আধঘন্টা পার হওয়ার পর আমার মনে খটকা লাগল।ভাবলাম তুই তো কোনো কাজে এত সময় দেরি করিস না। তাই খুব ভালো করে বুজতে চাইলাম ঘটনা কি। তাই চুপিসারে সিড়ি বেয়ে ওপরে উঠে গেলাম। দেখলাম ভিতরে ঢোকার একটি দরজাই আছে। দরজার নিচ দিয়ে দেখলাম একটা চেয়ারে রশি দিয়ে কে যেনো বাঁধা আছে। জুতা দেখে বুজতে পারলাম সেটা তুই। আর দুইজন লোক দাঁড়িয়ে নিচু স্বরে কথা বলছে।" এই টুকু বলে থামল তানভীর।
" কি নিয়ে কথা বলছিল তারা?" প্রশ্ন করল সাকিব।
" তোর জ্ঞান ফেরা না ফেরা নিয়ে কথা বলছিল।আচ্ছা শোন, তারপর ২য় তলায় গেলাম এহসানকে ডাকতে। দেখলাম সে কি যেনো ভাবছে। তোর অবস্থার কথা বলতেই সে বলল তার আশঙ্কায় নাকি ঠিক হলো। তারপর তাকে নিয়ে এখানে এলাম। আমি কলিং বেল চাপলাম। তবে তার আগেই আমরা একটা প্ল্যান করে নিলাম। তাদের কাছে নিশ্চিত পিস্তল আছে। আর আমাদের কিছুই নেই। এহসান দাড়ালো দরজার সামনে আর আমি দাড়ালাম দরজার পাশে। যাতে প্ল্যান টাকে কাজে লাগানো যায়।যখনই ভিতর থেকে সিটকিনি খোলার শব্দ হলো তখনই এহসান দরজার হাতলটা ধরে ফেলল। সে তৎক্ষনাৎ বুজে আমাকে ইশারা দিল।আমিও হাতলটা ধরলাম। তারপর দরজাটা ধরে রাখলাম যাতে ভিতর থেকে দরজাটি না খুলতে পারে। ভিতরে থাকা ব্যাক্তিটি দরজাটি খুলতে না পেরে মনে করে দরজায় বোধহয় কোনো সমস্যা আছে। তাই সে শরীরটাকে সামনে এনে পা টাকে পিছনে নিয়ে যখনই টান দিতে যাবে ঠিক তখনই আমরা তার টানের দিকে আরো জোরে ধাক্কা দিলাম।দরজাটা ভিতরে থাকা ব্যাক্তিটির মাথায় আঘাত করল।আমাদের প্ল্যানটা এরকমই ছিল। তারপর আমি এহসান রেখে ভিতরে ঢুকে গেলাম।জানতাম ধাক্কা পাওয়ার ফলে ভিতরে থাকা ব্যাক্তিটির হাত থেকে পিস্তলটি পরে যাবে।তাই হলো। ঢুকেই পিস্তলটি হাতে নিয়ে অন্যজনের দিকে তাক করলাম।তবে তার আগেই অন্য ব্যাক্তিটি তোর দিকে পিস্তল তাক করে রেখেছিল। বলল পিস্তলটা ফেলে দিতে নাহয় তোকে গুলি করবে। এরকম এক পরিস্থিতিতে কোনো উপায় না পেয়ে পিস্তলটা নিচে রেখে দিলাম। তখন ওই ব্যাক্তিটি ধাক্কা খাওয়া ব্যাক্তিটির দিকে তাকিয়ে বলল,
"এই পিন্টু এখানে আই।"
পিন্টু নামক লোকটি হাপাতে হাপাতে তার কাছে গেল। তখন ওই লোকটি পিস্তল তাক করে আমার দিকে আসতে লাগল। দরজা ছিল খোলা। লোকটি যখন দরজা বরাবর এলো ঠিক তখন আমি "উঁহ" শব্দ করতেই দরজার ওপাশ থেকে এহসান লোকটির উপর ঝাপিয়ে পড়ল । তারপর
দু-র-ম দু-র-ম করে কিল, ঘুশি লাতি লাগাতে লাগল। পিস্তলটাও পরে গেল। সাথে সাথে আমি দুটো পিস্তলই আমি হাতে নিলাম।অন্যদিকে লোকটির মুখ রক্তারক্তি হয়ে গেল। পিন্টু নামক লোকটিও তেড়ে আসতে চেয়েছিল কিন্তু তার আগেই পা দিয়ে এক লাত্তি বসাল তার মুখে । তারপর তাকেও দুরম দুরম......
এহসান যে মার-পিট পারে তা স্কুলেই দেখেছিলাম।তারপর ওই ওই দুটো লোককে এক সাইডে রেখে আমি আর এহসান গেলাম তোকে বাঁধা রশিগুলো কি দিয়ে কাটব তা খুজতে। সারা ফ্ল্যাট খুজেও কোনো ছুরি বা কাচি পেলাম না। এই ফাঁকে সারাটা ফ্ল্যাট খুজেছি। কোনো মানুষ নেই।একটা কম্পিউটার ল্যাবরেটরি আছে। তারপর ফিরে এসে মনে হলো তোর কাছে একটা ছুরি আছে। যখনই ওইটা তোর পকেট থেকে বের করতে যাব ঠিক তখনই তোর জ্ঞান ফিরল।" এতটুকু বলে থামল তানভীর।
সাকিবের এখন মনে হচ্ছে এহসান আর তানভীর তার থেকে আরও উচু মাপের গোয়েন্দা।তারা আজ না থাকলে বাঁচত কি না সন্ধেহ আছে তার।
(চলবে...)
[কেমন লাগল জানাবেন...........]
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now