বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

কারাজানের কালো ঘোড়া—(পর্ব ৬)

"ফ্যান্টাসি" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X #দ্যা এডভেঞ্চার অব ডক্টর গ্রিফিনো ???? #ফ্যান্টাসি #৩য় গল্পঃকারাজানের কালো ঘোড়া #৬ষ্ঠ পর্ব #জাকিউল অন্তু ওডিলির ওপর প্রচণ্ড রাগ হচ্ছিলো ।ও যদি ফলের ব্যপারে সঠিক নির্দেশনা নাই দিতে পারবে তাহলে কি দরকার ছিলো ভুয়া নির্দেশনা দিয়ে আমাদের বিপদে ফেলার? আচ্ছা ,আমার কোথাও ভুল হচ্ছেনা তো?কোন কিছুর ব্যপারে ঠিকঠাক অনুসন্ধান না করে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেয়ার ব্যপারটা খুব খারাপ ।সাগরের নির্দিষ্ট গভীরতায় না পৌঁছুলে যেমন আকাঙ্ক্ষিত মাছ জালে উঠবেনা তেমনি একটা বিষয়ের সমাধান একটা নির্দিষ্ট গভীরতায় না পৌঁছালে পাওয়া যাবেনা। আমার হাতের কব্জিতে যে সবুজ আলো দেখতে পাচ্ছি তা সন্দেহাতীতভাবে প্রতিষেধক ফলটির অস্তিত্ব প্রকাশ করছে। ভুলে "পয়জোবাইট" সংগ্রহ করেছি বটে কিন্তু ঔষধি ফলটাও যে আশেপাশেই আছে তার ব্যপারে মোটামুটি নিশ্চিত আমি। এখন পরিপূর্ণ অনুসন্ধান দরকার এবং এই কাজটা আমাকেই করতে হবে। কারন তন্ময় পয়জোবাইটের বিষক্রিয়ায় মোহাবিষ্ট হয়ে পড়েছে। ওর হঠাৎ মাংসের প্রতি অতিরিক্ত লোভ এই বিষয়টার জানান দিচ্ছে। ও যে কখন আমার ওপরেই হামলা করে বসে তার জন্য চিন্তায় আছি। খুব দ্রুত একটা ব্যবস্থা নিতে হবে। নইলে সবচেয়ে কাছের বন্ধুর সাথে লড়াই করতে হতে পারে ।এই ঘোড়ার দুনিয়ায় একমাত্র মানুষ সঙ্গী তন্ময়।আমি ওকে এভাবে অমানুষ হয়ে যেতে দিতে পারিনা। মনে মনে আমার বিশেষ তলোয়ারটা প্রার্থনা করে চোখ বুজে বাম হাতটার কব্জি মুঠো করে ফেললাম। তাতে কাজ হলো। আমার বিশেষ ক্ষমতাযুক্ত অদৃশ্য তলোয়ারটা ধীরে ধীরে দৃশ্যমান হচ্ছে। ওটা পুরোপুরি দৃশ্যমান হবার আগেই আমাকে তন্ময়ের নজর বাঁচিয়ে বিষাক্ত পয়জোবাইটের গাছে আঘাত হানতে হবে। সমস্যার গোড়ায় আঘাত হানলে হয়তো সমাধান ও বেরুবো। তন্ময় কিছু বুঝে ওঠার আগেই আমি এক কোপে পয়জোবাইটের গাছটা গোড়া থেকে উপড়ে ফেললাম। আর তন্ময় না না বলে চিৎকার করে হিংস্র পশুর মতো ঝাঁপিয়ে পড়লো আমার ওপর। আর আমার তলোয়ারটা ছিটকে পড়লো একটু দূরে। গাছের মূল আর শেকড়বাকড়যুক্ত মাটিতে পড়ে গিয়ে ধস্তাধস্তি চলতে লাগলো দুই বন্ধুর মাঝে। তন্ময় একটা শক্ত ঘুষি বসিয়ে দিলো আমার পেটে। আমি ব্যথায় কুকড়ে গেলাম। কিন্তু প্রতিবাদ করতে পারলাম না। তন্ময়ের ওপর পয়জোবাইটের বিষ ভর করেছে। ও পয়জোবাইট গাছের মূলোৎপাটন করায় অখুশি হবেই। এ তো আমার চেনা বন্ধু তন্ময় নয়। প্রচন্ড ধারালো তলোয়ারের আঘাতে পয়জোবাইট গাছ গোড়াসমেত উপড়ে পড়ে আছে পাশে। গাছ মৃত। কারন তার লাল ফলের উজ্জ্বলতা কমে গিয়ে ধীরে ধীরে প্রদীপের মতো নিভে যাচ্ছে। তন্ময় এখনো আমাকে আঘাতের পর আঘাত করে যাচ্ছে। আমি আঘাত সহ্য করতে করতে ভাবছি পয়জোবাইটের প্রভাব শেষ হতে আর কত দেরী?হয়তো ফলের লাল আলো সম্পূর্ণ নিভে গেলেই ওটার প্রভাব নষ্ট হয়ে যাবে। আমিও স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে পাবো আমার বন্ধুকে। আমার ধারনা একেবারে ভুল ছিলোনা। গাছের ফলগুলো জীবন্ত প্রানীর মত লাফিয়ে উঠে গাছ থেকে ঝরে পড়ছে তারপর নিস্তেজ হয়ে ছড়িয়েছিটিয়ে পড়ছে আশেপাশে। নোভ্যালী বাগানের বিভীষিকা "পয়জোবাইট" এর খেল খতম হয়েছে! আর তার কিছুক্ষনের মধ্যেই তন্ময় ফলগুলোর মত নিস্তেজ হয়ে পড়ে গেলো আমার পাশে। বুঝলাম অজ্ঞান হয়ে গেছে। চিন্তায় পড়ে গেলাম। এখন ওর জ্ঞান ফেরাবো কিভাবে?হাতের ভায়োলেট হিলিং টাচ এখনো সবুজ হয়ে আছে। কাজেই ওটা দিয়ে তন্ময় কে সুস্থ করা যাবেনা। তাহলে উপায়? এসব ভাবছি তখন আচমকা একটা শব্দ শুনতে পেলাম কাছাকাছি। মনোযোগ দিয়ে দেখি পয়জোবাইট এর কেটে দ্বিখণ্ডিত হয়ে যাওয়া গোড়ার কাছে হচ্ছে শব্দটা। কেমন যেন কড়কড় কড়কড় করে উঠছে গোড়ার কাছের মাটি। যেন ওটার তলায় জীবন্ত কিছু আছে।আগ্নেয়গিরি থেকে লাভা উদগীরনের সময় এমন শব্দ হয়। হঠাৎ একটা বিস্ফোরনের মত শব্দ হতেই আমি ছিটকে পড়লাম আমার তলোয়ার যেখানে পড়েছিলো সেখানে। ডানহাতের কনুই কেটে গেলো ধারালো তলোয়ারের আঘাতে । ফিনকি দিয়ে রক্ত ঝরছে।কিন্তু সেদিকে আমার খেয়াল নেই। বিপুল বিস্ময়ে সামনে তাকিয়ে দেখি পয়জোবাইটের গোড়ার জায়গা থেকে মাটি ফুড়ে বেরুচ্ছে অন্য একটা গাছ!যার ঘন নীল পাতাযুক্ত ডালে সবুজরঙা ফল ঝুলছে!কি অসাধারণ সৌন্দর্য সে গাছের তা বলে বোঝানো যাবেনা। আর আমার যদি ভুল না হয় তবে এটাই সেই প্রত্যাশিত ঔষধি ফল যা কারাজানের ঘোড়াগুলোর সুস্থতার জন্য অতীব প্রয়োজনীয়। ওডিলির কোন ভুল ছিলনা।ও সঠিক নির্দেশনাই দিয়েছে। আমরাই ভাবতে পারিনি ফলের গাছটা পয়জোবাইটের গোড়ায় গুপ্ত অবস্থায় আছে। বাংলায় একটা কথা আছে "প্রদীপের নিচে অন্ধকার!" সেই কথার প্রতিফলন এখানে উল্টোভাবে ঘটেছে। এখানে অন্ধকার ফুঁড়ে আলো বেরিয়েছে। সমস্যার গোড়ায় সমাধান পাওয়া গিয়েছে। একটা সাধারণ ফলের গাছের মত উচ্চতায় গিয়ে গাছটা থামলো। তারপর নিজে থেকেই বেঁকে ঝুকে এলো একদম আমার হাত বরাবর। তারপর উপহার দেবার মত করে একটা ফল আপনা থেকেই ফেলে দিলো আমার হাতে। আর তৎক্ষণাৎ আমার কনুইয়ের রক্তপাত বন্ধ হয়ে একদম আগের মত হয়ে গেলো। তাছাড়া আগের চেয়ে সতেজ ও বোধ করছি। তন্ময়ের ঘুষিতে ভালোই জোর ছিলো। কিন্তু ফল হাতে পাওয়ার পর সেই ঘুষির আঘাতের জায়গাগুলোও আর ব্যথা করছেনা। গাছের জীবন আছে জানি। কিন্তু এরকম শরীর দুলিয়ে চলাফেরা করা" হিলিং ট্রি" জীবনে কখনো দেখিনি। গাছটা তখনো ঝুকেই আছে আমার দিকে। আমি কি করবো ভাবছি তখন হঠাৎ ই একটা বুদ্ধি মাথায় এলো। আমি এক দৌড়ে তন্ময়কে কাধে তুলে নিয়ে এলাম গাছটার কাছাকাছি। তারপর ওর একটা হাত তুলে ধরলাম গাছটা দিকে।আগের মত ফল খসে না পড়ে কিছু নীলরঙা পাতা খসে পড়লো ওর ওপর। আর কিছুক্ষনের মধ্যেই ওকে নড়তে চড়তে দেখা গেলো। ওর জ্ঞান ফিরলো মিনিট পাঁচেক এর মধ্যেই!তন্ময় বোকার মত ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে আছে আমার দিকে। অনেক কষ্টে জিজ্ঞেস করলো "আমার কি হয়েছিলো রে?" আমি উত্তরে কেবল বললাম "তেমন কিছু হয়নি। শুধু পিছলে পড়ে একটা গাছের সাথে ধাক্কা খেয়ে অজ্ঞান হয়ে গিয়েছিলি! এখন সব ঠিক আছে। আরেকটা সুখবর আছে। ঔষধি ফলটা পাওয়া গিয়েছে। একটা গাছের তলা থেকে বেরুলো এইমাত্র। ঐ দেখ!ওর গুনেই তুই জ্ঞান ফিরে পেয়েছিস। তন্ময় অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলো হিলিং ট্রির দিকে। আমিও ওদিকে তাকালাম। গাছের সাথে কথোপকথন হয়নি কোনদিন। আমি বাংলায় ধন্যবাদ দিলে কারাজানের বিখ্যাত ফলের বাগান নোভ্যালীর "হিলিং ট্রি " আমার কথা বুঝবে কিনা সন্দেহ আছে! তাই গাছের মতই ঝুকে কুর্নিশ করে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করলাম। গাছটাও আরেকটু ঝুকে আমার মতই কুর্নিশ করে আবার সোজা হয়ে দাঁড়ালো। তারপর সাগরের পানিতে ডলফিন যেভাবে লাফিয়ে উঠে ডুব দেয় ঠিক তেমন করে গোড়ার মাটিতে ডুব দিয়ে মিলিয়ে গেলো ওটা।গোড়ার মাটি এমন ভাবে আগের অবস্থানে ফিরে এলো যেন কোনদিন ই ওখানে কোন গাছ ছিলোনা। তন্ময়ের ঘোর কাটেনি। তবুও ও যে সুস্থ হয়েছে তারজন্যে আনন্দিত আমি। ওর সাথে যা ঘটেছে সেই সত্য ঘটনাটা কোনদিনই কাউকে বলবোনা। বললে তন্ময় অযথা একটা অপরাধবোধে ভুগবে। যা আমার কাম্য নয়। ভাবলাম ফল হাতে পেয়েছি এখন কারাজানে উড়ে গিয়ে ঘোড়াগুলোকে সুস্থ করে বাড়ি ফিরবো। কিন্তু উড়তে উড়তে কারাজানে পৌঁছানোর আগে নোভ্যালী বাগানের ভেতরে থাকতেই কানে এলো অস্যংখ্য খুরের খটাখট শব্দ আর বিকট শব্দে চিঁহি ডাক!কি ঘটছে দেখার জন্য ওড়ার গতি কমিয়ে একটু নিচে নামতেই ভয়ে শরীরের রক্ত হিম হয়ে এলো! দেখলাম অসংখ্য বিশালাকার ভীতসন্ত্রস্ত কালো ঘোড়া একটার পর একটা দৌড়ে এসে একটা ফলের গাছ থেকে ফল কামড়ে খাচ্ছে আর মাধ্যাকর্ষণ শক্তিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ধীরে ধীরে ভেসে উঠছে শূন্যে! তার পেছনে আরেকদল ঘোড়া ধাওয়া করছিলো। তাদের চোখেমুখে হিংস্রতার ছাপ স্পষ্ট। তারা নিশ্চিতভাবেই মাংসাশী ঘোড়ার দল। কারন তাদের মুখ থেকে রক্ত ঝরছে। হয়তো ধাওয়ার শিকার নিরীহ ঘোড়ার দলের কোন দুর্ভাগা সদস্যকে সদ্য ভক্ষন করে এসেছে তারা। তার ই টাটকা রক্ত লেগে আছে হিংস্র ঘোড়াদের মুখে । ভয়ের মাত্রাটা বাড়লো তখুনি যখন দেখলাম হিংস্র ঘোড়ার দল ও ঐ একই ফল খাচ্ছে যে ফল খেয়ে নিরীহ ঘোড়ার দল শুন্যে ভাসছে! (চলবে)


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮৯ জন


এ জাতীয় গল্প

→ কারাজানের কালো ঘোড়া—(পর্ব ৯ ও অন্তিম পর্ব )
→ কারাজানের কালো ঘোড়া—(পর্ব ৭)
→ কারাজানের কালো ঘোড়া—(পর্ব ৬)
→ কারাজানের কালো ঘোড়া—(পর্ব ৫)
→ কারাজানের কালো ঘোড়া—(পর্ব ৪)
→ কারাজানের কালো ঘোড়া—(পর্ব ৩)
→ কারাজানের কালো ঘোড়া—(পর্ব ২)

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now