বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

কারাজানের কালো ঘোড়া—(পর্ব ৩)

"ফ্যান্টাসি" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X #দ্যা এডভেঞ্চার অব ডক্টর গ্রিফিনো ???? #ফ্যান্টাসি #৩য় গল্পঃকারাজানের কালো ঘোড়া #৩য় পর্ব #জাকিউল অন্তু কালো ঘোড়া অদ্ভুতভাবে আমাদের দুই বন্ধুকে টেনে নিয়ে চলে যাচ্ছে মাঝসমুদ্রে! ওটার কালো শরীরের আচ্ছাদন আর সেটা থেকে বেরুনো বোটকা গন্ধে দম বন্ধ হয়ে আসছে,গা গোলাচ্ছে। তবে আশার কথা হচ্ছে কোন এক অস্বাভাবিক কারনে আমরা দুজন অর্থাৎ আমি আর তন্ময় জলের গভীরে তলিয়ে যাচ্ছিনা। মাঝসমুদ্রে যা অতি স্বাভাবিক। এই ঘোড়া আমাদের কোথায় নিয়ে যাচ্ছে কে জানে। ভাগ্যদেবতা ভাগ্যে কি লিখেছেন তা অস্পষ্ট। এত কষ্টে একটা ভ্যাকেশন প্ল্যান করলাম আর প্রথম দিনেই তা ভেস্তে যাবার পথে!আচ্ছা লাইফগার্ড রা কি আমাদের এই বিপদের কথা জানতে পেরেছে? দিনের ঝকঝকে আলোয় চকচকে চামড়ায় আচ্ছাদিত করে একটা কালো ঘোড়া দুজন টুরিস্ট কে ভাসিয়ে নিয়ে যাচ্ছে এটা কি তাদের চোখ এড়িয়ে গেছে? নাকি ওরা খেয়াল করেনি? খেয়াল করলে তো এতক্ষনে সাহায্যের জন্য স্পিডবোট বা জেট স্কি নিয়ে ঐ ঘোড়ার পিছু নিতো ওরা। নাকি ভয়ে সেটা করেনি। এই ঘোড়া কতটুকু হিংস্র তা তো কারো জানা নেই। আদৌ হিংস্র কিনা তাও অনিশ্চিত। আমি মনে মনে ওডিলির সাথে টেলিপ্যাথিক যোগাযোগ করার চেষ্টা করলাম। কিন্তু ফল হলো না। পিঠের ডানাগুলো কাজ করে কিনা দেখতে যাবো এমন সময় আচমকা জলের বুদবুদের মারাত্মক শব্দের পরপর আমরা তলিয়ে যেতে লাগলাম নোনা জলের গভীরে। শরীর ভিজে যাচ্ছে, জল ঢুকছে চোখেমুখে এমনকি কানেও। এই ঘোড়া আমাদের ডুবিয়ে মারতে চায় নিশ্চিত। নইলে স্থলচর প্রানীকে কেউ কখনো জলের তলায় টেনে হিচড়ে নিয়ে যায়?দম বন্ধ হয়ে আসছে। এরকম আর কিছুক্ষণ চললে মারা পড়বো। আমার নিজের জন্য চিন্তা হচ্ছেনা। কিন্তু বন্ধু তন্ময়ের জন্য আফসোস হচ্ছে। কারন আমি এরকম পরিবেশে অভ্যস্ত হলেও তন্ময়ের কাছে এরকম পরিবেশ একেবারে নতুন! একবার যেন শুনতে পেলাম তন্ময়ের করুন ডাক। "অন্তু আমাকে বাঁচা" বলে চিৎকার করে ডাকছে ও। চোখের সামনে সামান্য ঘোলাটে জল। তা ভেদ করে দৃষ্টি খুব বেশীদূর পৌছায় না। তবু আবছা আবছা যা দেখা যাচ্ছে তা থেকে মনে হচ্ছে তন্ময় আমার থেকে হাত দশেক দূরে। দুজনে ঝড়ের বেগে তলিয়ে যাচ্ছি সমুদ্রগর্ভে। কেউ কাউকে সাহায্য করতে পারছিনা। এ এক অসহনীয় পরিস্থিতি। আর এই পরিস্থিতে আমি সম্পূর্ন অসহায়,একদম নিরুপায়। মাথার ওপর যতদূর দৃষ্টি যায় কালো পর্দার মত কিছু দিয়ে ঢাকা। ছাদের মত মাথার ঠিক ওপরে ওটার অবস্থান। এই ঘোড়া কতটা বড় তা ভাবলেই গা শিউরে ওঠে।অন্তত একটা নীলতিমির সমান তো হবেই!কিন্তু এত বড় ঘোড়া সাগরের তীর থেকে কারো দৃষ্টিগোচর হলোনা কেন? নাকি এই ঘোড়া ডুব দিয়ে ওৎ পেতে ছিলো শিকারের জন্য?মাথায় কিছুই ঢুকছেনা কারন শরীরে অক্সিজেনের কমতি দেখা দিয়েছে। আমি বোধহয় অজ্ঞান হয়ে যাচ্ছি। তন্ময়ের ও কোন সাড়াশব্দ পাচ্ছিনা। ওকি এরইমধ্যে জ্ঞান হারিয়েছে! কতক্ষণ অজ্ঞান হয়ে পড়ে ছিলাম জানিনা। জ্ঞান ফেরার পর দেখি স্বচ্ছ নীলচে জলের একটা সমুদ্রের তীরে বালির ওপর শুয়ে আছি।মাথার ওপর কালো ছাদের বদলে প্রখর সূর্য।এখন দুপুর বলে মনে হচ্ছে। সূর্যের তাপে শরীর চিড়বিড় করছে। আশেপাশে যতদূর চোখ যায় শুধু ধু ধু সাদা বালির প্রান্তর। জনমানব বা প্রানী নেই কোথাও ।এ কোথায় এলাম রে বাবা? অনেক কষ্টে উঠে বসলাম। উঠে বসতেই শরীরের প্রত্যেকটা পেশী যন্ত্রনায় আর্তনাদ করে উঠলো।মুখ থেকে আপনা আপনি বেরিয়ে এলো চিৎকার । তন্ময় একটু দূরে বালির ওপর চোখ বুজে পড়ে ছিলো। বুঝলাম অজ্ঞান। আমার চিৎকার শুনে ও ধড়মড় করে উঠে বসে চোখ মেললো। উঠেই আমার পেছনের দিকে অদ্ভুতভাবে তাকালো তন্ময়। আমি ঘাড় ঘুরিয়ে পিছে তাকিয়ে দেখি আমার পিঠের ডানাদুটো ক্রমাগত ঝাপটাচ্ছে। অথচ আমি নিজেই বুঝিনি।সম্ভবত অজ্ঞান হবার আগে শেষ চেষ্টা হিসেবে ডানাদুটো উন্মুক্ত করে দিয়েছিলাম। কিন্তু কাজে লাগাতে পারিনি। জলে ভেজা ডানাদুটো নিজে নিজে ঝাপটে শুকিয়ে নিচ্ছে নিজেদের। আমার এই ডানাওয়ালা চেহারা তন্ময় প্রথম দেখলো। এমনিতেই বেচারা অজ্ঞান হয়ে ছিলো। জ্ঞান ফেরার পর নিজের বন্ধুকে ডানাসমেত দেখাটা আবার অজ্ঞান হবার মতই ব্যপার। তন্ময় উঠে দাঁড়ালো। তারপর খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে আমার কাছে এসে বসলো। খুব ভয়ে ভয়ে আমার একটা ডানা স্পর্শ করে দেখলো। তারপর বিস্ময়ে হতবাক হয়ে বললো "তারমানে তুই সত্যিই উড়তে পারিস? " "হ্যা পারি। কেন তোর বুঝি আগে বিশ্বাস হয়নি? " "এসব ব্যাপার কি এত সহজে বিশ্বাস করা যায়? ভালোই হলো। এখন কোথায় আছি বলতে পারিস? " "না। তবে চিন্তা করিস না।বেরুনোর একটা উপায় বের করবোই। " "আমার খুব ক্ষুধা লেগেছে। আশেপাশে সাগরের জল ছাড়া খাওয়ার মত তো কিছুই দেখিনা!" "ক্ষুধা আমারো লেগেছে! চল তোকে নিয়ে উড়াল দেই। দেখি ওপর থেকে খাবারের কোন উৎস দেখা যায় কিনা।" "ঐ বজ্জাত ঘোড়াটা কই রে?" তন্ময়ের প্রশ্নের উত্তর দিতে যাবো এমন সময় আবার সেই চিঁহি ডাক শুনতে পেলাম ধারেকাছে কোথাও। ভয়ে আত্মা শুকিয়ে এলো। তন্ময়ের মুখ ও ফ্যাকাশে। আমি আর দেরী না করে তন্ময় কে সাথে নিয়া উড়ে চললাম খাবারের সন্ধানে। পিছনে তাকিয়ে দেখি সমুদ্র থেকে বালির ওপর খুরের খটাখট শব্দে ঝংকার তুলে আমাদের তাড়া করতে চাইছে বিশালদেহী কালো ঘোড়াটা। আরেকটু হলে আমাদের নাগাল পেয়ে যেত ওটা। কারন দুর্বল শরীরে বেশী উঁচুতে উড়তে পারছিলাম না।তার ওপর আবার তন্ময় কে কোলে নিয়ে উড়তে হচ্ছে। কিন্তু একটা দৃশ্য দেখে প্রানপনে ডানা ঝাপটে যতদূর পারা যায় উপরে উঠে এলাম। যা দেখলাম তা অনেকটা এরকম। কালো ঘোড়াটা দাঁত দিয়ে কামড়ে ধরে আছে একটা সামুদ্রিক সীল কে। ওটার দেহ রক্তাক্ত। তারপর কিছু বুঝে ওঠার আগেই হা করে সীলটাকে মুখের ভিতর পুরে দিলো কালো জানোয়ারটা।নিমেষে চিবিয়ে খতম করে ফেললো ওটাকে। একেবারে হাড়সমেত। তৎক্ষণাৎ ওডিলি টেলিপ্যাথির মাধ্যমে জানিয়ে দিলো আমাদের অবস্থান! "মাংসাশী ঘোড়াদের শহর কারাজানে আপনাকে স্বাগতম ডক্টর গ্রিফিনো! " (চলবে)


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮৫ জন


এ জাতীয় গল্প

→ কারাজানের কালো ঘোড়া—(পর্ব ৯ ও অন্তিম পর্ব )
→ কারাজানের কালো ঘোড়া—(পর্ব ৭)
→ কারাজানের কালো ঘোড়া—(পর্ব ৬)
→ কারাজানের কালো ঘোড়া—(পর্ব ৫)
→ কারাজানের কালো ঘোড়া—(পর্ব ৪)
→ কারাজানের কালো ঘোড়া—(পর্ব ৩)
→ কারাজানের কালো ঘোড়া—(পর্ব ২)

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now