বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

কারাজানের কালো ঘোড়া (১ম পর্ব)

"ফ্যান্টাসি" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X #দ্যা এডভেঞ্চার অব ডক্টর গ্রিফিনো ???? #৩য় গল্পঃকারাজানের কালো ঘোড়া #১ম পর্ব #জাকিউল অন্তু ৷ উত্তাল সমুদ্রে জোয়ার এসেছে। গর্জন করতে করতে তীরে এসে আছড়ে পড়ে ভেঙে যাচ্ছে ঢেউ। এখন বিকেলবেলা। সূর্যের তাপ কম, ঝিরঝির করে বাতাস বইছে। দারুন উপভোগ্য একটা পরিবেশ।আমি আর আমার স্কুল জীবনের সবচেয়ে ভালো বন্ধু তন্ময় সী বীচের একটা চেয়ার ভাড়া করে বসে বসে সমুদ্র দেখছি। আমরা এখন আছি পৃথিবীর দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজার এর লাবনী সি পয়েন্টে। পুজোর ছুটি চলছে। সেই ছুটি কাজে লাগিয়ে দুই বন্ধু চলে এসেছি ঘুরতে। মাত্র আধাঘণ্টা আগে চট্টগ্রাম থেকে বাসে করে চারঘন্টার পথ পাড়ি দিয়ে পৌঁছেছি আমাদের আগে থেকে বুকিং দেয়া হোটেলে। শরীর অবসন্ন থাকলেও সমুদ্রের তীরবর্তী হোটেলে এসে তা একদম ফুরফুরে হয়ে গেছে। তাই কোনরকমে হোটেলে ব্যাগপত্র রেখে তড়িঘড়ি চলে এসেছি সী বীচে।এই প্রথম সমুদ্র দেখছি দুই বন্ধু। সী বীচ এর বালি পার হয়ে একদম তীরের কাছাকাছি একটা ইজিচেয়ার ভাড়া করেছি।ঘন্টায় ৩০ টাকা দিতে হবে।সেটা ব্যাপার না। এবারের ট্রিপটা আশা করি নিজেদের জমানো টাকায় ভালোভাবেই চলবে। অনেকদিন ধরে প্ল্যানিং চলছে কক্সবাজার ট্যুর এর।আজ ভালোয় ভালোয় পৌঁছুতে পেরে অসম্ভব আনন্দিত দুজনেই। টিভিতে সমুদ্র দেখেছি অনেকবার। সমুদ্রের নীলাভ লোনা জল আমাকে টানতো খুব। কিন্তু বাস্তবের সমুদ্র দেখার অনুভূতি লিখে বোঝানো শক্ত। সমুদ্রের ঢেউয়ের গর্জন, তীরে এসে ভেঙে পড়া,ঝিরঝিরে বাতাস এবং মানুষের কোলাহল সব মিলিয়ে অসাধারণ একটা পরিবেশ। এবারের জার্নিটা একটু লং হয়ে গেছে। ময়মনসিংহ থেকে বিজয় এক্সপ্রেস এ রাত আটটায় রওনা দিয়ে চট্টগ্রাম পৌঁছাতে ভোর ৬ টা বেজেছে। তারপর চট্টগ্রামে থেকে কক্সবাজারের পথে চারঘন্টার জার্নি। তাই বীচে এসে বসে আছি ঠিকই কিন্তু দেহে পর্যাপ্ত শক্তি না থাকায় আর সমুদ্রের জলে নামা হয়নি। অনেককেই দেখছি সমুদ্রে জলকেলি করতে। বীচের চেয়ারগুলো ধরে চা,কফি, পান সিগারেটের ফেরিওয়ালা ঘুরে বেড়াচ্ছে আর তারস্বরে চেঁচাচ্ছে "এই কফি, সিগারেট পান " "এই কফি, সিগারেট পান"! আমি একজন ফেরীওয়ালা কে থামিয়ে দুই বন্ধুর জন্য দুকাপ কফি অর্ডার করলাম। এখানকার সস্তা কফির স্বাদ কেমন হবে জানা নেই তবে শরীর চাঙা করার জন্য কফি দরকার । প্রথম চুমুকেই বুঝলাম এরা মোটামুটি ভালো মানের কফি বানায়। তন্ময় কে জিজ্ঞাসা করে দেখলাম ওর ও কফি পছন্দ হয়েছে। কফির দাম মিটিয়ে আবার তাকালাম চারপাশে। তীরের একটা জায়গায় তিন চারটা বাশ লম্বালম্বি পুতে রেখে তার ওপর বড় সাইজের টিউব সারিবদ্ধভাবে সাজানো রয়েছে। সেগুলো ঘন্টা হিসেবে ভাড়া হয়। টিউব ভাড়া করে সাগরে নেমেছে অনেকে। বিশেষ করে যারা সাতার জানেনা। যদিও সমুদ্রে সাতার জানা না জানা একই কথা। কারন যখন লাইফ গার্ডের চেয়ারের ওপরে সবুজ পতাকা ওড়ে তখন জোয়ার চলছে বলে ধরে নিতে হয়, পতাকার রঙ লাল হলেই বুঝতে হবে ভাটা চলছে। জোয়ারের সময় সমুদ্রে নামার নিয়ম। কারন তখন ঢেউয়ের তোড় তীরের দিকে থাকে। ফলে কেউ চাইলেই সেই বিশাল সব ঢেউ অতিক্রম করে গভীরে যেতে পারবেনা। কিন্তু ভাটার সময়টা বিপদজনক। কারন তখন সমুদ্রের ঢেউ থাকে সমুদ্রগামী। অর্থাৎ তীরের দিকে ধাক্কা দেবার বদলে ঢেউ টান দেয় গভীরের দিকে। ফলে কেউ সেই সময় সাগরে নামলে কারো সাধ্য নেই তাকে সমুদ্রের গ্রাস থেকে মুক্ত করার। একটু দূরে বীচ বাইক আর সী বাইক বা জেট স্কি চোখে পড়লো। তার পাশাপাশি প্যারাগ্লাইডিং এর ব্যবস্থা ও আছে। সাগর তীরে এই ব্যবসাগুলো ভালোই চলছে দেখলাম। এখন জোয়ার চলছে তাই এত ভীড় বীচে। বেশীরভাগ মানুষ গোসলে নেমেছে। আমরা দুই বন্ধু ভেজার জন্য কাপড় নিয়ে আসিনি। সবার গোসল করার ফুর্তি দেখে টায়ার্ডনেস ভুলে দু একবার নামতে ইচ্ছে করেছিল কিন্তু পকেটে টাকা আর মোবাইল থাকায় তা হয়নি। আরো কয়েকদিন আছি। আজ গোসল নাই বা করলাম। দুপুরে খাওয়াদাওয়া হয়েছে।খিদে লাগলে হালকা খাবারের বন্দোবস্ত আছে বীচে। কাজেই ঠিক করলাম একেবারে সমুদ্রের বুকে সূর্যাস্ত দেখে পরে হোটেলে ফিরবো। এখন হোটেলে ফিরে লাভ নেই। রেস্ট নেয়া ছাড়া কোন কাজ ও নেই। তাছাড়া এখানেও তো ইজিচেয়ারে বসে রেস্ট নিচ্ছি ই। সমুদ্রের বিশালতা সৃষ্টিকর্তার অসাধারণ সৃষ্টি আর ক্ষমতার কথা মনে করিয়ে দেয়। কথায় আছে দরিয়ার জল মনকে বড় করে। এখানকার মানুষজনের সদাচরণ তা বুঝিয়ে দিচ্ছে।সমুদ্র দেখার আগে নিজেকে এতটা তুচ্ছ মনে হয়নি কোনদিন। আজ অনেক দূরে সমুদ্রে ভাসতে থাকা জেলেদের বিন্দুর মত দেখতে নৌকাগুলো আরো দুটো কথা মনে করিয়ে দিলো। সেগুলো হলো মানুষের অসীম সাহসিকতা আর অদম্য কৌতুহল। যার বলে মানুষ নিজের চেয়ে হাজার হাজার গুন বড় সমুদ্রে ছোট ছোট নৌকো নিয়ে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে জীবিকার সন্ধানে। প্রকৃত বীর তো এরাই। যারা সমুদ্রের বিশালতা দেখে দমে যায়নি। বরং নিজেদের সপে দিয়েছে তার করতলে। কখন দে দুপুর গড়িয়ে বিকেল এবং বিকেল গড়িয়ে প্রায় সন্ধ্যা হয়ে গেছে টের ই পাইনি। বাতাসের ঝাপটা এসে মুখে লাগছিলো। এমনিতেই শরীর ক্লান্ত। মৃদুমন্দ বাতাসের ঝাপটায় ঘুম নেমে এলো চোখের পাতায়। কিন্তু চোখ বন্ধ করলে তো সাগরের অপরুপ সৌন্দর্য আর দেখতে পারবোনা। তাই জোর করে জেগে আছি। কিছুক্ষণ আগে বিরাট কমলালেবুর মত সূর্য ডুবে যেতে দেখেছি সমুদ্রে। কি অপরুপ সেই দৃশ্য তা বলে বোঝানো যাবেনা। যেন সূর্যটা সত্যি সত্যিই সাগরের লোনা জলে ডুব দিয়ে হারিয়ে গেলো। এখনো হলুদাভ ঘোলাটে আবছা আলো আছে আকাশে। আমি আর তন্ময় একদৃষ্টে চেয়ে আছি সমুদ্রের ঢেউয়ের দিকে। ফসফরাস মিশ্রিত ঢেউগুলো এই আবছা আলোতেও রেডিয়ামের মত জ্বলজ্বল করছে। অদ্ভুত সুন্দর সে দৃশ্য।ইতিমধ্যে শরীর জুড়িয়ে গেছে বাতাসে। বেশ কয়েক কাপ কফিও শেষ করেছি আমরা। শরীর চাঙা। "এখন হোটেলে ফেরা যাক "বলতেই তন্ময় কি যেন দেখে বিস্ময়ে হতবাক হয়ে গেলো। ওর চোখেমুখে অবিশ্বাসের ছাপ,চোয়াল ঝুলে পড়েছে। শুধু সমুদ্রের। দিকে আঙুল তুলে কিছু দেখাতে চাইলো আমায়। আমি ও তাকালাম। এখন ভাটা শুরু হয়ে গেছে। তীরে লোকজন নেই। তন্ময় যেদিকে আঙুল নির্দেশ করেছে সেদিকে কেউ ই নেই। প্রথমে আবছা আলোয় জ্বলতে থাকা ফেনিল ঢেউ চোখে পড়লো। তারপর চোখে পড়লো তন্ময়ের বিস্মিত হবার কারন। হ্যা! আমি এমন কিছু দেখছি যা এই সমুদ্রে দেখাটা সম্পূর্ণ অস্বাভাবিক!আমার যদি ভুল না হয় তবে সমুদ্রের তীর থেকে খানিকটা গভীরে একটা বিশাল কালো প্রানী কে নীলতিমির মত পরপর দুবার ভেসে উঠে আবার ডুবে যেতে দেখলাম!প্রথমে ভাবলাম কোন সামুদ্রিক প্রানী হয়তো ঢেউয়ের তোড়ে তীরে চলে এসেছে। কিন্তু তাকিয়ে থাকতে থাকতে ব্যপারটা পরিষ্কার হলো। ওটা নিঃসন্দেহে সামুদ্রিক কোন প্রানী নয়। আমার চোখ যদি আমাকে ধোকা না দিয়ে থাকে তবে দেখতে পাচ্ছি চকচকে কালো চামড়া আচ্ছাদিত একটা বিশালাকার ঘোড়া তীর থেকে একটু দূরে ডুব দিতে দিতে গভীরে চলে গেলো। সমুদ্রে এরকম কালো ঘোড়া কি শুধু আমরাই দেখতে পেলাম। অন্ধকার ঘনায়মান। হয়তো তাই আশেপাশের লোকেরা খেয়াল করেনি। নাকি অন্য কোন রহস্য আছে এর পেছনে?কারন আমার ডক্টর গ্রিফিনো লাইফের গাইড ওডিলি মাথার ভেতরে টেলিপ্যাথিক যোগাযোগ স্থাপন করতে চেষ্টা করছে। কি জানাতে চায় ওডিলি?ঐ ঘোড়ার সঙ্গে কি আমার কক্সবাজার আসার কোন সম্পর্ক আছে? (চলবে)


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮২ জন


এ জাতীয় গল্প

→ কারাজানের কালো ঘোড়া (১ম পর্ব)

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now