বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

কারাজানের কালো ঘোড়া—(পর্ব ৯ ও অন্তিম পর্ব )

"ফ্যান্টাসি" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X #ফ্যান্টাসি #৩য় গল্পঃকারাজানের কালো ঘোড়া #অন্তিম পর্ব #জাকিউল অন্তু রক্তে ভেসে যাচ্ছে সমুদ্রের তীরবর্তী জল। একটা সদ্যমৃত ঘোড়ার খুবলে খাওয়া লাশ পড়ে রয়েছে তীরের কাছেই। হিংস্র ঘোড়াগুলোর লোভ তখনো কমেনি। তারা তাদের স্বজাতি কে দ্বিতীয়বার আক্রমণ করার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। ওদের ঘাড়ের নানা রঙের কেশর বারবার ফুলে ফেঁপে উঠছে। রক্তের নেশা বড় নেশা।নিরীহ ঘোড়াগুলো সেই নেশার কবলে পড়েছে ।আর তার শিকার হচ্ছে কারাজানের বিশালাকার সাধারন ঘোটক সম্প্রদায় ।আমি আর তন্ময় আকাশে ভাসমান অবস্থায় দেখছি রক্তপাতের এই খেলা। আর সহ্য হচ্ছেনা। হাতে থেঁতলে যাওয়া প্রতিষেধক ফলের টুকরো । সেটা নিয়েই কাজে নামতে হবে ।তন্ময়কে যে নিরাপদ কোন জায়গায় রেখে যাবো তার উপায় নেই। চারদিকে থইথই করছে জল। তার ওপর ও সাঁঁতার জানেনা ।বিপদ আসার সময় দলবল নিয়েই আসে ।আমাকেও বিপদের মোকাবেলা করতে হবে দলবল নিয়েই। তন্ময়কে সঙ্গে নিয়েই অংশগ্রহণ করতে হবে সম্মুখযুদ্ধে।আর সময় নেই। আরো দুচারটে নিরপরাধ ঘোড়া আক্রমনের শিকার হবার আগেই প্রতিষেধক ফলের টুকরো আর ভায়োলেট হিলিং টাচ মিশিয়ে বুলিয়ে দিতে হবে বিকৃতমস্তিষ্ক ঘোড়াদের কপালে ।তন্ময় কে জিজ্ঞেস করতে হলোনা। ও রাজী। সাহস সঞ্চয় করে ফেলেছে ইতিমধ্যে। যুদ্ধের প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে ডানহাতে ভায়োলেট হিলিং টাচ জ্বালিয়ে দিলাম। এখন আমি হিলিং টাচ নিয়ন্ত্রণ করতে শিখে গেছি। তাই অসুবিধে হলোনা।ফলের টুকরো টা হাতে রেখে মুঠো বন্ধ করলাম। তলোয়ারটাকেও একই হাতে নিয়ে অন্যহাতে শক্তভাবে জড়িয়ে ধরলাম তন্ময় কে। তারপর ডানা মেলে দিলাম সমুদ্রে যেখানে ঘোড়াদের লড়াই হচ্ছে সেইদিকে। মানুষ দেখে ঘোড়াগুলো কিছুক্ষনের জন্য থামলো। তারপর ক্রোধিত হিংস্র দৃষ্টিতে তাকালো আমাদের দিকে। বুঝলাম এরা আমাদের বোঝানোর সুযোগ দেবেনা। সরাসরি আক্রমণ করবে। আমিও তলোয়ার মুঠ করে প্রস্তুত হয়ে আছি। আহত হবার সম্ভাবনা না থাকলে আঘাত করবোনা। নিরীহ ঘোড়াগুলোর দিকে তাকিয়ে বোঝালাম আমরা সাহায্য করতে এসেছি। ওদের তুলনায় আমরা অনেক ছোট। অনেকটা নীল তিমির তুলনায় সীলমাছ যেমন ছোট হয় তেমন। আমার ইশারা ওরা বুঝতে পারলো কিনা কে জানে তবে কি যেন মনে করে পিছিয়ে গেলো। হিংস্র ঘোড়ার দল পদভারে জলে আলোড়ন তুলে আমাদের দিকে এগিয়ে আসছে।গুনে দেখলাম চারটে।তাদের চোখ লাল। সেই চোখজোড়া দেখলেই ভয়ে আত্মা শুকিয়ে যায়। বড় বড় ধারালো তীক্ষ্ণ দাঁত দেখলে ভয় বেড়ে যায় দ্বিগুন। তন্ময় ভয়ে কাঁপছে কিন্তু বুঝতে দিচ্ছেনা যে ও ভীত। আমিও ভয় লুকাচ্ছি। প্রথমেই চারটা ঘোড়ার একটা সামনের পা দুটো তুলে মুখ দিয়ে চিঁহি শব্দ করে একলাফে প্রায় আমাদের ওপরে এসে পড়লো।ওর খুরের তলার জলে আমাদের ডুবিয়ে মারার ইচ্ছা! ঘোড়ার আক্রমণ ঠেকাতে ডানা ঝাপটে সুড়ুত করে এককাত হয়ে সরে এলাম। কিন্তু তন্ময় পিছলে পড়লো জলে। ও সম্পূর্ণ ডুবে যাওয়ার আগেই হাত ধরে তুলতে হলো। তেমন সমস্যা হয়নি। একটুর জন্য বেঁচে গেছি দুজনেই। বাকি তিনটে ঘোড়াও একইসাথে এগিয়ে এলো আমাদের আহত করবার জন্য। দিশেহারা ভাবে একদিকে ছুটে গেলাম ভেজা তন্ময়কে নিয়ে। ওকে নিয়ে যুদ্ধ করাটা কঠিন। যেখানে নিজেদের বাঁচাতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে সেখানে আক্রমণ করবো কিভাবে? তন্ময় বুঝতে পেরেছিলো ব্যপার টা। ও একটা বুদ্ধি বাতলে দিলো তখন। বললো "আমাকে ঐ অক্ষতিকর ঘোড়াগুলোর পিঠে বসিয়ে দিয়ে আসতে পারবি? আমি ওখানে থাকলে তোর এদিকটা সামলাতে সুবিধা হবে। তাড়াতাড়ি। " "তুই ভয় পাবিনা তো? ওদের পিঠে বসালে ওরাই বা মেনে নেবে কেন?তোর ওজন বেশী নয় কিন্তু তোকে বা আমাকে তো ঘোড়াগুলো চেনেনা। যদি শত্রু ভেবে বসে?তখন বিপদ আরো বাড়বে। " এই কথোপকথনের সময় ও দু একবার ঘোড়াগুলোর আক্রমনের শিকার হয়েছি। কিন্তু ঈশ্বরের কৃপায় বেঁচেও গেছি। এই ডক্টর গ্রিফিনো লাইফের বিভিন্ন স্তরে আমাকে বারবার বিস্মিত হতে হয়েছে। হয়তো অদূর ভবিষ্যতেও হতে হবে। কিন্তু এবারের মত অবাক আর হবো কিনা সেই নিয়ে আমার সন্দেহ আছে। কারন পেছনের নিরীহ ঘোড়াগুলোর মুখ থেকে বেরিয়ে আসছে কিছু কথা। তারা কিছু বলতে চাইছে আমাকে। তাদের মুখ নড়ছে, শব্দ বেরুচ্ছে কিন্তু ভাষার মাথামুণ্ডু কিছুই বুঝতে পারছিনা। তাদের মুখ নিঃসৃত ভাষার কোন না কোন মানে আছে। সেটা বোঝাটা এই পরিস্থিতিতে খুবই দরকারি। কিন্তু বুঝতে পারছিনা। এই মুহূর্তে একজন দোভাষী দরকার যে আমার আর ঘোড়াগুলোর মধ্যকার ভাব বিনিময় করিয়ে দেবে। ওডিলি কি সেই দায়িত্ব নেবে? কারন ও শুরুতেই বলেছিলো কথা বলা ঘোড়ার শহর এই কারাজান। এতক্ষনে মনে পড়েছে কথাটা। জোরে চিৎকার দিয়ে ডাকলাম "ওডিলি!আমায় শুনতে পাচ্ছো?তোমার সহায়তা কামনা করছি হে ভীনগ্রহের বন্ধু। " কয়েক মুহূর্ত কেটে গেলো। ওডিলির পাত্তা নেই। ইতিমধ্যে আরো বেশ কয়েকবার আক্রান্ত হয়েছি হিংস্র ঘোড়াগুলোর দ্বারা। আর বেশীক্ষণ তাদের আটকে রাখা যাবেনা।পিঠে ডানা থাকায় বারবার বেঁচে যাচ্ছি কিন্তু তন্ময়কে নিয়ে উড়তে গিয়ে কষ্ট হচ্ছে। তাছাড়া আমি সরে যাওয়া মাত্র সুযোগ বুঝে সাধারণ ঘোড়াদের দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ছে শত্রু ঘোড়ার দল। এরকম দ্বিমুখী সমস্যায় এর আগে পড়িনি। হাল ছেড়ে দেবার কথা ভাবতে পারছিনা। কারাজানে যেহেতু এসেছি ঘোড়াগুলোর সমস্যার সমাধান না করে যাবোনা।ওদিকে নিরীহ ঘোড়াগুলোর পাশাপাশি হিংস্র ঘোড়াগুলোও ক্রমাগত কি যেন বলছে। ভাষার ধরন এক। কিন্তু আগের মতই অর্থ অস্পষ্ট। শুধু বুঝতে পারছি হিংস্র ঘোড়াগুলো নিরীহ ঘোড়াদের শাসাচ্ছে। আর নিরীহ ঘোড়াগুলো আমাদের কিছু বলার চেষ্টা করছে। এই চেষ্টা তখনি সার্থক হবে যখন আমি এর অর্থ বুঝবো। হতাশায় বুক থেকে একটা দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে এলো। তন্ময় হা করে দুইদল ঘোড়ার অর্থহীন কথোপকথন শুনছে। ব্যপারটা ওর জন্য কেন আমার জন্যেও একেবারেই নতুন। হঠাৎ মাথার ভেতর একটা ঝনঝনে গলার আওয়াজ আমাকে আশান্বিত করে দিলো। ওডিলি ফিরেছে। টেলিপ্যাথিক যোগাযোগ স্থাপন করার চেষ্টা করছে আমার সাথে। "দেরীতে যোগাযোগ করার জন্য ক্ষমা চাচ্ছি ডক্টর। আপনার সমস্যার সমাধান খুঁজতে দেরী হয়ে গেলো। আপনি দ্রুত আপনার ডানা থেকে একটা পালক খুলে নিয়ে হাতে রাখুন। তাহলে ঘোড়াগুলোর কথার মানে বুঝতে পারবেন।ওরা আপনার সাহায্যপ্রার্থী। " আর সময় নষ্ট না করে হ্যাচকা টানে পিঠের ডানা থেকে ছিঁড়ে নিলাম একটা পালক।হাতে আসার পর সাদা পালকের রঙ বদলে নীল হয়ে গেলো। আর সঙ্গে সঙ্গে কানে স্পষ্ট বাংলায় ভেসে এলো কিছু কথা। নিরীহ ঘোড়াটা বলছে" আপনি কি আমার কথা বুঝতে পারছেন? আমি ফ্রিজল বলছি। আপনি আপনার সহযোগীকে আমার দায়িত্বে রেখে যান ডক্টর। নইলে কারাজানের শয়তান রাজা একর্নের সঙ্গে পেরে উঠবেন না। আমরা আপনার বন্ধুর খেয়াল রাখবো। " বাহ!চমৎকার। এরা আমার পরিচয় জানে। ওদের পরিচয়টাও জানলাম। সব দুস্কর্মের হোতা তাহলে এই একর্ন ।যে কিনা কারাজানের ঘোড়াদের রাজা। এখন চিনতে পারছি। এই ঘোড়াটাই সমুদ্রপথে আমাদের নিয়ে এসেছে কারাজানে। কিন্তু ও যদি খারাপ ই হবে তাহলে নিজের বিপদ নিজে ডেকে আনলো কেন?এর পিছে রহস্য কি? ফ্রিজল বললো "সব ঐ ফলের দোষ ডক্টর ।একর্ন আগে প্রজাবৎসল একজন রাজা ছিলো। কিন্তু ঐ বিষাক্ত ফলের প্রভাবে সব ওলটপালট হয়ে গেছে। ওর মাথা খারাপ হয়ে গেছে। নইলে নিজের ভাইয়ের ওপর কেউ আক্রমন করে? আপনি ওকে সুস্থ করে দিন ডক্টর। দয়া করে ওর কোন ক্ষতি করবেন না। " "তুমি ওর ভাই?আর তোমাদের দলের বাকি তিনজন কারা?" "ওরা সাধারণ প্রজা। মৃত্যুভয়ে আমাদের সাথে যোগ দিয়েছে। ডক্টর সাবধান! পিছনে দেখুন!" বলে লাফ দিয়ে আমার পেছনে এসে দাঁড়ালো। আর একর্নের এক ধাক্কায় মারাত্মক আহত হয়ে জলে পড়ে গেলো। দেখলাম একর্ন দলবল নিয়ে এগিয়ে আসছে আমাদের ই দিকে।এখন ওদের চোখ আগের চেয়ে বেশী লাল। রাগে ফুঁসছে সবাই। ক্রোধভরে বলছে "আমার নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ নেই ডক্টর। আমরা বুঝতে পারছি সব ফলের বিষক্রিয়ার পরিণাম। কিন্তু কাচা মাংসের লোভ ছাড়তে পারছিনা। আপনি ভালোয় ভালোয় সরে যান। নইলে মরতে হবে আপনাদের সবাইকে। মানুষের মাংস নিশ্চই আরো সুস্বাদু হবে?নিজের ভাই ফ্রিজলকে ছাড়িনি, আপনিও রেহাই পাবেন না ।" "তোমাদের সুস্থ করার উদ্দেশে এসেছি একর্ন। আমার কথা শোন। তোমাদের মাথা এগিয়ে নিয়ে এসো আমার ডান হাতের কাছে। দেখবে সব সমস্যা দূর হয়ে গেছে। ফ্রিজল তোমার ভাই ।ওকে মেরে ফেললে তোমার ই কষ্ট হবে ।" " নাহ!আমি সুস্থ হতে চাইনা ডক্টর। রক্তের এই নেশা আমাদের পেয়ে বসেছে ।এই দুনির্বার লোভাতুর অনুভূতির দাস আমরা। কোনদিন ই আগের মত বিরক্তিকর জীবনে ফিরে যাবোনা আর।হত্যা করার মধ্যেও একটা আকর্ষণ আছে ডক্টর! মৃতপ্রায় ঘোড়াগুলো যখন যন্ত্রনায় ছটফট করে তখন মনটা পৈশাচিক আনন্দে ভরে ওঠে। " বলেই আমার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে কামড় বসালো ঘাড়ে। আমি একটু সরে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিলাম।তবুও ওর উপরের পাটির তিনটে দাঁত ছুরির মতো বসে গিয়েছিলো ঘাড়ের মাংসে। প্রচন্ড যন্ত্রনায় মুখ বিকৃত করে আমি পড়ে গেলাম জলে ।তন্ময় ছিটকে পড়লো একপাশে। ঝপাস করে শব্দ হলো। জলের তলায় ধীরেধীরে ডুবে যাচ্ছি আমি। ঘাড় থেকে ফিনকি দিয়ে রক্ত ঝরছে ।সেই রক্তে লাল হয়ে উঠছে সমুদ্রের নীলচে জল। আমি হয়তো মরে যাবো। তন্ময়কে একটা মাংসাশী ঘোড়ার কবলে ফেলে আমি মরেও শান্তি পাবোনা ।কিন্তু আর বোধহয় উপায় নেই। জলের উপরিভাগে হুটোপুটি হচ্ছে ।তন্ময়ের চিৎকার শুনতে পেলাম। একর্ন কি এরইমধ্যে ওকে আক্রমণ করে বসেছে ।কিন্তু ওর ও তো ডুবে যাওয়ার কথা। নাকি ফ্রিজল বাঁচিয়েছে ওকে? তাই যেন হয়।ওকে তুমি রক্ষা করো প্রভু। নিজের শেষ পরিনতি এতো ভয়ানক যন্ত্রণাদায়ক হবে ভাবিনি ।ঘাড়ের রক্ত গলগল করে বেরিয়ে মিশ্রিত হচ্ছে জলে ।কিন্তু একেবারে মিশে যাচ্ছেনা। শরীর অবশ,চোখ বন্ধ হয়ে আসছে আর আমি অচেতনপ্রায় অবস্থায় দেখছি আমার রক্ত জলে না মিশে একটা বড় রক্তপিন্ডের মত আকার নিচ্ছে । দম সম্পূর্ন ফুরিয়ে যাবার আগেই দেখলাম অসাধারণ এক দৃশ্য। যা এই চরম দুর্দশার মুহূর্তেও ঠোঁটের কোনে হাসির রেখা ফুটিয়ে দিলো। সেই রক্তপিন্ড বড় হতে হতে একটা প্রানীর আকার নিলো ।এই প্রানী আমার পরিচিত। আমার বহু যুগের সঙ্গী, পোষা প্রানী গ্রিফিনো!পরিপূর্ণ আকারে আসতেই ও আমার পিঠে ধাক্কা দিয়ে জলের ওপরে ভাসিয়ে তুললো। ঘাড়ের ব্যথা কমেনি কিন্তু বুকভরে বাতাস নিতে পারছি। চারদিকে তাকিয়ে দেখি ফ্রিজল তন্ময় কে কাধে নিয়ে ওর অনুচরদের নিয়ে প্রানপনে ছুটছে ।একর্ন ওর হিংস্র সাথিদের নিয়ে ধাওয়া করছে ওদের। তন্ময় সুস্থ আছে দেখে নিশ্চিত হলাম। কিন্তু একর্নের হাত থেকে এখনো নিরাপদে যেতে পারেনি ফ্রিজল বাহিনী। গ্রিফিনো এক ঝটকায় আমাকে জল থেকে শুন্যে ছুড়ে দিলো। তার পর নিজে উড়ে এসে আমায় পিঠের ওপর বসালো। আমার ঘাড়ের সদ্যপ্রাপ্ত ব্যথা মাথা চাড়া দিয়ে উঠেছে। ডানহাতের দিকে তাকিয়ে দেখি ভায়োলেট হিলিং টাচ কাজ করছে। দ্রুত সেই হাত ঘাড়ে চেপে ধরলাম। ব্যাথায় আড়ষ্ট হয়ে গেলো সমস্ত শরীর। তারপর ধীরে ধীরে কমতে লাগলো ব্যথা। ডানাদুটোও সচল হলো খানিকবাদে। একর্নের ওপর ভয়াবহ রেগে আছি আমি। ও প্রচন্ড জেদি ।ফলের বিষক্রিয়া ওকে পুরোপুরি পাগল করে দিয়েছে।ওকে সুস্থ করার জন্য ফলের টুকরো আর তলোয়ার আর কথা বলার জন্য ডানার পালক এই তিনটেই হারিয়েছি আমি। হয়তো ডুবে যাওয়ার সময় হাত ফসকে পড়ে গেছে সব। তবুও গ্রিফিনো যখন সাথে আছে তখন ভয় নেই। কোন একটা সমাধান পাবোই। অনেকদিন পর গ্রিফিনোকে সশরীরে পেয়েছি। ও কেন এলো কিভাবে এলো তার কিছুই জানতে চাইনা। পরম স্নেহে ওর ঘাড়ের লোমশ কেশর বুলিয়ে দিয়ে গলাটা জড়িয়ে ধরলাম। ও গলা দিয়ে মৃদু ঘড়ঘড় শব্দ বের করতে লাগলো ।আমি তখনো খেয়াল করিনি ওর আকার ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পাচ্ছে। আগে ওর গলা জড়িয়ে ধরতে সমস্যা হতোনা। কিন্তু এখন নাগাল পাচ্ছিনা। মাথা তুলে অবাক দৃষ্টিতে দেখি গ্রিফিনো বড় হতে হতে কারাজানের ঘোড়াদের সমান আকার নিয়েছে। এবার লড়াই হবে সমানে সমানে। একর্নকে উচিত শিক্ষা দিতে হবে। তন্ময় আর ফ্রিজল বাহিনীকে রক্ষা করতে হবে। একাজ অল্প সময়ের মধ্যেই সারতে হবে। গ্রিফিনো কে ইশারা দিতেই ঈগলের মত বিকট চিৎকার করে ও ফ্রিজলদের কাছাকাছি চলে এলো। তন্ময় কে নিয়ে দৌড়ানো অবস্থাতেই ফ্রিজল ওপরে তাকিয়ে একবার দেখে নিলো আমায়। তন্ময় ও আওয়াজ শুনে তাকিয়েছে। আর আনন্দে ভরে উঠেছে ওর মুখ। একর্ন ও কর্কশ চিঁহি শব্দ করে তাকিয়ে দেখে নিয়েছে আমাদের। গ্রিফিনোর বিকট রুপ দেখে ওর সঙ্গীরা ভয়ে থমকে দাঁড়িয়ে পড়েছে। কিন্তু একর্ন থামবার পাত্র নয়। ও ফ্রিজল দের ধাওয়া করেই যাচ্ছে। তন্ময়ের হাতের দিকে তাকিয়ে দেখি এক অবাক কান্ড। আমার তলোয়ার আর ফলের টুকরোটা শোভা পাচ্ছে ওর হাতে। ওগুলো হারায়নি তাহলে। আমি ওদের আরো কাছে গিয়ে তন্ময় এর হাত তুলে নিলাম তলোয়ার আর ফলের টুকরো। তারপর একলাফ দিয়ে ডানা মেলে ধরে সোজা চলে গেলাম ভীত থমকে পড়া ঘোড়াদের কাছে। ওরা ভয়ে মাথা নুইয়ে রেখেছে। এই সুযোগে ওদের মাথায় কিছুক্ষনের জন্য ভায়োলেট হিলিং টাচযুক্ত ফল রাখলাম।তারপর ফলের টুকরো নিয়ে আবার ফিরে এলাম গ্রিফিনোর পিঠে।নিচের ঘোড়াগুলো নড়াচড়া করলো না। কয়েক ঘন্টার মধ্যে ওদের রক্তপিপাসা মিটে যাবে আশা করি। এবার পালের গোদা একর্নের পালা। গ্রিফিনোকে ইশারা দেয়ার সাথে সাথে ও প্রচন্ড বেগে উড়ে গিয়ে একর্নের পেটে একটা জোরসে ধাক্কা মারলো। একর্ন টাল সামলাতে না পেরে ঝপ করে জলের মধ্যে উল্টে পড়লো। আর আমি গ্রিফিনোর পিঠ থেকে তলোয়ারটা নিয়ে একলাফে গিয়ে পড়লাম একর্নের গলার ওপর। তারপর তলোয়ারটা ওর গলায় আমূলে বিদ্ধ করে দিলাম। একর্নকে মেরে ফেলা আমার উদ্দেশ্য নয়। কিন্তু তলোয়ারের এই আঘাত ওর ঔদ্ধত্য আর বেপরোয়া ভাবটা কমিয়ে দেবে।এখন শান্তিমত ওর চিকিৎসা করা যাবে। ও পরিপূর্ণ সুস্থ হবার আগপর্যন্ত খেয়াল রাখতে হবে। তারপরের ঘটনা খুবই সংক্ষিপ্ত। প্রায় চার ঘন্টা পর যখন সন্ধ্যা হলো তখন কারাজানে উৎসবের বাতি জ্বলে উঠেছে। কারন আমার হিলিং টাচ আর নোভ্যালীর প্রতিষেধক ফলের গুনে সকল কারজানবাসী মাংসাশী ঘোড়া সুস্থ ও স্বাভাবিক হয়ে গেছে। চারদিকে আনন্দের ছড়াছড়ি। একর্ন আর ফ্রিজল দুই ভাই আমাদের বারবার ধন্যবাদ জানিয়েছে। নিজেদের ভুলের জন্য ক্ষমাপ্রার্থনা করেছে। উৎসবমুখর পরিবেশ জমে উঠেছে। সেই উৎসবের প্রধান অতিথি আমি তন্ময় আর গ্রিফিনো। গ্রিফিনো আগের ছোট রূপে ফিরে এসেছে। আমার চারপাশে ঘুরঘুর করতে করতে উৎসবের আনন্দ উপভোগ করছে। ওর সাথে তন্ময় এর পরিচয় করিয়ে দিতেই ওকে আকাশে একচক্কর ঘুরিয়ে এনেছে। আরো একটা মজার কান্ড ঘটেছে। কিছুক্ষন হলো ওডিলি ওর পিরামিডরুপী নভোযান থেকে নেমে উৎসবে যোগ দিয়েছে। অভিমানের সুরে আমায় বললো "এই উৎসব তো আমারো উৎসব তাইনা ডক্টর? " আমি আর তন্ময় জবাবে হেসেছি। তন্ময় এই অভিযানে এসে সব কিছু দেখে নিয়েছে। আমার সম্পর্কে জানার আগ্রহ আর কোনদিন কমবেনা ওর। আমার ডক্টর গ্রিফিনো লাইফের দ্বিতীয় অভিযান অপ্রত্যাশিত হলেও কম রোমাঞ্চকর নয়। কক্সবাজারে দুই বন্ধু এসেছিলাম ঘুরতে। কারাজানে এসে পড়ায় তারচেয়ে অনেক বেশী আনন্দ পেয়েছি। তন্ময়ের কাছে এই কারাজানের জগত অতি পছন্দনীয় জগতে পরিণত হয়েছে অল্প সময়ের মধ্যেই। ও চাইছে আরো কয়দিন যেন আমরা এখানে থেকে যাই।আমি সানন্দে রাজি হলাম। এখানে কিছুদিন থাকলে সমস্যা নেই। কারন এখানকার সময় পৃথিবীর সময়ের থেকে আলাদা। সাধারণ পৃথিবীতে ফিরে গেলে আমরা ঠিক সেই সময়ে ফিরে যাবো যেসময় কারাজানে এসেছিলাম। রাত গভীর হতে থাকলো। হঠাৎ কারাজানের রাজা একর্ন আমাদের ডেকে নিয়ে গেলো মূল অনুষ্ঠানের জায়গায়,একটা উঁচু বেদীর ওপর । আমি, তন্ময়, গ্রিফিনো আর ওডিলি পাশাপাশি দাঁড়িয়ে আছি। আমাদের সামনে খোলা একটা মাঠের মত জায়গা। সেখানে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে আছে প্রায় শখানেক ঘোড়া। আমরা গিয়ে দাঁড়াতেই রাজার ভাই ফ্রিজল দু পা সামনে উঁচিয়ে চিঁহি শব্দে ডেকে উঠলো। আর সঙ্গে সঙ্গে মাঠের ঘোড়াগুলো সমস্বরে ডেকে উঠলো আর সশব্দে বলতে লাগলো "জয় ডক্টর গ্রিফিনোর জয়! " ওদের দেখাদেখি তন্ময় আর ওডিলি ও বলে উঠলো "জয় ডক্টর গ্রিফিনোর জয়! " গ্রিফিনোই বা আর বাদ থাকবে কেন?ও উড়ে গিয়ে আকাশ থেকে একটা ঈগলের মত অহংকারী ডাক দিলো। সেই ডাক গুঞ্জরিত হতে লাগলো পুরো কারাজান জুড়ে। আমি শুধু মুচকি হাসলাম। তৃপ্তির হাসি হাসা দোষের কিছু নয়। (সমাপ্ত)


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮৮ জন


এ জাতীয় গল্প

→ কারাজানের কালো ঘোড়া—(পর্ব ৯ ও অন্তিম পর্ব )

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now