বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

কারাজানের কালো ঘোড়া—(পর্ব ৫)

"ফ্যান্টাসি" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X #দ্যা এডভেঞ্চার অব ডক্টর গ্রিফিনো ???? #ফ্যান্টাসি #৩য় গল্পঃকারাজানের কালো ঘোড়া #৫ম পর্ব #জাকিউল অন্তু নোভ্যালী বাগানটা বিশাল ।একহাজার রকমের ফলের গাছ আছে এতে ।তারমধ্যে একটা গাছের ফল বিষক্রিয়াযুক্ত অন্যটা বিষক্রিয়ানাশক ।আমাদের দুই বন্ধুকে খুঁজে বের করতে হবে বিষক্রিয়ানাশক ফলটি।আর বিষাক্ত ফল "পয়জোবাইট"থেকে দূরে থাকতে হবে। যেখানে ছোটখাটো বাগানের আম জাম বা কাঁঠাল গাছ খুঁজে বের করতে হিমশিম খেয়েছি সেখানে একহাজার গাছের মধ্যে নাম না জানা গাছের ফল খুঁজে বের করা দুঃসাধ্য ই বটে। তবুও যেহেতু দায়িত্ব পড়েছে সেহেতু আর কোন উপায় ও নেই ।যেদিকে চোখ যায় একটা পরিচিত ফল ও নেই কোথাও ।ইতিমধ্যে তন্ময়কে ওডিলির নির্দেশনার ব্যপারটা খুলে বলেছি। তন্ময় ফল খোঁজার ব্যপারে দারুন আগ্রহ প্রকাশ করলো ।কিন্তু আরেকটা বিষয় আমাদের সমস্যায় ফেলে দিয়েছে ।সেটা হলো ফল খোঁজার জন্য দায়িত্ব ভাগাভাগি করার ব্যপার । তন্ময় বলছে "আমরা আলাদা ভাবে খুঁজতে থাকি তাহলে হয়তো কম সময়ের মধ্যে ফলটা পাওয়া যেতে পারে।সমস্যা হচ্ছে ফল চিনবো কিভাবে?ফলে তো আর লেখা থাকবেনা যে "আমি ই সেই ঔষধি ফল!তাছাড়া যা অন্ধকার চারপাশে! একটু আলোর ব্যবস্থা থাকলে ভালো হতো।" তন্ময় আলাদা হয়ে একা ফল খুঁজুক সেটা আমি চাচ্ছিলাম না। ওর কোনরকম বিপদ আপদ হোক তা আমার কাম্য নয়। সময় বেশী লাগলে লাগুক তবুও দুইজন একসাথে খুঁজবো সেই আকাঙ্ক্ষিত ফল। বাইরে দিনের আলো থাকলেও বাগানের ভেতরটা প্রায় অন্ধকার। ঘন গাছপালার সারি চারদিক জুড়ে। সেই বিরাট বিরাট সব গাছ ঘিঞ্জি হয়ে প্রায় লেগে আছে একে অপরের সাথে। ফলে তাদের সম্মিলিত ছায়ায় চারদিক থেকে আলো আসবার পথ প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। এমন কোন গাছ চোখে পড়ছেনা যাতে কোন ফল নেই।আবছা আলোয় লাল, নীল,বেগুনী সবুজ হরেক রকমের টসটসে পাকা ফল ঝুলতে দেখা যাচ্ছে প্রত্যকটা গাছ থেকে। নির্দিষ্ট ফল খুঁজতে হলে পরিপূর্ণ নির্দেশনা দরকার। অন্ততপক্ষে আলোর ব্যবস্থা দরকার। ওডিলি কে স্মরণ করছি মনেপ্রানে। ওডিলি সম্ভবত সাহায্যের জন্য প্রস্তুত ছিলো। টেলিপ্যাথিক সংকেতে প্রথমে ওডিলি কথা বলা শুরু করে দিলো। "ডক্টর গ্রিফিনো দয়া করে আপনার ডানহাত টা উঁচিয়ে ধরুন। " আমি কথামতো ডানহাত উঁচিয়ে ধরতেই তাতে ভায়োলেট হিলিং টাচের বদলে লাল রঙের একটা আলো ফুটে উঠলো। আর তৎক্ষণাৎ পুরো নোভ্যালী বাগানের ফলের গাছগুলোর ফলগুলো জ্বলজ্বল করে উঠলো। যেন প্রত্যেকটা ফল একেকটা ২০০ ওয়াটের উজ্জ্বল বাতি। পুরো বাগান আলোকিত হয়ে উঠেছে। আমি আর তন্ময় ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে আছি লাল রঙের আলোসমেত আমার ডানহাতের দিকে। তন্ময় তো অবাক হবেই কিন্তু আমিও আমার নতুন এই ক্ষমতা সম্পর্কে অবহিত ছিলাম না। যাক!আলোর ব্যবস্থা তো হলো। এখন যদি সেই ওষধি ফল টা সম্পর্কে একটু ধারনা পাওয়া যায় তবে খুঁজে পাওয়াটা সহজ হয়। তন্ময় বললো "চল!এই আলোকিত বাগানে দুজন একসাথে খুঁজি । ওডিলি ফলের ব্যপারে কিছু জানালো?" ওডিলি এতক্ষণ চুপচাপ ছিলো। তন্ময়ের কথা শুনে আমাকে বললো "ডক্টর! ফল খুঁজে বের করার একটা সহজ বুদ্ধি আপনাকে শিখিয়ে দিচ্ছি। আপনি পুরো বাগান হেটে অথবা প্রয়োজন হলে উড়ে উড়ে পর্যবেক্ষণ করুন। যতক্ষন না আপনার ডান হাতের লাল আলো সবুজ আলোয় পরিণত হচ্ছে ততক্ষন পর্যন্ত বুঝবেন ফল আপনার কাছ থেকে দূরে অবস্থান করছে। সবুজ রঙের উজ্জ্বলতা যত বাড়বে ফল ততই কাছে আছে বলে ধরে নিতে হবে। " আমি শুকনো মুখে বললাম "আমাকে জলজ্যান্ত ট্রাফিক লাইট বানিয়ে দেবার জন্য তোমায় ধন্যবাদ ওডিলি। " ওডিলি উত্তরে কিছু বললোনা। তবে কানে একটা কাশি দেয়ার মতো শব্দ এলো। বুঝলাম ওডিলি মুখ টিপে হাসছে। এখন আর দেরী করার মত সময় আমাদের হাতে নেই। ওদিকে ক্ষুধায় পেট চো চো করছে। যেহেতু এখনো এখনো হাতের লাল আলো সবুজ হয়ে যায়নি তারমানে আশেপাশে থাকা ফল খাওয়া নিরাপদ। ইশারায় তন্ময়কে দুটো আপেলসদৃশ ফল পাড়তে বললাম। ও খুব সহজেই হাত দিয়ে ছিঁড়ে নিয়ে এলো দুটো ফল। দেরী না করে কামড় বসাতেই সেই ফল মুখের মধ্যে যেন মধু বর্ষণ করতে লাগলো। এসব ফলের স্বাদ নিতে গেলে তৃপ্তিতে চোখ বুজে আসে। কি দারুন রূপ, রস আর গন্ধ ফলটার। কারাজান থেকে ফিরে যাবার সময় কিছু ফল নিয়ে যেতে পারলে ভালো হতো। একটা ফলের ই এতো স্বাদ না জানি আরো নয়শ নিরানব্বই টা ফলের স্বাদ আরো কত ভিন্ন, কত সুন্দর হবে। ওহ!ভুল বললাম একটা ফল কে তো হিসাব থেকে বাদ দিতে হবে। যাই হোক!সুস্বাদু ফল চিবুতে চিবুতে আমি তন্ময় কে নিয়ে উড়ন্ত অবস্থায় খুঁজে চলেছি সেই ঔষধি ফল যা দ্বারা কারাজানের বিকৃতমস্তিষ্ক ঘোড়াগুলোকে সুস্থ করে তুলতে হবে। তন্ময় ফলের স্বাদে মজে গেছে। চুপচাপ হয়ে গেছে একদম। আমি ওকে আমার ডানহাতের দিকে নজর রাখতে বলেছি। কারন উড়ন্ত অবস্থায় গাছপালার ফাঁকফোকর দিয়ে যাওয়ার সময় আমাকে বারবার সামনের দিকে তাকাতে হচ্ছে। আবার হাতের আলোর দিকেও নজর রাখতে হচ্ছে। তাই চলাচলে সমস্যা হচ্ছিল। তন্ময় কিন্তু ওর দায়িত্ব ভালোভাবেই পালন করছে। ও একদৃষ্টে চেয়ে আছে আমার ডানহাতের দিকে। ওর নাকি খুব ইচ্ছা হচ্ছে লাল আলো কিভাবে ট্রাফিক লাইটের মত বদলে গিয়ে সবুজ হয় সেটা দেখবার। ভেবেছিলাম দুপুর গড়িয়ে সন্ধ্যা হয়ে যাবে কিন্তু কাঙ্ক্ষিত ফল পাবোনা। আমাদের ধারনা বদলে দিয়ে বিকেলের মধ্যেই হাতের লাল আলো পালটে হয়ে গেলো সবুজ।তন্ময় সেটা দেখেই চিৎকার করে বলে উঠলো "তোর হাতের আলো বদলেছে তারমানে খুব কাছাকাছি আছে ফলটা।" আমরা ধীরে ধীরে নিচে নেমে এলাম। একটা ব্যপার চোখে পড়াতে বুঝলাম ঠিক জায়গাতেই এসেছি। কারন মাটিতে অসংখ্য খুরের ছাপ। নিঃসন্দেহের ঘোড়ার খুরের দাগ ওগুলো। তাহলে কি ঘোড়াগুলো তাদের চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় ফল খুঁজে পেয়েছে এরইমধ্যে?নাকি ঐ বিষাক্ত ফল "পয়জোবাইট" ও ধারেকাছে কোথাও আছে? তাই এত পায়ের ছাপ ছড়িয়ে আছে মাটিতে। চারদিকে আগের মতই ঘন জঙ্গল। মাটিতে নামার পর সবুজ আলোর উজ্জ্বলতা বেড়েছে ।আমরা নিশ্চই খুব কাছাকাছি আছি। আমরা যেখানে নেমেছি তার চারদিকে চারটে গাছ।ঠিক মাঝখানে আমরা।এই চারটে গাছের সবগুলোকেই পরীক্ষা করে দেখতে হবে। প্রথম তিনটে গাছের কাছে যেতেই সবুজ আলোর উজ্জ্বলতা কমে গেলো। শেষের গাছটার কাছে যেতেই আগের উজ্জ্বলতা ফিরে এলো। চতুর্থ গাছটাই তাহলে সেই দরকারি ফলের গাছ!গাছটা খুজে পাওয়াটা এত সহজ হবে তা ভাবতেই পারনি!এখন একটা ফল মুঠোয় নিয়ে ভায়োলেট হিলিং টাচ প্রয়োগ করলেই কারাজানের অসুস্থ ঘোড়াগুলো সুস্থ হবে আর আমরাও তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরতে পারবো। লাল রঙের চতুর্ভুজ আকৃতির মাঝারী আকারের ফল ঝুলছে গাছটা থেকে।একটা দুটো নয়। প্রায় শখানেক ফল আছে ওটাতে। আমি আর তন্ময় দুটো ফল ছিঁড়ে নিয়ে নিলাম যার যার পকেটে। এখন কারাজানের মূল শহরে ঢোকার পালা। তন্ময় বেশ উত্তেজিত হয়ে গেছে ফল হাতে পেয়ে। সে উত্তেজনার বশে গাছ থেকে আরেকটা ফল ছিঁড়ে নিয়ে একটা কামড় দিয়ে বসলো ফলটাতে । তারপর চিবুতে চিবুতে বললো "আগের ফলটার চাইতে এই ফলের স্বাদ অনেক বেশী ভালো। তুই তোর কাজ সেরে আয়। আমি এখানেই থাকছি। আলো আছে খাবার আছে। তাছাড়া এ ফলের যা স্বাদ তাতে পানির প্রয়োজন হবেনা। আমার দিব্যি সময় কেটে যাবে। তুই ঘোড়াদের সামলে যাওয়ার সময় আমাকে এখান থেকে নিয়ে যাস। " "কিন্তু তোর এখানে একা একা থাকাটা বিপদজনক হতে পারে। যদিও জঙলে কোন বন্যপ্রানী বা সাপ-পোকামাকড় কিছুই চোখে পড়েনি তবুও বিপদের সম্ভাবনা তো একেবারে উড়িয়ে দেয়া যাচ্ছেনা! চল আমার সাথে। " "না যাবনা। আমার এই ফলটা খুব ভালো লেগেছে। আমি আজীবন থেকে যাবো এখানে।" বিস্ময়ে হতবাক হয়ে দেখি ওর চোখেমুখে হিংস্রতা প্রবলভাবে ফুটে উঠেছে। আমার দিকে এগিয়ে এসে সে হঠাৎ ফিসফিস করে বলে উঠলো "আমায় একটু মাংস জোগাড় করে দিতে পারবি? ঐ ঘোড়াগুলোর একটাকে এদিকে নিয়ে আয়না। দুজন মিলে ওর মাংস চিবিয়ে খাবো। এই ফলগুলোর সাথে নরম মাংস বেশ তৃপ্তি নিয়ে খাওয়া যাবে! " আমি ওর কথা শুনে থ বনে গেছি। একটা অদ্ভুত সম্ভাবনার কথা উঁকি দিচ্ছে মাথায়।আর আমার গা টা থেকে থেকে শিউরে উঠছে। কোথাও একটা মারাত্মক ভুল হয়েছে। আমরা আসলে ঔষধি ফল মনে করে যে ফল পকেটে পুরেছি তা আর কোন কিছু নয়,সেই বিষাক্ত ফল "পয়জোবাইট!" (চলবে)


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১০২ জন


এ জাতীয় গল্প

→ কারাজানের কালো ঘোড়া—(পর্ব ৯ ও অন্তিম পর্ব )
→ কারাজানের কালো ঘোড়া—(পর্ব ৭)
→ কারাজানের কালো ঘোড়া—(পর্ব ৬)
→ কারাজানের কালো ঘোড়া—(পর্ব ৫)
→ কারাজানের কালো ঘোড়া—(পর্ব ৪)
→ কারাজানের কালো ঘোড়া—(পর্ব ৩)
→ কারাজানের কালো ঘোড়া—(পর্ব ২)

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now