বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
চট্টগ্রাম জেলার বাঁশখালী উপজেলায় আমি ১৯৯৭ সাল থেকে ২০০৩ সালের মাঝামাঝি পযন্ত ছিলাম। আমার পিতা মোঃ আবুল কাশেম পাটোয়ারী উক্ত উপজেলায় ১৯৯৭ সালে উপজেলা হিসাব রক্ষণ অফিসার হিসেবে যোগদান করেন। আব্বার চাকুরীর সুবাদে ১৯৯৭ সালেই আমাদের পরিবার বাঁশখালী উপজেলা কমপ্লেক্স এ বসবাস শুরু করেন। আমি বাঁশখালী আদশ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণীতে ভতি হই। আমার বোন একই বিদ্যালয়ে তৃতীয় শ্রেণীতে ভতি হয়। যেহেতু তখন আমার মাত্র দশ বছর তাই সকাল বেলা সাতটায় ঘুম থেকে উঠে সরাসরি বিদ্যালয়ে চলে যেতাম কোচিং করবার জন্য। এরপর সকাল ৯ টায় বাসায় এসে কিছু খেয়ে আবার স্কুলে চলে যেতাম। ছুটি হতো বিকাল ৪টার সময়। সন্ধ্যা থেকে বিদ্যালয়েরই একজন শিক্ষক আমাকে ১ ঘন্টা প্রাইভেট পড়াতে আমাদের বাসায় আসতেন। এভাবে করে ডিসেম্বর মাসে বাষিক পরীক্ষায় আমি দ্বিতীয় স্থান অধিকার করতে সক্ষম হই। প্রথম হয়েছিল আমাদের কমপ্লেক্সেরই একজন অফিসারের ছেলে। যতদূর মনে পড়ে তার ডাক নাম ছিল সুপ্ত। পরবতীতে পঞ্চম শ্রেণীর বৃত্তি পরীক্ষায় আমি সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি লাভ করি। বৃত্তির রেজাল্ট শিটটি আব্বু বাসায় এনেছিলেন। সেখানে দেখেছিলাম আমাদের ক্লাসের সুপ্ত পুরো উপজেলাতে সবার শীষে অথাৎ এক নম্বর স্থান অধিকার করেছিল। অন্যদিকে আমি ক্রমানুসারে যতদূর মনে পড়ে ৩৩ তম স্থানে ছিলাম সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি প্রাপ্তদের তালিকায়। আমার আব্বু এবং আম্মু দুজনেরই আশা ছিল যে আমি ট্যালেন্টপুল গ্রেডে বৃত্তি পাব।
১৯৯৮ সালে আমার নানীর মৃত্যুর কারনে আমাদের পরিবারের সবাই এক সপ্তাহের জন্যে পটুয়াখালী জেলার মিজাগঞ্জ উপজেলায় মামা বাড়িতে যান। ওখান থেকে আসার পরে উপজেলা কমপ্লেক্স এর পুরনো বাসাটি চেঞ্জ করে আমরা আরেকটি বিল্ডিং এ চলে যাই। আগের বিল্ডিংটি ছিল কমপ্লেক্সের উত্তর পূব কনারে যেখানে চারটি ফ্যামিলি বাসার মধ্যে আমাদেরটি ছাড়া বাকি গুলি প্রায়শই খালি পড়ে থাকতো। নতুন বিল্ডিং টিতে প্রথম এবং দ্বিতীয় তলা প্রত্যেকটিতেই ফ্যামিলি বাস করছিল। আমাদের পাশের বাসায় ছিলেন জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের অফিসার মোঃ শাহ আলম এর পরিবার। উনার স্ত্রী, দুই মেয়ে এবং এক নিকটাত্মীয় ( ডাক নাম ছিল মিন্টু ) যে সংসারের টুকটাক ফাইফরমায়েশ কাজ করে দিত। আমাদের উপরের তলাতে প্রথম কয়েকমাস একটি ফ্যামিলি থাকলেও পরে দীঘ এক বছর যাবত খালি ছিল। দ্বিতীয় তলার পাশের বাসায় ছিলেন এলজিইডি এর সহকারী প্রকৌশলী এর পরিবার, স্ত্রী, দুই মেয়ে ও এক ছেলে। আমি বাঁশখালীতে এসেছি এক বছর পার হয়ে গেলেও আমার কোন সামাজিক মেলামেশা, বন্ধু বান্ধব বা অন্য কোন ধরনের পরিচিতি এখনো গড়ে উঠেনি। যা কিনা ২০০০ সালে অষ্টম শ্রেণীতে উঠবার পর থেকেই শুরু হয়েছিল।
[ ১৯৯৯ সালে ঈদুল ফিতরের দিনে তোলা বাঁশখালী উপজেলা কমপ্লেক্স এর অফিসার দের ছেলেমেয়েদের গ্রুপ ছবি ]
বাঁশখালী আদশ উচ্চ বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ শ্রেণীতে আমার রোল ছিল ৬২ কেননা আমি ভতি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারিনি তাই আমি সবার শেষে রোল পেয়েছিলাম।সপ্তম শ্রেণীতে আমার রোল হয় আট। আমার বোন তখন বাঁশখালী আদশ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণীতে অধ্যয়নরত। ষষ্ঠ শ্রেণী থেকেই আব্বু আমার জন্য নতুন শিক্ষক নিয়োগ করেন যার নাম ছিল রামদাস চক্রবতী চন্দন। উনি সরল উচ্চ বিদ্যালয়ের গণিতের শিক্ষক ছিলেন। প্রতিদিন সন্ধ্যা সাতটা থেকে রাত ৯টা পযন্ত আমাকে পড়াতেন। শুধুমাত্র উনার অক্লান্ত পরিশ্রম, চেষ্টা ও মনোনিবেশের কারনেই আমি পড়ালেখার ক্ষেত্রে আরও মনোযোগী ও অধ্যবসায়ী হয়ে পড়ি। আমার স্কুল আমাদের উপজেলা কমপ্লেক্সের বাসা থেকে পুরোপুরিভাবে এক কিলোমিটার দূরে ছিল। যাবার সময় বাসে যেতাম এবং আসার সময় বাস না পেলে কখনো হেঁটে আবার কখনো রিকশা করে বাসায় ফিরতাম। দুপুরের খাবার খেতাম বিকেল ০৪:৩০ মিনিটে বাসায় ফিরে। আমাদের উচ্চ বিদ্যালয়ের পরিবেশ এতোটা ভালো ছিল না যে টিফিন ক্যারিয়ারে করে খাবার নিয়ে যাবো। আম্মু প্রথম দিকে সাধাসাধি করলেও আমি আমার নীতির প্রতি অটল ছিলাম।
আমাদের পাশের বাসার জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী সাহেবের স্ত্রীর নাম ছিল বিউটি। বিউটি আন্টি আমাকে নিজের ছেলের মতো স্নেহ করতেন। উনার বড় মেয়ের ডাক নাম ছিল অনি। আমি অনি আপু বলে ডাকতাম। ছোট মেয়ের নাম ছিল আকলিমা আলম তমা। তমা আমার চেয়ে চার বছরের ছোট ছিল। ম্যানেজার গোছের ফাইফরমায়েশ সাংসারিক কাজ করা শাহ আলম সাহেবের নিকটাত্মীয় এর ডাক নাম ছিল মিন্টু। চোখের দেখাতে সহজেই বুঝা যেত যে লোকটি হ্যাংলা, পাতলা ও খাটো দেখালেও লোকটির বয়স কমপক্ষে ৩০-৩২ বছর। যা সে নিজেই স্বীকার করত।
পরবতী দিনগুলিতে এবং বাঁশখালী থেকে ট্রান্সফার হয়ে চলে আসার পূব পযন্ত আমার মা'র খুবই ঘনিষ্ঠ বান্ধবী ছিলেন বিউটি আন্টি। দিনের বেলাতে সকাল ১০টা থেকে দুপুর পযন্ত আবার রাত ০৮:৩০ মিঃ থেকে রাত ১০:৩০ টা পযন্ত আমাদের দুই বাসার মূল দরজা খোলা থাকতো। আম্মু এবং বিউটি আন্টি হয় একে অপরের সাথে ড্রইংরূমে টিভি দেখছেন অথবা আমার বোন, অনি আপু ও তমা সহ অন্যান্যরা কথা বলছে, খেলছে, দুষ্টুমি করছে ইত্যাদি। আমাদের দুই পরিবারের মধ্যে আন্তরিকতা, ঘনিষ্ঠতা খুবই সৌন্দযময় ছিল। ১৯৯৯ সালের শেষ দিকেই অনি আপুর বিউটি আন্টি কুমিল্লায় উনাদের এক নিকটাত্মীয়ের বাড়িতে পাঠিয়ে দেন এবং কুমিল্লার একটি ভালো গালস স্কুলে ভতি করিয়ে দেন। অনি আপু তখন নবম শ্রেণীতে পড়তেন।
[ ছবিতে বাঁ দিক থেকে ক্রমানুসারে মোসাম্মৎ আকলিমা আলম তমা, রোকসানা রীতি, রামদাস চক্রবতী স্যার, অন্তরা, আমি, রুমেল এবং আমার মা ]
[ আমার স্যার শ্রী রামদাস চক্রবতী চন্দন, ছবিতে আরো আছেন আমার ছোট ভাই মোঃ আতিকুজ্জামান রিশাদ, ছোট বোন রোকসানা রীতি, আমাদের মা রাশিদা বেগম এবং আমি ]
২০০০ সালে আমি অষ্টম শ্রেণীতে উন্নীত হই আমার রোল নং ছিল দুই। রোল নং এক ছিল শিকদার নামের একজন সহপাঠীর। তার বাবা বাঁশখালীতে একটি এনজিওতে চাকুরী করতেন। ওদের দেশের বাড়ি ছিল টাংগাইল জেলাতে। ওর বাবা ট্রান্সফার হয়ে চলে গিয়েছিলেন ২০০০ সালের প্রথমাধেই। স্বভাবতই রোল ০১ এর অনুপস্থিতিতে রোল ০২ হবার কারনে ক্লাস ক্যাপ্টেনের যাবতীয় কাজ আমাকেই করতে হতো। রোল নং ০৩ এর নাম ছিল পরাগ দাশ। পরাগ দাশের বাবা আমাদের স্কুলের জীববিজ্ঞানের টিচার ছিলেন। পরাগ দাশ ক্লাসে পুরোপুরিভাবে হিংসুটে, দুষ্ট, চতুর এবং শয়তান টাইপের ছাত্র ছিল। ক্লাসের ৫০ শতাংশ ছাত্র ছিল হিন্দু ধমাবলম্বী, ৪০ শতাংশ মুসলমান এবং বাকি ১০ শতাংশ ছিল বৌদ্ধ ধমাবলম্বী। এমনকি নিজ হিন্দু ধমাবলম্বী ছাত্ররাও পরাগ দাশ কে অপছন্দ করত ও এড়িয়ে চলত তার শয়তানি স্বভাবের জন্য।
যার প্রমান আমি ষষ্ঠ শ্রেণীতে আমার প্রথম ক্লাসের দিনই পেয়ে গিয়েছিলাম। পরাগ দাশ ক্লাশ ক্যাপ্টেন হিসেবে আমার দায়িত্ব পালনের প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রে আমাকে বাগড়া দিত। অথচ আমাদের শ্রেণীতে আমি সব ছাত্রদের সাথেই ভদ্র, মিশুক এবং সহায়তাপূণ আচরণের দ্বারা নিজ সুনাম, মযাদা প্রতিষ্ঠিত ও বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছিলাম। এমনকি সব স্যারই আমাকে অত্যন্ত স্নেহ করতেন কারণ পড়ালেখা ও ভালো আদব কায়দা দিয়ে আমি উনাদের হৃদয়ে নিজ স্থান পাকাপোক্ত করে নিয়েছিলাম। ২০০০ সাল থেকেই আমি বিকেলবেলা স্কুল থেকে আসবার পরে কমপ্লেক্সের ভেতরে সমবয়সী ছেলেদের সাথে কখনো কখনো ক্রিকেট, ব্যাডমিন্টন ইত্যাদি খেলতাম। সবচেয়ে মজা হতো সন্ধ্যা সাতটার পরে লোডশেডিং হলে চাঁদের আলোতে আমরা ১০-১২ জন ছেলেমেয়েরা লুকোলুকি, দৌড়াদৌড়ি, গল্পগুজব করে বিদ্যৎ না আসা পযন্ত বাইরে থাকতাম। আজো সেই সোনালী আনন্দময় দিনগুলি চোখের সামনে যেন ভেসে উঠে।
আমার বোন রূখসানা আক্তার রীতি পঞ্চম শ্রেণীর বৃত্তি পরীক্ষায় ট্যালেন্টপুর বা সাধারণ কোন গ্রেডেই বৃত্তি পায়নি। তবে অবাক করা ব্যাপার দক্ষিণ চট্টগ্রাম শিক্ষক সমিতি এর বেসরকারী বৃত্তি পরীক্ষায় সে ঠিকই বৃত্তি পেয়েছিল। আমার মনে আছে দুই হাজার থেকে আড়াই হাজার টাকার প্রাইজ বন্ড নিয়ে সে আর আমার বাবা ঘরে এসেছিলেন।
২০০০ সালের ডিসেম্বরে বাষিক পরীক্ষা দিয়ে বৃত্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহনের প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। অন্য বছরগুলিতে বাষিক পরীক্ষার পরে ডিসেম্বরের শীতে লম্বা সময় ধরে পড়ালেখার টেনশন বাদ দিয়ে বিকেল থেকে সন্ধ্যা পযন্ত ক্রিকেট, ব্যাডমিন্টন খেলতাম। কিন্তু এবার মাথার উপরে একটা বাড়তি চাপ রয়েছে। মোটেই ভালো লাগছিল না। ডিসেম্বরের শেষ দিকে এক বিকেলে বাঁশখালী আদশ উচ্চ বিদ্যালয় অফিসে গেলাম বাষিক পরীক্ষার রেজাল্ট জানতে। রেজাল্ট বোডে দেখতে পেলাম আমি প্রথম স্থান অধিকার করেছি। পরাগ দাশ দ্বিতীয় স্থান এবং আবু হেনা মোস্তফা জামান নামের একটি ছেলে তৃতীয় স্থান অধিকার করেছে। চতুথ স্থান পেয়েছিল রনি কারণ নামের একজন ছাত্র। খুব খুশি হয়ে বাসায় এসে দেখি আম্মু রান্নাঘরে কাজ করছে আমি তাকে আমার রেজাল্টের কথা জানাতে উনি খুব খুশি হলেন। পাশের বাসা থেকে বিউটি আন্টি এসে উনাদের ফ্রিজ থেকে মিষ্টি এনে মিষ্টিমুখ করালেন। তবে দুঃখের ব্যাপার ছিল একটিই যে অষ্টম শ্রেণীতে আমি ট্যালেন্টপুল বা সাধারণ কোন গ্রেডেই বৃত্তি লাভে সমথ হইনি।
২০০০ সালের মাঝামাঝি থেকেই আমি উপজেলা কমপ্লেক্স আর স্কুলের সীমিত গন্ডির বাইরে নিজেকে নিয়ে আসার চেষ্টা শুরু করি। আমাদের উপজেলা কমপ্লেক্সের পূব দিকে দেড় কিলোমিটার দূরে পাহাড়সারি শুরু হয়েছিল। পশ্চিম দিকে সাত কিলোমিটার দূরে ছিল বঙ্গোপসাগরের তটরেখা। বাঁশখালীতে আসার পর থেকেই আমার ইচ্ছা ছিল অন্তত একবার হলেও পাহাড়ে চড়ার। কাছ থেকে পাহাড়ি পরিবেশ দেখার। পাশের বাসার মিন্টু, আমি ও আরেকজন নিকটাত্মীয় সহ ২০০০ সালে প্রথম মোটরসাইকেলে চড়ে পাহাড়ের কাছাকাছি যাবার চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু বষাকাল এবং গ্রামের কাঁচা রাস্তা হবার কারণে কাছেই যেতে পারলাম না। এরপর শুনলাম মেইনরোড ধরে দক্ষিণদিকে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার গেলেই বামেরছড়া নামের একটি ছোট আকারের কৃএিম হ্রদে সরকারী ভাবে সেচ প্রকল্পের সুবিধাথে তৈরী করা হয়েছে। ২০০০ সালে মোট দুইবার ওই লেকের বাঁধের উপরে উঠেছিলাম। পাশের পাহাড়ে ওঠার সিঁড়ি ধরে উপরে উঠে পশ্চিম অনেক দূরে নীল রঙের জলরাশিতে শেষ বিকেলের সূযের আলোর ঝিকমিক চোখে পড়ছিল।
২০০১ সালে নবম শ্রেণীতে উঠবার পরে একাই আমাদের বাসা থেকে পূবদিকে দেড় কিলোমিটার দূরের পাহাড়ে শেষ দুপুরে রওনা দিতাম। তারপর পাহাড়ি নালা ( যাকে স্থানীয়রা ছড়া বলে ডাকে ) ধরে হেঁটে আরও এক থেকে দেড় কিলোমিটার ভিতরে ঢুকতাম। ওখানে চিন্তার বিষয় ছিল মাত্র দুটি।
১। হঠাৎ করে বন্য হাতির পাল যদি নেমে আসে এবং দূভাগ্যক্রমে আমি তাদের সামনে পড়ে যাই কিনা।
২। স্থানীয় কাঠুরে এবং ফরিদ ডাকাত এর দলবল।
তবে স্থানীয় কাঠুরেরা উল্টো আমাকেই ভয় পেত বুঝতে পেরেছিলাম কারণ তারা আমাকে বন বিভাগের লোক বা ইনফমার হিসেবে সন্দেহ করত। আনসার উদ্দিন নামে আমার এক সহপাঠীর ঘর ছিল পাহাড়ের কোলেই। ওই আমাকে জানিয়েছিল এটা।
আমাদের এদিকে প্রতি মাসেই শোনা যেত যে বন্য হাতির পাল পাহাড় থেকে নিচে নেমে এসে ফসলের ক্ষেত নষ্ট করে এবং মানুষ পিষে মেরে ফেলে। এই কারনে আমি কমপ্লেক্সের কোন সমবয়সী ছেলেকে বা আমার সহপাঠী কাউকে পাহাড়ের ভিতরে আমার সাথে যেতে রাজি করাতে পারতাম না। ব্রিটিশ অথবা পাকিস্তান আমলে আমাদের বাসা থেকে সাড়ে তিন কিলোমিটার পূবদিকে পাহাড়ের ভিতরে নাকি খনিজ তেলের সন্ধান পেতে কূপ খনন করা হয়েছিল যা এখন পরিত্যক্ত। এটা জেনে আমি অনেক কষ্টে আনসার উদ্দিনকে রাজি করিয়েছলাম আমার সাথে ওই জায়গাটাতে যাওয়ার জন্য। সকাল ১০টায় আমি ওর বাড়ি গিয়ে ওকে সাথে করে দুজনে পাহাড়ি ছড়া ধরে উজানের দিকে এগুতে থাকলাম। এক পযায়ে আর ছড়া ধরে এগুনো যাচ্ছিল না তখন উপরে উঠে ছড়ার পাড় ধরে দুজনে এগুতে থাকলাম। হঠাৎ মাটির ওপর গোদা গোদা বসে যাওয়া পায়ের ছাপ আনসার উদ্দিনকে দেখাতে সে বলল এগুলি হাতির পায়ের ছাপ। আশেপাশে হাতির কিছু মলও চোখে পড়ল। আরেকটু এগুতে পাহাড়ের পাদদেশে একটি ছোট মাচা দেখতে পেলাম। এরই মধ্যে ঝিরিঝিরি বৃষ্টি শুরু হয়ে গেছে। আকাশও আজ সকাল থেকেই মেঘলা এবং অন্ধকারাচ্ছন্ন। মাচায় বসা বৃদ্ধ লোকটিকে প্রশ্ন করলাম খনিজ তেলের জন্য খনন করা কূপটি কোথায়? উনি সামনের উপত্যকা পেরিয়ে একটি মোটামুটি উঁচু পাহাড়ের দিকে ইঙ্গিত করলেন। আরও বললেন যে আজ ভোরে ওই পাহাড় থেকে নাকি কয়েকটি হাতি নেমে এসেছিল এদিকে। আনসার উদ্দিন একথা শুনে গোঁ ধরে বসল ও আর সামনে অগ্রসর হবে না। প্রায় আধা ঘন্টা মাচায় বসে বুঝানোর পরেও সে নিজের একগুঁয়ে সিদ্ধান্তে অনঢ়। অগত্যা আমি একাই উপত্যকা ধরে হাঁটতে শুরু করলাম। ফসল কেটে ফেলা হয়েছে। খালি জমিতে কোথাও কোথাও আধা হাঁটু পরিমান বৃষ্টির পানি জমে রয়েছে। এদিকে আরেক বিপদ বাঁশখালী এলাকায় জোঁকের উপদ্রব কিন্তু মোটেই কম নয়। মাঝে মাঝে বেশ বড়, মোটা আকারের জোঁকও আমাদের বাসার আশেপাশে দেখি যেগুলিকে স্থানীয়রা মহিষ্যা জোঁক বলে ডাকে। যাই হোক হঠাৎ দেখি সামনের পাহাড় থেকে দুইজন কাঠুরিয়া মাথাবোঝাই কাঠ নিয়ে নিচে নেমে আসছেন। আমি তাদেরকে বললাম যে, পাহাড়ের অপর পাশ্বে কোন হাতি কি তারা দেখেছেন? ওনারা উত্তর দিলেন যে, পাহাড়ের অপর পাশের ঢালে নাকি এখনো একটি হাতি দাঁড়িয়ে আছে। এমনিতেই আমার মনোবল কমে এসেছিল তারপর আর সামনে এগুলাম না। আনসার উদ্দিন সহ বৃষ্টি মাথায় নিয়ে বাসায় ফিরে আসবার সময় মনে মনে সিদ্ধান্ত নিয়েছলাম আবার একবার আসবো ওখানে।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now