বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

কানাডার টরেন্টোতে

"ফ্যান্টাসি" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান মোঃ আল-মামুন আলম আরজু (০ পয়েন্ট)

X এত বছর পরও তোমাদের পুরনো বাসার পাশের রাস্তা দিয়ে আমার নিয়মিত যাতায়াত হয়। আমি ঐ রাস্তা দিয়েই অফিস যাই। অফিস থেকে বিকেলে রুমে ফেরার পথে তোমার রুমের বন্ধ জানালায় চোখ আটকায়, আগের মতই। ড্রায়ভার কে এখন আর গাড়ি থামাতে বলতে হয় না। তোমার জানালার পাশে গাড়ি থামানো যেন তার ডিউটি। তুমি তো বিকেলে জানালা বন্ধ করে ঘুমাও। ভুলেই যায়, এসব তো অতীত। আমার উপর অভিমান করে তুমি বেশ আয়োজন করেই অন্য বাড়িতে চলে গেলে। তার কদিন পর আংকেল বদলি হয়ে গেলেন। তোমাদের বর্তমান ঠিকানা আমি জানি না ঠিকই। তবে আমি কিন্তু এখনো সেই আগের ঠিকানাতেই আছি। কখনো জানালা খোলা দেখি না আর, তুমি ঘুমাচ্ছো হয়ত। থাক, ঘুম ভাঙাবো না। আমার মেস বাড়িতে বুয়া না আসলে তোমার জানালা দিয়ে তো তখন হবু শাশুড়ির রান্না মজাদার খাবার আনতাম। আহা, কতই না সুন্দর ছিল সময় গুলো। তোমার কি মনে পড়ে সেই সময়গুলো? আচ্ছা, তুমি কি আমার খোঁজ রাখো? অফিসে অফিসে ঘুরে জুতা নষ্ট করা যে ছেলেটা একটা চাকরির অভাবে নিজের সবচে প্রিয় মানুষটাকে হারিয়োছিল পাঁচ বছর আগে। পাঁচ বছরের ব্যাবধানে কয়েকটা চাকরি বদলে সে আজ একটা আস্ত কোম্পানীর মালিক। ক’মাস হল অফিস নিয়েছি। মজা করেই তখন বলতাম- আমাকে তুমি বিয়ে না করলে দেশে আর থাকবো না, তাহলে তোমার জন্য কষ্ট হবে। এটুকু শুনেই তুমি আর মুখ চেপে ধমক দিতে- ‘খবরদার, এমন কথা আর মুখে আনবে না।’ তুমি জানতে পারলে হয়ত খুশি হবে- কানাডার টরেন্টোতে ৩০ তলাতে কাঁচঘেরা এ্যাপার্টমেন্টে এ বছরের শেষ দিকে আমার অফিসের ওপেনিং। লোকাল বিজনেস আমার এমপ্লোয়ি দেখাশুনা করবে। ৩০ তলাতে কেন জানো? ৩০ তারিখেই তো তুমি আমার প্রেমে সাড়া দিয়েছিলে। তুমি ঠিকই বলতে, আমি সফল হবই। হ্যা, আজ আমি সফল। তবে সেই সফলতার সিঁড়িতে উঠতে গিয়ে তোমার হাত টা শেষ পর্যন্ত পেলাম না। সবসময় চাই তুমি ভালো থাকো। হয়ত ভালোই আছো। কথা দিয়েছিলাম- তোমাকে ছাড়া কখনো কাউকে নিয়ে ভাববো না। তাই বিয়ের বয়স পার হয়ে গেলেও আমি এখনো একাই থাকি। তখন ক্যামেরা, মোবাইলের এত ছড়াছড়ি ছিল না। তাই ইউনিফর্ম পর কলেজ ফ্যাংশনে তোমার কয়েকটা ছবিই এখন তোমার শেষ স্মৃতি। শুনেছি তুমি মা হয়েছো! আমাকে ছাড়া থাকতে না পারা মেয়েটা আমাকে ছাড়াই মা হয়েছে! শুভকামনা তোমার আর তোমার বাচ্চার জন্য। বাচ্চার নাম কি রেখেছো? আমাদের বাবুর জন্য যে নাম ঠিক করেছিলাম সেটা, নাকি বাবুর বাবার পছন্দের নাম? সব মিলে তুমি ভালো আছো তো? আমি কেমন আছি শুনবে না? ঐ যে, সব সময় যে মিথ্যে টা বলতাম- ‘ভালো আছি’।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১১৯ জন


এ জাতীয় গল্প

→ কানাডার টরেন্টোতে

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now