বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
কামরুল সাহেব ঘুম থেকে উঠেই চশমা খুঁজতে
লাগলেন। চশমাটার একটা ডাট অনেক
আগেই ভেঙে গেছে তবুও দীর্ঘদিন থেকে
চশমা পরিবর্তন করেন নি। অফিসের
যাওয়ার সময় চশমা না পাওয়া গেলে খুবই
সমস্যায় পড়তে হবে। তাই রাহেলাকে
ডাকাডাকি শুরু করলেন চশমাটা খুঁজে
দেওয়ার জন্য।
চশমাটা পরিবর্তন করা প্রয়োজন কিন্তু
এতে বেশ কিছু টাকা বাড়তি খরচ হয়ে
যাবে। এমনিতেই ছেলের পিছনে অনেক
টাকা খরচ হচ্ছে প্রতি মাসে।
.
রাতুল সপ্তম শ্রেনীতে পড়ে। খুবই মেধাবী
একটা ছেলে। প্রতিদিনের মত আজও রাতুল
টিফিন পিরিয়ডে মাঠে দৌড়াদৌড়ি
করছিল। হঠাৎ করেই পেটে ব্যাথা শুরু হল।
আর সে মাঠের বারান্দায় পেট চেপে বসে
পড়ল। এই ব্যাথাটা তার প্রায়ই হয়। কিন্তু
বাসায় কাউকে জানায় না যদি মা বাবা
চিন্তা করে। পানি খাওয়ার পরও আজকে
ব্যাথাটা সারছে না। মাকে বোধহয়
জানাতেই হবে ব্যাথার ব্যাপারটা।
.
বাসায় এসে মাকে জানাতেই মায়ের মুখে
চিন্তার ছাপ দেখতে পেল রাতুল।
কেমন যেন বিষন্ন হয়ে গেলেন মা। অনেক
কষ্টে চোখের পানি আটকালেন। তারপরে
রাতুলকে নিজের পায়ের উপর বসিয়ে
জিজ্ঞাস করলেন খুব কি বেশী ব্যাথা
করছিল? সে উত্তর দিল। হুম। রোজ করে
নাকি শুধু আজকেই করল? প্রায়ই ব্যাথা হয়
একটু দৌড়ঝাঁপ করলেই হয়। আচ্ছা তোর
বাবাকে বলি দেখি তোকে ডাক্তার
দেখাতে নিয়ে যায় কিনা? আর তুই আর এ
কয়দিন মাঠে খেলাধুলা করতে যাবি না।
.
ছেলেকে খেতে দিয়েই তিনি ঘরের দরজা
আটকে দিলেন। তার বুক ফেঁটে কান্না
আসছে। অঝর ধারায় মুখ চেপে কান্না শুরু
করলেন। কিভাবে সহ্য করবেন ছেলের চলে
যাওয়া। সে যে তার একমাত্র বুকের ধন। তার
একমাত্র সন্তান যে এই রাতুল। কিভাবে
রাতুলকে নিজ মুখে বলবেন যে, এই পেট
ব্যাথা সারানো যাবে না। কিভাবে
বলবেন জন্ম হওয়ার সময়ই তার দুইটা কিডনি
মারাত্মক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছিল। সেই
থেকে প্রায়ই রাতুলের পেট ব্যাথা হয়। আর
ডাক্তার বলে দিয়েছে আর বেশীদিন এই
কিডনি কাজ করবে না। খুব দ্রুত কিডনি
প্রতিস্থাপন করতে না পারলে রাতুলকে আর
বাঁচানো যাবে না।
.
ঘরে কামরুল সাহেব প্রবেশ করতেই রাহেলা
আশেপাশে রাতুল আছে নাকি দেখে দরজা
বন্ধ করে দিল। তারপরে স্বামীকে বলল
--আজকে আবার রাতুলের পেট ব্যাথা
করেছিল। প্রায়ই নাকি করে।
--কই কিছু বলে নি তো?
--ও কি কিছু বলার মত ছেলে? তুমি কিছু
একটা কর। আমি আমার ছেলের কষ্ট দেখতে
পারব না।
--তুমিতো জানোই রাহেলা আমি সামান্য
চাকরী করে যে টাকা পায় তার পুরোটা
সংসার খরচেই চলে যায়। একসাথে
অপারেশনের জন্য এতগুলো টাকা কিভাবে
জোগাড় করব?
আমি কিছু শুনতে চাই না তুমি আমার
ছেলেকে আমার কাছে ফিরিয়ে দাও বলে
কাঁদতে শুরু করলেন রাহেলা।
চোখের পানি মুছতে মুছতে বাইরে বের
হয়েই ছেলেকে দেখতে পেলেন। রাতুল
মাকে দেখেই জিজ্ঞাস করল মা তুমি কাঁদছ
কেন? কই কাঁদছি চোখে কি যেন পড়ল,
পোকা মনে হয়। কই দেখি দেখি বলে রাতুল
মায়ের চোখে কি পড়েছে দেখতে লাগল।
মায়ের চোখ ফেটে কান্না আসতে লাগল।
.
কয়েকমাস পরেই একটা কবরের পাশে
দাঁড়িয়ে অঝোর ধারায় কেঁদে চলেছেন এক
মা। কাঁদছেন আর বলছেন বাপ আমার
আমাকে ছেড়ে তুই কোথায় চলে গেলি, বিডিলাভ২৪.কম
আমি এখন তোকে ছাড়া কিভাবে বাঁচব। তুই
ফিরে আয় বাপ আমার। মায়ের উপরে আর
রাগ করে থাকিস না, ফিরে আয়।
.
এই মায়ের কাঁন্না আকাশ বাতাস ভারী
করে ফেরেছিল। মায়ের কান্নার সাথে
প্রত্যেকটা গাছের পাতা কেঁদেছিল কিন্তু
রাতুল ফিরে আসে নি মায়ের কোলে। বাবা
পারেন নি তার একমাত্র ছেলের চিকিৎসা
করাতে। টাকার কাছে হেরে গেল আরও
একটা প্রান। সাথে ধ্বংস হয়ে গেল একটা
পরিবারের হাসির আনন্দ। আমাদের দেশে
এভাবেই অনেক পরিবার দু:খের সাগরে
তলিয়ে যায় শুধুমাত্র টাকার অভাবে।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now