বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
#দ্যা এডভেঞ্চার অব ডক্টর গ্রিফিনো ????
#ফ্যান্টাসি
#৩য় গল্পঃকারাজানের কালো ঘোড়া
#২য় পর্ব
#জাকিউল অন্তু
৷
৷
ওডিলি টেলিপ্যাথিক যোগাযোগে সক্ষম হয়েছে। আমি মাথার ভেতর শুনতে পাচ্ছি পুরনো ভাঙা রেকর্ডের মত একটাই কথা।
"কাল সমুদ্রে নামার পর একটু চোখ কান খোলা রাখবেন ডক্টর! "
আমি জিজ্ঞেস করলাম "কেন?"
উত্তর এলো "কারনটা আপনার চোখের সামনেই আছে! "
"ঐ বিশাল কালো ঘোড়ার কথা বলছো? "
"হ্যা,ঐ ঘোড়া কদিন থেকেই বিভিন্ন দেশের সী বিচে দেখা যাচ্ছে। প্রত্যক্ষদর্শী দু থেকে তিনজন মাত্র। ফলে ওদের কথা কেউ বিশ্বাস না করে হেসে উড়িয়ে দিচ্ছে। সমুদ্রে সামুদ্রিক প্রানীর বদলে একটা কালো ঘোড়া সৈকতরেখা ধরে ভেসে বেড়াচ্ছে শুনলে কে বিশ্বাস করবে বলুন?"
"তাও ঠিক। কিন্তু এত কাঠখড় পোড়ানোর পর এই কক্সবাজার ট্রিপে এসেছি। কাল যদি ভয়ে ভয়ে সমুদ্রে নামতে হয় তাহলে তো সমস্যা। মনটাই খারাপ হয়ে গেলো। "
তন্ময় হা করে তাকিয়ে আছে আমার মুখের দিকে। আমি একা একা কার সাথে বিড়বিড় করছি সেটা ওর বোধগম্য হচ্ছেনা। আমাকে সজোরে একটা ধাক্কা দিয়ে জিজ্ঞেস করলো
"কি রে হড়বড় করে কি আবোলতাবোল বকছিস?
আশেপাশে আমি ছাড়া তো আর কেউ নেই! তুই কথা বলছিস কার সাথে?"
বুঝলাম ওকে সব খুলে বলতে হবে। নইলে প্রিয় বন্ধুর কাছে পাগল বলে চিহ্নিত হওয়ার একটা প্রবল সম্ভাবনা আছে।
তাই আমার সাথে ঘটে যাওয়া সমস্ত ঘটনা আগাগোড়া খুলে বললাম তন্ময় কে।
কিভাবে আমি বুঝলাম যে আমিই পুনর্জন্ম লাভ করা বালক রাজা তুতানখামেন,পুরোহিত বেন্নেস এবং ওডিলির সাহায্যে পোষা প্রানী গ্রিফিনোর মাধ্যমে কিভাবে ডক্টর গ্রিফিনো তে পরিণত হলাম,কার্থেজের দানব কে কিভাবে খতম করেছি সব খুলে বললাম।
তন্ময়ের মুখের হা বড় হয়ে চোয়াল ঝুলে পড়লো বুক বরাবর।এটাই স্বাভাবিক। এত কাছের বন্ধুর সাথে এতসব ঘটে গেছে তা শুনলে যে কেউ অবাক হবে। তন্ময় ও তার ব্যতিক্রম নয়।
তারপর একটা মজার কাজ করলো ও। আমার পিঠে হাত বুলিয়ে বললো
"দোস্ত তোর পিঠের ডানাদুটো কোথায়? এখন দেখতে পারছিনা যে? তাছাড়া ওডিলির সাথে ফিসফিস করে কি কথা বললি?"
বললাম "ডানাদুটো প্রয়োজন হলেই পিঠ ফুড়ে বেরিয়ে আসবে। আর টেলিপ্যাথি করে ওডিলি অনুরোধ করলো যেন আগামীকাল সমুদ্রে নামার সময় আমরা সতর্ক থাকি। ঐ কালো ঘোড়া নাকি বিপদজনক হতে পারে আমাদের জন্য। যদিও ওটা কি ক্ষতি করে জানা যায়নি। তবুও অত বড় জানোয়ার টা যদি একবার লাফ দিয়ে আমাদের ওপর পড়ে যায় তাহলেই তো কেল্লা ফতে। "
তন্ময় আমার কথায় হাসবে না কাঁদবে বুঝতে পারছেনা। বহু কষ্টে টাকা জমিয়ে জমিয়ে এই ট্যুরে আসা। সেটা একটা প্রানীর ভয়ে ভেস্তে যাবে? এটা মেনে নিতে কষ্ট হচ্ছে দুজনের।
হোটেলে ফিরতে ফিরতে রাত হলো। রাতের খাবার বাইরে থেকে খেয়ে হোটেলে ঢুকে ক্লান্ত অবসন্ন দু বন্ধু বিছানায় গা এলিয়ে দিলাম। শরীর ক্লান্ত হলেও মন টা অস্থির। তাই ঘুম আসছেনা।
বারবার ঐ বিকটদর্শন কালো ঘোড়ার জলে ঝাপিয়ে পড়ার দৃশ্যটা চোখের সামনে ভেসে উঠছে।আবছা আলোতে ভুল দেখেছি ভেবে চোখ বন্ধ করলাম আবার। কিন্তু ওডিলির বলা সতর্কবাণী মনে পড়তেই আবার চিন্তায় পড়ে যেতে হলো। শেষমেশ এটা ভেবে নিজেদের সান্তনা দিলাম যে যা হবার হবে। কোন ঝামেলায় পড়লে আমার ডক্টর গ্রিফিনো স্বত্তা কাজে লাগবে। শুধু শুধু দুশ্চিন্তা করে এই ট্যুরের মুড নষ্ট করা ঠিক হবেনা।
কখন যে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম বলতে পারবোনা। ঘুম ভাঙলো হোটেলবয়ের দরজায় কড়া নাড়ানোর শব্দে। সকালের নাস্তার সময় হয়ে গিয়েছে। এই হোটেলে সকালের নাস্তাটা ফ্রি। কেউ যেন অফার মিস না করে তাই সবাইকে জাগিয়ে দিয়ে যাচ্ছে হোটেলবয়। ভালোই হলো।রাতে সকালে ওঠার জন্য এলার্ম দিতে ভুলে গিয়েছিলাম। হোটেলবয় ডাক না দিলে ঘুম কখন ভাঙতো কে জানে।
বালিশের নিচ থেকে মোবাইলটা বের করে সময় দেখলাম। আটটা বাজে। তন্ময় কে ডাক দিয়ে তুলে ফ্রেশ হয়ে নিলাম। তারপর একসাথে হোটেলের ডাইনিং এ ঢুকলাম। ফ্রি খাবার ও যে উন্নতমানের হতে পারে তা হোটেলের খাবার দেখে বোঝা গেলো। নইলে আমরা সারাজীবন সস্তার তিন অবস্থা দেখে এসেছি।
খাওয়াদাওয়া সেরে হোটেল রুমে ফিরে কাপড় পালটে একেবারে সমুদ্রে নামার প্রস্তুতি নিয়ে একটু দূরের সী বিচের দিকে হাটতে থাকলাম। এখন বাতাস বইছে শো শো করে, সমুদ্রে জোয়ার আসতে শুরু করেছে কিছুক্ষণ হলো। শো শো বাতাস আর সমুদ্রের ঢেউয়ের গর্জনের শব্দে অদ্ভুত একটা পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে।
আমরা দেরী না করে চেয়ার ভাড়া করে স্যান্ডেল আর টাকাপয়সা জমা দিয়ে একটা টিউব ভাড়া করে জলে নেমে পড়লাম। গত সন্ধ্যার ঘটনা বেমালুম ভুলে গিয়ে হাটুজল থেকে ক্রমাগত কোমরজল পর্যন্ত চলে গেলাম দুজনেই। দারুন মজা হচ্ছে। গর্জনরত ঢেউ আছড়ে পড়ছে আমাদের ওপর। আমরা লাফ দিয়ে সার্ফারদের মত ঢেউয়ের ওপরের চড়ার চেষ্টা করছি টিউবের সাহায্যে। খানিকটা সফল হচ্ছি আবার মাঝেমধ্যে জলের ভেতর ডিগবাজি খেতে হচ্ছে।
এভাবে প্রায় দু ঘন্টা কখন কেটে গেছে বলতে পারবোনা। বীচের চেয়ারের দায়িত্বে থাকা লোক,আর টিউবের দায়িত্বে থাকা লোক এই দুজন ইশারায় কত ঘন্টা পার হয়ে গিয়েছে তা জানিয়ে দিলো। আমরা মনের আনন্দে জলকেলি করছি। কিন্তু কে জানতো আমাদের এই আনন্দ বেশীক্ষণ টেকবার নয়।
হঠাৎ তীর থেকে লাইফগার্ডের সাইরেন শুনতে পেলাম। সাধারণত ভাটার সময় হলে সমুদ্র থেকে লোকজন কে তীরে তুলে আনতে এই সাইরেন ব্যবহার করা হয়। এখন পরিপূর্ণ জোয়ার। তবে কেন সাইরেন বাজিয়ে ডাকা হচ্ছে সবাইকে?লাইফগার্ডের মুখ শুকনো। পাশে থাকা টুরিস্ট পুলিশের সাথে কি নিয়ে যেন গম্ভীরভাবে আলোচনা করছে সে। যারা গোসল করতে নেমেছিলো তারাও অপ্রস্তুত হয়ে গিয়েছে সাইরেন শুনে।অনেকেই সাইরেনের আওয়াজ কে পাত্তা না দিয়ে সমুদ্রে থেকে গেলো। আমরাও তাদের দলে। ভরা জোয়ারে কি এমন বিপদ হতে পারে?
কিন্তু "সাবধানের মার নেই" কথাটা বোধহয় ভুলে গিয়েছিলাম আমরা। ফলে যা হবার তাই হলো। অকস্মাৎ একটা বিকট শব্দে চিঁহি ডাক শুনতে পেলাম ঠিক আমাদের পেছনের জলে।আর কিছু বুঝে ওঠার আগেই কালো চাদরের মত কিছু আমাদের দুই বন্ধুকে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে সমুদ্রের গভীরে নিয়ে যেতে লাগলো? লাইফগার্ডের কথা শোনা উচিত ছিলো আমাদের। না শুনে ভুল করেছি। মহা ভুল!
(চলবে)
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now